Home Blog Page 131

আত্মবিশ্বাসী মিশর ইতিহাস গড়তে চায়

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসী মিশর। দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান জানিয়েছেন, লিওনেল স্কালোনির দলকে যথেষ্ট সম্মান করলেও তারা আর্জেন্টিনাকে ভয় পান না। বরং শেষ ষোলোর ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনাও সমানভাবে দেখছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় ৭ জুলাই রাত ১০টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

মিশরের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হোসাম হাসান ১৯৯০ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৯ গোলের মালিক তিনি। এক গোল কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বর্তমান অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ।

এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দলটি। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামতে চান কোচ হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে অনেক কিছু অর্জন করেছি। কোচ হিসেবে আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারলে আমি খুশি হব। আমাদের লক্ষ্য জাতীয় দলকে নিয়ে মিশরীয়দের গর্বিত করা এবং সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা নিয়েও বাস্তববাদী মন্তব্য করেন মিশর কোচ। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে স্কালোনির দল। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসিদের দলকে অন্যতম সেরা বলেই স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘিরে ভীত নন হাসান। তার ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা দারুণ একটি দল এবং তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমরা জানি কোনো দলের জন্যই সহজ ম্যাচ হবে না। আমরা আর্জেন্টিনাকে সম্মান করি, কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’

এখন দেখার বিষয়, আত্মবিশ্বাসী মিশর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চমক দেখাতে পারে কি না। অন্যদিকে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে শিরোপা ধরে রাখার মিশন এগিয়ে নিতে চাইবে স্কালোনির দল।

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিশ্বকাপ যখন বিদায় মঞ্চ

অনেক সঙ্কার পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়েছিল নেইমার জুনিয়রের, শুরুতে নিয়মিত দলে না থাকলেও গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে ভালই খেলছিলেন। রাউন্ড অব সিক্সটিনের বাঁচা মরার লড়াইায়ে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলেন গোল করলেন কিন্তু ব্রাজিল হেরে গেল। শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের এমন বিদায়ের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমার। নেইমারের ক্যারিয়ার যেমন ছিল জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভরা তেমনই আবার ইনজুরি ও নাটকীয়তায় মোড়ানো ছিল অনেকটা সময়। বিশ্বকাপ শেষের দিকে দুজন খেলোয়াড়ের বিদায় বেলায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মনের গহীনে আর তা হল; নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিদায় বেলায় সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলের আন্তর্জাতিক ৭৭ গোলকে পেছনে ফেলে নেইমার ১৩১ ম্যাচে ৮১ গোলের রেকর্ড ঝুলিতে ভরেছেন। গতি, ড্রিবলিং, স্কিল এবং ক্রিয়েটিভিটির জন্য নেইমারকে রোনালদিনহো ও পেলের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করা হতো কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ব্রাজিলের জার্সিতে নিঃসন্দেহে তার ফুটবলীয় অবদান তাকে অবশ্যই ইতিহাসের অন্যতম সেরাদের কাতারে রাখবে।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প গাঁথায় ভরা। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং, কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিকতা তাকে ফুটবলের রেকর্ড চূড়ায় নিয়ে গেছে। ২৩২ ম্যাচে ১৪৬ গোল আর ৫টি ব্যালন ডি অর, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা দেশকে উপহার দিলেও বিশ্বকাপ যেন অধরা ছিল রোনালদোর কাছে আর এই আক্ষেপ নিয়ে নিজের ৬ষ্ট বিশ্বকাপটা রাঙ্গিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলের সকল রেকর্ড পুর্ণ হলেও শুধু বিশ্বকাপটাই অধরা ছিল কিন্তু বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে ওঠার ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো হার মানলেন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাট চুকিয়ে বিদায় বললেন ফুটবলকে। আসলে রোনালদো না যতটা পর্তুগালের তারকা তার চেয়ে বেশী যেন বিশ্ব ফুটবলের তারকা তাইতো বিদায় বেলায় শুধু তার চোখেই পানি ছিলনা বিশ্বময় অনেক ভক্ত সমর্থকরাও কেঁদেছে তার জন্য।

