ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দের পর মাঠে নেমে হ্যারি কেইনের জন্য দিনটি হয়ে উঠল হতাশার। জার্মান বুন্দেসলিগার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ ডের ক্লাসিকারে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন ইংলিশ তারকা। শেষ মুহূর্তে ফাবিও সিলভার গোলে সেই হতাশা আরও বাড়ল বায়ার্ন মিউনিখের। নিজেদের মাঠে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে বায়ার্নকে।
ম্যাচে নাটকীয়তা
অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবারের ম্যাচে দুই দলের লড়াইয়ে ছিল নাটকীয়তা, গোলের পালাবদল আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ। এই ড্রয়ে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি বুন্দেসলিগার শীর্ষস্থানেও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ডর্টমুন্ড। সপ্তাহের শুরুতেই লন্ডনে ব্যালন ডি’অর জিতে ব্যক্তিগত সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছান কেইন। বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়ার পর ডের ক্লাসিকায় মাঠে নেমে সেই আনন্দকে দলীয় সাফল্যে রূপ দেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ৩৮ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কনরাড লাইমার। এর আগে জোবে বেলিংহ্যামের একটি গোল বাতিল হওয়ায় হতাশ হতে হয়েছিল ডর্টমুন্ডকে। বিরতির আগে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।

পেনাল্টি নষ্ট বায়ার্নের
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকেরা। ৬০ মিনিটে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল কেইনের সামনে। কিন্তু তাঁর নেওয়া পেনাল্টি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পেনাল্টি মিসের পরপরই সেরহু গিরাসির গোলে ১-১ সমতায় ফেরে অতিথিরা। তবে কেইন দ্রুতই নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পান। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় গোল করে বায়ার্নকে আবারও এগিয়ে দেন দায়ো উপামেকানো। ম্যাচের শেষ ভাগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল স্বাগতিকেরা।
জয় ধরে রাখতে ব্যর্থ বায়ার্ন
কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি বায়ার্ন। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফাবিও সিলভা শেষ মুহূর্তে গোল করে ডর্টমুন্ডকে সমতায় ফেরান। ম্যাচে বায়ার্নের জন্য আরও দুশ্চিন্তার কারণ ছিল একাধিক খেলোয়াড়ের চোট। মাইকেল ওলিসে, ইসমাইল সাইবারি ও সার্জ গ্যানাব্রি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। সাইবারি ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের সঙ্গে সংঘর্ষে ডান পায়ে চোট পান। পরে চিকিৎসকদের সহায়তায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। গ্যানাব্রি ও ওলিসেকেও চোটের কারণে তুলে নিতে হয়।
আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বায়ার্ন।




