চোটের কাছে হার মানলেন লিভারপুল তারকা
জাপানের অধিনায়ক ওয়াটারু এনডো , ছিটকে গেলেন বিশ্বকাপ থেকে। বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণেই বড়সড় ধাক্কা খেল জাপান ফুটবল দল। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক ওয়াটারু এনডো। ফলে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই নতুন অধিনায়ক খোঁজার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এশিয়ার এই পরাশক্তি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের হয়ে খেলার সময় পায়ে গুরুতর চোট পান ৩৩ বছর বয়সী এনডো। অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে তিনি অনেকটাই ফিট হয়ে উঠছিলেন। এমনকি গত ৩১ মে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও মাঠে নামেন তিনি। কিন্তু সেই ম্যাচেই নতুন করে পায়ে অস্বস্তি অনুভব করেন। পরবর্তীতে জাপানের মেডিকেল দলের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের মতো উচ্চ-তীব্রতার টুর্নামেন্টে খেললে তার ক্যারিয়ারে বড় ক্ষতি হতে পারে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাই বিশ্বকাপ শুরুর দিনই সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিদায়বেলায় আবেগঘন বার্তা
বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অবসরের কথা জানান এনডো। আবেগঘন এক বার্তায় তিনি বলেন,
আমি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। চোট পাওয়ার পর মাঠে ফেরার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছি, তাই মনে কোনো আফসোস নেই। তবে আসরটি খেলতে না পারায় অবশ্যই হতাশ। কাতার বিশ্বকাপের পর আমরা দল হিসেবে যে উন্নতি করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত।
দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বিদায়ী অধিনায়ক আরও বলেন,
কাতারে আমি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম এবং আমাদের সবার লক্ষ্য ছিল বিশ্বজয়ের। এই দলটা অসাধারণ। আমার বিশ্বাস, এবার তারা এমন কিছু উপহার দেবে যা জাপানের সমর্থকেরা আগে কখনো দেখেননি। আজ থেকে আমিও একজন সমর্থক হয়ে গেলাম। আমার বিশ্বাস, জাপান একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে।
বিপাকে জাপান শিবির
জাপান দলের জন্য এটি এক বিশাল ধাক্কা, কারণ চোটের কারণে কায়োরু মিতোমা এবং তাকুমি মিনামিনোর মতো দুই প্রধান তারকাকে তারা আগেই হারিয়েছে। সেই কারণেই কিছুটা বাধ্য হয়ে চোটাক্রান্ত এনডোকে দলে রেখেছিলেন কোচ এবং তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আগামী ১৫ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্লু সামুরাইরা। মাঠের লড়াইয়ে নামার মাত্র তিন দিন আগে নতুন দলনেতা নির্বাচন করে দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করাই এখন জাপানি কোচের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
