Home Blog Page 113

বিশ্বকাপ জিতলেই অবসর নেবেন কুকুরেলা

বিশ্বকাপ জয় যে কোনো ফুটবলের আজম্ম স্বপ্ন। বিশ্বকাপ জিতলেই পূরণ হয় সেই স্বপ্ন। অনেকেই সেই মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক রকম কাজ করে থাকেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের আগে স্পেনের তারকা খেলোয়াড় মার্ক কুকুরেলা যে ঘোষণা দিলেন তা অনেককেই অবাক করার জন্য যথেষ্ঠ। স্পেনের এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ জিতলে তিনি অবসর নেবেন।

অবসরের কারণ

অবসরের কারণে জানিয়ে কুকুরেলা বলেন, সবার একটা লক্ষ্য থাকে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেলে আর পাওয়ার কিছু থাকে না। ক্ষুধা থাকে না। বিশ্বকাপ জিতলে স্পেনের ফুটবল খেলার কোনো ক্ষুধা আর আমার থাকবে না।

দুই বছর স্পেন স্পেন ইউরো কাপ জয় করেছিল। সেই দলের সদস্য ছিলেন কুকুরেলা। বিশ্বকাপেও তিনি দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একাধিক ম্যাচে তিনি আলো ছড়িয়েছেন। তার আলোয় পথ চলে স্পেনের জয়ের দেখা পেয়েছে। মাঝমাঠ থেকে দলের খেলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি।

স্পেন দলের স্তম্ভ মার্ক কুকুরেলা

ফাইনালে নামার আগে ফ্রান্সের এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাতকারে কুকুরেলা বলেন, আমরা বিশ্বকাপ জয় করলে পরের দিন কোচ লুইকে ফোন করবো। আমি তখন আমার অবসরের কথা জানিয়ে দেব। জাতীয় দলের জন্য আমাকে যেন আর বিবেচনায় না রেখে তা জানাব। একটা ইউরো, একটা বিশ্বকাপ জয় করেছি। এর থেকে ভালো কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

কুকুরেলা এমন কথা বললেও অতীতে স্পেনের এমন দাপটের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ২০০৮ সালে তারা ইউরো জেতার পর ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয় করেছিল। দুই বছর পর আবার তারা ইউরো জয় করেছিল। টানা তিন শিরোপা জয়ের উৎসব করেছিল দলটি। সে দলের তিন স্তম্ভ ছিলেন আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, জাভি আর সের্হিও বুসকেটস। দীর্ঘদিন এক সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন এই তিনজন।

কোচের ট্যাটু আঁকবেন

বিশ্বকাপ জয় করলে আরও একটি কাজ করার কথা জানিয়েছেন কুকুরেলা। বাইসেপে কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের মুখের একটা ট্যাটু করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপে এবার স্পেন দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে তারা কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেও পরে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। এ সময়ে সাত ম্যাচে মাত্র একবারই গোল হজম করেছে দলটি।

টিভিতে আজকের খেলা: ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে তৃতীয় টি-টুয়েন্টি আজ।

বিশ্বকাপ ফুটবল: ফাইনাল
আর্জেন্টিনা-স্পেন
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

ক্রিকেট
৩য় টি-টুয়েন্টি

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
বিকেল ৪-৩০ মি., টি স্পোর্টস ও নাগরিক

৩য় ওয়ানডে
ইংল্যান্ড-ভারত
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১ ও ৫

৪র্থ ওয়ানডে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নিউজিল্যান্ড
রাত ৮টা, ফ্যানকোড

১০ গোলের রোমাঞ্চে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলো ইংল্যান্ড

0

ইংল্যান্ড ৬-৪ ফ্রান্স

একটি অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের একদিকে যেমন ছিল গোলের বন্যা, অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড।

