Home Blog Page 114

গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে একক ভাবে শীর্ষে মেসি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে নিজে শীর্ষে উঠলেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে। এই ম্যাচে নিজে গোল পাননি কিন্তু ২টি গোল অ্যাসিস্ট করে সেমিফাইনালে ফুটবলের চিরশত্রুদের বিপক্ষে জয়ী হয়ে ২য় বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল তুললেন আর্জেন্টিনাকে। ঐতিহাসিক ম্যাচে নিজে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে একক ভাবে শীর্ষে মেসি।

গতকাল রাতে আটলান্টায় ইংল্যান্ড বধ ম্যাচে নিজের দুর্দান্ত প্রভাব ঠিকই রেখেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে দলের দুই গোল বানিয়ে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম নায়কও মেসি। তাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন মেসি

মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, দুজনেরই গোল ৮টি করে। কিন্তু বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। ইংল্যান্ড ম্যাচ শুরুর আগে মেসির অ্যাসিস্ট ছিল ২টি সেখানে এমবাপ্পের ৩টি অ্যাসিস্ট ছিল। এই ম্যাচে ২টি অ্যাসিস্ট করে শীর্ষে উঠলেন মেসি।

গোল্ডেন বুট দৌড়ঃ  

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল

জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

উপরের ৭ জনের মধ্যে হলান্ড ছাড়া বাকি ছয়জনের সামনে আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। রোববারের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

ফিফা বিশ্বকাপে মোট ২২টি আসর (১৯৩০–২০২২) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গোল্ডেন বুট/গোল্ডেন শু (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন ২৮ জন খেলোয়াড়। কারণ ১৯৬২ সালে ৬ জন এবং ১৯৯৪ সালে ২ জন যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে এই পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে গোল্ডেন শু নামে চালু হয়, পরে ২০১০ সালে এর নাম বদলে গোল্ডেন বুট রাখা হয়।

বিশ্বকাপখেলোয়াড়দেশগোল
১৯৩০গিয়ের্মো স্তাবিলেআর্জেন্টিনা৮
১৯৩৪ওলদ্রিখ নেয়েদলিচেকোস্লোভাকিয়া৫
১৯৩৮লিওনিদাসব্রাজিল৭
১৯৫০আদেমিরব্রাজিল৮
১৯৫৪শানদর কচিসহাঙ্গেরি১১
১৯৫৮জুস্ত ফঁতেনফ্রান্স১৩
১৯৬২গারিঞ্চাব্রাজিল৪
১৯৬২ভাভাব্রাজিল৪
১৯৬২লিওনেল সানচেসচিলি৪
১৯৬২দ্রাজান জেরকোভিচযুগোস্লাভিয়া৪
১৯৬২ভ্যালেন্তিন ইভানোভসোভিয়েত ইউনিয়ন৪
১৯৬২ফ্লোরিয়ান আলবার্টহাঙ্গেরি৪
১৯৬৬ইউসেবিওপর্তুগাল৯
১৯৭০গার্ড মুলারপশ্চিম জার্মানি১০
১৯৭৪গ্রেজেগর্জ লাতোপোল্যান্ড৭
১৯৭৮মারিও কেম্পেসআর্জেন্টিনা৬
১৯৮২পাওলো রসিইতালি৬
১৯৮৬গ্যারি লিনেকারইংল্যান্ড৬
১৯৯০সালভাতোরে স্কিলাচ্চিইতালি৬
১৯৯৪ওলেগ সালেঙ্কোরাশিয়া৬
১৯৯৪হ্রিস্টো স্তইচকভবুলগেরিয়া৬
১৯৯৮দাভোর শুকেরক্রোয়েশিয়া৬
২০০২রোনালদোব্রাজিল৮
২০০৬মিরোস্লাভ ক্লোসেজার্মানি৫
২০১০টমাস মুলারজার্মানি৫
২০১৪হামেস রদ্রিগেসকলম্বিয়া৬
২০১৮হ্যারি কেনইংল্যান্ড৬
২০২২কিলিয়ান এমবাপ্পেফ্রান্স৮

মজার ব্যাপার হল একই বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের রেকর্ড করেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন যিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপেকে টপকে গেলেন মেসি

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই জমজমাট হয়ে উঠেছে। লড়াই যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমছে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াই। সেই লড়াইয়ে নতুন মোড় এনে দিলেন লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকে টপকে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ে মেসি ছিলেন অন্যতম নায়ক। গোল করতে পারেননি তবে আক্রমণভাগে ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর ফুটবলার। তাঁর পারফরম্যান্স শুধু দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতেই সাহায্য করেনি, ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাতেও যোগ করেছে নতুন অধ্যায়।

