ইউরোপিয়ান ফুটবলে দলবদলের বাজারে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ১৯ বছর বয়সী আইভরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে। আরবি লাইপজিগের এই বিস্ময় তরুণকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ওড়াতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাঁকে দলে ভিড়ানোর লড়াইয়ে রয়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি ও ইংলিশ পরাশক্তি লিভারপুলও।
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও আকাশচুম্বী ট্রান্সফার ফি
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড ও স্কাই জার্মানি-র তথ্যমতে, দিয়োমান্দের জন্য রিয়াল মাদ্রিদ ইতোমধ্যে প্রায় ১০ কোটি ইউরোর (অ্যাড-অনসহ) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলেও তা একবাক্যে ফিরিয়ে দিয়েছে লাইপজিগ।
- লাইপজিগের দাবি: তারা এই ফরোয়ার্ডের বিনিময়ে অন্তত ১৩ কোটি ইউরো চাইছে। তবে সমঝোতার মাধ্যমে এটি ১২ কোটি ইউরোর কাছাকাছি নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
- অন্যান্য ক্লাবের অবস্থা: এর আগে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিলেও তা ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে পিএসজি তরুণের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তে ইতিবাচক আলোচনা করলেও এখনো লাইপজিগকে আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাব দেয়নি। দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, রিয়ালের প্রবেশের পর দলবদলের পুরো গতিপথই বদলে গেছে।
কেন ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের নজরে দিয়োমান্দে?
লেগানেস থেকে মাত্র এক বছর আগে লাইপজিগে যোগ দিয়ে বুন্দেসলিগায় হইচই ফেলে দেন দিয়োমান্দে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে ১২টি গোলের পাশাপাশি ৯টি অ্যাসিস্ট করে দলকে লিগে তৃতীয় স্থানে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
আইভরি কোস্টের হয়ে ৪ ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ড দুই প্রান্তেই সমান কার্যকর। ক্ষিপ্র গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং এবং দুই পায়েই দারুণ ফিনিশিংয়ের ক্ষমতার কারণে তাঁকে ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা ধরা হচ্ছে।
দিয়োমান্দের আগমনে অনিশ্চিত হয়ে যাবেন ব্রাহিম দিয়াজ!
- ব্রাহিম দিয়াজের ভবিষ্যৎ: দিয়োমান্দে আসলেও মরক্কোন তারকা ব্রাহিম দিয়াজকে বিক্রি করছে না রিয়াল। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনায় তিনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
- এজেন্সি সংক্রান্ত সুবিধা: দিয়োমান্দের খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘রক নেশন স্পোর্টস’, যারা রিয়ালের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও দায়িত্ব সামলায়। এতে রিয়ালের সমঝোতা করতে কিছুটা সুবিধা হতে পারে।
- ইতিহাস গড়ার সুযোগ: চুক্তিটি সম্পন্ন হলে তা হবে লাইপজিগের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় বিক্রির রেকর্ড।
- লেগানেসের লাভ: চুক্তি থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছে দিয়োমান্দের সাবেক ক্লাব স্প্যানিশ লেগানেস। দলবদলের শর্ত অনুযায়ী, ট্রান্সফার ফি-র ১০ শতাংশ অর্থ সরাসরি তাদের পকেটে যাবে।
তবে লাইপজিগের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মার্সেল শেফার জানিয়েছেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকা এই আইভরিয়ানকে অন্তত আরও এক মৌসুম ধরে রাখতে চুক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।


