ফিলাডেলফিয়ার আকাশ থেকে যেন আজ আগুন ঝরছে। গ্যালারিতে হাজারো মানুষের চিৎকার, মাঠের ভেতরে একশো ডিগ্রি ফারেনহাইটের সেই দমবন্ধ করা উত্তাপ। কিন্তু এই চরম প্রতিকূলতার মাঝেও আজ ফুটবল বিশ্ব দেখছে এক অবিশ্বাস্য লড়াই। যে লড়াইয়ে একদিকে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি, তারকাখচিত ফ্রান্স; আর অন্যদিকে বুক চিতিয়ে লড়াই করা এক লড়াকু প্যারাগুয়ে। যেখানে প্রথমার্ধ শেষে প্যারাগুয়ে ০ – ০ ফ্রান্স ।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচে সবাই হয়তো ধরে নিয়েছিল ফরাসি ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে লাতিন আমেরিকার এই দলটি। প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখে ফ্রান্স একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের সবুজ ঘাসে আজ অন্য এক গল্প লিখছে প্যারাগুয়ে।
প্রতিটি ট্যাকলে, প্রতিটি স্লাইডিংয়ে আর গোলপোস্টের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা আজ প্রমাণ করছে, ফুটবল শুধু নামের শক্তিতে খেলা হয় না, ফুটবল খেলা হয় বুকভরা কলিজা আর অদম্য জেদ দিয়ে। প্রথমার্ধের খেলা শেষে স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে: প্যারাগুয়ে ০ – ০ ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৫০ গোলের অনন্য মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা পরাক্রমশালী ফ্রান্সকে প্রথমার্ধে এভাবে আটকে রাখাটা কেবল কৌশলগত সাফল্য নয়, এটা প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের আত্মত্যাগের এক অনন্য রূপকথা। গ্যালারিতে বসে থাকা কিংবদন্তি কার্লেস পুয়োলও হয়তো মাঠের এই লড়াকু মানসিকতার মাঝে নিজের ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর ছায়া দেখছেন।
প্যারাগুয়ের কোটি ভক্তের চোখে এখন স্বপ্ন আর বুকভরা আশা। ফিলাডেলফিয়ার এই তপ্ত দুপুরে তারা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকবে। দ্বিতীয়ার্ধে কী হবে কেউ জানে না, তবে প্রথমার্ধের এই ৪৫ মিনিট প্যারাগুয়ে বুক চিতিয়ে জানান দিয়ে গেল, “আমরা হারতে আসিনি!”
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














