রুবেল অবসর নিলেন শেষ পর্যন্ত। গত দুই বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে মাত্র একটি এবং চার বছর আগে খেলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেখান থেকেই স্পষ্ট হয়েছে রুবেল হোসেনের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার আর সামনে এগোবে না। এবার এই ডানহাতি পেসার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ফেসবুক পোস্টে।
চার বছর আগে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া রুবেল অবসর নিলেন অবশেষে। সর্বশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন এই পেসার। এরপর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি ৩৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার।
লম্বা সময় বাংলাদেশ দলের বাইরে থাকা এই পেসার ঘরোয়া ক্রিকেটেও দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়মিত। বিভিন্ন দলে থাকলেও খেলার সুযোগ কম পেয়েছেন। তাই রুবেলের ক্যারিয়ার থমকে গেছে সেটিও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। বুধবার সেই ঘোষণা তিনি দিয়েছেন।
রুবেল অবসর নিলেন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অবসরের ঘোষণা দেন রুবেল। তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রুবেলের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’ যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার দিকে তেমন আগ্রহ নেই কোনো দলের। রুবেল নিজেও ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত বেশি।
পুরো ক্যারিয়ারে পরিবার, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন রুবেল। তাই বিদায় বেলায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই পেসার, ‘আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি।’
বাংলাদেশের হয়ে ২৭ টেস্ট খেলেছেন রুবেল। ৪৪ ইনিংসে বোলিং করে তিনি শিকার করেছেন ৩৬ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ইনিংসে ১৬৬ রানে ৫ উইকেট, আর ম্যাচে ২১০ রানে ৫ উইকেট। টেস্টে ফাইফার পেয়েছেন একবার। তার বোলিং গড় প্রায় ৭৬.৭৭ এবং স্ট্রাইকরেট ১১৭.৩।
টেস্টের চেয়ে রঙিন পোশাকে রুবেলের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ১০৪ ওয়ানডে খেলে ১০২ ইনিংস বোলিং করে ১২৯ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তার বোলিং গড় ৩৪.৩১, ইকোনোমি ৫.৬৭ এবং স্ট্রাইকরেট ৩৬.২। এই সংস্করণে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ২৬ রানে ৬ উইকেট। ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকও আছে তার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচ খেলে নামের পাশে যোগ করেছেন ২৮ উইকেট। যেখানে ওভার প্রতি তিনি রান খরচ করেছেন ৯.৪৫। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩১ রানে ৩ উইকেট।
