Home Blog Page 102

টিভিতে আজকের খেলা: ১৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে আজ ম্যাচ নেই, তবে পুনঃপ্রচার দেখতে পারেন টেলিভিশনে। লর্ডসে চলছে ভারত-ইংল্যান্ড নারী টেস্ট।

ক্রিকেট
নারী টেস্ট-৪র্থ দিন
ইংল্যান্ড-ভারত
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১

২য় ওয়ানডে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নিউজিল্যান্ড
রাত ১২-৩০ মি., ফ্যানকোড

বিশ্বকাপ ফুটবল-পুনঃপ্রচার
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

পর্তুগাল-স্পেন
বেলা ১টা, টি স্পোর্টস, রাত ১২টা

টানা দ্বিতীয়বার উইম্বলডনের রাজা সিনার

0

বিশ্ব টেনিসে নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করলেন ইতালির ইয়ানিক সিনার। টানা দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডনের শিরোপা জিতে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখালেন বিশ্বের এক নম্বর এই তারকা। রবিবার অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে রোমাঞ্চকর ফাইনালে জার্মানির আলেকজান্ডার জভেরেভকে ৬-৭ (৫-৭), ৭-৬ (৭-৩), ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসেন তিনি।

এই জয়ের মাধ্যমে ওপেন যুগে উইম্বলডনের শিরোপা ধরে রাখা মাত্র দশম খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন সিনার। একই সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যামে নিজের শততম ম্যাচও জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন ২৪ বছর বয়সী ইতালিয়ান। চলতি বছরে এটি তাঁর প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হলেও মৌসুমের ষষ্ঠ শিরোপা।

প্রথমবারের মতো উইম্বলডনের ফাইনালে ওঠা জভেরেভ শুরুটা করেছিলেন দারুণভাবে। টাইব্রেকারে প্রথম সেট জিতে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ধৈর্য, নিখুঁত পরিকল্পনা ও অসাধারণ বেসলাইন টেনিসে ম্যাচের লাগাম নিজের হাতে তুলে নেন সিনার।

প্রথম দুই সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভিস গেম অক্ষুণ্ন রাখেন। ফলে দুটি সেটই গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথমটি জিতলেও দ্বিতীয় টাইব্রেকারে শুরু থেকেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সমতা ফেরান সিনার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনার ও রানার আপ আলেক্সান্ডার জভেরেভ

তৃতীয় সেটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইতালিয়ান তারকা। সপ্তম গেমে জভেরেভ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক পয়েন্ট পেলেও দুর্দান্ত ড্রপ শটে সেটি রক্ষা করেন সিনার। এরপর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক টেনিসে জার্মান প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে সেটটি নিজের করে নেন। চতুর্থ সেটেও একই ছন্দ বজায় রেখে শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি।

সার্ভিসে উভয়ে ছিলেন দূর্দান্ত

ম্যাচজুড়ে দুই খেলোয়াড়ই সার্ভিসে ছিলেন দুর্দান্ত। জভেরেভের প্রথম সার্ভ সফল হওয়ার হার ছিল ৭৬ শতাংশ। তবে দীর্ঘ র‍্যালি, নিখুঁত কোর্ট কভারেজ এবং ধারাবাহিক বেসলাইন নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন সিনার। তিনি ৫৮টি উইনার মারেন এবং মাত্র একটি ব্রেক পয়েন্ট প্রতিহত করেই ম্যাচ শেষ করেন।

শেষ পয়েন্ট জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে কোর্টে লুটিয়ে পড়েন সিনার। কয়েক মুহূর্ত ঘাসের ওপর শুয়ে ঐতিহাসিক সাফল্যের অনুভূতি উপভোগ করেন। এরপর উঠে দাঁড়িয়ে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। গ্র্যান্ড স্ল্যামে জভেরেভের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়েও এখন ৭ ম্যাচে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেন তিনি।

মৌসুমের শুরুটা সুখকর ছিল না

চলতি মৌসুমের শুরুটা অবশ্য সিনারের জন্য সুখকর ছিল না। মে মাসে ফরাসি ওপেনে দ্বিতীয় রাউন্ডেই জুয়ান ম্যানুয়েল সেরুন্দোলোর কাছে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে বিদায় নেন। শারীরিক অসুস্থতা ও প্যারিসের তীব্র গরমকে সেই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে উইম্বলডনে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা গেল তাঁকে।

