Home Blog Page 122

বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা, আশাবাদী কোচ দে লা ফুয়েন্তে

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন। ম্যাচটিকে চলতি টুর্নামেন্টে নিজেদের এযাবৎকালের “সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা” হিসেবে দেখছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া বেলজিয়াম অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের হারানোর অভ্যাস আছে।

এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে একটি গোলও হজম না করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা ফেবারিটের মতোই খেলছে। আক্রমণ, রক্ষণ ও বল দখলের দারুণ ভারসাম্যের কারণে দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। তবে কোচ এখনই সামনের সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবছেন না। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স ইতিমধ্যে সেমিফাইনালে চলে গেলেও, দে লা ফুয়েন্তের পুরো মনোযোগ এখন শুধুই বেলজিয়াম ম্যাচকে ঘিরে।

স্পেনের এই অভিযানে কোচের বড় ভরসা ১৮ বছর বয়সী বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল এবং টুর্নামেন্টে ৪ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল। ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মাত্র ১টি গোল করলেও, পর্তুগালের বিপক্ষে তার রক্ষণাত্মক ও পরিণত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন কোচ। তিনি আশাবাদী, সঠিক সময়ে ইয়ামাল তার আক্রমণাত্মক জাদু দেখাবেন।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় একতাকেই স্পেনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি মনে করেন দে লা ফুয়েন্তে। রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের একটি বিখ্যাত উক্তি টেনে তিনি বলেন, “যা মৌচাকের জন্য ক্ষতিকর, তা মৌমাছির জন্যও ক্ষতিকর।” অর্থাৎ, দলের স্বার্থই সবার আগে। শুক্রবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে যে দল জিতবে, আগামী মঙ্গলবার ডালাসে সেমিফাইনালে তারা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।

ফাইনালে মুখোমুখি দুই চেকিয়া মুচোভা ও নাসকোভা

0

বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামডোলে অন্য সব খেলা অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে। তবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন থেমে নেই। চলছে উইম্বল্ডন। অনেকটা নীরবে এগিয়ে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট। শুধু তাই নয়, প্রায় শেষের পথে এগিয়ে গেছে। একেবারেই শেষ পর্যায়ে। নারী ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চেকিয়ার দুই খেলোয়াড়- ক্যারোলিনা মুচোভা ও লিন্ডা নাসকোভা। যার অর্থ উইম্বল্ডনের নারী শিরোপা এবার চেকিয়াতেই যাচ্ছে। পাশাপাশি উইম্বল্ডন পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন।

সেমিফাইনালে ক্যারোলিনা মুচোভা খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রর কোকো গাউফের বিপক্ষে। গাউফ বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। মুচোভা জয় পান ৬-২, ১-৬ ও ৭-৬ গেমে। গত ছয় বছরে চেকিয়ার চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখান তিনি। একটু পরেই সংখ্যা পাঁচে রূপ নেয়। পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে ওঠেন নাসকোভা।

কঠিন লড়াই

কোকো গাউফের বিপক্ষে কঠিন লড়াই লড়তে হয়েছে মুচোভাকে। ১-১ সেটে সমতার পর যে কেউ জয়ের হাসি হাসতে পারতো। জয় নির্ধারণী সেট গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে গফ ম্যাচ পয়েন্ট নষ্ট করেন। তার জোরালো ফোরহ্যান্ড শট নেটে আছড়ে পড়ে। এর পর মুচোভ একটি লব উইনার মেরে প্রথম ম্যাচ পয়েন্ট পান।ঘাসে পিছলে গিয়ে পয়েন্ট হারান তিনি। তারপরেই আরও একটা ম্যাচ পয়েন্ট পান। গফকে পরিশ্রান্ত করে তুলেছিলেন তিনি। গফকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় করার। এরই মাঝে পরিশ্রান্ত গফের একটি শট নেটে আঘাত করতেই ম্যাচ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন মুচোভা।