এই বিশ্বকাপে শুরু থেকেই ধারাবাহিক ছন্দে রয়েছেন মেসি। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট- প্রতিটি ধাপেই গোল ও অ্যাসিস্টে দলের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভেঙে দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

দলকে ফাইনালে তোলার পর নির্ভার মেসি

অন্যদিকে, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে দীর্ঘ সময় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা ফ্রান্সকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এলেও স্পেনের কাছে হারের পর আপাতত থেমে গেছে তাঁর গোলসংখ্যা। ফলে সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন মেসি।

তবে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সামনে রয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানে মেসির সামনে থাকবে গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার সুযোগ থাকলে এমবাপেও আবার সমতায় ফেরার বা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার উত্তেজনা বজায় থাকবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির ঝুলিতে প্রায় সব বড় অর্জনই রয়েছে। এবার যদি তিনি গোল্ডেন বুটও জিততে পারেন, তবে সেটি হবে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল মাইলফলক। একই সঙ্গে দলকে শিরোপা এনে দিতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর জন্য স্মরণীয় এক পরিণতিতে পৌঁছাবে।

এখন সব চোখ ফাইনালের দিকে। আর্জেন্টিনা যেমন চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে, তেমনি লিওনেল মেসিও তাকিয়ে আছেন ব্যক্তিগত আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দিকে। শিরোপা আর গোল্ডেন বুট-দুটিই কি শেষ পর্যন্ত উঠবে তাঁর হাতেই, সেই উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের মহারণে।

গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে কে কোথায়
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল

জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে সংঘর্ষ

আশঙ্কাটা আগেই ছিল। সে জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। তারপরও কাজ হলো না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকল না। নব্বই মিনিটের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল শেষে সেই আবেগ ছড়িয়ে পড়ল গ্যালারি, স্টেডিয়ামের বাইরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরের রাজপথেও। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জের বদলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে হয়েছে।

আটলান্টার স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালেই গ্যালারির পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও কটূক্তি। ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনা জোড়া গোল করে জয় নিশ্চিত করলে তাদের সমর্থকদের উল্লাস আরও বাড়ে। সেই উদযাপনকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে নেমে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের শরীর থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ম্যাচ শেষেও থামেনি

স্টেডিয়ামের ভেতরের সেই উত্তেজনা বাইরে বেরিয়েও থামেনি। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের আশপাশে আবারও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে সহিংসতা শুধু ম্যাচ ভেন্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ কয়েকটি শহরেও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এমনকি আটলান্টা থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামেও দুই দেশের সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, এই ম্যাচের আবেগ ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সমর্থকদের ঠেকানোর চেষ্টা করছে পুলিশ

ম্যাচ শুরুর আগেই উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছিল। ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় আর্জেন্টিনার একাংশের সমর্থকরা উচ্চস্বরে চিৎকার করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামকেও বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়। মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যেও কয়েকবার বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। সেই উত্তেজনাই ধীরে ধীরে গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ে।

দুই দলের সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের আবেগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। গত ছয় দশক ধরে দুই দেশের ফুটবল লড়াই কেবল ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, জাতীয় আবেগেরও প্রতীক। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের পর এই বৈরিতা আরও গভীর হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এই দ্বৈরথকে আরও কিংবদন্তির মর্যাদা দেয়। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখনও দুই দেশের সমর্থকদের আবেগে প্রবলভাবে প্রভাব ফেলে।

এবারের সেমিফাইনালেও সেই ইতিহাস নতুন করে সামনে এসেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকদের একাংশ মালভিনাস ইস্যুর প্রতীক ও স্লোগান ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সমর্থকেরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখান। ফলে ফুটবল ম্যাচটি কেবল বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং ইতিহাস, জাতীয় গর্ব এবং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি বিস্ফোরক অধ্যায়ে পরিণত হয়।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর সাধারণত ফুটবলপ্রেমীদের মিলনের উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের এই বহুল আলোচিত দ্বৈরথ আবারও মনে করিয়ে দিল, কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো শুধুই খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ইতিহাস, রাজনীতি ও আবেগের ভার বহন করে তা অনেক সময় মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বাস্তবের সংঘর্ষেও রূপ নেয়।

টিভিতে আজকের খেলা: ১৬ জুলাই ২০২৬

ভারত-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডে আজ। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পুনঃপ্রচার দেখতে পারেন টি স্পোর্টসে।

ক্রিকেট

২য় ওয়ানডে
ইংল্যান্ড-ভারত
সন্ধ্যা ৬টা, সনি স্পোর্টস ১

ফুটবল

বিশ্বকাপ-পুনঃপ্রচার
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

আবারও আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন – ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে ফাইনালে সেলেসাওরা

খাদের কিনারা থেকে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের এক নতুন রূপকথা লিখল আর্জেন্টিনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের চিরচেনা সেই ‘কখনো হার না মানা’ মানসিকতার কাছে আরও একবার ভাঙল ইংলিশদের হৃদয়। থ্রিলার ঠাসা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচের দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের মাত্র কয়েক মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ (৮৫) ও লাউতারো মার্টিনেজের (৯০+২) জোড়া আঘাতে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। আগামী রবিবার ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন।

রক্ষণাত্মক কৌশলের মাশুল দিল ইংল্যান্ড

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে (৫৫ মিনিট) অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার এক গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা যখন মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানাচ্ছিল, তখন ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ বেশ শক্ত হাতেই তা সামলে রাখছিল। তবে লিড নেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার খেসারত দিতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের মতো তারকাদের ওপর ক্রমাগত চাপ সামলাতে গিয়ে ম্যাচের শেষভাগে খেই হারিয়ে ফেলে ইংলিশ ডিফেন্স।

শেষ ১০ মিনিটের ম্যাজিক

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি আর্জেন্টিনার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট পরাস্ত করে ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে। সমতায় ফিরে স্টেডিয়ামে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে আর্জেন্টিনা।

এরপর নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম)। ইংলিশ রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান লাউতারো মার্টিনেজ। গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়ে উল্টো রথে চড়ে ফাইনালে পা রাখে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনার পথচলার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

প্রতিপক্ষম্যাচের পরিস্থিতিচূড়ান্ত ফলাফল
মিশর২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা৩-২ ব্যবধানে জয় (৭৯ মিনিটের পর ৩ গোল)
কেপ ভার্দেঅতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চজয়ী
সুইজারল্যান্ডঅতিরিক্ত সময়ের কঠিন লড়াইজয়ী
ইংল্যান্ড৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ তে পিছিয়ে থাকা২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয়

টানা চতুর্থ মেগা ফাইনাল

এই জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা চারটি বড় টুর্নামেন্টের (কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে) ফাইনালে ওঠার অনন্য কীর্তি গড়ল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ এভাবে হাতছাড়া করায় হতাশায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় হ্যারি কেইনদের।

ম্যাচ শেষে মাঠের একপাশে যখন ইংলিশ খেলোয়াড়দের চোখে জল, অন্যপাশে তখন নীল-সাদা জার্সিধারীদের বাঁধভাঙা জয়োৎসব। এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ আগামী রবিবারের মহাদ্বৈরথে, যেখানে ইতালি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টিতেও হার, সিরিজে পিছিয়ে বাংলাদেশ

0

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দুর্দশা যেন কাটছেই না। টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু হলো পরাজয় দিয়ে। বুলাওয়েতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৩২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম তিন ওভারেই ৩৬ রান তুলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন দুই ওপেনার।

তবে নাহিদ রানার আগ্রাসী বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে টাইগাররা। এই পেসার ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। কিন্তু শেষ দিকে রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। ব্রায়ান বেনেট করেন ৪৪ রান, বার্ল অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে, আর ইভান্স ১০ বলে ১৯ রানের ক্যামিও খেলেন।

বাংলাদেশের হয়ে চারটি উইকেট নেন নাহিদ রানা ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন নেন দুটি উইকেট।

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ফিরে যান সাইফ হাসান (১২), তানজিদ হাসান (১৬) ও পারভেজ হোসেন ইমন (৫)। এরপর তাওহীদ হৃদয় (১৪) ও নুরুল হাসান সোহানও (৩) ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একাই লড়াই চালিয়ে যান তিন বছর পর দলে ফেরা ইয়াসির আলি রাব্বি। ৩৩ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেখ মেহেদী হাসানের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন ইয়াসির।

তবে শেষদিকে রিচার্ড এনগারাভার জোড়া আঘাতে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১৯ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।