টুর্নামেন্টের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও শেষ দিকে নিজের সেরা টেনিস উপহার দেন সিনার। সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর জভেরেভের বিপক্ষেও একই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখেন তিনি।

অন্যদিকে জভেরেভের সামনে ছিল বিরল এক কীর্তি গড়ার সুযোগ। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের পরই দ্বিতীয় মেজর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সিনারের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সামনে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে ফাইনালে ওঠার সুবাদে নতুন এটিপি র‌্যাঙ্কিংয়ে তিনি বিশ্বের দুই নম্বরে উঠে আসার পথে রয়েছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের খুঁটিনাটি ও ভবিষ্যদ্বাণী

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। গত এক মাসে সহ-আয়োজক তিন দেশসহ ব্রাজিল ও জার্মানির মতো পরাশক্তি বিদায় নিয়েছে। টুর্নামেন্টের ৪৪টি দলকে পেছনে ফেলে এখন শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে মাত্র ৪টি দল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে মহারণ।

সেমিফাইনালের মঞ্চে দলগুলোর শক্তি, দুর্বলতা, তারকা খেলোয়াড় এবং বাজির দর খেলা.লাইভের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রথম সেমিফাইনাল: ফ্রান্স বনাম স্পেন

ফ্রান্স: অদম্য এক শক্তি

এবারের টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের যাত্রা ছিল একেবারেই মসৃণ। এখন পর্যন্ত খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে তারা, গোল করেছে ১৬টি। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসের আক্রমণভাগের সামনে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে এবং নকআউটে সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কো খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে।

  • সেরা পারফর্মার: কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮টি গোল, ৩টি অ্যাসিস্ট)। বিশ্বকাপে ২০ ম্যাচে তাঁর মোট গোল এখন ২০টি, যা কেবল লিওনেল মেসির পেছনে।
  • বাজির দর (DraftKings): -১৫৫ (ফেভারিট)

স্পেন: ভাগ্যের জোড়ে নাকি কৌশলে?

ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন এখনো তাদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেনি, তবে তাদের রক্ষণভাগ মাত্র ১টি গোল হজম করে টুর্নামেন্টের সেরা প্রমাণিত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সাথে ড্র করার পর তারা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে নকআউটে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা জিতেছে একদম শেষ মুহূর্তের গোলে।

  • সেরা পারফর্মার: মিকেল মেরিনো। বদলি হিসেবে নেমে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটে এবং বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ৮৮ মিনিটে গোল করে দলকে সেমিতে তোলেন তিনি।
  • বাজির দর (DraftKings): +১২৫

ম্যাচটি কোথায় ভাগ্য নির্ধারণ হবে?

স্পেন বল পজিশন ধরে রেখে ফ্রান্সের আক্রমণের সুযোগ কমাতে চাইবে। কিন্তু ফ্রান্সের রয়েছে বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাক। এমবাপ্পের গতি এবং অলিসের পাসিং নিখুঁত হলে স্পেনের রক্ষণ ভেঙে পড়বে। তবে স্পেনের মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি যদি কাউন্টার-অ্যাটাকগুলো রুখে দিতে পারেন, তবে ম্যাচ ঘুরতেও পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী: ৭ জন বিশেষজ্ঞের মধ্যে ৪ জন ফ্রান্সের এবং ৩ জন স্পেনের জয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল: ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ড: রোমাঞ্চকর ও লড়াকু যাত্রা

টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ডের পথচলাটা ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে হারালেও ঘানার সাথে ড্র করে তারা। নকআউটে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মেক্সিকো (যেখানে কোয়ানসাহ লাল কার্ড পান) এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতে থ্রি লায়ন্সরা।

  • সেরা পারফর্মার: জ্যুড বেলিংহাম (৬টি গোল)। টুর্নামেন্টের ‘গোল্ডেন বল’-এর অন্যতম দাবিদার এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মেক্সিকো ও নরওয়ে উভয় ম্যাচেই জোড়া গোল করে দলকে টেনে তুলেছেন।

আর্জেন্টিনা: মেসির কাঁধে ভর করে সেমিতে

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন অতিমানবীয় ফর্মে আছেন। আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব সহজে পার করলেও নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই চরম নাটকীয়তার মুখোমুখি হয়েছে। কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে ৩-২ ব্যবধানে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে পা রাখে আলবিসেলেস্তেরা।

  • সেরা পারফর্মার: লিওনেল মেসি (৮টি গোল, ১টি অ্যাসিস্ট)। মিশরের বিপক্ষে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর নায়ক তিনি। বিশ্বকাপে ২১ গোল করে তিনি এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ম্যাচটি কোথায় ভাগ্য নির্ধারণ হবে?

আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ ডায়মন্ড ফরমেশনে খেলছে, যা তাদের মাঝমাঠকে শক্তিশালী করলেও রক্ষণভাগকে দুর্বল করে তুলছে। মেসি ম্যাজিক ছাড়া আর্জেন্টিনার খেলায় ঘাটতি স্পষ্ট। টুখেলের ইংল্যান্ডের মূল লক্ষ্যই হবে ডেকলান রাইস এবং বেলিংহামের শারীরিক শক্তি ও গতি দিয়ে মেসিকে বোতলবন্দী করা এবং আর্জেন্টিনার নড়বড়ে ডিফেন্সের সুযোগ নেওয়া।

এক নজরে সেমিফাইনালের সময়সূচী ও ভবিষ্যদ্বাণী

ম্যাচমূল তারকাদের লড়াইবিশেষজ্ঞদের রায়
ফ্রান্স বনাম স্পেনএমবাপ্পে বনাম রদ্রিফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা বেশি (বেশিরভাগ লেখকের মতে)
ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনাবেলিংহাম বনাম মেসিটাইব্রেকার বা অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার পক্ষে মত)

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আগামী সপ্তাহের এই দুটি ম্যাচ যে স্নায়ুচাপ আর চরম রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে বসবে, তা বলাই বাহুল্য!

ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় বললেন হোল্ডার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে জেসন হোল্ডারের অধ্যায় শেষ হলো আনুষ্ঠানিকভাবেই। প্রায় তিন বছর ধরে ৫০ ওভারের দলে না থাকা এই অলরাউন্ডার ইতোমধ্যে ওয়ানডে থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি।

‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ পডকাস্টে হোল্ডারের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্যামি জানান, ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি হোল্ডার নিজেই টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছেন। তবে ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের টেস্ট ক্যারিয়ার এখনই শেষ হচ্ছে না।

স্যামি বলেন, `জেসন এখনও টেস্ট দলের বিবেচনায় আছে। আমি জানি, সে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছে এবং নিজের সিদ্ধান্ত আমাদের জানিয়েছে। সে এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও ব্যস্ত। তাই কখন তাকে পাওয়া যাবে এবং কোথায় খেলানো সম্ভব হবে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। তবে টেস্ট ক্রিকেটে তার আগ্রহ এখনো রয়েছে।”

হোল্ডার সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর আর এই সংস্করণে তাকে দেখা যায়নি। গত প্রায় দুই বছর ধরে টেস্ট দলেও অনিয়মিত হলেও টি-টোয়েন্টি এবং বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন তিনি।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৩৮ ম্যাচে হোল্ডার ১৫৯ উইকেট নিয়েছেন ৩৬.৯৬ গড়ে। ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে দুইবার। ব্যাট হাতে ১২টি অর্ধশতকে ২৪.৮৫ গড়ে করেছেন ২,২৩৭ রান।

২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেওয়া হোল্ডারের অধিনায়কত্বে দলটি খেলেছে ৮৬টি ওয়ানডে। এর মধ্যে জয় এসেছে ২৪ ম্যাচে, আর হার ৫৪টিতে।

আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১৪টি দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এবারও মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমান র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকায় সরাসরি সুযোগ না পেলে আবারও খেলতে হবে বাছাইপর্ব।

এম বাপ্পের কি ৩ বছরের কারাদন্ড হচ্ছে!

