অবশেষে বিশেষ সুবিধায় বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেল চীন। এশিয়ায় আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ টিভিতে দেখা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ফিফা অনেক কম মূল্যেই শেষ পর্যন্ত আসর শুরুর ২৭ দিন আগে চুক্তি করেছে চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে।
ফিফার মূ্ল্য ছাড়ের বিশেষ সুবিধায় বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার সুযোগে পেয়েছে চীনের প্রতিষ্ঠানটি। ফিফা আসন্ন এই আসরটির সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব বিক্রিতে চড়া দাম হাঁকানোর কারণে বেশ সমস্যায় পড়ে এশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশেষে চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ২৭ দিন আগে এই সম্প্রচারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফিফা শুরুতে যে দাম চেয়েছিল, তার চেয়ে অনেক কম মূল্যে চুক্তিটি করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এ কারণে এখন এশিয়ার অনেক দেশেই বিশ্বকাপ ফুটবল টিভিতে সরাসরি দেখার সুযোগ তৈরির বিষয়টি উন্মুক্ত হয়েছে।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙে হওয়া এই সামগ্রিক চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের দুটি করে আগামী চারটি বিশ্বকাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপও।
যে বিশেষ সুবিধায় বিশ্বকাপের সম্প্রচার করার সুযোগ পেল চীন
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৩২ কোটি টাকা)। তবে চুক্তি করার সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছিল, ফিফা শুরুতে এই স্বত্বের জন্য ৩০ কোটি ডলার দাবি করেছিল বলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খবর প্রকাশ করেছিল চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো। অর্থাৎ, নিজেদের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কম মূল্যে স্বত্ব বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা।
চীনের সঙ্গে এই সমঝোতা নিয়ে ফিফাও এখন সন্তুষ্ট। ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিএমজির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’
গ্রাফস্ট্রোম চলতি সপ্তাহেই চীন সফরে ছিলেন, যেখানে চীনা ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তিনি। সেই বৈঠকেরই ফলাফল এই সমঝোতার চুক্তি। অবশ্য, ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফিফা। কিন্তু চীনের কাছ থেকে নিয়ে অনেক দেশই এখন হয়তো বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সুযোগ পাবে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের সঙ্গে বেইজিংয়ের সময়ের ব্যবধান প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। মূলত এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের কারণেই (ম্যাচগুলো চীনের মধ্যরাতে বা ভোরে সম্প্রচারিত হবে বলে) বেইজিংয়ের ওপর ফিফার দর-কষাকষির চাপ বা নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কম ছিল। তবে তা সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















