২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি ইরাকের মুখোমুখি হয়েছে শক্তিশালী ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের একক নৈপুণ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে দিদিয়ে দেশঁ-র দল।
গতি বনাম রক্ষণাত্মক কৌশলের লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নেমে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং ব্র্যাডলি বারকোলাকে সাথে নিয়ে ইরাকি রক্ষণভাগে অনবরত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে, ৪-৫-১ ফরমেশনে রক্ষণাত্মক দেয়াল তুলে ফ্রান্সের গতিকে আটকে রাখার কৌশল নেয় ইরাক। ম্যাচের ৬ মিনিটে ফ্রান্সের আক্রমণ থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন ইরাকের মিডফিল্ডার আমির আল-আম্মারি।
২৩ মিনিটের জাদু: এমবাপ্পের লক্ষ্যভেদ
ইরাকের জমাট রক্ষণ ভাঙতে ফ্রান্সকে ম্যাচের ২৩ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। মাঝমাঠ থেকে আদ্রিয়েন রাবিও-র বাড়ানো একটি চমৎকার পাস ধরে ডি-বক্সের বাম দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এমবাপ্পে। ইরাকের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে ডান পায়ের এক মাপা শটে বল জালে জড়ান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ইরাকি গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। এই গোলের ঠিক পরপরই মাঠের আবহাওয়ার কারণে রেফারি অফিশিয়াল ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ দেন।
চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের ৩ নম্বর গোল, যার মাধ্যমে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা লিওনেল মেসির (৫ গোল) সাথে ব্যবধান কমিয়ে আনলেন তিনি।
ফাউলের মহড়া ও ফিলাডেলফিয়ার বৃষ্টি
প্রথমার্ধের শেষের দিকে ফিলাডেলফিয়ার আকাশে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ভেজা মাঠে খেলার গতি ধরে রাখতে গিয়ে দুই দলের মধ্যেই বেশ শারীরিক ফুটবল লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ৪১ ও ৪২ মিনিটে ইরাকের জিদান ইকবাল এবং ফ্রান্সের আদ্রিয়েন রাবিও ও লুকাস দিনিয়ের ফাউল ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
১-০ গোলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের শেষদিকে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল ইরাক, তবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ তা সফলভাবে প্রতিহত করে। নকআউট পর্বের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করতে ফ্রান্সকে এই লিড ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয়ার্ধে ইরাককে অল-আউট ফুটবলের কৌশল বেছে নিতে হবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















