ফুটবল মাঠ হয়ে গেল রণক্ষেত্র । খেলা ছিল ফুটবল। তবে এক পর্যায়ে এটি কুস্তি লড়াইয়ে রূপ নেয়। যার কারণে রেফারিকে একে এক ২৩টি লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে। ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এমন ঘটনা ঘটেছে।
হাজার হাজার দর্শক ম্যাচটি উপভোগের জন্য গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন। ক্রুজেইরো ও আতলেতিকো মাদ্রিদ ছিল দুই প্রতিপক্ষ। কিন্তু ফুটবলের নান্দনিকতা ছাপিয়ে রূপ নেয় সংঘাতে। দর্শকেরা উপভোগ করে এক গনপিটুনির দৃশ্য।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জুভেন্টাসের সাবেক স্ট্রাইকার কাইও হোর্হের গোলে এগিয়ে যায় ক্রুজেইরো। স্বাভাবিকভাবেই গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আতলেতিকো মিনেইরো। অন্যদিকে ক্রুজেইরো গোল রক্ষায় আপ্রান চেষ্টা চালায়। এভাবে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়। শুরু হয় ইনজুরি সময়ের খেলায়। আর তখনই ঘটে সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা। যোগ হওয়া সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ক্রুজেইরো উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানের একটি ট্যাকর হজম করতে পারেননি আতলেতিকো গোলরক্ষক এভারসন। মেজাজ হারিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন ক্রিস্টিয়ানের ওপর। না, ধাক্কাধাক্কি নয়। ক্রিস্টিয়ানকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে বুক চেপে ধরেন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। মুহুর্তের মধ্যে শান্ত গ্যালারি অশান্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় মারামারি।

১০ মিনিটের ভয়ংকর মারামারি
ক্রিস্টিয়ানকে রক্ষা করতে মাঠে থাকা ক্রুজেইরোর খেলোয়াড়রা এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে ডাগ আউটে থাকা আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে মাঠে ঢুকে পড়েন। এরপরই মাঠ হয়ে যায় রণক্ষেত্র। খেলা আর ফুটবলে সীমাবদ্ধ না থেকে কুস্তি লড়াইয়ে রূপ নেয়। কিল, ঘুষি, লাথি, চড় আর ফ্লাইং কিকের অপূর্ব সব দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে এই যুদ্ধ। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, রেফারি আর সহকারী রেফারি অসহায় হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত মাঠে মিলিটারি পুলিশ ডাকতে হয়। পুলিশ এসে উভয় খেলোয়াড়দের আলাদা করে । তাতে অবশ্য উত্তাপ কমে না।
পুলিশের নিরাপত্তায় ম্যাচের রেফারি মাঠ ছাড়েন। এ সময় অবশ্য তিনি কোনো কার্ড দেখাননি। ম্যাচ রিপোর্টে তিনি আতলেতিকোর সব খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে জানান। ক্রুজেইরোর লাল কার্ড দেখার সংখ্যাটা আরও বেশি। তাদের ১১ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি একজন কর্মকর্তাকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি।
বহিষ্কৃতদের তালিকায় সবচেয়ে পরিচিত নামটা হচ্ছে অধিনায়ক হাল্ক। ৩৯ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা তার পেশিশক্তির পুরোটা খরচ করেছেন একের পর এক ঘুষি মেরে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