ফলে আরেকবার ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে নতুন করে চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ।

গোল্ডেন গ্লাভস দৌড়ে এগিয়ে উনাই সিমন

বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ পুরস্কারের লড়াই এবারও জমে উঠেছে। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত সব সেভ, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের ভরসা হয়ে ওঠার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

তবে নাম ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ হলেও ট্রফিটি খাঁটি সোনার তৈরি নয়। সাধারণত ধাতুর ওপর সোনালি প্রলেপ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। বাণিজ্যিক মূল্য খুব বেশি না হলেও ফুটবলীয় মর্যাদার দিক থেকে এর মূল্য অপরিসীম।

চলতি বিশ্বকাপে এই পুরস্কারের দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। সেমিফাইনালের আগে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে ছয়টি ক্লিন শিটও রেখেছেন স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক, যা এক আসরে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের রেকর্ড স্পর্শ করেছে।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল হজম করার আগে টানা ৬৪৯ মিনিট জাল অক্ষত রেখেছিলেন সিমন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী এমিলিয়ানো মার্তিনেজও এখনো লড়াইয়ে আছেন। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে তিনি কিছুটা পিছিয়ে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে একাধিক গোল হজম করতে হয়েছে, যা তার সম্ভাবনাকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

তবে ইতিহাস বলছে, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষকই জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভস। ফলে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ফলও এই পুরস্কারের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব হিসাব-নিকাশে আপাতত উনাই সিমনই সবচেয়ে বড় দাবিদার। তবে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচেই লুকিয়ে আছে আসল নাটক। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে সেরা গোলরক্ষকের সম্মান, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতি হবে ৩০ মিনিট – চলছে বিতর্ক

হাফ-টাইম শো: ফুটবল বনাম বিনোদনের নতুন বিতর্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আসন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধের বিরতি বা হাফ-টাইম প্রচলিত ১৫ মিনিট থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩০ মিনিট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই বাড়তি সময়ে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে শাকিরা, ম্যাডোনা, বিটিএস এবং জাস্টিন বিবারের মতো বিশ্বখ্যাত পপ তারকাদের। ফিফার এই সিদ্ধান্ত বিনোদন দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ফুটবল বিশ্বে জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্কের।

মূল পরিকল্পনা ও তারকাদের অংশগ্রহণ

ফিফা ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর যৌথ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচের হাফ-টাইম বিরতি ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। তবে পুরো সময় জুড়ে গান-বাজনা চলবে না। মূল মিউজিক শোটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ মিনিট। বাকি সময়টুকু মাঠ পুনর্গঠন, খেলোয়াড়দের কৌশল নির্ধারণ এবং ড্রেসিংরুম টকের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

কোল্ডপ্লে (Coldplay)-এর ক্রিস মার্টিনের কিউরেশনে এই জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করবেন:

  • শাকিরা ও ম্যাডোনা
  • কে-পপ সেনসেশন বিটিএস (BTS)
  • জাস্টিন বিবার
  • বার্না বয় এবং গুস্তাভো দুদামেল

আয়োজনের উদ্দেশ্য: মহৎ উদ্যোগ ও নতুন দর্শক

ফিফার পক্ষ থেকে এই মেগা শো আয়োজনের পেছনে দুটি মূল কারণ দর্শানো হয়েছে: ১. দাতব্য তহবিল গঠন: এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শোটি মূলত ‘FIFA Global Citizen Education Fund’-এর অধীনে বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার প্রসারে তহবিল গঠনের লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে। ২. বাণিজ্যিক ও নতুন দর্শক আকর্ষণ: ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে পপ সংগীতের বিশাল ভক্তগোষ্ঠীকে (যেমন বিশ্বব্যাপী বিটিএস আর্মি) বিশ্বকাপের ফাইনালের স্ক্রিনে ধরে রাখা, যা ফিফার দর্শকসংখ্যা ও বাণিজ্যিক রেভিনিউ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ফুটবলপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের আপত্তি ও সংশয়

ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ফুটবল সংস্কৃতি এবং খেলোয়াড়দের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না ফুটবলার ও বিশ্লেষকরা। তাদের আপত্তির প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

খেলোয়াড়দের ইনজুরির ঝুঁকি: ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB)-এর নিয়ম অনুযায়ী, হাফ-টাইম বিরতি সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট হতে পারে। এর চেয়ে বেশি সময় খেলোয়াড়রা নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে তাদের শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। হঠাৎ করে আবার তীব্র গতির খেলায় ফিরলে পেশিতে টান বা মারাত্মক ইনজুরির আশঙ্কা থাকে।

