বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এক সময় তিনি জাতীয় দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হিসেবে বিবেচিত হতেন। তবে ২০২০ সালের পর থেকে তাকে আর নিয়মিতভাবে জাতীয় দলে দেখা যায়নি। এরপরও তিনি ঘরোয়া ফুটবলে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু সেই অধ্যায়ও এখন শেষের পথে। আগামীকালই তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
আজ তিনি তার বর্তমান ক্লাব ফর্টিস এফসি’র প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের গত দুই দশকের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মামুনুলের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে। এরপর তিনি দেশের প্রায় সব বড় ক্লাবেই খেলেছেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে রয়েছে আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী, শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির মতো দল। সর্বশেষ তিনি ফর্টিস এফসি’র হয়ে খেলছিলেন।
ক্লাব পর্যায়ের পাশাপাশি তিনি প্রায় এক দশক ধরে জাতীয় দলের জার্সিও গায়ে তুলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
তার আন্তর্জাতিক সাফল্যের মধ্যে অন্যতম হলো ২০১০ সালের এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী দলের সদস্য হওয়া। এটি তার ক্যারিয়ারের একটি গৌরবময় অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
মামুনুলের দুই আক্ষেপ
তবে বিদায়বেলায় এসে তার কণ্ঠে কিছু আক্ষেপও শোনা গেলো। বিশেষ করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে তার অপূর্ণতা। মামুনুল ছয়বার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। ২০০৩ সালের পর বাংলাদেশ আর সাফ শিরোপা জিততে পারেনি। এই বিষয়টি তার কাছে বড় হতাশার।
আরেকটি আক্ষেপের জায়গা হলো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা। তিনি অ্যাথলেটিকো কলকাতা দলে সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেই দলটি চ্যাম্পিয়নও হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি মাঠে খেলার সুযোগ পাননি। যা তার কাছে একটি অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবেই থেকে গেছে।
ফুটবলের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ
তবে আক্ষেপের পাশাপাশি তার মধ্যে রয়েছে কৃতজ্ঞতাবোধও। ফুটবল তাকে দিয়েছে অর্থ, পরিচিতি, সম্মান এবং জনপ্রিয়তা। তাই অবসরের পরও তিনি ফুটবলের সঙ্গেই থাকতে চান। ইতোমধ্যে তিনি ‘এ’ লাইসেন্স কোচিং কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে তার। তার ভাষায়, ফুটবল ছাড়া থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়, বরং এবার তিনি ফুটবলকে কিছু ফিরিয়ে দিতে চান।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩