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়া প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা উল্টো ফরাসি তারকার বিরুদ্ধে মানহানি ও অপবাদের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফ্রান্সে তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’ এবং ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে প্যারিসিয়েন’এর তথ্য অনুযায়ী, সিনেটর আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেছেন- এমবাপ্পে প্রকাশ্যে তার মক্কেলকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটি প্যারাগুয়ের আইনে মানহানি ও অপবাদের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখছেন।

লে প্যারিসিয়েনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গুইলার্মো বলেন, প্যারাগুয়ের আদালত যদি অভিযোগ গ্রহণ করে, তাহলে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক ভাবে হয়ে উঠতে পারে।

যে ভাবে বিতর্কের সূত্রপাত: ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের পরাজয়ের পর ম্যাচ শেষে সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পের জাতীয়তা, পরিচয় ও বংশপরিচয় নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন, যেগুলোকে ব্যাপকভাবে বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করা হয়। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই তার বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়।

এম বাপ্পের জবাব: এমবাপ্পে সিনেটরকে ‘নিজের পদমর্যাদার অযোগ্য এক জঘন্য নারী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন আমারিলার আইনজীবী। সেই বক্তব্যকেই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন আমারিলা।

এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলা: আইনজীবি দুয়ার্তে কাকাবেলোস বলেন, ফ্রান্সে আমারিলার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তার ফলাফলের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তার মক্কেল প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা।

ঘটনার তদন্তঃ ফরাসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে, যদি সিনেটর আমারিলা তার বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে তার প্রকৃত বা ধারণাকৃত জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তা, বর্ণ কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে গুরুতরভাবে অপমান করেছেন কি না তা নিয়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে  আমারিলার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।

এদিকে সমালোচনার মুখেও নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন আমারিলা। তার আইনজীবী বলেন- মামলা এগোলে এমবাপ্পেকেও প্যারাগুয়ের কর্তৃপক্ষের সামনে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করা হতে পারে।

যতদুর পর্যন্ত ছড়িয়েছে বিষয়টিঃ বিতর্কটি এখন শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এ নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ প্রকাশ্যে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হওয়া এমবাপ্পের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা স্পষ্ট করে বলেন, সিনেটর আমারিলার বক্তব্য প্যারাগুয়ের রাষ্ট্র বা জনগণের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না।

আমারিলার অভিযোগঃ তিনি বলেন বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের পর এমবাপ্পে অহংকারী ও অসম্মানজনক আচরণ করেছেন। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে করমর্দন করতেও অস্বীকৃতি জানান ফরাসি তারকা।

নতুন এই অভিযোগ ও সম্ভাব্য পাল্টা মামলার ইঙ্গিতে আমারিলা ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জটিল ও আলোচিত হয়ে উঠেছে।

আর্জেন্টিনার জয়ে আড়াল সুইসদের লাল কার্ডের দুঃখ!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সুইজারল্যান্ড ফুটবল কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেছেন এমবোলোর লাল কার্ডই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সিদ্ধান্তটা যেন এখনো মেনে নিতে পারছে না সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ আটে ৩-১ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও কোচ মুরাত ইয়াকিন।  

যেভাবে ঘটনার শুরু: ম্যাচের ৭২ মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন কিন্তু ভিডিও রিভিউয়ের পর পারেদেসের হলুদ কার্ড সরিয়ে এমবোলোকে ‘ডাইভ’ বা ফাউল আদায়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার অভিযোগে (অভিনয়) দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কারণ ইচ্ছাকৃত কোন ফাউল আদায় বা প্রতারনা করলে তার জন্যও হলুদ কার্ডের বিধান রয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায় যে, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগেই এমবোলো পড়ে যাচ্ছিলেন। এমবোলো ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তাই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে তাঁকে লাল কার্ড পেতে হয়েছে। এই কারণে ১-১ সমতায় থাকা বাকি ম্যাচ ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। আর্জেন্টিনার মত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষ ১০ জন নিয়ে এতটা সময় খেলা অসম্ভব ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

নিকো এলভেদি সুইস ডিফেন্ডার: সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনদয়ে সমতা সূচক গোল করার কিছুক্ষণ পর কার্ড দেখানোতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন- আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না, ভিএআর কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

‘ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো ’সংক্রান্ত নিয়ম ব্যবহার করে কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে এটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ঘটনাা। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে ভুলভাবে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।

মুরাত ইয়াকিন: কোচ ম্যাচ শেষে লাল কার্ড নিয়ে নিজের হতাশা প্রখাশ করে বলেন- ‘আমরাই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করছিলাম। আমরা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। কিন্তু লাল কার্ডের কারণে আমাদের এমন একটি নিয়মের শাস্তি পেতে হলো, যেটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। অবশ্যই এভাবে বিদায় নেওয়া ভীষণ কষ্টের। আজকের ম্যাচে এমন ফল প্রাপ্য ছিল না।’

