বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্যর্থ হওয়া বেশিরভাগ ফুটবল কোচের একটাই ঠিকানা হয়- বিদায়। তবে ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ওপর আস্থা রাখছে তারা।
বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। এ নিয়ে ২০০২ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি টানা ষষ্ঠ আসরে ব্যর্থতা সঙ্গী করে বিদায় নিয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী বিশ্বকাপ অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন আনচেলোত্তি।
শান্ত থাকার আহ্বান
ব্রাজিলের বিদায়ের পর জাতীয় দলের সমম্বয় রদ্রিগো কায়েতানো বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য্য ধরে নতুন চক্র শুরু করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। এখন আমাদের শান্তভাবে কাজ চালিয়ে নিতে হবে। কোচের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এক সঙ্গে থাকার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। অবশ্যই প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন ও মূল্যায়ন করা হবে। তবে আমাদের সামনে এগুতে হলে কিছুটা স্থিরতা দরকার।

গত বছর দায়িত্ব নেন আনচেলোত্তি
২০২৫ সালের মে মাসে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন ৬৭ বছর বয়সী আনচেলোত্তি। চলতি বছরের মে মাসেই তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ পর্যন্ত করা হয়। পরিস্কার এক লক্ষ্য ছিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের। আনচেলোত্তিকে দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা। তার অভিজ্ঞ নেতৃত্বে ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেবেন এমনই ছিল আশা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়নি। বরং ১৯৬৬ সালের পর সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা। এবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পার হতে পারেনি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশার চিত্র তুলে ধরে কায়েতানো বলেন, আমরা এখনো এই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, পুরো দল-সবাই ভীষণ দুঃখিত, হতাশ। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ব্রাজিল
ব্যর্থতার মাঝেও কোয়েতানো কিছু ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব ছিল প্রশংসনীয়। এই ৩৮ দিনে আমরা খেলোয়াড়দের যে প্রতিশ্রুতি, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দেখেছি, সেটিকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমরা এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকবা। আশা করছি এই ব্যর্থতা আগামী দিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে।


