ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় মাদক, অবৈধ দখল, ছিনতাই এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম রোধে শুক্রবার থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, জাতীয় স্টেডিয়ামকে আবারও নিরাপদ ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান চলবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে স্টেডিয়াম এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ বক্স স্থাপন এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দর্শনার্থী ও ক্রীড়াবিদরা নিরাপদ পরিবেশ পান।
স্টেডিয়াম এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় দ্রুত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং জরাজীর্ণ স্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে স্টেডিয়াম এলাকায় থাকা দোকানগুলোর লিজ, ভাড়া ও চুক্তির বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও সরকারি রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) প্রাপ্য রাজস্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়াবিদদের বকেয়া ভাতা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আইবাস (iBAS++)-সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতায় আটকে থাকা ২৮ জন ক্রীড়াবিদের মধ্যে ২৬ জনের ভাতা ছাড়ের সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। বাকি দুইজনের বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ক্রীড়াবিদের প্রাপ্য অর্থ যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকাকে ধাপে ধাপে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।