কোচ ইয়াকিন আরো বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার হলুদ কার্ড দেখানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এমন একটি ঘটনায় হলুদ কার্ড দেওয়া হলো, যেটা আমার কাছে খুবই সাধারণ একটা ফাউল মনে হয়েছে, এমনকি এটা ফাউল ছিল কি না, সেটাও প্রশ্নের বিষয়। ফিফা তাদের রেফারিকে রক্ষা করার জন্য এই নিয়ম ব্যবহার করল, যেটা আজ আমাদের ম্যাচটাই নষ্ট করে দিল। এটা ভীষণ কষ্টের। আমার মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো কারণই ছিল না। রেফারির উচিত ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়া। তিনি নিজের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আমাদের বিপদে ফেলেছেন যা সবাই দেখেছে এরপর বাকি সময় একজন কম নিয়ে আমাদের খেলতে হয়েছে।’

১৯৮৬ বিশ্বকাপের ম্যারাডোনা-শিল্টন লড়াইয়ের উত্তাপ, মেসি-কেইনের চোখে

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফালে উঠেছিল ততকালীন ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই ম্যাচ শুধুই অন্য একটা ম্যাচের মত ছিলনা, সেখানে ছিল ম্যারাডোনার ”গোল অব সেঞ্চুরি” এবং “হ্যান্ড অব গড” খ্যাত বিতর্কিত গোল! সেই থেকে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা শুরু হয় ফকল্যান্ড যুদ্ধ পেছনে ফেলে নতুন ফুটবল যুদ্ধ- “হ্যান্ড অব গড” বিতর্কিত গোল-যুদ্ধ। সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টারে হারিয়ে সেমিতে গিয়েছিল। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা হচ্ছে সেমিফাইনালে। এ যেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ম্যারাডোনা-শিল্টন লড়াইয়ের উত্তাপ, মেসি-কেইনের চোখে।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আগে লড়াই হয়েছে ২বার প্রথম দেখা ১৯৬২ সালে সেবার ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে আবার ১৯৬৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে একে অপরের ৩ নম্বর সাক্ষাতের ম্যাচে প্রথম জয় পায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে। যে জয় নিয়ে আছে বিতর্ক আবার আছে ঐতিহাসিক গোলের স্বাক্ষর। সেবার ম্যারাডোনা নিজের প্রথম গোলটি করেছিলেন হাতের সহায়তায় যে গোল নিয়ে ম্যারাডোনা ব্যাখ্যায় বলেছিলেন “হ্যান্ড অব গড” ম্যারাডোনার সেই গোল নিয়ে আর্জেন্টিনা বাসি যেমন গর্ব করে তেমনী ইংল্যান্ড বাসি ঠিক তার উল্টোটা অর্থাৎ ঘৃনা ভরে ম্যারাডোনার “হ্যান্ড অব গড” গোলকে স্মরণ করে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে যায়। তবে সেই বিতর্কিত গোলের পর ম্যারাডোনা মাঝ মাঠ থেকে ইংল্যান্ডের ৬ জনকে কাটিয়ে যে গোলটি করেছিলেন তা ফুটবল ইতিহাসে হয়ে আছে “গোল অব দ্যা সেঞ্চুরী” আর এ গোলের কারণেই অনেকটা আড়ালে পড়ে যায় “হ্যান্ড অব গোল” ম্যারাডোনা হয়ে যান আর্জেন্টাইনদের কাছে বিশ্ব জয়ী ম্যারাডোনা অপরদিকে ব্রিটিশরা পুড়তে থাকেন প্রতিশোধের আগুনে।  

