ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ও বাংলাদেশের হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি বর্তমানে ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক সময়ের চ্যাম্পিয়ন দলটি এখন খেলছে দ্বিতীয় স্তর “চ্যাম্পিয়নশিপে”। কিন্তু সেখান থেকে আরও একধাপ নীচে থাকা তৃতীয় স্তরের লিগ- “লিগ ওয়ান” – এ নেমে যাওয়ার শংকায় পড়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, আজ রাত বাংলাদেশ সময় পৌন ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচেই তাদের অবনমন নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

এই মুহূর্তে লেস্টারের জন্য বাঁচার একমাত্র পথ হলো হাল সিটি-কে হারানো। তবে এই ম্যাচ জিতলেও অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল তাদের বিপক্ষে গেলে চলতি সপ্তাহেই তাদের অবনমন নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।
লেস্টারের সম্ভাব্য অবনমন ইংলিশ ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য ‘পূর্ণবৃত্ত’ তৈরি করবে। ২০১৬ সালে বাজির দর ৫০০০ এর বিপরীতে ১ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের রূপকথা লিখেছিল। সেটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা। অথচ সেই গৌরবের মাত্র সাত বছর আগে তারা এক মৌসুমের জন্য লিগ ওয়ানে নেমে গিয়েছিল। এখন আবার সেই তৃতীয় স্তরে ফেরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ক্লাবটির জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
মাত্র পাঁচ বছর আগে এফএ কাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া দলটির এমন পতন সত্যিই বিস্ময়কর। যদি অবনমন নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি হবে টানা দুই মৌসুমে দ্বিতীয় এবং চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো অবনমন। অতীতে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যে ওঠানামা করা লেস্টার এবার আরও এক ধাপ নিচে নামার দ্বারপ্রান্তে।
গত শনিবার রেলিগেশনের শংকায় থাকা আরেক ক্লাব পোর্টসমাউথ-এর কাছে পরাজয়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এখন তারা নিরাপদ অঞ্চলের চেয়ে আট পয়েন্ট পিছিয়ে। হাতে আছে মাত্র তিনটি ম্যাচ। অর্থাৎ সর্বোচ্চ নয় পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ। ফলে তিন ম্যাচের সবগুলোতেই তাদের জিততে হবে।
সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ
দলের এমন পারফরম্যান্সে সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমনকি ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সাবেক ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় হ্যারি উইঙ্কস। ফ্র্যাটন পার্ক থেকে ফেরার সময় বাসে ওঠার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে দিয়েছে।
তবে দলের গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচ সমর্থকদের হতাশা বোঝার কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন,
এই মৌসুমের হতাশা শুধু সমর্থকদের নয়, খেলোয়াড়দের মধ্যেও সমানভাবে রয়েছে। যদিও তার মতে, এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি।
বিবিসি রেডিও লেস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেগোভিচ বলেন,
“আমাদের বিশ্বাস এখনো আছে। হালের বিপক্ষে ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা জিততে পারি, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। অবশ্যই আমাদের কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন, কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”
তবে বাস্তবতা বলছে, লেস্টারের সামনে পথ অত্যন্ত কঠিন। টিকে থাকতে হলে তাদের বাকি তিনটি ম্যাচই জিততে হবে, পাশাপাশি অন্য দলগুলোর ফলাফলও নিজেদের পক্ষে যেতে হবে। সাম্প্রতিক তিন মাসে মাত্র একটি জয় পাওয়া দলের জন্য এই লক্ষ্য অর্জন করা যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















