ফ্রেইবুগকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগ শিরোপাা নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার রাতে ইস্তান্বুলে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথম ইউরোপার ফাইনালে উঠে শিরোপাও জিতল ভিলা।
অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের শিরোপা খরা ঘুচেছে। ইউরি তিলেমানস এবং এমিলিয়ানো বুয়েনদিয়ার অনবদ্য দুটি গোল ভিলাকে এই জয়ে বড় ভুমিকা রাখে। প্রথমার্ধেই তারা দু’জন গোল করেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করেন মরগান রজার্স
ইস্তাম্বুলে প্রথমার্ধের শেষদিকে তিলেমানসের এক দুর্দান্ত ভলিতে লিড নেয় উনাই এমেরির দল। বিরতির ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে বুয়েনদিয়া এক চমৎকার বাঁকানো শটে ভিলার জন্য ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে মরগান রজার্সের গোলটি মাঠের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া জার্মান দলটিকে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে দেয়। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর ভিলার প্রথম কোনো শিরোপা এবং গত ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো বড় ইউরোপীয় ট্রফি জয় নিশ্চিত হয়।
অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা জয় ঐতিহাসিক
১৯৮২ সালে রটারডামে পিটার উইথের গোলে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে সেই বিখ্যাত ও চমকপ্রদ জয়টি ভিলার ১৫২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে টিকে ছিল। তবে ভিলার বর্তমান তারকারা ক্লাবের সেই সোনালী প্রজন্মের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
এখন তিলেমানস, বুয়েনদিয়া, জন ম্যাকগিন এবং তাদের সতীর্থরা সেই অনন্য মর্যাদার অংশীদার হলেন, যা এতদিন কেবল উইথ, টনি মরলে, ডেনিস মরটিমার, নাইজেল স্পিঙ্ক এবং ‘৮২-র সেই ঐতিহাসিক দলের জন্যই সংরক্ষিত ছিল।

এবার রফাইনালে বেশ কাকতালীয়ভাবেই, গ্যালারিতে যখন উইথ এবং মরটিমার খেলা দেখছিলেন, তখন ভিলা তাদের ঐতিহ্যবাহী ক্ল্যারেট ও ব্লু জার্সির পরিবর্তে বায়ার্নের বিপক্ষে খেলা সেই ম্যাচের মতোই সাদা শার্ট পরে ফ্রেইবুর্গকে গুঁড়িয়ে দেয়।
ভিলার এই বহু প্রতীক্ষিত মহাদেশীয় জয়টি ছিল কোচ এমেরির জন্য আরও একটি ইউরোপা লিগ মাস্টারক্লাস। এর আগে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সেভিয়া এবং ২০২১ সালে ভিয়ারিয়ালের হয়ে জয়ের পর তিনি এখন পঞ্চমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলেন।
এমেরি এই সপ্তাহে বলেছিলেন যে তিনি নিজেকে ইউরোপা লিগের ‘রাজা’ মনে করেন না, তবে বেসিকতাস স্টেডিয়ামে প্রায় ২০ হাজার উলসিত সমর্থকের সাথে উদযাপনরত ভিলার একনিষ্ঠ ভক্ত প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে তাঁর দলের এই রাজ্যাভিষেক রাজকীয় অনুমোদনই পেয়েছে।
হলিউড অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস, যিনি ভিলার আরেকজন বিখ্যাত ভক্ত, তিনিও এই উদযাপনে শামিল হন এবং ম্যাচ শুরুর আগে দলের উদ্দেশ্যে শুভকামনা বার্তা পাঠান। সবমিলিয়ে ভিলার জন্যই যেন রাতটি উজ্জ্বলতায় উদ্ভাসিত ছিল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















