পোলিশ তারকা রবার্ট লেফানদোভস্কির দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প হিসেবে আর্জেন্টিনার তরুণ ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ওপর চোখ পড়েছে বার্সেলোনার। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদের এই তারকা ফুটবলারকে ন্যু ক্যাম্পে নিয়ে আসতে বড় অঙ্কের অর্থ ঢালতে প্রস্তুত থাকলেও একতরফা চাপ মেনে নিতে নারাজ কাতালান ক্লাবটি। ক্লাবের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য ১০ কোটি ইউরোর যে প্রাথমিক প্রস্তাব তারা দিয়েছে, সেখান থেকে আর এক ইউরোও বাড়ানো হবে না। অন্যদিকে নিজেদের অন্যতম মূল হাতিয়ারকে এই মূল্যে হাতছাড়া করতে একেবারেই ইচ্ছুক নয় আতলেতিকো মাদ্রিদ।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলভারেজকে কেন্দ্র করে দুই ক্লাবের মধ্যে ট্রান্সফার মূল্য নিয়ে এমন টানাটানি তৈরি হলেও বার্সেলোনা শিবিরে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ক্লাবটির নীতিনির্ধারকদের মতে, দলটির আক্রমণভাগে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট গভীরতা ও বিকল্প উপস্থিত রয়েছে।
হ্যান্সি ফ্লিকের আগ্রহ
চলতি দলবদলে ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন এবং জার্মান তরুণ করিম আদিয়েমি দলে যোগ দেওয়ায় বার্সার আক্রমণভাগ আগের চেয়ে অনেক বেশি ধারালো হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া বর্তমান স্কোয়াডে থাকা ফেরান তোরেস, দানি ওলমো এবং রাফিনিয়ার মতো বহুমুখী ফুটবলারদের প্রত্যেকেই প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে দায়িত্ব সামলাতে সক্ষম।

অবশ্য বার্সেলোনার হেড কোচ হান্সি ফ্লিক আলভারেজকে দলে পেতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে নয়। আতলেতিকো মাদ্রিদ যেহেতু আলভারেজের দলবদল ফি নিয়ে নিজেদের দাবিতে অনড়, তাই বার্সা কর্তৃপক্ষ আপাতত ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কৌশল নিয়েছে।
সবকিছু এখন আলভারেজের ওপর নির্ভর করছে
বার্সেলোনাভিত্তিক সাংবাদিক আশরাফ বেন আইয়াদ তাঁর ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ট্রান্সফার জট ছাড়ানোর পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে স্বয়ং আলভারেজের ইচ্ছার ওপর। আতলেতিকো মাদ্রিদ যেহেতু তাদের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরবে না, তাই বল এখন পুরোপুরি আর্জেন্টাইন তারকার কোর্টে। আলভারেজ যদি নিজে উদ্যোগী হয়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার জন্য আতলেতিকো কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, তবেই কেবল এই দলবদল আলোর মুখ দেখতে পারে।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলে আলভারেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে চমৎকার এক গোল করেছিলেন। তার গোল ম্যাচের তো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের সেরা গোল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। ১-১ গোলে অমীমাংসিত ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছিল তখন আলভারেজ দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন লাউতারো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয় পায়।