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

নতুন অভিযানে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে? এই প্রশ্নে যে নাম দুটি প্রথমে আসবে তা হল পেলে এবং ম্যারাডোনা আর তার পরেই আসবে লিওনেল মেসি। আপাতত উত্তরটা কি হবে তা আপাতত থাক, এবার মেসিকে নিয়ে না হয় কিছু অনুমান করা যাক, না তাকে নিয়ে তো অনুমান করলে তিনি আবার ভুল প্রমাণ করেন, রোনালদোর মতই ক্লাব ফুটবলের সকল অর্জন পুর্ণ করলেও শুধু বিশ্বকাপের স্বপ্নটাই ছিল তার কাছে আকাশের চাঁদ তবে সেই স্বপ্ন ২০২২ সালে পুরণ করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন গুঞ্জন উটেছিল বিদায়ের, এবার মনে হয় মেসি বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে কিন্তু না থেমে যাননি, অবসরের বিষয়টা মেসি পরিস্কার করে বলেননি আবার জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলবেন এটাও পরিস্কার না করে খেলা চালিয়ে যাওয়া মেসি যেন নিজের দিকে তাকিয়েছেন আর ভেবেছেন আর কত? কিন্ত যার মধ্যে ফুটবলের অনন্ত ক্ষুধা লুকায়িত তিনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেননি তাকে কোথায় থামতে হবে এ যেন স্কালোনি-মেসি জুটির অপুর্ব মেলবন্ধন যা মেসিকে নিয়ে এলো আরেকটা বিশ্বকাপের মঞ্চে।

মেসি ক্যারিয়ারের ৮টি ব্যালন ডি অর, ২টি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়, ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ট্রফি জয়ী খেলোয়াড় আর চলমান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০টি গোলদাতা মেসি কি তবে এবার নেইমার, রোনালদোর মত বিশ্বকাপটা শেষ করে বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে? আসলে রেকর্ড দিয়ে মাপা যায় নিদিষ্ট মাপের কিছু খেরোয়াড়কে কিন্তু কোন খেলোয়াড় যখন আকাশের মত বিশাল হয়ে যান তখন তাকে মাপার সাধ্য আর রেকর্ডের থাকেনা, মেসি হলেন সেই রকম ফুটবলের মহীরুহ যাকে দেখতে হয় শুধুই আকাশের দিকে তাকিয়ে। তাই এখন শুধুই অপেক্ষার পালা কবে কখন থামবেন ফুটবল ইতিহাসের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মহাকাব্যিক লিওনেল মেসি!

মেসি-সালাহ মহারণের রাত, শেষ আটে জায়গা পাবে কে?

বিশ্বকাপ থেকে ইতোমধ্যেই বিদায় নিয়েছে নেইমারের ব্রাজিল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। দুই মহাতারকার চোখের জলের বিদায়ের পর এবার আরও একটি তারকাখচিত দলের স্বপ্ন ভাঙার অপেক্ষা। শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও মোহাম্মদ সালাহর মিশর। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের পর এক দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হবে। অন্য দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার-ফাইনাল।

বিশ্বকাপে আরও একটি হৃদয় ভাঙার রাত আজ। রোনালদো ও নেইমারের বিদায়ের পর বিশ্বকাপে আরেক মহাতারকার স্বপ্ন শেষ হওয়ার অপেক্ষা। মেসি নাকি সালাহ-আজকের রাতেই মিলবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত উত্তর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টার মাঠে শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও মোহাম্মদ সালাহর মিশর। দুই দলই জয়ের জন্য মাঠে নামতে চায়।

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে মিশরও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়লেও কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় সালাহর মিশর।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান অবশ্য স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার পক্ষে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা জিতেছে তিনটি ম্যাচ, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মিশর এখনো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। গোলের হিসাবেও এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্টরা।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার নান্দনিক ফুটবল ও গোল করার ক্ষমতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অন্যদিকে মিশরের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র মোহাম্মদ সালাহ। তার গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

সম্ভাব্য একাদশে আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গে তরুণ ফরোয়ার্ডদের ওপর আস্থা রাখবে। মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও গতি মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে সালাহকে কেন্দ্র করেই পাল্টা আক্রমণের কৌশল সাজাবে মিশর। রক্ষণে শক্তি বাড়িয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা রাখবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ব্রাজিল-পর্তুগালের বিদায়ের পর স্কালোনির ঘুম হারাম!

