মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই ধাক্কা

হতাশার হার দিয়ে রবার্তো মানচিনির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হলো। উয়েফা নেশনস লিগে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ইতালি। বেলজিয়ামের হয়ে গোল দুটি করেছেন মিকা গডটস ও বদলি খেলোয়াড় দোদি লুকেবাকিও। ঘরের মাঠে এমন হারে ম্যাচ শেষে ইতালির সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছে মানচিনির দলকে।

অন্যদিকে বেলজিয়ামের নতুন কোচ মার্ক ভান বোমেলের জন্য এটি ছিল দারুণ এক শুরু। নেদারল্যান্ডসের সাবেক অধিনায়কের অধীনে প্রথম ম্যাচেই বেলজিয়াম দেখিয়েছে নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর ফুটবল। ম্যাচ শুরুর আগে প্রয়াত সাবেক ইতালি ও ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড সান্দ্রো মাজ্জোলার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরিচিত এই মুখ।

নীরবতা শেষ হওয়ার পর ম্যাচে প্রথম বিপজ্জনক আক্রমণ করে বেলজিয়াম। চার্লস দে কেতেলারেকে ঠেকিয়ে ইতালিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। ইতালিও দ্রুত পাল্টা জবাব দেয়। ইন্টার মিলানের সতীর্থ নিকোলো বারেল্লার সঙ্গে সমন্বয় করে সুযোগ তৈরি করেন পিও এস্পোসিতো। তাঁর প্রথমবারের শট অবশ্য পোস্টের বাইরের দিক ঘেঁষে চলে যায়।

২০ মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। ইতালির দুই সেন্টারব্যাক জিয়ানলুকা মানচিনি ও দিয়েগো কোপোল্লার মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতির সুযোগ নেন মিকা গডটস। বল পেয়ে দোন্নারুম্মার বাঁ দিকে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের এই ফরোয়ার্ড।

গ্রীষ্মের দলবদলে আয়াক্স থেকে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে পিএসজিতে যোগ দেওয়া গডটস এরপরও ইতালির রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে থাকেন। দে কেতেলার এক দূরপাল্লার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান দোন্নারুম্মা। ফিরতি বলেও গোল হতে দেননি তিনি। পরে গডটসের হেডও ঠেকিয়ে দেন ইতালির অধিনায়ক।

প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের দাপটের মধ্যেও ইতালি একটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। নিকোলো কামবিয়াগির দারুণ দৌড় ও ক্রস থেকে সুযোগ পান মোইসে কিন। তবে দূরের পোস্টে তাঁর নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের আধিপত্য এতটাই ছিল যে বিরতির বাঁশি বাজার পর ইতালির সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয় মানচিনির দলকে।

মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই ধাক্কা
বল দখলের লড়াইয়ে ইতালি ও বেলজিয়ামের দুই খেলোয়াড়

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইতালি। এস্পোসিতো পরপর দুটি সুযোগ পান। কিন্তু বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনি লামেন্স দুবারই তাঁকে রুখে দেন। দ্বিতীয় সুযোগটিও তৈরি হয়েছিল কামবিয়াগির দারুণ প্রচেষ্টার পর। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ইতালি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটের দিকে মানচিনি একসঙ্গে তিন পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন দাভিদে ফ্রাত্তেসি, জর্জিও স্কালভিনি ও দানিয়েল মালদিনি।

এরপরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হয় বেলজিয়াম। ৬৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। বদলি হিসেবে নামা দোদি লুকেবাকিও মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান। এরপর ভেতরের দিকে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন ইতালির জালে।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে ইতালি। রিকার্দো কালাফিওরি দুর্দান্ত দৌড়ে উঠে এসে বাঁকানো শটে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু অল্পের জন্য সফল হননি। কর্নার থেকে স্কালভিনির নেওয়া শটও চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

ম্যাচের শেষ মিনিটেও সুযোগ এসেছিল ইতালির সামনে। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বলে কালাফিওরি আবারও শট নেন। কিন্তু সেটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ইতালির কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া মানচিনির জন্য তাই শুরুটা হলো বড় হতাশায়। অন্যদিকে নতুন কোচ মার্ক ভান বোমেলের অধীনে প্রথম ম্যাচেই বেলজিয়াম পেল আত্মবিশ্বাস জাগানো জয়।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles