Home Blog Page 103

স্বদেশী মুচোভাকে হারিয়ে প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জিতলেন চেক খেলোয়াড় নোসকোভা

0

অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর ফাইনালে জয়ী হলেন লিন্ডা নোসকোভা। শনিবার সেন্টার কোর্টে ৫টি ম্যাচ পয়েন্ট হাতছাড়া করে কান্নায় ভেঙে পড়ার পরও, অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়ে ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে নিজের প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জিতলেন এই চেক তারকা।

টুর্নামেন্টের ৯ম বাছাই ২১ বছর বয়সী নোসকোভা হলিউড ব্লকবাস্টার সিনেমার চেয়েও বেশি টুইস্টে ভরা এই ফাইনালে ১০ম বাছাই এবং স্বদেশী ক্যারোলিনা মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম মুকুট মাথায় তুললেন। ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের এই অনবদ্য লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নোসকোভা গত ১৫ বছরের মধ্যে উইম্বলডনের সর্বকনিষ্ঠ নারী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

ম্যাচের প্রথম সেটটি সহজেই ৬-২ ব্যবধানে জিতে নেন নোসকোভা। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে যখন তিনি জয়ের জন্য সার্ভিস করছিলেন, তখনই শুরু হয় আসল নাটকীয়তা। একের পর এক ৪টি ম্যাচ পয়েন্ট হাতছাড়া করেন তিনি, যার সুযোগ নিয়ে ম্যাচে ব্রেক-ব্যাক করেন মুচোভা। গ্যালারির দর্শকদের স্তব্ধ প্রতিক্রিয়া এড়াতে নোসকোভাকে কানের ওপর আঙুল দিয়ে রাখতে দেখা যায়। এরপর আরও একটি (পঞ্চম) ম্যাচ পয়েন্ট নষ্ট করার পর মুচোভা স্কোর ৫-৫ করেন।

মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে নোসকোভা কোর্টের বেঞ্চে মাথার ওপর তোয়ালে চেপে ধরেন এবং তাঁকে চোখের জল মুছতে দেখা যায়। মুচোভা দ্বিতীয় সেটটি ৭-৫ ব্যবধানে জিতে নিলে ম্যাচ সমতায় ফেরে। এরপর চূড়ান্ত সেটের আগে কোর্ট ছেড়ে বাইরে যান নোসকোভা, আর এই বিরতিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। চরম হতাশার অতল থেকে ফিরে এসে তৃতীয় সেটের শুরুতেই প্রতিপক্ষের সার্ভিস ব্রেক করেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে অবিশ্বাস্য এক ঘোর নিয়ে কোর্টের ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়েন।

নোসকোভার এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় তাঁর শৈশবের আদর্শ পেত্রা কেভিতোভার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ২০১১ সালে কেভিতোভা যখন তাঁর প্রথম উইম্বলডন জিতেছিলেন, তখন তাঁর বয়সও ছিল ২১ বছর। কাকতালীয়ভাবে, এদিন নোসকোভার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে রয়্যাল বক্সে উপস্থিত ছিলেন কেভিতোভা নিজেই।

উইম্বলডনের ইতিহাসে ওপেন জুগে এটিই ছিল দুই চেক নারীর মধ্যে প্রথম ফাইনাল। এই জয়ের মাধ্যমে গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো কোনো চেক নারী উইম্বলডন জিতলেন। এর আগে ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভা এবং ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনড্রোউসোভা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এই জয়ের জন্য নোসকোভা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ডলার)।

ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে চ্যাম্পিয়ন: এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে সোরানা কার্স্টিয়ার বিপক্ষে নিজেই ম্যাচ পয়েন্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন নোসকোভা। টুর্নামেন্টের কোনো এক পর্যায়ে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হওয়া তৃতীয় নারী তিনি। এর আগে ভেনাস উইলিয়ামস (২০০৫) এবং সেরেনা উইলিয়ামস (২০০৯) এই কীর্তি গড়েছিলেন।