দুই দলেরই লক্ষ্য ছিল ফাইনালে খেলা, কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড হেরে যাওয়ায় তাদের ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে নামতে হয়। মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই দলের কোচই শুরুর একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। ইংল্যান্ড বস থমাস টুখেল তাঁর শুরুর একাদশে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামকে রাখেননি। অন্যদিকে, ১৪ বছর পর ফ্রান্সের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে যাওয়া দিদিয়ে দেশম বাদ দেন ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলেকে।

প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ডের আধিপত্য

ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই দূরপাল্লার শটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস। এরপর এজরির কোনসার দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান হয় ২-০। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও মাইকেল ওলিস ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক ডিন হ্যান্ডারসন বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ করেন।

এরপর ফরাসিদের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে এক পাল্টা আক্রমণ থেকে বুকায়ো সাকা স্কোরলাইন ৩-০ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সাকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় থমাস টুখেলের দল।

এমবাপের বিশ্বরেকর্ড ও ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তন

প্রথমার্ধের এই পারফরম্যান্সকে ফরাসি টিভি চ্যানেল M6-এর কাছে “বিপর্যয়কর” বলে আখ্যা দেন ফরাসি কোচ দেশম। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি দেম্বেলে, উপামেকার্নো, লুকাস ডিন ও বারকোলাকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তনের ফল মেলে হাতেনাতে।

চলতি টুর্নামেন্টে নিজের ৯ম গোলটি করে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে চলে যান এমবাপে। এর কিছুক্ষণ পরেই বারকোলা ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর ওলিসের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েন কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২২টি গোল নিয়ে তিনি এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (মেসির চেয়ে ২ গোল বেশি)।

রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্ত

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিল, ঠিক তখনই ডিজাড স্পেন্সকে পেনাল্টি বক্সে ম্যালো গুস্তো ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা।

ম্যাচের নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করে ব্যবধান কমালেও, শেষ মুহূর্তে একক নৈপুণ্যে ম্যাচের ১০ম গোলটি করেন জুড বেলিংহাম। এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে একটি বিশ্বকাপে ৭টি গোল করার রেকর্ড গড়েন।

বিশ্বকাপের প্রাপ্তি ও সমীকরণ

১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের সেরা আসর। যদিও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের ক্ষত তাদের তাড়িয়ে বেড়াবে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী ও গতবারের রানার্স-আপ ফ্রান্স এবার অন্যতম ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

এদিকে, আজ রাতের মেগা ফাইনালে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের।

দেশ্যম অধ্যায়ের শেষ ম্যাচ, অপেক্ষায় জিদান যুগ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশ্যমের ১৪ বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।

৫৭ বছর বয়সী দেশ্যম চেয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে বিদায় নিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের শুরুতে দারুণ ফুটবল খেললেও সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে তাদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
এখন তাদের সামনে কেবল তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লড়াই।

তবে বিদায়ের ম্যাচকে আবেগে ভাসাতে চান না দেশ্যম। ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক অসাধারণ মুহূর্ত দেখেছি, আবার কঠিন সময়ও পার করেছি। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। আমি ইতিবাচক মানুষ। ফ্রান্সের কোচ হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

দেশ্যমকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হবে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের স্থপতি হিসেবে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন তিনি, আর দুই দশক পর কোচ হিসেবে উপহার দেন দ্বিতীয় শিরোপা।
২০১০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার পর ফরাসি ফুটবলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন দেশ্যম। তার অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

তবে সব পথ মসৃণ ছিল না। ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার এবং ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে পরাজয় তার সময়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তারপরও পরিসংখ্যান দেশ্যমের পক্ষেই কথা বলে। সাতটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচটিতেই ফ্রান্সকে অন্তত সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি।

গত এক বছরে নিজের দর্শনেও পরিবর্তন এনেছেন দেশ্যম। দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে এমবাপ্পে, ওসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে কেন্দ্র করে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করেছেন। যদিও স্পেনের বিপক্ষে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

এই বিশ্বকাপ তার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন ছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মায়ের মৃত্যুতে শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল এবং একটি ম্যাচে দলের সঙ্গেও থাকতে পারেননি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে দেশ্যমের ২৭তম ম্যাচ, যা একটি নতুন রেকর্ড। এরপরই শেষ হবে ফরাসি ফুটবলের এক সফল অধ্যায়, আর শুরু হতে পারে জিদানের নতুন যুগ।

মেসি-ইয়ামাল চাচা ভাতিজার বিশ্বকাপ ফাইনাল!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সময় কত দ্রুত চলে যায়! ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ফটো শুটে মাত্র ৫ মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে গোসল করিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ১৯ বছর পর সেই ছবি আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। উপলক্ষ অবশ্য বিশ্বকাপের ফাইনাল। ছবির দৃশ্যটা এমন ছিল যেন চাচা তার ভাতিজাকে পরম মমতায় গোসল করাচ্ছেন। আর আজ মনে হচ্ছে চাচা তার ভাতিজাকে খেলোয়াড় বানিয়ে বলছেন ভাতিজা তুমি কত বড় খেলোয়াড় হয়েছো আসো আগে আমার সাথে তুমি পরীক্ষা দাও! তবে পরীক্ষার মঞ্চটা ঘরোয়ো কোন মঞ্চ নয় একেবারেই বিশ্ব মঞ্চ, যে পরীক্ষার কোন ট্রায়াল নেই সরাসরি বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালকে বলা যায় মেসি-ইয়ামাল চাচা ভাতিজার বিশ্বকাপ ফাইনাল।  

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপে প্রথম বারের মত প্রতিপক্ষ ইয়ামাল-মেসি। আর এই ফাইনালকে ঘিরে ২০০৭ সালে ইয়ামালকে গোসল করানোর মেসির সেই ছবিটা আলোচানায় সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়ায় আর সাথে নানা মন্তব্য ও প্রশ্ন, তাহলে কে জিতবে বিশ্বকাপ ট্রফি? চাচা নাকি ভাতিজা? ৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে যখন আর্জেন্টিনার হয়ে ২য় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ তখন অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনকে শিরোপা জেতানোর স্বপ্নে বিভোর। এই মহারণ ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে সেই ঐতিহাসিক ভাইরাল ছবি নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন মহা তারকা মেসি। তিনি বলেন- সত্যি বলতে, ছবিটা একেবারে পাগলামির মতো। তখন ও শিশু ছিল, আমরা একসঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। আর আজ আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। এটাই তো জীবন।

’

মেসি আরো বলেন, ‘লামিন অসাধারণ প্রতিভাবান। আমি ওকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি, কারণ ও এমন একটি ক্লাবে খেলে, যাকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। ওর সামনে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এবার সেটা ও করতে না পারে। আমি শুধু ওর জন্য শুভ কামনা জানাতে পারি।’ 

স্পেনের লামিন ইয়ামাল

ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি আরো বলেন ‘কোনো সন্দেহ নেই, এই মুহূর্তে ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার ভালো হওয়া। আর সত্যি বলতে, ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য-জীবন কত অদ্ভুত!’ ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে তা নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভাগ্যবান ফটোগ্রাফারঃ ছবির ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট জানান, ইউনিসেফ ও স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তবে ফটোগ্রাফার তার ক্যারিয়ারের অনন্য ছবিটি তুলেছিলেন তা কি তিনি তখন ভেবেছিলেন যে এই ছবিটা একদিন বিশ্বময় পরিচিতি পাবে? হয়তো না, হয়তো এইটুকু ভেবেছিলেন যে বার্সার ভবিষ্যত এক তারকা আর এক শিশু মাত্র এর বেশি কিছু কি? আর আজ তার তোলা ছবির দুজনেই যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবল মহাতারকা তাও আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে দুজনেই একই মঞ্চে দুজনার প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য। সত্যি ভাগ্যবান ফটোগ্রাফার বটে!

ফাইনালের হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জের যুদ্ধে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপে আজ শনিবার দিবগত রাত ৩ টায় ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মাঠে নামছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটিতে নেই ফাইনালে উঠার কোন তাড়না নেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, কিন্তু যেটা আছে সেটা হল সম্মান, ভবিষ্যতের বার্তা আর বিশ্বকাপে পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়ার হিসেব। দু-দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে ব্রিটিশরা তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে আবার ফরাসিরা। তাই এই ম্যাচকে বলা যায় ‘ফাইনালের হতাশা ভুলে ব্রোঞ্জের যুদ্ধে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স’।

ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারার দুঃখ কোন কিছুতেই ভোলার নয় তারপরও দুধের স্বাদ ঘোলে তো মিটাতেই হয় সেই দিক থেকে ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচটা উভয় দলের কাছে কিছুটা সান্তনা আবার কিছুটা হতাশা ভোলার ম্যাচ তবে কিভাবে হতাশা ভুলে দু-দল এই ম্যাচ থেকে কিছু পেতে পারে তা দেখবো।

১. সেমিফাইনালের হতাশা কাটানোর লড়াই:

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চাপ হবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডিফেন্সিভ খেলার ভুল শুধরানো আর শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হারানোর হতাশা ভুলে মাঠে নামা। অপরদিকে ফ্রান্সের চাপ হবে স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের জবাব দেওয়া।

২. কার বিদায়টা হবে হাসিমুখে:
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এটি জাতীয় দলের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ হতে পারে। তাই ফরাসিরা তাঁর অধ্যায়ের শেষটা জয়ে রাঙাতে চাইবে।

৩. ইংল্যান্ডের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ:
ইংল্যান্ড ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হেরেছিল। এবার জিতলে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের অন্যতম সেরা সমাপ্তি হবে।

৪. ব্যক্তিগত লড়াই:
এই ম্যাচে অনেক খেলোয়াড়ের জন্য গোল্ডেন বুট বা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে। ফলে আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখার সম্ভাবনা বেশি।

৫. প্রমাণের ম্যাচ:
যারা সেমিফাইনালে সমালোচিত হয়েছেন, তারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবেন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপর চাপ থাকবে সমালোচনার জবাব দেওয়ার।

৬. বেঞ্চের তারকাদের সুযোগ ও কৌশল:
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অনেক সময় কোচরা নতুন বা কম খেলা ফুটবলারদের সুযোগ দেন। এতে ম্যাচের গতি ও কৌশল কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

৭. নির্ভার কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল:
ফাইনালে ওঠার চাপ নেই। তাই দুই দলই তুলনামূলক মুক্তভাবে খেলতে পারে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোতে সাধারণত গোলও বেশি হয়।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারিকেইন

দুই দলের বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান:

২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে দুই দল বিশ্বকাপে ৩ বার মুখোমুখি হয়েছিল। আজকের ম্যাচটি হবে ৪র্থ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ।

বছরপর্বফলাফল
১৯৬৬গ্রুপ পর্বইংল্যান্ড ২-০ ফ্রান্স
১৯৮২দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বইংল্যান্ড ৩-১ ফ্রান্স
২০২২কোয়ার্টার ফাইনালফ্রান্স ২-১ ইংল্যান্ড

দুই দলের আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান:

দুই দল মোট ৩২টি অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ১৭ টি আর ফ্রান্স জিতেছে ১০টি ম্যাচ অপরদিকে ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।  

অর্থাৎ, সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডে এগিয়ে যদিও কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স তুলনা মূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।

তাই ফ্রান্স-ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচের ভেতরের গল্পটা হতে পারে উভয় দলের কাছে হতাশা বনাম পুনর্জাগরণ, আবার কোচ দেশমের সম্মান বাঁচানোর শেষ সুযোগের বিদায়ী লড়াই, অন্যদিকে টুখেলের জন্য সেটা আত্ম সম্মানের যুদ্ধ, ফাইনাল মিসের ক্ষত সারানোর ৯০ মিনিট।

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের ভেতরে তিন দ্বৈরথ

বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে কে, স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা ? এই প্রশ্ন এখন কোটি ফুটব ভক্তের। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউইয়র্কে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, ম্যাচের ভেতরে কয়েকটি ব্যক্তিগত দ্বৈরথও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দলীয় লড়াইটা আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের। এর ভেতরে আরও অনেকে তৈরি হয়ে আছেন ‘সম্মুখযুদ্ধে’ লড়তে, দলকে সাফল্যের চূড়ার পথটি দেখাতে। আক্রমণ, রক্ষণ, মাঝমাঠ- তিন বিভাগে দুই দলের নির্ভরতার কমতি নেই। উত্তাপের ঝাঁঝ, রোমাঞ্চের রেণু তাই ছড়িয়ে পড়ছে নিউ ইয়র্কের ফাইনাল ঘিরে।

বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই ১টায় (এএম) মুখোমুখি হবে দুই দল। শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। আর ২০১০ সালের পর, দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ী হওয়ার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা স্পেনের।

দুই দলই সেরা, নির্ভরযোগ্য, ক্ষিপ্র ‘যোদ্ধা’দের নিয়ে মহারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিন বিভাগে তিনটি ‘ডুয়েলস’- হয়ে উঠতে পারে ফাইনালের নির্ণায়ক।

লিওনেল মেসি বনাম এমেরিক লাপোর্ত দ্বৈরথ

দুই সপ্তাহের একটু আগে ৩৯ বছরে পা রেখেছেন মেসি। কিন্তু বয়স এই মহাতারকার কাছে স্রেফ সংখ্যা। ম্যাচ জেতানোর সম্মোহনী ক্ষমতা আজও অটুট, অম্লান। ইতোমধ্যে আট গোল করে ছুটছেন গোল্ডেন বুট জয়ের পথে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট শোভা পাচ্ছে তার মাথায়। ফিফার ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে’ সৃষ্টিশীলতার তালিকায় তিনি আছেন শীর্ষে। চারটি অ্যাসিস্টও আছে; এর মধ্যে দুটি আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে।

দুর্বার মেসিকে জায়গা ছেড়ে দিলে যে সর্বনাশ, তা ভালো করে জানা স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের। প্রতিপক্ষের অধিনায়ককে কড়া পাহারায় রাখার গুরুত্বদায়িত্ব তিনি তুলে দিতে পারেন এমেরিক লাপোখ্তের কাঁধে। আথলেতিক বিলবাওয়ের এই ডিফেন্ডারও আছেন দারুণ ফর্মে। ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবার্সির সঙ্গে দূর্ভেদ্য জুটি তিনি গড়ে তুলেছেন রক্ষণে। চলতি আসরে এ পর্যন্ত খেলা সাত ম্যাচে স্পেনের স্রেফ এক গোল হজমের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, এই জুটির কার্যকারিতা।

লামিন ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তালিয়াফিকো

দুজনের বয়সের ব্যবধান ১৪ বছর! কিন্তু ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনের আক্রমণভাগের সবচেয়ে ক্ষিপ্র তারকা। সেখানে, ৩৩ বছর বয়সী তালিয়াফিকো আর্জেন্টিনার রক্ষণ দেয়ালের সবচেয়ে শক্ত পাথর; সরানো তো দূর অস্ত, নড়ানোই কঠিন!

ইয়ামাল অবশ্য চলতি আসরে এখনও প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পারেননি পুরোটা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে শুরুতে তাকে ভুগতে হয়েছে। এরপর মাঠে ফিরে দেখিয়েছেন, যখন-তখন জ্বলে উঠতে পারেন তিনি।

গতি ও বক্সের ভেতরে বিপজ্জনক এলাকায় ক্ষিপ্র ছোটাছুটি করে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে পেনাল্টি এনে দেন দলকে। মিকেল ওইয়ারসাবাল তা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে নেন ‘লা রোজা’দের। তরুণ ইয়ামালের কল্পনাশক্তি, খেলা পড়তে পারার দক্ষতার প্রমাণ মিলছে ফিফার সৃজনশীলতার ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে’ তার ছয় নম্বরে অবস্থানে।

ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রাখার দায়িত্ব অভিজ্ঞ তালিয়াফিকোর পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত বিশ্বকাপে এই লেফট-ব্যাক ছিলে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়কদের একজন। মাঝের সময়ে ঋদ্ধ হয়েছেন আরও। চলতি আসরেও আলবিসেলস্তেদের রক্ষণে অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে চলেছেন তিনি।

মূলত ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তালিয়াফিকো ভীষণ শক্তিশালী, পরীক্ষিত ও সচেতন। যে সেনানীর ওপর নির্ভর করা যায় নির্ভার থেকে। জাতীয় দলের হয়ে ৮২ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলেছিলেন ১২০ মিনিট। বড় ম্যাচে দলের রক্ষণের জোয়াল দৃঢ়তা ও বিশ্বস্ততার সাথে টেনে নেওয়ার প্রমাণ তিনি আগেও দিয়েছেন, আবারও দিতে প্রস্তুত থাকবেন নিশ্চিতভাবেই।

রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ দ্বৈরথ

মেসি ও ইয়ামালকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে হলে ঠিকঠাক পেতে হবে বলের যোগান। সেটা আসবে মাঝমাঠ থেকে। মাঝমাঠ দখলের তুমুল লড়াই হতে পারে রদ্রি ও এন্সো ফের্নান্দেসের মধ্যে। রদ্রি শুরু থেকেই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে, ফের্নান্দেস দেরিতে হলেও খুঁজে পেয়েছেন নিজেকে।

রদ্রি আবার স্পেন দলের অধিনায়ক। ফলে, তার দায়িত্বের ভার যে কারো চেয়ে বেশি। সেটা তিনি বয়েও চলেছেন অবিশ্বাস্য আস্থায়। প্রতিটি ম্যাচে নিখুঁত পাসের যোগান রেখেছেন অব্যাহত। চলতি আসরে, রদ্রির চেয়ে সফল পাস (৬৪৮টি) দিতে পারেননি আর কেউ। তার সঠিক পাস দেওয়ার সক্ষমতাও ঈর্ষণীয়, শতকরা ৯৩ শতাংশ!

শারীরিক সামর্থ্য ও দমের প্রমাণও রদ্রি দিয়েছে। ৮৩ হাজার ৮০২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এখন তিনি টুর্নামেন্টের রেকর্ডধারী। প্রতিপক্ষের আক্রমণের তাল মাঝমাঠে কেটে দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। একই কাজ তিনি আরও সূচারুভাবে করতে চাইবেন ফাইনালে। কিন্তু সেখানে নিশ্চিতভাবে বাধ সাঁধবেন ফের্নান্দেস। রদ্রির জন্য ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে নামার সামর্থ্য আছে এই আর্জেন্টাইনের।

সাড়ে তিন বছর আগের বিশ্বকাপে, ফিফা সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জয়ী ফের্নান্দেস বল পায়ে তো বটেই, বল ছাড়াও অক্লান্ত পরিশ্রমের সামর্থ্য, মানসিকতা-দুটোই আছে। এ পর্যন্ত ৪৩ বার বল পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি, যা আর্জেন্টিনার যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

ফের্নান্দেসের আবার প্রয়োজনের সময় গোল করার বাড়তি গুণও আছে।

মিশরের বিপক্ষে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় পড়া আর্জেন্টিনাকে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি তিনি এনে দিয়েছিলেন দুর্দান্ত হেডে। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছিল, তখনও তিনি আসেন ত্রাতা হয়ে। মেসির পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন গোলে ফেরান সমতা। পরে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেস।