বিশ্বকাপে এবার আর কোনো দলকে আলাদা করে ফেভারিট বলতে পারছেন না লিওনেল স্কালোনি। ঐতিহ্যবাহী বা শক্তিশালী দলগুলোকেও প্রতিটি ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করেন আর্জেন্টিনা কোচ।

ডালাসে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই ভীষণ কঠিন। এখানে আর কোনো স্পষ্ট ফেভারিট নেই।’

গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও নকআউটের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে বড় ধাক্কা খেতে বসেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, অন্য বড় দলগুলোর অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট রানার্সআপ ফ্রান্স শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছে পেনাল্টিতে পাওয়া গোলে।

পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের জয় এসেছে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে। পরপর দুই দিন হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগাল। এর আগে রাউন্ড অব ৩২ থেকে ফিরেছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস।

প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে তো গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। এসব উদাহরণ টেনে স্কালোনি বলেন, এবার কোনো ফেভারিট দল নেই।

“বিশ্বকাপে আগে যেমন আমরা দেখতাম… কোনো জাতীয় দলকেই এবার স্পষ্ট ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার পরিস্থিতিও অনেক ভিন্ন।”

‘চার-পাঁচটি দলকে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে ধরা হলেও, তারা এখনও বিশ্বকাপের আগে আমরা যে ধরনের ফুটবল প্রত্যাশা করি, সেই মানের পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।’

‘খেলোয়াড়দের এরই মধ্যে অনেক ম্যাচের ধকল জমে গেছে। তাই হয়তো আমরা যে মানের ফুটবল দেখতে অভ্যস্ত, সেটা দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ভ্রমণ, গরম আবহাওয়া, মাঠের অবস্থা, ঘাস- সব মিলিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তবে নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্কালোনি। ‘আমাদের পারফরম্যান্স গ্রহণযোগ্য। আমরা চারটি ম্যাচই জিতেছি, এটিই সন্তুষ্ট হওয়ার মতো বিষয়। তবে জিতলেও উন্নতির সুযোগ সব সময় থাকে।’

নতুন দিনের আশায় কিংবদন্তি রোনালদো

নতুন দিনের আশায় কিংবদন্তি রোনালদো। বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা চোখে নিয়েই বিদায় নিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে অনেকক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও প্রতিপক্ষের সান্ত্বনা সত্ত্বেও চোখের জল লুকাতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তবে হতাশার মাঝেও তিনি জানিয়েছেন, একজন ফুটবলারের জীবন কখনোই থেমে থাকে না—নতুন দিনের আশায় সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘এভাবেই বিশ্বকাপ ছাড়াটা অবশ্যই কষ্টের। কিন্তু আমি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং স্বচ্ছ বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, এটাই একজন ফুটবলারের জীবন। জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে।’

এই বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো। দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করে সবচেয়ে বেশি বয়সে নকআউটে গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে লেখান। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে নতুন সংযোজন হলেও অধরা থেকে গেল বিশ্বকাপ ট্রফি।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই রোনালদো নিশ্চিত করেছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। তার ভাষায়, ‘এখনও পরিবার ও নিজের সঙ্গে কথা বলার সময় আছে। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় আছে।”

ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো ফাইনালে ওঠা হয়নি রোনালদোর। অভিষেক বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলাই ছিল তার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর তিনবার বিদায় নিতে হয়েছে শেষ ষোলো থেকে, একবার কোয়ার্টার-ফাইনাল এবং একবার গ্রুপ পর্ব থেকেই।

তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও জাতীয় দলের হয়ে অর্জন নিয়ে গর্বিত রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমার আগে পর্তুগাল কোনো বড় শিরোপা জেতেনি। আমি দেশের হয়ে তিনটি ট্রফি জিতেছি। বিশেষ করে ২০১৬ ইউরো শিরোপা আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই মূল্যবান।’

বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে আরও এক মৌসুমের চুক্তিতে আছেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে তার শেষ কথায় স্পষ্ট ছিল আশাবাদ-আগামীকাল একটি নতুন দিন আসবে, আর জীবন চলতেই থাকবে।’

ব্যর্থতা সত্ত্বেও আনচেলোত্তির ওপর আস্থা ব্রাজিলের

বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্যর্থ হওয়া বেশিরভাগ ফুটবল কোচের একটাই ঠিকানা হয়- বিদায়। তবে ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ওপর আস্থা রাখছে তারা।

বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এ নিয়ে ২০০২ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি টানা ষষ্ঠ আসরে ব্যর্থতা সঙ্গী করে বিদায় নিয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী বিশ্বকাপ অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন আনচেলোত্তি।

শান্ত থাকার আহ্বান

ব্রাজিলের বিদায়ের পর জাতীয় দলের সমম্বয় রদ্রিগো কায়েতানো বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য্য ধরে নতুন চক্র শুরু করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। এখন আমাদের শান্তভাবে কাজ চালিয়ে নিতে হবে। কোচের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এক সঙ্গে থাকার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। অবশ্যই প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন ও মূল্যায়ন করা হবে। তবে আমাদের সামনে এগুতে হলে কিছুটা স্থিরতা দরকার।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি

গত বছর দায়িত্ব নেন আনচেলোত্তি

২০২৫ সালের মে মাসে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন ৬৭ বছর বয়সী আনচেলোত্তি। চলতি বছরের মে মাসেই তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ পর্যন্ত করা হয়। পরিস্কার এক লক্ষ্য ছিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের। আনচেলোত্তিকে দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা। তার অভিজ্ঞ নেতৃত্বে ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেবেন এমনই ছিল আশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়নি। বরং ১৯৬৬ সালের পর সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা। এবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে পারেনি।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশার চিত্র তুলে ধরে কায়েতানো বলেন, আমরা এখনো এই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, পুরো দল-সবাই ভীষণ দুঃখিত, হতাশ। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ব্রাজিল

ব্যর্থতার মাঝেও কোয়েতানো কিছু ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব ছিল প্রশংসনীয়। এই ৩৮ দিনে আমরা খেলোয়াড়দের যে প্রতিশ্রুতি, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দেখেছি, সেটিকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমরা এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকবা। আশা করছি এই ব্যর্থতা আগামী দিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর পরীক্ষা দারুণভাবে উতড়ে গেল বেলজিয়াম। সিয়েটলের লুমেন ফিল্ডে বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে তারা ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দল হিসেবে তারা শেষ আটে পৌঁছেছে। আগামী ১০ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম স্পেনের মুখোমুখি হবে।

৪-১ গোলের বিশাল জয়ে বেলজিয়ামের হয়ে গোল করেছেন চার্লেস ডি কেতেলায়েরা, হ্যান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। কেতেলায়েরা জোড়া গোল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যবধান কমান মালিক টিলমান।

তিন স্বাগতিকের বিদায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের মাঝ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশেরই বিদায় হয়ে গেল। এর আগে কানাডা ও মেক্সিকো বিদায় নেয়।

এ ম্যাচের আগে শেষ ষোলোর অন্য এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও পর্তুগাল। নাটকীয় জয়ে স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ১-০ গোলে জয় স্পেনের। নির্ধারিত সময়ের খেলার ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে স্পেনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মাইকেল মেরিনো। স্পেনের জয়ের মাঝ দিয়ে বিদায় হয় পর্তুগালের। কান্নাজড়িত চোখের জলে বিদায় নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বিশ্বকাপে এখন তিন কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হয়েছে। ফ্রান্স খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আর স্পেন পেয়েছে বেলজিয়ামকে। কোয়ার্টার ফাইনালের অন্য ম্যাচে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। আজ রাতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে মিসর। সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।

গোলের পর রোমেলু লুকাকু

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বেলজিয়াম। বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। প্রথমার্ধেই তার সুফল পেয়ে যায় বেলজিয়ানরা। বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।

উজ্জ্বল তারকা কেতেলায়েরা

ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা ছিলেন চার্লেস ডি কেতেলায়েরে। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তাঁর গতি, পজিশনিং ও গোল করার দক্ষতার সামনে অসহায় দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল স্বাগতিকরা। নিজেদের দর্শকদের সামনে আক্রমণের গতি বাড়ালেও বেলজিয়ামের সুসংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কাছে বারবার আটকে যায় তারা। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দুটি গোল করে ব্যবধান ৪-১-এ নিয়ে যায় বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনই নিশ্চিত করে স্বাগতিকদের বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি।

টিভিতে আজকের খেলা ৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে আজ শেষ ষোলোতে মিসরের মুখোমুখি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পরের ম্যাচে সুইজারল্যান্ড খেলবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে।

বিশ্বকাপ ফুটবল: শেষ ১৬
যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম
সকাল ৬টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

আর্জেন্টিনা-মিসর
রাত ১০টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া
রাত ২টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

টেনিস
উইম্বলডন
কোয়ার্টার ফাইনাল
বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

ক্রিকেট
৩য় টি-টুয়েন্টি
ইংল্যান্ড-ভারত
রাত ১০-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

তিন ম্যাচ আগেও বিশ্বকাপসেরা, আজ দলেই নেই সঞ্জু

0

মাত্র তিন ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হিসাবে খুব বড় কোনো সময় নয়। অথচ এই তিন ম্যাচই বদলে দিতে পারে একজন ক্রিকেটারের অবস্থান, বদলে দিতে পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। সঞ্জু স্যামসনের সাম্প্রতিক ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে ভারতের হয়ে সঞ্জুর ব্যাট থেকে আসে ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রানের তিনটি দুর্দান্ত ইনিংস। ফাইনালেও খেলেন ম্যাচজয়ী ইনিংস। পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন ভারতের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজন এবং টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।

কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ছবিটা বদলাতে সময় লাগেনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা তিন ইনিংসে ব্যর্থ হন সঞ্জু। রান করেন যথাক্রমে ৫, ০ ও ১।

এরপরই আসে বড় সিদ্ধান্ত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তার বদলে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর।

বৈভবের দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে খুব একটা বিতর্ক নেই। আইপিএলে তার ব্যাটিং, ভয়ডরহীন মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে অনেক আগেই আলোচনায় এনে দিয়েছিল। ভারতের ভবিষ্যৎ হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। সুযোগটা কেন এল ঠিক সেই ক্রিকেটারের জায়গায়, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন?

ভারতের টপ অর্ডারেও খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা দারুণ ছন্দে, তিন নম্বরে খেলছেন ঈশান কিষাণ। ফলে নতুন কাউকে জায়গা দিতে হলে কাউকে না কাউকে সরে দাঁড়াতেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নামটি হয়ে গেল সঞ্জু স্যামসন।

এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররাও। সঞ্জয় মাঞ্জরেকার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, প্রথমে তার মনে হয়েছিল স্যামসন হয়তো চোট পেয়েছেন। কারণ মাত্র তিনটি ব্যর্থ ইনিংসের পর তাকে বাদ দেওয়া তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। আম্বতি রায়ডুও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাত্র তিন ম্যাচ আগেই যিনি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, তাকে এত দ্রুত ভুলে যাওয়া সহজ নয়।

খেলাধুলার বাস্তবতা অবশ্য এমনই। এখানে অতীতের অর্জন সম্মান এনে দেয়, কিন্তু ভবিষ্যতের জায়গা নিশ্চিত করে না। প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচ, এমনকি প্রতিটি ইনিংস নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ।

বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেকের দিনে ভারতীয় ক্রিকেট নতুন এক তারকার আগমনে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনের জন্য এটি হয়তো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বারবার দেখিয়েছে, বড় খেলোয়াড়দের গল্প শেষ হয়ে যায় না একটি ব্যর্থ অধ্যায়ে। এখন দেখার বিষয়, এই ধাক্কা সামলে সঞ্জু আবারও নিজের গল্প নতুন করে লিখতে পারেন কি না।

পেনাল্টি না নিয়ে ভিনিসিয়ুস কি দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়েছেন?

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন, দলের সেরা ফর্মে থাকা পেনাল্টি স্পেশালিস্ট ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজে শট না নিয়ে কেন ব্রুনো গুইমারেসকে বল ছেড়ে দিলেন? ভিনিসিয়ুস কি চাপের মুখে দায়িত্ব ছেড়ে পালালেন?

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে এই প্রশ্নের উত্তর দেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ছেলে তথা দলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তি। সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন:

“এখানে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচের আগেই আমাদের রণকৌশল সাজানো হয়েছিল এবং এটি নির্ধারিত ছিল যে পেনাল্টি পেলে ব্রুনো গুইমারেসই প্রথম শটটি নেবেন। ভিনিসিয়ুস কেবল দলের সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। আজ আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল, তাই মিস হয়েছে।”

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ভিনিসিয়ুস দায়িত্ব এড়াননি, বরং একজন সুশৃঙ্খল ‘টিম প্লেয়ার’ হিসেবে কোচের পূর্বপরিকল্পনাকে সম্মান জানিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখিয়েছেন তিনি।

মাঠে যা ঘটেছিল: ভিএআর নাটক ও পেনাল্টি মিস

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়ছিল। প্রথমার্ধের ১৪তম মিনিটে ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়া বল নিয়ে নরওয়ের ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে তাঁকে লক্ষ্য করে একটি স্লাইডিং ট্যাকল করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার। প্রথমে রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ব্রাজিলের ফুটবলারদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর সাহায্য নেন। রিপ্লে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

বল হাতে ভিনিসিয়ুস যখন স্পটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেস তাঁর কাছে আসেন। ভিনিসিয়ুস বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলটি তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বক্সের বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ান। গুইমারেস তাঁর চেনা ভঙ্গিতে ‘স্টাটার-স্টেপ’ (থেমে থেমে দৌড়ানো) নিয়ে শট নিলেও নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ড ভুল করেননি। তিনি বাম দিকে চমৎকার ডাইভ দিয়ে বলটি রুখে দেন।

টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের মূল সময়ে ব্রাজিলের পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম। এই একটি মিস পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এরপর একের পর এক আক্রমণ করেও নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না সেলেসাওরা।

নেইমারের রেকর্ড ও অধরা ‘হেক্সা’ মিশন

ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে দলের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে চোট কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ তারকা নেইমারকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (স্টপেজ টাইম) ব্রাজিল আরেকটি পেনাল্টি পেলে এবার আর কোনো ভুল হয়নি। নেইমার ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান।

এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের মহানায়ক পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলীয় হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন নেইমার। কিন্তু তাঁর এই ঐতিহাসিক রেকর্ডও ব্রাজিলের বিদায়ের বিষাদকে কমাতে পারেনি। ১৯৯০ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেওয়ার পর, এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ব্রাজিল।

১৯৯৪ সালে যখন শেষবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, সেবার ট্রফি জিতেছিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে তারা ঘরে তোলে পঞ্চম বিশ্বকাপ। এরপর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ জয়ের মিশন ব্রাজিলের জন্য কেবলই এক দূর আকাশের তারা হয়ে রইল। কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে আরও চার বছরের জন্য দ্বিতীয় guessing (অনুশোচনা) আর আফসোসের সাগরে ডুবল সাম্বার দেশ।