কোচের দায়িত্ব অনেকটা চেয়ার সিটিং খেলার মতো। চেয়ার সিটিংয়ে যেমন খেলায় টিকে থাকা খেলোয়াড় পরের মূহুর্তে দর্শক। কোচের দায়িত্বটা ঠিক তেমনই। ম্যাচে শেষে বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দেওয়া ঘটনা ফুটবল খেলায় অহরহ ঘটে। যেমনটা দেখা গেল তিউনিশিয়ার বেলায়। ১৮ দিনেই পদত্যাগ করতে হলো তিউনিশিয়ার কোচ হার্ভে রেনার্ডকে।
বিশ্বকাপ ফুটবলে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল তিউনিশিয়া। ৫-১ গোলে হেরেছিল। এই হারে নড়েচড়ে বসে দেশটির ফুটবল কর্মকর্তারা। সরিয়ে দেওয়া হয় সাবরি লামৌচিকে। কোচ করা হার্ভে রেনার্ডকে। বিশ্বকাপের মাঝেই দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। কোচ বদল হলেও ভাগ্য বদল হয়নি তিউনিসিয়ার। হারের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে তাদের ভাগ্য। পরের দুই ম্যাচের একটিতে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। তৃতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় তিউনিসিয়া।
বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার সুযোগ
দলের বিদায়ের পরপরই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রেনার্ড। অবশেষে সেটাই করেছেন। ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, বিদায় নেওয়ার আগে তিউনিসিয়া ফুটবল সংস্থাকে ধন্যবাদ। তাদের মাধ্যমে আমি ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি গর্বিত। দলের জন্য শুভেচ্ছা। আমি নিশ্চিত আগামী দিনে তিউনিশিয়া আরও ভালো খেলবে। আমার যাত্রা এখানেই শেষ। সবাইকে ধন্যবাদ।’
মরক্কো ও সৌদি আরবের কোচ ছিলেন রেনার্ড
রেনার্ড এর আগে দুই দলকে কোচিং করিয়েছেন। ৫৭ বছর বয়সী রেনার্ড ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে মরক্কো ও ২০২২ সালে সৌদি আরবের কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চমক দেখিয়েছিল সৌদি আরব। হারিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ওই একটি ম্যাচেই হেরেছিল আর্জেন্টিনা। পরের সবগুলো ম্যাচ জিতে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করেছিল ম্যারাডোনার দেশটি।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল সৌদি আরব। তবে ওখানেই শেষ হয়েছিল তাদের সাফল্য গাঁথার রূপকথা। পরের আর কোনো ম্যাচ জিততে না পারায় গ্রুপ পর্বেই থেমে গিয়েছিল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। এবারও প্রথম পর্বেই বিদায় নিয়েছে সৌদি আরব। যদিও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করে দারুণ সূচনা হয়েছিল তাদের। তবে পরের ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হেরে যায় তারা। নক আউট পর্বে যেতে শেষ ম্যাচে প্রয়োজন ছিল জয়ের। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় তারা।