ঐতিহ্যে আঘাত ও অতি-বাণিজ্যিকীকরণ: কট্টর ফুটবল সমর্থকদের মতে, ফুটবলের নিজস্ব একটি ছন্দ ও আবেগ রয়েছে। আমেরিকান ফুটবলের ‘সুপার বোল’ (Super Bowl)-এর আদলে ফুটবলকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ করা হলে খেলার মূল আবেদন নষ্ট হবে।

মনোযোগের ব্যাঘাত: ফাইনালে প্রথমার্ধের চরম উত্তেজনার পর দর্শকরা যখন মাঠের রণকৌশল নিয়ে মগ্ন থাকেন, তখন এই ধরণের হাই-ভোল্টেজ পপ কনসার্ট মাঠের আসল ফুটবলীয় আবহকে হালকা করে দিতে পারে।

উপসংহার ও মূল্যায়ন

খেলাধুলার সাথে বিনোদনের মেলবন্ধন বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয়, এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তহবিল গঠনের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে ফুটবলের মূল স্পিরিট, ঐতিহ্য এবং সর্বোপরি খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এই ধরণের বড় পরিবর্তন কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ফুটবল মাঠ যেন শেষ পর্যন্ত ফুটবলেরই থাকে, বিনোদনের ভিড়ে তা যেন হারিয়ে না যায়, এটাই এখন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশকে আনন্দ দিতে চান স্কালোনি, ভালোবাসার কথা জানালেন মার্তিনেজও

আকাশপথে বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনার দূরত্ব প্রায় ১৬ হাজার ৭৮০ কিলোমিটার। তবে বিশ্বকাপ এলেই সেই দূরত্ব যেন মিলিয়ে যায়। আজ আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, আর সেই ম্যাচে আলবিসেলেস্তাদের পক্ষে গলা মেলাবে বাংলাদেশের কোটি কোটি সমর্থকও।

বাংলাদেশের এই নিঃশর্ত সমর্থন ও ভালোবাসা বরাবরই মুগ্ধ করেছে আর্জেন্টিনা শিবিরকে। এবার সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে স্কালোনি বলেন, ‘আশা করি আগামীকাল (আজ) আমরা তাদের আনন্দ দেওয়ার মতো একটি ফল উপহার দিতে পারব। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই আমাদের চমকে দেয়। এত দূরে থেকেও তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে, সেটা সত্যিই অসাধারণ। নিজের দেশের বাইরের মানুষকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে দেখতে দারুণ লাগে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।’

বাংলাদেশ নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং এই সমর্থকদের আমি ভালোবাসি। তারা আমাদের জন্য পাগল। সেখানে গিয়ে আমি নিজের চোখেই তা দেখেছি। আমার মনে হয়, কোনো না কোনোভাবে তারা সবাই আর্জেন্টাইন।’

বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই বাংলাদেশে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায়, তা বিশ্বের ফুটবল অঙ্গনেও বিশেষভাবে আলোচিত। আর সেই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে এবার বাংলাদেশের সমর্থকদের আনন্দ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামবে স্কালোনির দল।

বাংলাদেশকে ১৭১ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৭১ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে। বুধবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তোলে স্বাগতিকরা।

ঘরের মাঠে এদিন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট শুরুতে ঝড় তুলে ৩০ বলে ৪৪ রান করে নাহিদ রানার বলে বিদায় নেন। আর এক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ৯ বলে করেন ১৪ রান করে রানার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ডিওন মায়ার্স ২০ বলে ২০ রান করে সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ আউট হন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১৩ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ২০ রান করেন।

মিল্টন শুম্বা ১১ রান করে বিদায় নেন। তবে রায়ান বার্ল ২৫ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ৩০ ও ইভান্স ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বল হাতে নাহিদ রানা ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। এছাড়া সাইফউদ্দিন নেন ৪ ওভরে ৩৫ রানে দুই উইকেট।

বাংলাদেশ একাদশ: তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, ইয়াসির আলি চৌধুরি, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

জিম্বাবুয়ে একাদশেঃ ব্রায়ান বেনেট, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ডিওন মায়ার্স, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, মিল্টন শুম্বা, ক্লাইভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), টিনোটেন্ডা মুসেকিওয়া, লুক ইভান্স, রিচার্ড নগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি।