হলান্ড বেঞ্চে, নরওয়ে কোচের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনে সবাইকে চমকে দিয়েছেন নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন। সবচেয়ে বড় বিস্ময়, আগের দুই ম্যাচে চার গোল করা তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডকে শুরুর একাদশে না রেখে বেঞ্চে বসানো।
কোচের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। অন্যদিকে ফ্রান্স তুলনামূলক শক্তিশালী দলই মাঠে নামিয়েছে। একাদশে মাত্র চারটি পরিবর্তন এনে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের মতো তারকাদের রেখেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ফলে ম্যাচের শুরু থেকেই এমবাপ্পে-হলান্ড দ্বৈরথ দেখার আশা ভঙ্গ হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
তবে সোলবাক্কেনের সিদ্ধান্তের পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ‘আই’ গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্বের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। তাই ফ্রান্সের বিপক্ষে এই ম্যাচে হারলেও তাদের পরবর্তী পর্বে ওঠা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। এ কারণে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে নকআউট পর্বের জন্য প্রস্তুত রাখাই ছিল কোচের মূল পরিকল্পনা।
ম্যাচের আগে সোলবাক্কেন নিজেও সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শেষ ৩২ দলের নকআউট পর্ব। সেখানে মানসিক ও শারীরিকভাবে শতভাগ প্রস্তুত থাকাটাই আমাদের লক্ষ্য।’
বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, নরওয়ে জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে সুইডেনকে পেতে পারে। অন্যদিকে ড্র বা হার হলে রানার্সআপ হিসেবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট। কোচ সম্ভবত দুই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের শক্তির পার্থক্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি বলেই ফ্রান্স ম্যাচে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নরওয়ের এই কৌশলের পক্ষে মত দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তি রয় কিন। বিবিসিকে তিনি বলেন, “নরওয়ের প্রথম লক্ষ্য ছিল গ্রুপ পর্ব পার হওয়া, যা তারা ইতোমধ্যেই করেছে। ফ্রান্সকে হারানো কঠিন হতে পারে ভেবেই কোচ হয়তো মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছেন। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে শুধু একটি ম্যাচ নয়, সামনের পথের কথাও ভাবতে হয়। দুই দলের প্রত্যাশার মাত্রাও ভিন্ন।”
এখন দেখার বিষয়, সোলবাক্কেনের এই সাহসী সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নরওয়ের জন্য সুফল বয়ে আনে, নাকি সমালোচনার আগুন আরও বাড়িয়ে দেয়।
