ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলার নাম আলোচনায় থাকলেও বিদেশি কোচ নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির (কনি) সভাপতি লুসিয়ানো বুওনফিগলিও।
সেরি-আ’র বেশির ভাগ কোচ ইতালির
স্প্যানিশ এই কোচকে নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) আলোচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুওনফিগলিও বলেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব এমন একজনের হাতে থাকা উচিত, যিনি ইতালিয়ান ফুটবলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন।
তার ভাষায়, ‘সেরি আ-র বেশির ভাগ কোচই ইতালিয়ান। জাতীয় দলের কোচকে তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁরা মেধাবী, পেশাদার এবং আমাদের ফুটবল ঐতিহ্যের অংশ। তাহলে তাঁদের বাদ দেওয়া হবে কেন?’
তবে এফআইজিসি সভাপতি জিওভান্নি মালাগো জানিয়েছেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ গার্দিওলাকে আনতে প্রয়োজন হলে আর্থিক দিক থেকেও বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ফেডারেশন।

অবশ্য মালাগো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা হলেও তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘আলোচনা সফল হবেই, এমন নয়। অন্য প্রার্থীদের প্রতি কোনো অসম্মান দেখানো হচ্ছে না। তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। নতুন কোনো নাম যুক্ত হলেও চলমান প্রক্রিয়ার গুরুত্ব কমবে না।’
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে অনুপস্থিত
এপ্রিলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা হারায় ইতালি। সেই ব্যর্থতার পর দায়িত্ব ছেড়ে দেন প্রধান কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
গার্দিওলা ছাড়াও সাবেক ইতালি কোচ রবার্তো মানচিনি এবং ইতালির কিংবদন্তি আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও সম্ভাব্য কোচের তালিকায় রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১১৬ বছরের জাতীয় দলের ইতিহাসে ইতালির দায়িত্বে বিদেশি কোচ ছিলেন মাত্র একজন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টাইন কোচ হেলেনিও হেরেরা ইতালিয়ান কোচ ফেরুচ্চিও ভালকারেজ্জির সঙ্গে যৌথভাবে আজ্জুরিদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


