আগামী ৭ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি’র নির্বাচন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসছে আইসিসি’র প্রতিনিধি দল । প্রতিনিধি দলে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং জিম্বাবুয়ের তাভেংওয়া মুকুহলানি।
ভারতের আহমেদাবাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি’র বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম- অনিয়মের অভিযোগে কানাডা’র সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। তবে দেশটির খেলোয়াড়রা আইসিসি’র তত্ত্বাবধানে খেলা চালিয়ে যেতে পারবে।
এছাড়াও বৈশ্বিক ক্রিকেটের সুশাসন শক্তিশালী করা, নারী ক্রিকেটের প্রসার, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ভারসাম্য বজায় রাখা।
আইসিসি চেয়ারম্যান জনাব জয় শাহ বলেন,
আহমেদাবাদের আলোচনা বৈশ্বিক ক্রিকেটের সুশাসন ও প্রবৃদ্ধির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করেছে। নারী ক্রিকেট থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ-সব ক্ষেত্রেই আমাদের সিদ্ধান্তগুলোর মূল লক্ষ্য ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তোলা।
সভার মূল সিদ্ধান্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ক্রিকেট নিয়মের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি
খেলার গতি বাড়াতে এবং বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব কমাতে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন ও ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি:
গোলাপি বলের ট্রায়াল:
টেস্ট ম্যাচে খারাপ আলোর কারণে খেলা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য দুই দলের পারস্পরিক সম্মতিতে টেস্টে ‘গোলাপি বল’ ব্যবহারের ট্রায়াল দেওয়া হবে।
আলোর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা:
খারাপ আলোর কারণে নষ্ট হওয়া সময় কমিয়ে আনতে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (MCC)-এর সাথে যৌথ অর্থায়নে স্টেডিয়ামের লাইটিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করবে আইসিসি।
অবৈধ বোলিং অ্যাকশন:
আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিশিয়ালরা এখন থেকে সন্দেহজনক বা অবৈধ বোলিং অ্যাকশন রিপোর্টের ক্ষেত্রে ‘হক-আই’ (Hawk-Eye) ডাটা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
অন্যান্য নিয়ম: টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ১৫ মিনিটের বিরতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ড্রিংকস বিরতিতে প্রধান কোচ বা তাঁর প্রতিনিধি দলের সাথে পরামর্শ করতে পারবেন। লেগসাইড ওয়াইডের নিয়মটি স্থায়ীভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এমসিসি-র বাকি নিয়মগুলো কার্যকর হবে।
২. নারী ক্রিকেটের সূচি ও রোডম্যাপ
নারী ক্রিকেটের প্রসারে বেশ কিছু নতুন টুর্নামেন্ট ও সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে:
নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৭: ২০২৭ সালের জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে টুর্নামেন্টটি এখন অনুষ্ঠিত হবে ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে।
ইমার্জিং নেশনস ট্রফি ২০২৬: উদীয়মান দেশগুলোর জন্য ১০ দলের একটি পাইলট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে, যেখানে ৫টি পূর্ণাঙ্গ সদস্য ও ৫টি সহযোগী সদস্য দেশ অংশ নেবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৮ (পাকিস্তান): ২০২৮ সালের ১২ দলের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক পাকিস্তান। তবে ভারতের ম্যাচগুলো একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসের র্যাংকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে ১০টি দল সরাসরি খেলবে এবং বাকি ২টি দল গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের মাধ্যমে সুযোগ পাবে।
৩. ক্রিকেট কানাডা স্থগিত ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষা
গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের দায়ে ক্রীড়া কানাডাকে (Cricket Canada) তাৎক্ষণিকভাবে আইসিসি সদস্যপদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। তবে কানাডিয়ান খেলোয়াড়দের স্বার্থ সুরক্ষায় আইসিসি জানিয়েছে, স্থগিতাদেশের মধ্যেও কানাডার জাতীয় দলগুলো আইসিসি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে। দল পরিচালনার জন্য আইসিসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি নিয়ন্ত্রিত তহবিল থেকে তাদের অর্থায়ন করা হবে। ক্রিকেটের সুশাসন ফিরিয়ে আনতে একটি ‘নর্মালাইজেশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
৪. বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী প্রক্রিয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং অংশীজনদের সাথে আলোচনার জন্য আইসিসির দুই বোর্ড প্রতিনিধি ড. মোহাম্মদ মুসাজি (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং তাভেংওয়া মুকুহলানি (জিম্বাবুয়ে) বাংলাদেশ সফর করবেন। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইসিসি ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা এবং দেবাজিৎ সাইকিয়া (বিসিসিআই) ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা সফর সম্পন্ন করেছেন।
৫. ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ওপর নজরদারি
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমাগত বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর সমন্বয় ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সহযোগী দেশগুলোর জন্য একটি ১৬ দলের ‘পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার’ কাঠামোর খসড়া তৈরির কাজও আইসিসি ম্যানেজমেন্টকে দেওয়া হয়েছে, যা আগামী সভায় পেশ করা হবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