  • ডাবল ধামাকা: ২০০৪ সালে মারিয়া শারাপোভার পর নোসকোভা প্রথম নারী, যিনি একই বছরে জুনে বার্লিনে ঘাসের কোর্টের টুর্নামেন্ট জেতার পর উইম্বলডনও নিজের করে নিলেন।
  • ঘাসের কোর্টে আধিপত্য: ২০২৩ সালে বার্মিংহামে ঘাসের কোর্টে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলা নোসকোভা গত দুই বছরে ডব্লিউটিএ (WTA) ট্যুরে ঘাসের কোর্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছেন। অথচ এই উইম্বলডনের আগে কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডিই পার হতে পারেননি তিনি।

একটু অদ্ভুত স্বভাবের নোসকোভা উইম্বলডনের চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় এক রঙিন সংযোজন। নাকে পিয়ার্সিং করা নোসকোভার কিছু নির্দিষ্ট কুসংস্কার ও রীতিনীতি রয়েছে, যেমন বেকিং করতে ভালোবাসা, লাকি চার্ম রাখা এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রতিদিন সকালে এক বন্ধুর হাত থেকে ‘মাচা চা’ (Matcha tea) খাওয়া।

নোসকোভার উইম্বলডন নিয়ে একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক স্মৃতি রয়েছে। ২০২৪ সালের উইম্বলডনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন তাঁর মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঠিক পরপরই। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক ও আনন্দের জয় হয়তো তাঁর সেই পুরনো শোকের ক্ষত কিছুটা হলেও উপশম করবে।

অতিরিক্ত সময়ে সুইস দুর্গ ভেঙ্গে সেমিতে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ে শিরোপার পথে আরেকটি কঠিন বাধা পেরিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্য সেমিতে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স।

শুরুতে সতর্ক ফুটবল

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ আর আর্জেন্টিনার ধারালো আক্রমণের লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। দুই দলই একটি করে গোল করায় ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। লিওনেল মেসির কর্নার কিক থেকে হেড করে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দশম মিনিটে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ে গোল পরিশোধ করেন।

মেসির কর্নার কিক, ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডের ফলাফল গোল

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭৮তম মিনিটে। ফাউলের শিকার হওয়ার অভিনয়ের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো। এরপর থেকে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় ইউরোপের দলটি। সংখ্যাগত এই সুবিধা কাজে লাগাতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে সুইসরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও অতিরিক্ত সময়ে সেই দেয়াল আর টিকিয়ে রাখতে পারেনি।

অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল

অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ। শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে লাতিন আমেরিকার দলটি। হুলিয়ান আলভারেজ দূর পাল্লার বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেন। শেষ বাঁশি বাজার আগে লাউতারো মার্টিনেজও স্কোরশিটে নাম লেখান।

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এই দ্বৈরথ ঘিরে এখন থেকেই বাড়তে শুরু করেছে উত্তেজনা। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বর্তমান ফর্ম- সব মিলিয়ে দুই দলের লড়াই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি।

অন্যদিকে, সাহসী লড়াই করেও সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো শেষ আটেই। দীর্ঘ সময় সমানে সমান লড়াই করলেও একজন কম নিয়ে খেলার চাপ শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারেনি তারা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করল, নকআউট মঞ্চে সামান্য সুযোগ পেলেই তারা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

বেলিংহামের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল নরওয়ে। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড। তার দুই গোলেই বিদায় হয়েছিল ব্রাজিলের। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেই হালান্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিলেন নিষ্প্রভ। আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের রূপকথার পথচলা।

জুডে বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। এ নিয়ে চুতর্থবারের মতো ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ চারে পৌঁছালো।

দুর্ভাগ্য নরওয়ের। আগে গোল করেও জয়ের দেখা পেল না। ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেস গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তার এ গোলই নরওয়ে স্বপ্ন দেখছিল সেমিফাইনালের। সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং যোগ্য দল হিসেবে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড শেষ চারে পৌঁছেছে।

শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের আধিপত্য

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল টমাস টুখেলের প্রশিক্ষণাধীন দল ইংল্যান্ডের। সুযোগও আসছিল, তবে সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার মাঝে নরওয়ে গোল করে এগিয়ে যায়। ব্যবধান দ্বিগুন করারও সুযোগ পেয়েছিল দলটি। ৪০ মিনিটের সময় পাওয়া সুযোগটি আলেক্সান্দার সোরলোথের স্বার্থপরতার কারণে কাজে লাগাতে পারেনি নরওয়ে। ফাঁকায় থাকা আর্লিং হালান্ডকে বল না দিয়ে নিজেই লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হয়নি, ফলে ব্যবধান তো বাড়ানো হয়নি, বরং ইংল্যান্ডকে ম্যাচ ফেরার সুযোগ করে দেয় সোরলোথের সেই ব্যর্থতা। বিরতির আগে দারুণ এক প্রতি আক্রমণ থেকে গোল করে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। চমৎকার এক পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে জুডে বেলিংহাম নিঁখুত শটে গোল করেন। বিশ্বকাপে এটা ছিল তার পঞ্চম গোল।

বল দখলের লড়াইয়ে জুডে বেলিংহাম

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই গোল

নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলেে শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি কোটি সমর্থকদের আবার চমক দেন বেলিংহাম। আবার গোল করেছেন বেলিংহাম। ম্যাচের বয়স তখন ৯৩ মিনিট। এ সময়ে গোল হজম করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া যে কোনো দলের জন্য কঠিন। নরওয়ের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গোল ফিরিয়ে দিতে পারেনি তারা। ফলে শেষ হয়ে যায় তাদের রূপকথার পথচলা।

বেলিংহামের জয়সূচক গোলটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল। গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ভালোভাবে টিকে আছেন তিনি। তারওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। উভয়েই আটটি করে গোল করেছেন। তারপরেই আছেন আর্লিং হালান্ড। সাত গোল তার। এরপরেই জুডে বেলিংহাম।

টিভিতে আজকের খেলা: ১২ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে শুরু দিন। রাতে উইম্বলডনে পুরুষ এককের ফাইনালে মুখোমুখি সিনার ও জভেরেভ।

বিশ্বকাপ ফুটবল: কোয়ার্টার
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড
সকাল ৭টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

ক্রিকেট
নারী টেস্ট-৩য় দিন
ইংল্যান্ড-ভারত
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ২

টেনিস
উইম্বলডন: পুরুষ ফাইনাল
সিনার-জভেরেভ
রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ফুটবলারের অকাল মৃত্যু!

চলতি বিশ্বকাপের মাঝেই দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোক। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা গেছেন জাতীয় দলের মিডফিল্ডার জেইডেন অ্যাডামস। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গন।
মামেলোদি সানডাউন্সের এই তারকা মিডফিল্ডার চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

মেক্সিকো ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ১০ মিনিট মাঠেও নেমেছিলেন। কানাডার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে অবশ্য তাকে বেঞ্চে বসেই কাটাতে হয়।

বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাও অ্যাডামসের জন্য ছিল আবেগঘন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিনই তিনি হারিয়েছিলেন নিজের দাদিকে। ব্যক্তিগত সেই শোক সামলে এরপরও দলের সঙ্গে ছিলেন এই মিডফিল্ডার।

স্টেলেনবশ এফসির একাডেমি থেকে উঠে আসা অ্যাডামস ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন মামেলোদি সানডাউন্সে। ২০২২ সালে মোজাম্বিকের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর জাতীয় দলের হয়ে ১৫টি ম্যাচ খেলেন তিনি। দেশের হয়ে তার করা দুটি গোলই এসেছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, কেপটাউনের কেন্দ্রীয় এলাকা স্কটসচেকলুফের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী  এই তারকা ফুটবলারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও স্থানীয় গণমাধ্যমে অ্যাডামসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে সমীহ করছে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে ইউরোপের দলটিকে নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডারের মতে, সুইজারল্যান্ডকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

মার্তিনেজ বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড যদি এই পর্যায়ে এসে থাকে, তাহলে অবশ্যই তারা সেটা নিজেদের যোগ্যতায় করেছে। আমরা কলম্বিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচ দেখেছি। তারা সবসময় ইতিবাচক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে।’

সুইসদের শারীরিক সক্ষমতা এবং সেট-পিসের দক্ষতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
‘তারা শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী দল। এছাড়া সেট-পিস থেকেও তারা বেশ বিপজ্জনক,’ যোগ করেন মার্তিনেজ।

একই সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি জমজমাট হবে বলেও মনে করছেন এই ডিফেন্ডার।
স্পোর্টসস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি দারুণ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। কারণ দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে।’

২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে। তবে সেই পথে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নকআউট খেলা সুইজারল্যান্ড। তাই শেষ চারে জায়গা করে নিতে নিজেদের সেরাটাই উজাড় করে দিতে হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের।

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর পর যা বললেন মিরাজ

0

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই শিরোপা হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা। যদিও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের বোলার এবং দুই ওপেনারকে। পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

পুরো সিরিজে পেসারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, ‘ছেলেরা শুরু থেকেই অনেক ভালো খেলেছে। তাসকিন, শরিফুল দারুণ বল করেছে এবং দায়িত্ব নিয়েছে। আমি সবাইকে বলেছিলাম, আগের দুই ম্যাচে যা হয়েছে তা চলে গেছে। শেষ ম্যাচে জিততে পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।’

হারারের উইকেট নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘উইকেটটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে বোলারদের জন্য কিছু সুবিধা ছিল। সে কারণেই তিন ম্যাচেই আমরা আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পেসাররা পুরো সিরিজেই খুব ভালো করেছে। নাহিদ রানা, তাসকিন ও শরিফুল দুর্দান্ত বোলিং করেছে।’

২০০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিমের ১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই জুটির প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, ‘সৌম্য এবং তানজিদ অসাধারণ ব্যাট করেছে। প্রথম ১০ ওভারে উইকেট না দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। তারা সেটা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এমন ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’

জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন টাইগার অধিনায়ক। মিরাজ বলেন, ‘অনেক দিন পর নতুন কন্ডিশন ও নতুন ভেন্যুতে খেলার সুযোগ হয়েছে। এখান থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’

শরিফুলের ৪ উইকেট ও তানজিদের ৯৪: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সান্ত্বনার জয়

0

হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১৪১ রান ডিফেন্ড করে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৭ রান তাড়া করে জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল জিম্বাবুয়ে। তবে শেষ ম্যাচে ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ১৫১ রানের অনবদ্য জুটিতে ৮৪ বল (১৪ ওভার) বাকি থাকতেই সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

ধীরগতির শুরু ও জিম্বাবুয়ের বিপর্যয়

জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে ৫০ রান করেন ব্র্যাড ইভান্স।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পিচে বল কিছুটা আটকে আসায় শুরুটা ছিল বেশ সতর্ক। তাসকিন আহমেদ প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে দারুণ চাপ সৃষ্টি করেন। অন্য প্রান্তে শরিফুল ইসলাম প্রথম আঘাত হানেন। বেন কারান (০) ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের দিকে বল গাইড করতে গিয়ে প্লেড-অন হন।

পরের ওভারেই তাসকিনের একটি চমৎকার আউটসুইঙ্গারে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রায়ান বেনেট। এরপর টানা ১৭ বল কোনো রান করতে পারেনি স্বাগতিকরা। পাওয়ারপ্লে শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২১/২।

দলীয় অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ২০ বলে মাত্র ৫ রান করে শরিফুলের বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। এরপর মাঠে আসেন ওয়েসলি মাধেভেরে। শুরুতে তানভীর ইসলামের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ০ রানে জীবন পান তিনি, যা বাংলাদেশের জন্য বেশ মন্থর ও ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। মাধেভেরে ও ইনোসেন্ট কাইয়া মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। ২৫ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৭২/৩।

মাধেভেরে-ইভান্সের প্রতিরোধ ও বাংলাদেশের ভুল

জিম্বাবুয়েকে ১৯৯ রানে আটকে রাখতে ৪টি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম।

তাসকিন আহমেদ গতি ও শর্ট বলের সাহায্যে কাইয়াকে (যিনি পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও তানভীরের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে টপ-এজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। ৫ বল পর ক্লাইভ মাদান্দেও ক্যাচ আউট হলে ১০৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচের নায়ক ব্র্যাড ইভান্স (যিনি দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৮ রান করেছিলেন)। ইভান্স শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেন। শরিফুলকে কাভার ড্রাইভে চার মেরে ইনিংস শুরু করার পর তানভীরের বলে কট-বিহাইন্ডের জোরালো আপিল থেকে বেঁচে যান। এরপর মাধেভেরে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন এবং ইভান্সকে সাথে নিয়ে রান তুলতে থাকেন। ১৩ রানের মাথায় মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজের ফলোথ্রুতে ইভান্সের একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন।

সেঞ্চুরির পথে থাকা মাধেভেরেকে (৭৫ রান) ফিরিয়ে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। কম গতির বলে বিভ্রান্ত হয়ে মাধেভেরে কাভারে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর মাসাকাদজা রানআউট হন তৌহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে। শেষ পর্যন্ত ইভান্স তাসকিনকে চার ও ছক্কা মেরে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন। তবে শরিফুলের শর্ট বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ৫০ রান করেন। জিম্বাবুয়ে ১১ বল বাকি থাকতেই ১৯৯ রানে অলআউট হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ৪৪ রানে ৪টি এবং তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩১ রানে ১টি উইকেট নেন।

তানজিদ-সৌম্যর বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি

২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উইকেটে খেলছিল। তানজিদ হাসান তামিম এবং সৌম্য সরকার শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন। বিশেষ করে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা আর্নেস্ট মাসুকু প্রথম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে বসেন।

পুরো ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা চরম ফিল্ডিং বিপর্যয়ের পরিচয় দেন। তানজিদ হাসান একাই তিনবার জীবন পান। প্রথমে ২৩ রানের মাথায় ইভান্সের বলে মাসাকাদজা তার সহজ ক্যাচ মিস করেন। এরপর ৩৭ রানে চনাকার বলে এবং ৬৫ রানে সিকান্দার রাজার বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ইনোসেন্ট কাইয়া তার ক্যাচ ফেলে দেন।

পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান তোলে। তানজিদ মাত্র ৪৯ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন, যা ২০২৬ সালে তার ১২টি ওয়ানডে ইনিংসে ষষ্ঠ পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। অন্য প্রান্তে কিছুটা ধীরগতির হলেও সৌম্য সরকার রাজাকে ছক্কা ও চার মেরে দলের রান ১০০ পার করেন। অবশেষে দলীয় ১৫১ রানের মাথায় চনাকার একটি নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার (৬৯ রান)।

সেঞ্চুরির আক্ষেপ ও জয় নিশ্চিত

সৌম্যর বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয় যখন সময়ের ব্যাপার, তখন সবার নজর ছিল তানজিদের সেঞ্চুরির দিকে। নাজমুল হোসেন শান্ত মাঠে এসে চিভাঙ্গার এক ওভারে ৩টি চার মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। তানজিদও মাধেভেরের বলে ১০ রান নিয়ে দ্রুত ৮০ এবং পরে ৯০-এর ঘরে পৌঁছান।

বাংলাদেশের জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩ রান প্রয়োজন, তখন তানজিদ ৯৪ রানে ব্যাটিং করছিলেন। সেঞ্চুরি করার উদ্দেশ্যে তিনি সিঙ্গেলস নেওয়া বন্ধ করে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন। শান্তও তাকে স্ট্রাইক দেওয়ার জন্য অন্য প্রান্তে একটি মেডেন ওভার খেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির জন্য বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তানজিদ। ১১২ বলে খেলা তার ৯৪ রানের চমৎকার ইনিংসে ছিল দারুণ সব শটের মার।

তানজিদ সেঞ্চুরি না পেলেও শান্ত বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন এবং বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে মাঠ ছাড়ে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে চনাকা, ইভান্স ও মাসুকু ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • জিম্বাবুয়ে: ১৯৯/১০ (৪৮.১ ওভার; মাধেভেরে ৭৫, ইভান্স ৫০; শরিফুল ৪-৪৪, তাসকিন ২-৩২, তানভীর ২-৩৬)
  • বাংলাদেশ: ২০০/৩ (৩৬ ওভার; তানজিদ ৯৪, সৌম্য ৬৯, শান্ত ১৪*; মাসুকু ২-৩৩, চনাকা ১-১৪)
  • ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ে-ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তিরা। একদিকে গোল্ডেন বুট ও বিশ্বসেরার মুকুটের খোঁজে থাকা আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে লড়বে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে এই আসরের চমক সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।

চাপ কি শুধুই ইংল্যান্ডের? মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে হালান্ড

ছবি এআই

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ইতিমধ্যে মাঠের বাইরে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। ম্যাচ পূর্ববর্তী এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, সব চাপ এখন ইংল্যান্ডের ওপর। কারণ ১৯৬৬ সালের পর থ্রি লায়ন্সরা আর কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি এবং এই দীর্ঘ খরা কাটানোর চাপ তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

অপরদিকে ইংল্যান্ড দল এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালের আসরে তারা সেমিফাইনালে খেলেছিল। তবে এবারের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জিততে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের মাঝপথে জ্যারেল কোয়ানসার লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড কোনোমতে ম্যাচটি বাঁচায়। তবে লাল কার্ডের কারণে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা কোয়ানসাকে আজ ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ইংলিশদের।

মেসির ম্যাজিক বনাম সুইজারল্যান্ডের রূপকথা

ছবি: এআই।

আজকের অপর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের। এবারের আসরে আর্জেন্টিনার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিপক্ষে আগের দুটি ম্যাচেই ৩-২ ব্যবধানে ঘাম ঝরানো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। তবে দলের এই কঠিন সময়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বর্তমান টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার চমৎকার সব গোলের ওপর ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের খুব কাছে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ একটি রূপকথার মতো। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র বাধা পার করতে পেরেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্লিন শিট (কোনো গোল না খাওয়া) এবং শেষ ১৬-র ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে নাটকীয় জয় তাদের কানসাস সিটির এই মহাড়াকৃতির মঞ্চে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তবে সুইসদের জন্য বড় ধাক্কা হলো তাদের ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জোহান মাঞ্জাম্বির ইনজুরি। হাঁটুর চোটের কারণে কলম্বিয়া ম্যাচের পর আজকের কোয়ার্টার ফাইনালেও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে টুর্নামেন্টে ৩ গোল করা এই তরুণ তারকাকে।

আজকের এই দুই ম্যাচের বিজয়ীরা আগামী বুধবারে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হবে।

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ২০০ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ২০০ রান। শনিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শুরুর দিকেই জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। দলীয় ১২ রানের মধ্যে ওপেনার বেন কারানকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। ১৩ বলে মাত্র ২ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

এরপর তাসকিন আহমেদের শিকার হন আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। ১৯ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি দীর্ঘ হয়নি। ২০ বলে ৫ রান করা আরভিনকেও ফেরান শরিফুল। মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন। কাইয়া ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৬৭ বলে ২৫ রান করেন। তবে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন মাধেভেরে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করে জিম্বাবুয়ের রানও এগিয়ে নেন তিনি।

কাইয়ার বিদায়ের পর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তানভীর ইসলামের বলে অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে ২৫ বলে ১১ রান করে আউট হন রাজা। এরপর ক্লাইভ মাদান্দেকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন শরিফুল।

অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান ওয়েসলি মাধেভেরে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৭৪ বলে ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স দ্রুত রান তুলে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। আগের ম্যাচের মতো এবারও ফিফটি করেন এই অলরাউন্ডার। ৪৩ বলে ৫০ রান করে আউট হওয়ার আগে দলকে ২০০ রানের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান তিনি।

শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে ৪৮.১ ওভারে ১৯৯/১০