মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় হবে আরচ্যারী প্রশিক্ষণ
তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান নারী আরচ্যার তুলে আনতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশন। আজ ধানমণ্ডিস্থ রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এই পদক্ষেপের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা।
আরচ্যারী ফেডারেশনের উন্নত কোচিং ফ্যাসিলিটি, ইকুইপমেন্ট এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মালিকানাধীন ডরমিটরিতে থাকা ও সুরক্ষার সুব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের তারকা আরচ্যার বিউটি রায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে কোচের দায়িত্বে থাকবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত এবং খেলাটির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতা ও শারীরিক শক্তি সম্পন্ন ৫০ জন মেয়েকে বাছাই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরচ্যারী হুট করে গড়ে ওঠার মতো কোনো খেলা নয় উল্লেখ করে কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল জানান, একটি মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরি করতে সর্বনিম্ন তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। ২০৩২ অলিম্পিক গেমসে দেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী বালিকারা অধিকাংশই স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী। তাই তাদের পড়াশোনা বন্ধ না করে, বরং স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং পড়ার চাপ কম থাকে এমন সময়ে এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এছাড়া মেয়েদের পারিবারিক জীবন ও পড়াশোনার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
শুরুতে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং ইকুইপমেন্ট সহায়তা ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশন প্রদান করবে। পরবর্তীতে বিশ্বমানের সেরা কোম্পানিগুলোর ডিসকাউন্ট প্রাইজে এসব যন্ত্রপাতি আরও সাশ্রয়ী মূল্যে খেলোয়াড়দের মাঝে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অর্জিত ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এবং মহিলা আরচ্যারীর ক্ষেত্রে বিদ্যমান আংশিক শূন্যতা পূরণ করতেই মূলত এই যৌথ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


