আফগানিস্তান ক্রিকেটের এক সময়ের ভয়ংকর পেসার এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ। লম্বা গড়ন ও তীব্র গতির বোলিং দিয়ে একসময় প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আতঙ্কে রাখা শাপুর জ়াদরান বর্তমানে বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জ়াদরান ‘হেমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিয়োসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) নামক একটি বিরল রোগে ভুগছেন। এটি এমন এক মারাত্মক অবস্থা, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে গুরুতর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা গেলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এটি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, জ়াদরানের রোগ ইতোমধ্যেই চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় বেঁচে থাকার আশা একেবারেই কমে যায়।

আগামী জুলাইয়ে ৩৯ বছর পূর্ণ করার কথা এই সাবেক পেসারের। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আফগানিস্তানের চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার রশিদ খান-এর সহায়তায় দ্রুত ভারতের ভিসা পাওয়া যায়। ১৮ জানুয়ারি দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে
চিকিৎসার সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী এবং আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। এছাড়া কানাডা থেকে ছুটে আসেন তার ভাই ঘামাই। ঘামাই নিয়মিত তার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খবর দিচ্ছেন। এক ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘামাই জানান,
জ়াদরানের শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জানা গেছে, এই সংক্রমণ তার মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলেছে। একইসঙ্গে তিনি যক্ষ্মা (টিবি) রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। কয়েক সপ্তাহ পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও নিয়মিত চিকিৎসার জন্য তাকে দিল্লিতেই থাকতে হয়। তবে মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই সংক্রমণ আবার ফিরে আসে এবং পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
সম্প্রতি তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার অবস্থা আরও অবনতির দিকে যায়। জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি ডেঙ্গুতেও আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে তার শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের সদস্যদের মতে,
“বর্তমানে তিনি কথা বলতে পারছেন না, অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে থাকছেন এবং ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ কেজি ওজন কমে গেছে।”
সব মিলিয়ে, এক সময় মাঠে প্রতিপক্ষকে ভয় ধরানো এই পেসার এখন জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছেন। তার সুস্থতা কামনায় ক্রিকেটবিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















