কোয়ার্টার-ফাইনালের লক্ষ্য মোহাম্মদ সালাহ ও মিশরের

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

কোয়ার্টার-ফাইনালের লক্ষ্য মোহাম্মদ সালাহ ও মিশরের

মিশর ফুটবল দল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কে সামনে রেখে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত মিশর। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং ইরানের এর মুখোমুখি হবে তারা। দলটির প্রধান তারকা ও অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ-র নেতৃত্বে এবার মিশরীয়দের মূল লক্ষ্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করা।

বিশ্বকাপ ফুটবলে মিশরের অতীত সাফল্য

মিশরের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হতে পারত ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপেই। কিন্তু চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেবার আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে পারেনি দলটি। অবশেষে চার বছর পর, ১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়ে মিশর। তবে হাঙ্গেরির কাছে হেরে সেবার মাত্র এক ম্যাচ খেলেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। রেকর্ড সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নদের পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ৫৬ বছর। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তারা ফিরলেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, যদিও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে একটি স্মরণীয় ড্র উপহার দিয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০১৮ সালে তারা আবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও প্রথম পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। ২৬-এর বিশ্বকাপে এটি হতে যাচ্ছে মিশরের চতুর্থ অংশগ্রহণ।

গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা মিশরের প্রতিপক্ষরা হলো:

অভিজ্ঞ কোচ হোসাম হাসানের অধীনে এবং মোহাম্মদ সালাহ-র মতো বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বে এবার মিশর বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। বেলজিয়াম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও নিউজিল্যান্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফল আশা করতেই পারে তারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপ পর্ব পার হয়ে নকআউটে যাওয়ার এটাই মিশরের সেরা সুযোগ।

এক নজরে মিশরের বিশ্বকাপ তথ্য

  • অধিনায়ক: মোহাম্মদ সালাহ
  • ম্যানেজার/কোচ: হোসাম হাসান
  • মোট বিশ্বকাপ উপস্থিতি (২০২৬ সহ): ৪ বার
  • সর্বোত্তম ফলাফল: গ্রুপ পর্ব

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য মিশরের দল (সম্ভাব্য/পূর্ণাঙ্গ)

বিশ্বকাপ মাতাতে কোচ হোসাম হাসান যে স্কোয়াড সাজিয়েছেন, তা নিচে দেওয়া হলো:

পজিশনখেলোয়াড়দের নাম (ও ক্লাব)
গোলরক্ষকমোহাম্মদ এল শেনাওয়ি (আল আহলি), মোস্তফা শোবের (আল আহলি), এল-মাহদি সোলিমান (জামায়েক), মোহাম্মদ আলা (এল গুনা)
ডিফেন্ডারমোহাম্মদ হানি (আল আহলি), তারেক আলা (জেড), হামদি ফাথি (আল ওয়াকরাহ), রামি রাবিয়া (আল আইন), ইয়াসের ইব্রাহিম (আল আহলি), হোসাম আবদেলমাজিদ (জামায়েক), মোহাম্মদ আবদেলমোনেম (নিস), আহমেদ ফুতুহ (জামায়েক), করিম হাফেজ (পিরামিডস)
মিডফিল্ডারমারওয়ান আত্তিয়া (আল আহলি), মোহনাদ লাশিন (পিরামিডস), নাবিল এমাদ (আল নাজমা), মাহমুদ সাবের (জেড), আহমেদ জিজু (আল আহলি), ইমাম আশুর (আল আহলি), মোস্তফা জিকো (পিরামিডস), মাহমুদ ত্রেজেগে (আল আহলি), ইব্রাহিম আদেল (নর্ডসিয়েল্যান্ড), হাইসেম হাসান (রিয়াল ওভিয়েডো)
ফরোয়ার্ডমোহাম্মদ সালাহ (লিভারপুল), ওমর মারমুশ (ম্যানচেস্টার সিটি), আকতায় আবদুল্লাহ (এনপিপি), হামজা আবদেলকরিম (বার্সেলোনা)

মোহাম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশ কিংবা হামজা আবদেলকরিমের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া এই আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে চুরমার করার ক্ষমতা রাখে। কোটি মিশরীয় ভক্তের প্রত্যাশা, এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিশ্বমঞ্চে নতুন এক ইতিহাস গড়বে পিরামিডের দেশ।

Exit mobile version