বিশ্বকাপে ১৫০ গোলের এলিট ক্লাবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপে ১৫০ গোলের এলিট ক্লাবে ফ্রান্স

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন মেসি ও এমবাপ্পে

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পের সেই পেনাল্টি গোলটি কেবল ফ্রান্সকে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালই এনে দেয়নি, একই সাথে ফরাসি ফুটবলকে বসিয়েছে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তির সিংহাসনে। বিশ্বমঞ্চে এটি ছিল ফ্রান্সের ১৫০তম গোল। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের ফুটবলীয় ঐতিহ্যের আরও একটি প্রমাণ দিল দিদিয়ের দেশমের দল।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ৯৬ বছরের ইতিহাসে গোল করার এই অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করা এবং ‘১৫০ গোলের এলিট ক্লাব’-এ জায়গা পাওয়া দলের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র। ফ্রান্সের আগে ফুটবল ইতিহাসের আর কোন কোন পরাশক্তি এই কীর্তি গড়েছে, একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকা:

১৫০ বা তার বেশি গোলের এলিট ক্লাবে যারা আছেন:

১. ব্রাজিল:

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল এবং একমাত্র পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গোল করার দিক থেকেও সবার ওপরে। বিশ্বমঞ্চে তাদের গোলসংখ্যা ২৪০-এর বেশি। পেলে, রোনালদো নাজারিও, নেইমারদের এই দেশ অনেক আগেই ১৫০ গোলের গণ্ডি পেরিয়ে যোজন যোজন দূরে চলে গেছে।

২. জার্মানি:

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের গোলসংখ্যা ২৩০-এর ওপর। মিরোস্লাভ ক্লোসা (বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ১৬ গোল), গার্ড মুলারদের কল্যাণে জার্মান ‘ডাই মানশাফট’ অনেক আগেই এই মাইলফলক নিজেদের করে নিয়েছে।

৩. আর্জেন্টিনা:

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও এই তালিকায় বেশ ওপরের দিকেই রয়েছে। দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে লিওনেল মেসির জাদুকরী সব গোলে বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের গোলসংখ্যা ১৫০-এর কোটা অনেক আগেই পার করেছে

এলিট ক্লাবে এবার ফ্রান্সের ধ্রুপদী প্রবেশ

জাস্ট ফন্টেইন (যিনি এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন), জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অরিদের হাত ধরে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ কিলিয়ান এমবাপ্পের যুগে এসে তা ১৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করল।

বিশ্বকাপে গোল করার এই রাজকীয় তালিকায় ব্রাজিল, জার্মানি এবং আর্জেন্টিনার পরেই এখন সগৌরবে উচ্চারিত হবে ফ্রান্সের নাম। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এই কীর্তি ফরাসি শিবিরের আত্মবিশ্বাস এবং অহংকারকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য!

Exit mobile version