সব উদ্বেগ উড়িয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন নেইমার

সব উদ্বেগ দূর করে বিশ্বকাপ দলে নেইমার

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল দলে নেইমার থাকবেন কি থাকবেন না- গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল ভক্তদের মাঝে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অবশেষে সোমবার রাতে সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল। সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব উড়িয়ে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলের এই তারকা খেলোয়াড়।

রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি যখন দলের চূড়ান্ত খেলোয়াড়দের নাম পড়তে থাকলেন তখন একটা নামের জন্য সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছিল। সেই কাঙ্খিত নামটি ছিল নেইমার। শেষ দিকে এসে আনচেলোত্তি যখন উচ্চারণ করলেন নেইমার জুনিয়র তখন আনন্দ চিৎকারে ফেটে পড়লেন সবাই। চারিদিক করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠলো। মিলনায়তনে বয়ে গেল আনন্দের সুনামি।

নেইমারের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্দেহ ছিল না কারো। কিন্তু তার সুস্থতা আর ফিটনেস নিয়ে সন্দেহমুক্ত হতে পারছিলেন না কেউ। গত কয়েক মাস ইনজুরি তার নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে বিশ্বকাপে তার অংশ নেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছিল।

নেইমার

বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে অন্তুর্ভূক্ত করার আগে কোচ আনচেলোত্তি কম পরীক্ষা নেননি। একজন সুস্থ নেইমারকে দলে পেতেই তার এই পরীক্ষা নিরীক্ষা। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচের পর থেকেই নেইমার দলের বাইরে। সে ম্যাচে হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার পর জাতীয় দলে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ক্রমেই বাড়তে থাকে। বাছাই পর্বের একাধিক ম্যাচ তিনি খেলতে পারেননি। শুধু তাই নয়, গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন আনচেলোত্তি। তখনই তার দলে থাকা নিয়ে ভক্তদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়। তার ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা ছিল কোচের মনে। আর এতেই বিশ্বকাপে নেইমারের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় ভক্তদের মনে।

নেইমার এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। ২০১৪, ২০১৮ ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। ব্রাজিল ইতিহাসের সর্বাধিক গোলদাতা নেইমার এ পর্যন্ত ১২৮ ম্যাচে করেছেন ৭৯ গোল।

বিশ্বকাপের ব্রাজিল দল:

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)।

ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)।

মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)।

ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।

Exit mobile version