নতুন দিনের আশায় কিংবদন্তি রোনালদো। বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা চোখে নিয়েই বিদায় নিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে অনেকক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও প্রতিপক্ষের সান্ত্বনা সত্ত্বেও চোখের জল লুকাতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তবে হতাশার মাঝেও তিনি জানিয়েছেন, একজন ফুটবলারের জীবন কখনোই থেমে থাকে না—নতুন দিনের আশায় সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘এভাবেই বিশ্বকাপ ছাড়াটা অবশ্যই কষ্টের। কিন্তু আমি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং স্বচ্ছ বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, এটাই একজন ফুটবলারের জীবন। জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে।’
এই বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো। দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করে সবচেয়ে বেশি বয়সে নকআউটে গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে লেখান। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে নতুন সংযোজন হলেও অধরা থেকে গেল বিশ্বকাপ ট্রফি।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই রোনালদো নিশ্চিত করেছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। তার ভাষায়, ‘এখনও পরিবার ও নিজের সঙ্গে কথা বলার সময় আছে। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় আছে।”
ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো ফাইনালে ওঠা হয়নি রোনালদোর। অভিষেক বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলাই ছিল তার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর তিনবার বিদায় নিতে হয়েছে শেষ ষোলো থেকে, একবার কোয়ার্টার-ফাইনাল এবং একবার গ্রুপ পর্ব থেকেই।
তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও জাতীয় দলের হয়ে অর্জন নিয়ে গর্বিত রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমার আগে পর্তুগাল কোনো বড় শিরোপা জেতেনি। আমি দেশের হয়ে তিনটি ট্রফি জিতেছি। বিশেষ করে ২০১৬ ইউরো শিরোপা আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই মূল্যবান।’
বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে আরও এক মৌসুমের চুক্তিতে আছেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে তার শেষ কথায় স্পষ্ট ছিল আশাবাদ-আগামীকাল একটি নতুন দিন আসবে, আর জীবন চলতেই থাকবে।’