ফাইনালেও মাঝমাঠের দখল রাখার পাশাপাশি, গোলের দাবি মেটাতে হতে পারে ফের্নান্দেসকে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আসরের শুরুর দিকে সন্তুষ্ট না থাকলেও, ইংল্যান্ডর ম্যাচের পর তিনি এখন আত্মবিশ্বাসে ফুটছেন টগবগ করে।

ইংল্যান্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ফ্লাওয়ার

ইংল্যান্ড টেস্ট দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কয়েক দফা আলোচনা করলেও সাবেক এই জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। বর্তমানে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং দা হান্ড্রেডে লন্ডন স্পিরিটের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয় ইসিবি। তবে তিনি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্বে থাকবেন। এরপরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে ইংল্যান্ড বোর্ড এবং সেই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ফ্লাওয়ার।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ছিলেন ফ্লাওয়ার। তার অধীনে ইংল্যান্ড তিনটি অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজও জিতেছিল। জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সফল কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

ইসিবি এমন প্রস্তাবও দিয়েছিল যে, ইংল্যান্ডের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কোচ হিসেবেও কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন ফ্লাওয়ার। তবে আইপিএল শেষ হওয়ার পরপরই ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরু হওয়ায় বিষয়টিকে বাস্তবসম্মত মনে করেননি তিনি।

লর্ডসে দা হান্ড্রেড শুরুর আগে ফ্লাওয়ার বলেন, `হ্যাঁ, আমি নিজেকে এই দৌড় থেকে সরিয়ে নিয়েছি। ইসিবির সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তবে আমি বর্তমানে যে কাজ করছি, তা নিয়েই খুব খুশি।’

আগামী ১৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে ইংল্যান্ড। তার আগে নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ দিতে চায় ইসিবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউকে নিয়োগ দেওয়া না গেলে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন মার্কাস ট্রেসকোথিক।

নতুন কোচের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন স্টিভেন ফ্লেমিং, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, রিচার্ড ডসন, জোনাথান ট্রট, মাইক হেসন, টম মুডি এবং কুমার সাঙ্গাকারা।

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্লেমিং জানিয়েছেন, ইসিবি এখনো তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি। তবে এমন আলোচনায় নিজের নাম আসাকে তিনি সম্মানের বলে মনে করেন।

এদিকে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। নতুন অধিনায়কের নামও এখনও ঘোষণা করেনি ইসিবি। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড জানিয়েছেন, নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের পরই অধিনায়ক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

টি-২০ সিরিজ জিততে চাই : সাইফউদ্দিন

0

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ক্যামিওর পর বল হাতেও রেখেছেন অবদান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ, ফিরিয়েছে সমতা। যেকোনো মূল্যে এই সিরিজ জিতে দেশে ফিরতে চায় টাইগাররা। 

সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ট্রফিই খোয়াতে হয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলে সেই ক্ষতে একটু হলেও প্রলেপ দেওয়া যাবে। তবে তার আগে কন্ডিশন বড় চ্যালেঞ্জ টাইগারদের জন্য। যদিও মাসখানেকের সফর এখন শেষপ্রান্তে।

পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আপনারা জানেন এই কন্ডিশন একটু কঠিন আমাদের ব্যাটারদের জন্য। আজকের ম্যাচ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ আমরা প্রথম ম্যাচটা হেরেছি। গত কয়েক মাস ধরে ঘরের মাঠে আমরা খুব ভালো খেলছিলাম। বাইরে খেলতে এলে মাঝে মাঝে একটু কষ্ট হচ্ছে। একটা সিরিজের ৫-৭ দিন আগে আসি, প্র্যাকটিস করি, তাতেও কন্ডিশন ও উইকেটে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়। এমন অনেক কিছুই আছে। তবে আশা করি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতব।’

