সময়ের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে। গত মাসের ১১ তারিখ ৪৮ দল নিয়ে তিন দেশে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। দেখতে প্রতিযোগীর সংখ্যা কমে এসেছে অর্ধেকেরও কমে। শনিবার সংখ্যাটা কমে ষোলোতে চলে আসবে। স্বপ্ন বেঁচে থাকবে মাত্র ১৬ দলের। প্রতিযোগীর সংখ্যা কমছে কিন্তু বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ট্রফি জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দ্বৈরথও বাড়ছে।
বাড়ছে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াই। এ লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন দুই ‘এম’। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। একজন এগিয়ে যান তো, পরের ম্যাচে তাকে পেছনে ঠেলে দেন অন্যজন। ফলে এবারর গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের প্রতিযোগিতায় যোগ হয়েছে রুদ্ধশ্বাস নাটক।
লিওনেল মেসি এরই মধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সববেচে বেশি গোলদাতার আসনে বসে পড়েছেন। লম্বা সময় ধরে সিংহাসনে থাকা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলেছেন। ক্লোসার ১৬ গোলকে পেছনে ফেলে মেসি করেছেন ১৯ গোল। মনে মনে হয়তো ভেবেছিলেন- যাক রাজ্য শাসনটা ভালোভাবে করা যাবে। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পে তা হতে দিচ্ছেন না। রাজদণ্ড হাতে পাননি ঠিকই তবে কেড়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। যে কোনো সময় মেসির হাতছাড়া হতে পারে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে এসে ১৮ গোল করেছেন। মেসিকে এই ১৮ গোল করতে খেলতে ছয়টা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট। সুইডেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে বুঝিয়ে দিয়েছেন মেসির রেকর্ড কেড়ে নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০২৬ বিশ্বকাপে উভয়ে ছয়টি করে গোল করেছেন। তবে গোল্ডের বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। উভয় ছয় গোল করলেও এমবাপ্পের রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট। মেসির কোনো অ্যাসিস্ট নাই।
মেসির ট্রফি কেসে গোল্ডেন বল রয়েছে। একটি নয়, দুটি। তবে সেখানে কোনো গোল্ডেন বুট নেই। আবার এমবাপ্পে যদি এবার গোল্ডেন বুট জয় করেন তাহলে বুটের সংখ্যা তার ট্রফি কেসে বেড়ে দুই হবে। তবে এমবাপ্পের চোখ এবার গোল্ডেন বুটের দিকে নয়, মূল ট্রফির দিকে। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে তিনি দলীয় সাফল্যের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। তার ভাষায়-১৯ জুলাই আবার মেটলাইফে ফেরা আমার স্বপ্ন। আবার ট্রফি জয় করতে চাই।
এমবাপ্পে এরই মধ্যে একবার বিশ্বকাপ জয় করেছেন। আরও একবার খেলেছেন ফাইনালে। টানা দুইবার ফাইনালে খেলা প্লেয়ার তিনি। তৃতীয়বার শুধু ফাইনাল খেলা নয়, জিততে চান তিনি।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩











