চেলসির কাছে হারে টানা ৯ ম্যাচ জয়হীন ম্যানইউ

চেলসির কাছে হারে টানা ৯ ম্যাচ জয়হীন ম্যানইউ । প্রথমার্ধে দাপুটে ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত হতাশার হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। দ্বিতীয়ার্ধে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লাল কার্ড ও পেনাল্টি থেকে গোল হজমের পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে মাইকেল কারিকের দল।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে হারের পাশাপাশি টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকার লজ্জায় পড়েছে ইউনাইটেড। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমের পর প্রথমবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো ক্লাবটি। ক্রমাগত ব্যর্থতায় কারিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

শনিবারের ম্যাচে প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। একের পর এক আক্রমণে চেলসির রক্ষণকে চাপে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। মাতেউস কুনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

সুযোগ নষ্ট দিয়ালোর

এর আগে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও আমাদ দিয়ালোও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ব্রায়ান এমবেউমোর পাস থেকে পাওয়া সুযোগে ফার্নান্দেসের শট চলে যায় ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে। আমাদের শট ঠেকিয়ে দেন চেলসির গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্স। পরে ফোফানার ভুলে আবারও সুযোগ তৈরি হলেও কাজে লাগাতে পারেননি আমাদ। প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের দাপটের বিপরীতে চেলসির রক্ষণ ছিল বেশ নড়বড়ে।

লাল কার্ড দেখেন ম্যানইউয়ের মার্টিনেজ

মর্গান রজার্সের গোল

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে চেলসিকে এগিয়ে দেন মর্গান রজার্স। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যান তিনি। এরপর নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। রজার্সের এই গোলের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে ইউনাইটেড। এরপর মার্তিনেজের অপ্রয়োজনীয় ফাউল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। ইতিমধ্যে হলুদ কার্ড দেখা এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার কর্নার থেকে আসা একটি বলের পর ওয়েসলি ফোফানার গলায় হাত দিয়ে আঘাত করেন। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি। একই সঙ্গে পেনাল্টি পায় চেলসি।

কোল পালমারের গোল

স্পটকিক থেকে গোল করে চেলসির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোল পালমার। গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্সকে পরাস্ত করে ২-০ করেন তিনি। এরপরই গ্যালারিতে শুরু হয় কারিকের বিরুদ্ধে স্লোগান। ম্যাচের শেষ দিকে চেলসির এস্তেভাও তৃতীয় গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

এই হারের ফলে কারিকের ওপর চাপ আরও বাড়ল। গত ২১ অক্টোবর কোমোর কাছে হারের পর ফার্নান্দেসের প্রকাশ্য অসন্তোষ, দলের একের পর এক ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ভুল-সব মিলিয়ে ইউনাইটেডের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles