বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবি উঠলেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দায়িত্ব ছাড়তে রাজি নন। বরং ২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সমর্থন পাওয়ায় পুনর্নির্বাচন নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ফিফাপ্রধান।
গত জুলাইয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের ওই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি থেকে সরে আসেন তিনি। এরপরই তাঁর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
শনিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের কথা ভেবেছেন কি না, জানতে চাইলে হাসতে হাসতে জবাব দেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন,
বিশ্বের ২১১টি সদস্য সংস্থার ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। ফিফার মতো প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, যদি মনে করি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ভোট ও মতামতের সমান মূল্য রয়েছে এবং ফুটবল সবার, তাহলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকেও সম্মান জানাতে হবে।
শুক্রবার ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের প্রতি সমর্থন জানান এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। তাঁর মতে, ইনফান্তিনোর প্রতি এশিয়ার সমর্থন রয়েছে এবং মহাদেশটির ফুটবল প্রশাসন এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ।
এএফসির সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ইনফান্তিনো বলেন,
আমি সবেমাত্র টোকিও সফর শেষ করে ফিরেছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। কেপ ভার্দেতেও গিয়েছিলাম। সেখানে আফ্রিকার সব দেশ আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বের সব প্রান্তের ফুটবল সংস্থার সঙ্গেই আমি কথা বলছি।
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি
তবে এফএফই প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের শুরুতে ইনফান্তিনোর বিরোধিতা করেছিল এএফসিও। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফের সঙ্গে একই অবস্থানে ছিল এশিয়ার এই সংস্থা। পরবর্তী সময়ে এএফসির অবস্থান বদল এবং কনকাকাফের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসন ক্রমেই একা হয়ে পড়ছে।
গত সপ্তাহে জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের সভায় এফএফই প্রস্তাব যেভাবে উপস্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চান ইনফান্তিনো। তবে তাঁর সেই ক্ষমা চাওয়ায় অবস্থান বদলায়নি জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মতো ইউরোপের প্রভাবশালী ফুটবল সংস্থাগুলোর। বিতর্কের মধ্যেও চতুর্থ মেয়াদে ফিফার শীর্ষ পদে থাকার লক্ষ্য থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।




