বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বহুবারই নিজের ছেলের সঙ্গে একই দলে খেলার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। সে স্বপ্ন অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হলেও সাম্প্রতিক খবরে সেই ইঙ্গিত মিলছে। অনেকের কাছে অসম্ভব এই কল্পনা হয়তো বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল উইয়াম’ এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টির ইঙ্গিত মিলেছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র ২০২৬-২৭ মৌসুমে আল নাসর এর মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করতে পারে। বর্তমানে তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। তরুণ উইঙ্গারকে ধীরে ধীরে সিনিয়র দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি।
তবে বিষয়টি তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করতে চাইছে না আল নাসর। বরং ধাপে ধাপে তাকে প্রস্তুত করার কৌশলই নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সিনিয়র দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। যাতে করে সে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে কোচিং স্টাফ তার পারফরম্যান্স ও মানসিক প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর তার অগ্রগতি সন্তোষজনক হলে ম্যাচ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রতিভার প্রমাণ
ইতোমধ্যেই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে সে অন্যতম সেরা পারফর্মার। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আল ফায়হা এর বিপক্ষে ৪-৩ গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় আসে সে।
পজিশনের দিক থেকেও বেশ বহুমুখী এই তরুণ ফুটবলার। মূলত লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেললেও আক্রমণভাগের প্রায় সব জায়গাতেই খেলতে পারে। প্রয়োজনে স্ট্রাইকার বা রাইট উইঙ্গার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। বিষয়টি তাকে দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের শুরুটা দারুণ। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্তুগালের বয়সভিত্তিক দলে তিনটি শিরোপা জিতেছে সে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভ্লাটকো মাকোভিচ টুর্নামেন্ট এর অনূর্ধ্ব-১৫ ফাইনালে জোড়া গোল করে রোনালদো জুনিয়র। যা দলকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখে। এরপর একই বছরের নভেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ফেডারেশন কাপ জয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলগারভে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও শিরোপা জিতে নেয় সিআর সেভেনের বড় ছেলে।
সব মিলিয়ে, বয়সের এই পর্যায়েই বাবার শুরুর ক্যারিয়ারের সঙ্গে তুলনা টানার মতো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। তবে সিনিয়র পর্যায়ের ফুটবল যে অনেক বেশি কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সেটিও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
লক্ষ্য ইউরোপীয় ফুটবল
যদিও আল নাসরেই তার সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবুও তার লক্ষ্য ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। ২০২৬ সালের মার্চে রিয়াল মাদ্রিদ এর অনূর্ধ্ব-১৬ একাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ পাওয়াও সেই লক্ষ্যেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ৪১ বছর বয়সেও রোনালদো আল নাসরের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এবং তার বর্তমান চুক্তি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে। সামনে ফিফা বিশ্বকাপ শেষে তার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে ১০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্য তাকে আরও কিছুদিন মাঠে ধরে রাখতে পারে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০২৬-২৭ মৌসুমেই ফুটবল বিশ্ব এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারে। বাবা ও ছেলে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র, একই দলে একসঙ্গে মাঠে নামছেন। এমন ঘটনা শুধু রোনালদো পরিবারের জন্যই নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের জন্যই হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