এছাড়া তিনি বলেন,‘এখনও একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা অনেক আলোচনা করেছি গত কয়দিন, কীভাবে উইকেট-আবহাওয়া এসব সামলাবো। আজ তা কাজে লেগেছে।’

স্বাগতিক ক্রিকেটারদের মাত্রাতিরিক্ত ক্যাচ মিসের ফায়দাও কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘হ্যাঁ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা আজ বেশ কিছু ক্যাচ ছেড়েছে। আমাদের জন্য ভালোই হলো। আশা করি রবিবারেও এমন হবে (হাসি)। টেস্ট ও ওয়ানডেতে হেরেছি, আমরা এই সিরিজ জিততে চাই।’

ক্যাচ মিসে জিম্বাবুয়ে পিছিয়ে গেছে জানিয়ে স্বাগতিক দেশের সাংবাদিকদের সাইফউদ্দিন বলেন, ‘যেকোনো ফরম্যাটেই ক্যাচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ২-৩টি ক্যাচ হাতছাড়া হলে প্রতিপক্ষের দিকে মোমেন্টাম চলে যায়। আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক আছি। অনেক ফিল্ডিং সেশন করেছি, প্র্যাকটিস সেশনও হয়। টপ অর্ডারের এক-দুটো ক্যাচ মিস করলেও মাশুল দিতে হয়। এখন শেষ ম্যাচেই আমাদের মনোযোগ।’

ফ্রান্সের দেশোঁর অধ্যায় শেষ!

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন শিরোপা নয়, তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে দিদিয়ে দেশোঁর দলকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই ফ্রান্সের ডাগআউটে শেষবারের মতো দেখা যাবে সফল এই কোচকে।

মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৯ জুলাই) ভোর ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। অনেকের কাছেই ম্যাচটি গুরুত্বহীন হলেও, ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সামনে থাকছে ব্যক্তিগত এক বড় অর্জনের সুযোগ। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন আট, যা লিওনেল মেসির সমান। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তাই শেষ সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইবেন ফরাসি তারকা।

চলতি বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল দুই দলই। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হার মানে ফ্রান্স, আর আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ফলে দুই দলেরই শেষ লড়াই এখন তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ে দেশোঁর ১৪ বছরের অধ্যায়। তাঁর অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল দলটি, যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। দেশোঁর কোচিংয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপেই অন্তত সেমিফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স।

৫৭ বছর বয়সী দেশোঁর আশা ছিল, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতেই দায়িত্ব ছাড়বেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে এমবাপে, চুয়ামেনি ও সতীর্থদের সামনে সুযোগ আছে দীর্ঘদিন ফ্রান্সকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করা কোচকে অন্তত জয় দিয়ে বিদায় জানানোর।

অন্যদিকে, ম্যাচটি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই ইংল্যান্ড শিবিরেও। কোচ টমাস টুখেল স্পষ্টই বলেছেন, সেমিফাইনালে হারের পর কোনো খেলোয়াড়ই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না।

`এই খেলোয়াড়দের কেউই, ফরাসি খেলোয়াড়দের কেউই এই ম্যাচটি খেলতে চায় না। সবাই ফাইনালে খেলতে চেয়েছিল। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু দিয়েছি।’

দুই দলই সেরা একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাঁরা টুর্নামেন্টে কম সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের সুযোগ দিতে পারেন দেশোঁ ও টুখেল। তবে এমবাপের শুরু থেকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না তিনি।

কাগজে-কলমে ম্যাচটির গুরুত্ব কম হলেও, ফ্রান্সের জন্য এর তাৎপর্য ভিন্ন। একদিকে এমবাপের সামনে থাকছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, অন্যদিকে দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের পর দেশোঁকে জয় দিয়ে বিদায় জানানোর শেষ মঞ্চও এটি।