মুলতঃ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফুটবল দ্বৈরথ ওখান থেকেই শুরু, ৮৬ বিশ্বকাপের পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড প্রতিশোধ নেওয়ার ম্যাচে উল্টো টাইব্রেকার হেরে যেন ফুঁসছিল কবে নিবে সেই প্রতিশোধ। অবশেষে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রিটিশরা আর্জেন্টিনাকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২-১ গোলে পরাজিত করে কিছুটা ঝাল মিটায়। তবে ৮৬ বিশ্বকাপের সেই হারের কথা ইংল্যান্ড কখনই ভুলতে পারেনা কারণ সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সেমির বাঁধা পেরিয়ে ২য় বারের মত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর এ কারণেই ইংল্যান্ড দলের যত ক্ষোভ আর রাগ যে, সেদিনের সেই গোলের কারণেই ব্রিটিশদের শিরোপার খুব কাছ থেছে বিদায় নিতে হয়েছিল।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হওয়ার পর তৎকালীন ইংল্যান্ড দলের নিয়মিত অধিনায়ক ব্রায়ান রবসন (যিনি ইনজুরির কারণে ওই ম্যাচে খেলতে পারেননি) এবং মাঠে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা গোলরক্ষক পিটার শিলটন তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ  করে  বলেছিলেন ম্যারাডোনার ওই গোলটি সরাসরি “প্রতারণা“ তিনি বলেছিলেন “আমরা যে সময় আমাদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছিলাম, দারুণ খেলছিলাম এবং আমাদের বিশ্বকাপ জেতার একটা বড় সুযোগ তৈরী হয়েছিল ঠিক তখনই স্রেফ প্রতারণা করে আমাদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ম্যারাডোনা কখনও সেই গোলের জন্য ক্ষমা না চাওয়ায় শিলটন তার খেলোয়াড় সুলভ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। শিল্টন আরো বলেন “আমি অন্য খেলোয়াড়দের দেখেছি যারা নিয়ম ভেঙে বা প্রতারণা করে পরে সেটা স্বীকার করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু সে (ম্যারাডোনা) কখনোই ক্ষমা চায়নি। ফুটবলার হিসেবে সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা হতে পারে, কিন্তু একজন খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার মানুষ (Sportsman) হিসেবে আমি তাকে কখনোই সম্মান করি না এবং করবও না। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ ও পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হওয়া টেরি বুচার ম্যাচ শেষের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেছিলেন:”এটি সম্ভবত ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি (Fraud) ছিল এবং সে (ম্যারাডোনা) খুব সহজেই পার পেয়ে গেল, তিনি বলেন ম্যাচ শেষে ডোপ টেস্টের ঘরে যখন আমি ম্যারাডোনাকে আকার-ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলাম যে এটি মাথা নাকি হাত ছিল? সে মাথার দিকে ইশারা করল। ওটা একটা ছোট ঘর ছিল, সেখানে আমরা তিনজন ইংলিশ খেলোয়াড় রাগে ফুঁসতে থাকা অবস্থায় ছিলাম সে যদি ‘হাত’ বলত, তবে আমরা হয়তো তাকে মেরেই বসতাম!”

তিনি আরও যোগ করেন, “সে যদি এসে বলত যে ওটা হাত ছিল এবং দুঃখ প্রকাশ করত, তবে হয়তো আমি তাকে ২০ বার মারার বদলে ৪-৫ বার মারতাম।”

ঐ ম্যাচ নিয়ে তৎকালীন ইংল্যান্ড দলের মূল বক্তব্য ছিল-আর্জেন্টিনার কাছে তারা ফুটবলীয় দক্ষতায় হারেনি, বরং রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া একটি পরিষ্কার “হ্যান্ডবল এবং প্রতারণার“ কাছে হেরেছে। এই হারের ক্ষোভ পিটার শিলটন বা টেরি বুচারদের মনে এতটাই গভীর ছিল যে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পরও তারা সেই ‘ইনজাস্টিস’ বা অন্যায়ের কথা ভুলতে পারেননি। তবে কি ৪০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিশোধের আগুনে পড়তে থাকা ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে সব ঝাল মেটাতে মেটাবে আর যদি জিতেও যায় তবে কি ম্যারাডোনাকে ক্ষমা করে দিবেন? এমন নানান গুঞ্জন নিয়েই যেন এখন শুধুই অপেক্ষা ফুটবলপ্রেমীদের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফুটবল সেমির মহারণের জন্য।

আইসিসির হল অব ফেমে তিন ক্রিকেটার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসির হল অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি, কেভিন পিটারসেন ও আঞ্জুম চোপড়া। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানিত করেছে আইসিসি। অবশ্য এর আগে আইসিসির হল অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন ক্রিকেটের অনেক রথী-মহারথী। 

তবে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় আইসিসির হল অব ফেম, যে সম্মাননা দেওয়া হয় কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। অবসরের অন্তত পাঁচ বছর পর ক্রিকেটাররা হল অব ফেমের জন্য বিবেচিত হন।

