বিশ্বকাপ শেষ ডাচ ফুটবলার জাভি সিমন্সের

২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ইংল্যান্ডের উলভারহ্যাম্পটনের মলিনিউতে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন টটেনহ্যাম হটস্পারের জাভি সিমন্সকে আহত অবস্থায় স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ইংল্যান্ডের উলভারহ্যাম্পটনের মলিনিউতে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন টটেনহ্যাম হটস্পারের জাভি সিমন্সকে আহত অবস্থায় স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কঠিন এক সময় পার করছে টটেনহ্যাম হটস্পার। মৌসুমের শেষ ভাগে এসে দলটি রেলিগেশনের শঙ্কা থেকে নিজেদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এমন এক সংকটময় সময়ে দলটি বড় ধাক্কা খেল তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জাভি সিমন্স এর ইনজুরি – তে। এই চোট শুধু টটেনহামের জন্য নয়, বরং জাভি’র ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ চলতি মৌসুমের বাকি অংশের পাশাপাশি আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেছেন তিনি।

২৩ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়েছেন। ফলে চলতি ক্লাব মৌসুমে আর মাঠে নামা হচ্ছে না তার। গত শনিবার উলভসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচটিতে টটেনহাম ১-০ গোলে জয় পেলেও সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায় সিমন্সের চোটে।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার হুগো বুয়েনোর সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান তিনি। প্রথমে নিজে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যথার তীব্রতায় আবার মাটিতে বসে পড়েন। পরে চিকিৎসকরা এসে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যান, যা দেখে সমর্থকরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েন।

চোট পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সিমন্স। তিনি লেখেন,

“অনেকে বলে জীবন কখনো কখনো নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে, আর আজ আমি সেটাই অনুভব করছি। হঠাৎ করেই আমার মৌসুম শেষ হয়ে গেল, আর এখন আমি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সত্যি বলতে, আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।”

তার এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, এই ইনজুরি তাকে মানসিকভাবেও ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

এই ইনজুরির ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আশা ছিল তার। ১৪ জুন এফ গ্রুপে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই চোটের কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ বিষয়ে সিমন্স বলেন,

“আমি সবসময় আমার দলের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত থাকি, কিন্তু সেই সুযোগটা আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হলো। এই গ্রীষ্মে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারানোটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”

তবে হতাশার মাঝেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তিনি একজন ভালো সতীর্থ হিসেবে নিজের ভূমিকা পালন করবেন এবং বিশ্বাস করেন, তার দল একসঙ্গে এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারবে।

Exit mobile version