জয়টা যেন হাতের মুঠোয় এসেও ফসকে গেল অস্ট্রেলিয়ার। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৮ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ১-১ ড্রয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সকারুজদের। টাউনসভিলের কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি পার্কে শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ম্যাচের একেবারে শেষ স্পর্শে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান বদলি খেলোয়াড় রায়ান।
ব্রাজিলের বিপক্ষে এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার ১২তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাত্র একবার জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০০১ সালের কনফেডারেশনস কাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শাউন মারফির গোলে এসেছিল সেই জয়।
তাই এবারও ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছিল বিরল কীর্তির হাতছানি। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। তবে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সাহসী পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে কোচ টনি পপোভিচের।
বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক অভিযানের তুলনায় ব্রাজিলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কৌশলে ছিল স্পষ্ট পরিবর্তন। শুধু রক্ষণে জমাট থেকে সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে আক্রমণেও সক্রিয় ছিল সকারুজরা।
নেস্টরি ইরানকুন্ডাও শুরু থেকেই ব্রাজিলের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেন। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শক্তিশালী শট ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুগো সুজাকে লাফিয়ে ঠেকাতে বাধ্য করে। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির নতুন সাজের দলটি শুরুতে ছন্দ খুঁজতে কিছুটা সময় নিলেও অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে।
প্রথমার্ধে গোলও পেয়েছিল ব্রাজিল। চেলসির তরুণ তারকা এস্তেভাও বল জালে পাঠালেও পরে ভিএআর পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়। গোলটির আগে ব্রুনো গিমারায়েস অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটারকে ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

ম্যাচের শুরুতেই ইতালিয়ানো ও দগলাস সান্তোসের মাথায় মাথায় সংঘর্ষে কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ থাকে। তবে দুজনই পরে মাঠে ফিরেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে আসে অস্ট্রেলিয়ার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।
দগলাস লুইজ তরুণ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার পল ওকন-এংস্টলারকে ফেলে দেওয়ায় ফ্রি-কিক পায় সকারুজরা। বলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইরানকুন্ডা। ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কোনো দ্বিধা না করে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠান ব্রাজিলের জালে। অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের সামনে ইতিহাসের হাতছানি।ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়ের স্বপ্ন।কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ পর্যায়ে ব্রাজিলের আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি হয়। বদলি খেলোয়াড় রায়ান হেডে বল জালে পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় কেড়ে নেন। ম্যাচের শেষ স্পর্শেই সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপ থেকে দুই দলেরই হতাশাজনক বিদায়ের পর এটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি কুইন্সল্যান্ডের ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দলে বিশ্বকাপে থাকা মাত্র নয়জন খেলোয়াড়কে রেখেছিলেন। নতুন চেহারার ব্রাজিলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াও তাই পেয়েছিল নিজেদের পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ।