এ বিষয়ে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘সৌরভ, অঞ্জুম ও কেভিন প্রত্যেকেই গর্বের সঙ্গে নিজেদের জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আইসিসির পক্ষ থেকে তাদের এই প্রাপ্য সম্মানের জন্য অভিনন্দন জানাই। আইসিসি হল অব ফেমে তাদের স্থান নিশ্চিত করল যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাদের কীর্তিকে ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের পাশে স্মরণ করবে।’

তবে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি জয় শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত হওয়া আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। এই অসাধারণ সম্মানের জন্য আমি জয় শাহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি এটিকে একজন ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বলে মনে করি।’

এছাড়া ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন জানান, ‘আইসিসি হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়। ক্রিকেটের এত কিংবদন্তির পাশে নিজের নাম দেখতে পাওয়া সত্যিই বিনয়ী করে তোলে। এটি একজন ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এবং এর গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে হয়ত কিছুটা সময় লাগবে। এই সম্মানের জন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাই।’

এছাড়াও আইসিসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতের সাবেক নারী ক্রিকেটার আঞ্জুম চোপড়াও। তিনি জানান, তার এই স্বীকৃতি ক্যারিয়ার গড়ে তোলায় অবদান রাখা সবার প্রাপ্য।

শীর্ষ চার দলের শিরোপার লড়াই

রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। জমজমার কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে চূড়ান্ত হয়েছে সেমিফাইনালের চার দল। আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ আটের পর্ব শেষ হওয়ার পর নিশ্চিত হয়েছে শেষ চারের লড়াই।

নাটক জমিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। আর গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স, ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছে মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড।

অন্যদিকে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ চার দলই এবার সেমিফাইনালে উঠে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন।

একই সময়ে ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। আটলান্টায় সেই ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দুই ম্যাচই বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ উত্তেজনা নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকেও চার দলের লড়াই হবে সমানে সমান। সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স, যারা পরে ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল। ইংল্যান্ড আট বছর পর আবারও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল খেলেছিল। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন।

এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা দুই মহারণের। ফ্রান্স-স্পেন এবং আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড-দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরাই লড়বে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে। আগামী দুই দিন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব।

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সূচি

১৪ জুলাই

ফ্রান্স বনাম স্পেন

সময়: বাংলাদেশের রাত ১টা

ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

১৫ জুলাই

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড

সময়: বাংলাদেশের রাত ১টা

ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

ভারতকে হিন্দিওয়াশ করে শীর্ষে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে চরম হতাশার মুখে পড়েছে ভারত। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ৫৬ রানের জয়ে সফরকারীদের ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। তবে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও বাকি চার ম্যাচেই দাপট দেখিয়ে জিতেছে ইংলিশরা। এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও দখল করেছে হ্যারি ব্রুকের দল।

শনিবার সাউথ্যাম্পটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ২৫৭ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি যেকোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০১ রান তুলতে সক্ষম হয়।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের মূল নায়ক ছিলেন জস বাটলার। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ৬৪ বলে ১৩১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১২টি চার ও ৮টি ছক্কা। অপর প্রান্তে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৪৫ বলে ৯৫ রানে অপরাজিত থাকেন। দুইজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ২৩৩ রানের জুটি গড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় উইকেটে বিশ্বরেকর্ড জুটি গড়েন।

ভারতের হয়ে আকসার প্যাটেল ৪ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে বোলিং। শেষদিকে শিভাম দুবের ওভারে বাটলার আউট হলেও ততক্ষণে ইংল্যান্ড বিশাল সংগ্রহ নিশ্চিত করে।

লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের হয়ে ইশান কিষান ৩৫ বলে ৫৬ এবং তিলাক ভার্মা ২৫ বলে ৫৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। এছাড়া সঞ্জু স্যামসন ২৭ ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৮ রান করলেও বড় জুটির অভাবে ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা।

ইংল্যান্ডের হয়ে স্যাম কারান ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। আদিল রাশিদ নেন ২ উইকেট। জস বাটলার ম্যাচসেরা এবং পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য হ্যারি ব্রুক সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন।

এই সিরিজে ভারতের জন্য এটি একাধিক নেতিবাচক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। প্রথমবার ইংল্যান্ডের কাছে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের পাশাপাশি চার ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতাও হলো তাদের। এখন দুই দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে, যার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৫৭/৩
ভারত: ২০ ওভারে ২০১/৮
ফল: ইংল্যান্ড ৫৬ রানে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: জস বাটলার

ম্যান অব দা সিরিজ: হ্যারি ব্রুক