ফিফার কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সংস্কারের বিষয়ে তিনি যে উন্মুক্ত, সেটিও জানিয়েছেন। ফিফা কাউন্সিলের সদস্য ও ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেছেন, একটি স্বাধীন বহিরাগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিফার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য উন্নতির সুপারিশ করা হবে।
আগামী মাসে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকের আগে এই পর্যালোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন ইনফান্তিনো। এতে ফিফা সভাপতির ভূমিকা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং বড় কৌশলগত উদ্যোগে জবাবদিহি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়-এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সদস্য ফেডারেশন, মহাদেশীয় কনফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইনফান্তিনোর এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ফিফা জানিয়েছিল, প্রস্তাবিত এফএফই হবে ফিফার মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে সম্প্রচার, পৃষ্ঠপোষকতা, টিকিটিং ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে এক কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাইরের বিনিয়োগকারীরা সংখ্যালঘু ও নিয়ন্ত্রণহীন অংশীদার হতে পারতেন। ফিফার দাবি ছিল, ফুটবলের প্রশাসনিক ও ক্রীড়া-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর সংস্থাটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই থাকবে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফই চালু হলে ২০২৭-৩০ চক্রে প্রতি সদস্য সংস্থার জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড তহবিল ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন ডলার করার লক্ষ্য ছিল। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোকে ফুটবল উন্নয়নে আরও অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। ইনফান্তিনো তাঁর চিঠিতে স্বীকার করেছেন, পরিকল্পনাটি ফিফার নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই জনসমক্ষে চলে আসায় এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে সিদ্ধান্ত হয়তো আগেই নিয়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বাস্তবে তখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফিফাও এর আগে জানিয়েছিল, এফএফই বাস্তবায়নের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সংস্থার সমর্থন এবং ফিফা কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাগত।
এফএফই নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফিফার ওপর স্বচ্ছতা বাড়ানোর চাপও তৈরি হয়েছে। ফিফার সহসভাপতি ও ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার ডেবি হিউইট সম্প্রতি ইনফান্তিনোর কাছে পরিকল্পনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
ইনফান্তিনো অবশ্য তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, এফএফই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও বিশ্ব ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে ফিফা সরে যাচ্ছে না। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে তৈরি, পরীক্ষা ও অনুমোদন করা হবে-প্রক্রিয়াটিকে আরও শক্তিশালী করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


