বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার ৩ জন, স্পেনের ১ জনকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা।

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শেষে অপ্রীতিকর ঘটনায় সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন মেসির দলের মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস-তাঁকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। তাঁর অপরাধ হল তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেছেন এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন।

শাস্তি প্রাপ্ত আর্জেন্টিনার অন্যান্য খেলোয়াড়রা হলেন মলিনা ও আলমাদা। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা তবে শাস্তির পাশাপাশি পারেদেস ও মলিনাকে ৯০ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা) এবং আলমাদাকে ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

স্পেনের গাভি নিষিদ্ধ

তবে স্পেনের তরুণ তারকা খেরোয়াড় গাভিকেও ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। যার কারণে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেনের নেশনস লিগের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাকেও ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও জরিমানঃ শুধু খেলোয়াড়রাই নয় বিশ্বকাপ চলাকালে নানা বিশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগানের কারণেই এই শাস্তি দেওয়া হয়। এই জরিমানার এক লাখ ডলার বর্ণবাদ বিরোধী বিভিন্ন প্রকল্পে খরচের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। বিশ্বকাপ থেকে থেকে প্রাইজমানি হিসেবে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া আর্জেন্টিনাকে ঘরের মাঠে পরবর্তী দুটি ম্যাচ খেলতে হবে ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শকের সামনে।

আগামীতে আর্জেন্টিনার খেলার সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মোট ১০টি ম্যাচ রয়েছে। ফলে এই ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা মূলত পারেদেসের জন্য আগামী এক বছর আর্জেন্টিনা দলের বাইরে থাকতে হবে। তবে সূচি অনুযায়ী কোনো টুর্নামেন্ট না থাকায় এই ১০টি ম্যাচই হতে পারেদেসের জন্য প্রীতি ম্যাচ।

তবে আর্জেন্টিনা মুখ বুজে সব সহ্য করবে না বলে ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফেডারেশন বলছে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবে। আপিল প্রত্যাখ্যাত হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনাও আছে তাদের।

সারকথা: আসলে বিশ্বকাপের মত আসর কোন দেশের বা কোন খেলোয়াড়ের নয়। খেলা ধুলায় সফলতা পেতে হলে সুশৃঙ্খল হওয়া ছাড়া কোন সফলতা নেই। আপনার সেরাটা দিয়েই আপনাকে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে পাশাপাশি নিয়ম নীতির মধ্যে থেকেই, এখানে বড় দল বা ছোট দল বা চ্যাম্পিয়ন দল বলে কোন কথা নেই মাঠের খেলায় যারা এগিয়ে থাকবে তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে এবং টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নিয়ম নীতি মেনেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরী। নইলে আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় পড়তেই হবে আর্জেন্টিনা এবং দলের খেলোয়াড়রা যার বড় উদাহরণ।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles