এমবাপ্পের গোলে তুরস্ককে হারিয়ে জিদানের শুভসূচনা

জিনেদিন জিদানের অধীনে প্রথম ম্যাচেই জয় পেল ফ্রান্স। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। ফ্রান্সের জয়ের একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে গোল করার পরপরই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই তারকাকে।

ম্যাচের শুরুতেই তুরস্ক ফ্রান্সকে চাপে ফেলার আভাস দেয়। চতুর্থ মিনিটে বারিস ইলমাজের শট ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইন্যাঁ। যদিও পরে অফসাইডের বাঁশি বাজায় সেই আক্রমণের কার্যকারিতা থাকেনি।

১৭ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ফ্রান্স। মাইকেল অলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন এমবাপ্পে। তবে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। তুরস্কের আক্রমণের মধ্যেই প্রায় আধঘণ্টার সময় পেনাল্টির দাবি ওঠে। ফ্রান্সের বক্সে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর পড়ে যান ইলমাজ। তবে রেফারি তুরস্কের আবেদনে সাড়া দেননি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্সের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। উসমান দেম্বেলে ও এমবাপ্পের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে আক্রমণে গতি পায় ফরাসিরা। রায়ান শেরকি একটি আলগা বল পেয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে মেরিহ দেমিরালের দক্ষতায় তা নষ্ট হয়। এরপর অলিসের লক্ষ্যভেদী শট ফিরিয়ে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির। ফিরতি বলে আদ্রিয়েন রাবিওর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

এমবাপ্পের গোলে তুরস্ককে হারিয়ে জিদানের শুভসূচনা
পায়ের ব্যথায় কাতার গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে

বিরতির পর অবশ্য তুরস্কও সুযোগ তৈরি করে। আরদা গুলের সঙ্গে শেরকির সংঘর্ষে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় তুরস্ক। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। লাক্রোয়ার মাথায় লেগে বলটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কয়েক মিনিট পর আবারও সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয় তাদের। ৫৪ মিনিটে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ফ্রান্স। অলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে কাছের নিখুঁত শটে গোল করেন এমবাপ্পে।

এই গোলের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭-তে। তবে গোল উদ্‌যাপনের সময়ই তাঁকে শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যায়। মাঠের বাইরে গিয়ে চিকিৎসাও নিতে হয় তাঁকে। পরে মাঠে ফিরলেও স্বস্তিতে ছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে তুলে নেন জিদান। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফ্রান্সের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন দুয়ে। কিন্তু তার নেওয়া শট তুরস্কের গোলরক্ষক চাকি ঠেকিয়ে দেন।

শেষ দিকে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। ফ্রান্সের রক্ষণেও চাপ বাড়তে থাকে। তবে গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। উল্টো শেষ দিকে গোলরক্ষক চাকির লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় তুরস্ক আরও বিপদে পড়ে। বক্সের বাইরে হাতে বল স্পর্শ করার অপরাধে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর জায়গায় গোলরক্ষকের দায়িত্ব নেন আলতাই বায়িন্দির।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles