বিশ্বকাপ ২০২৬
অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ বিমান বন্দরে পা রাখার পর অনেক দর্শক এগিয়ে এসে সেলফি তুললেন, যেন নায়ক বেশে ফিরলেন রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপের খেলা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন কিন্তু আমেরিকা ভিসা না দেয়ায় যেতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী ওমর আরতান। তবে দেশে তাকে দেয়া হয়েছিল রাজকীয় সংবর্ধনা। ‘বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মেলেনি, তবে উয়েফার ডাকে ফিফা রেফারি ওমর আরতান’ পা রেখেছেন ইউরোপে।
বিশ্বকাপের আগে ওমর আরতান হয়তো ভাবতেই পারেননি এমন একটা সময় তিনি পার করেবেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রাত্য হওয়ার পর ইউরোপ তাঁকে এভাবে বরণ করে নেবে? বিশ্বকাপের দুঃখ এত তাড়াতাড়ি তিনি ভুলতে পারবেন। তবে বিশ্বকাপের পর তিনি বসে থাকেননি সোমালি লিগ, কুয়েত প্রিমিয়ার লিগ সহ খেলা পরিচালনার মধ্যেই ছিলেন।

বাবাকে ছোট বেলায় হারানো ওমর আরতান মায়ের কাছ থেকেও দুরে থেকে মানুষ হয়েছেন। ২০১৮ সালে প্রথম ফিফার তালিকা ভুক্ত হোন আরতান, এরপর ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, এছাড়া প্রথম সোমালিয়ার রেফারি হিসেবে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগও পরিচালনা করেছেন। ২০২৫ সালে তিনি বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারি হওয়ার পর ধাপে ধাপে উন্নতি করার পর ২০২৬ সালে পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনার সুসংবাদ। মূলতঃ বিশ্বকাপে ব্রাত্য হওয়ার পরপরই উয়েফা তাকে আশ্বাস দিয়ে রেখেছিল সুপার কাপের ম্যাচ পরিচালনার কথা যা এখন আরতানের কাছে বাস্তব সত্যি।

তবে ওমর আরতান প্রথম রেফারি যিনি উয়েফার বাইরে থেকে উয়েফার ম্যাচ পরিচালনা করবেন তার উয়েফায় প্রথম ম্যাচ হল পিএসজি বনাম অ্যাষ্টন ভিলা। ওমর একেবারে পাড়ার মাঠ থেকে উঠে আসা ফুটবল রেফারি যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন ফুটবলার হবেন কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় বেছে নিয়েছিলেন মাঠে থাকার পথ। তিনি আজ সফল একজন রেফারি যিনি আফ্রিকা মহাদেশের রেফারিদের ফ্ল্যাগের সুবাস ছড়াবেন ইউরোপ মহাদেশে।
সারকথা: রেফারি ওমর আরতান তরুণদের জন্য পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি যদি পারি, যে কেউ পারবে। যা চান, তা-ই করতে পারেন। “স্বপ্ন দেখা কখনো বন্ধ করবেন না। রেফারি হতে চাইলে সেটাই সবচেয়ে ভালো কাজ-কেউ বাধা দিলেও থেমে যাবেন না। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন, দক্ষতায় নিজেকে শাণিত করুন।”