বল ফেরাচ্ছেন লিন্ডা নাসকোভা

ম্যাচের পর মুচোভা বলেন, কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু দূর্দান্ত এক ম্যাচ ছিল। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে উত্থান পতন দেখেছি। ম্যাচ পয়েন্ট পেয়ে আবার হারিয়েছি। চিন্তা ভাবনা করারই সময় ছিল না। শেষ পর্যন্ত চাপ উপেক্ষা করে সফল হয়েছি। এখন বিষয়টা বিশ্বাস হচ্ছে না। অসম্ভব এক জয় পেয়েছি।

বিশ্বের ৯ নম্বর নারী খেলোয়াড় মুচোভার এটি হবে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। এর আগে তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন। তবে সাফল্যের হাসি হাসতে পারেননি। ইগা শিয়ানটেকের কাছে হেরে গিয়েছিলেন।

দুর্ভাগ্য গফের

দুর্ভাগ্য গফের। মুচোভার বিপক্ষে তার ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। আগের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই জয় ছিল তার। এদিন কাছাকাছি এসেও পারলেন না।

চেকিয়ার অন্য খেলোয়াড় নোসকোভা জয় পেয়েছেন হেসেখেলে। ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে হারান মার্তা কস্তিয়ুককে।

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের স্বপ্নে বিভোর মরক্কো

মাঠে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে মরক্কো, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে আরেকটি সমমানের বড় লড়াইয়ে নেমেছে দেশটি। আর তা হলো – ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফৌজি লেকজার নেতৃত্বাধীন রয়্যাল মরক্কান ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে, তারা ইতিমধ্যে ফিফা কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের লক্ষ্য স্পেনের চেয়ে ক্যাসাব্লাঙ্কাকে ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে রাখা, অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্পেনকেই এই মেগা ম্যাচের মূল দাবিদার মনে করা হচ্ছিল।

আফ্রিকান ও এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সমর্থনের কারণে মরক্কোর এই প্রচারণায় দারুণ গতি এসেছে। তবে ফিফা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানানোয়, বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের এই জমজমাট রেস এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত।

আফ্রিকান ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ

ক্যাসাব্লাঙ্কা যদি শেষ পর্যন্ত ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটির আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তবে তা হবে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

  • আফ্রিকায় ‘গৌরবময়’ প্রথম ফাইনাল: এর আগে কখনো আফ্রিকান মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফলভাবে পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও ফাইনাল ম্যাচটি আফ্রিকার ফুটবল আধিপত্যের প্রতীকী গৌরব এনে দিতে পারেনি, যা মরক্কো দিতে চাইছে।
  • মরক্কোর ফুটবলের উত্থান: এই বিডটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মরক্কোর ফুটবল বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখানোর পর, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে তারা প্রমাণ করেছে যে তাদের সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না।

স্টেডিয়ামের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক মেগা প্রজেক্ট

মরক্কোর এই দাবি কেবল ক্যাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন ‘গ্র্যান্ড স্টেড হাসান ২’ স্টেডিয়ামের ওপর ভিত্তি করে নয়, যা ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে।

বরং, এই বিশ্বকাপ প্রকল্পকে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে সেরা করতে মরক্কো পরিবহন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর, হোটেল এবং ক্রীড়া অবকাঠামো খাতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজন করতে পারলে তা উত্তর আফ্রিকার অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আনবে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে মরক্কোকে মহাদেশের অন্যতম প্রধান ক্রীড়া কেন্দ্রে পরিণত করবে।

হাল ছাড়তে নারাজ স্পেন

অন্যদিকে, শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্পেনও। তাদের মতে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু কিংবা ভবিষ্যতের স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু এর মতো আইকনিক ভেন্যুগুলোই বিশ্ব ফুটবলের এই মহোৎসবের ফাইনাল আয়োজনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা।

রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুজান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, স্পেন ছাড়া অন্য কোথাও বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে, এমনটা তিনি ভাবতেই পারেন না। স্পেনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল ফিফার হাতে থাকলেও, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার লড়াই ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। একদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো যখন মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখছে, ঠিক তখনই তারা আরেকটি উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন বুনছে, যেন ঠিক চার বছর পর, গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর আটকে থাকে ক্যাসাব্লাঙ্কার সবুজ মাঠে।

নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা এখনো খুব কম: হালান্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ে মোটেও নিয়মিত নয়। দীর্ঘ দুই যুগ বা ছয় আসর পর এবার তারা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। লম্বা বিরতির পর সুযোগ পেয়ে রূপকথার মত এক যাত্রা উপহার দিচ্ছে দেশটি। তারা এরই মধ্যে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। নরওয়ের এই রূপকথার চিত্রনাট্য তৈরির নায়ক একজন-আর্লিং হালান্ড। দলটির অধিনায়ক হালান্ড অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

মাটিতে পা রাখছেন হালান্ড

শনিবার মায়ামিতে নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। রূপকথা রচনা করে চললেও ম্যাচের আগে মাটিতে পা রেখে চলেছেন হালান্ড। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে তারা এখনো টিকে আছে ঠিকই তবে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম।

হালান্ড এরপর প্রতিপক্ষের প্রতি সমীহ রেখে যোগ করেন, বিশ্বকাপ জয়ের মতো কয়েকটি দল এখানে রয়েছে। ইংল্যান্ড তাদের মধ্যে অন্যতম। আমাদের ওপর আপনাদের (সাংবাদিকদের) কোনো চাপ সৃষ্টি না করা উচিত নয়, বরং তা ইংল্যান্ডের ওপরই করা উচিত।

হালান্ড আরও বলেন, নরওয়ে যতই ভালো ফুটবল খেলুক, বিশ্বকাপের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের গভীরতায় ইংল্যান্ডই এগিয়ে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বিশেষ কিছু

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি হালান্ডের জন্য বিশেষ কিছু। কেননা ইংল্যান্ডে তার জম্ম। তাছাড়া ক্লাব ফুটবলে তিনি ইংলিশ ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। খেলেন বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। সে সম্পর্কে হালান্ড বলেন, এটি অবশ্যই বিশেষ এক ম্যাচ। আমার জন্য আরও বিশেষ। কারণ আমি ইংল্যান্ডে খেলি। আমার জম্মও ইংল্যান্ডে। সেখানে আমার অনেক সতীর্থ রয়েছে, বন্ধু রয়েছে। তাই ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হবে।

আর্লিং হালান্ড

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি মনে করে হালান্ড বলেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলাটাই আমাদের মতো দলের জন্য অবিশ্বাস্য বিষয় ছিল। তাদের হারিয়ে আমরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবো। এখন আমাদের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা। এটা সত্যিই বিশেষ এক অনুভূতি।

ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় দেশবাসী দারুণ উপভোগ করেছে। সে সম্পর্কে হালান্ড বলেন, নরওয়ের মানুষ যেভাবে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় উপভোগ করেছে তা দেখলে বোঝা যায় আমাদের জন্য এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল অবিশ্বাস্য। কেননা সবকিছুতেই তারা আমাদের থেকে এগিয়ে ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এ জয় ছিল অসাধারণ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে নরওয়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষে।

টিভিতে আজকের খেলা: ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে বেলজিয়াম। উইম্বলডনে আজ ছেলেদের দুটি সেমিফাইনাল।

বিশ্বকাপ ফুটবল: কোয়ার্টার
স্পেন-বেলজিয়াম
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

ক্রিকেট
নারী টেস্ট-১ম দিন

ইংল্যান্ড-ভারত
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১

টেনিস
উইম্বলডন
পুরুষ সেমিফাইনাল
সন্ধ্যা ৬টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

এমবাপ্পে ও দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে উঠে দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পরে উসমান দেম্বেলের আরেকটি গোলে সহজ জয় পায় ফেভারিটরা। আগামী মঙ্গলবার ডালাসে ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের।

ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। প্রথমার্ধেই গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি করে তারা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই বক্সের ভেতর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। ভিএআর (VAR) পরীক্ষার জন্য প্রায় তিন মিনিট অপেক্ষা করার পর শট নেন এমবাপ্পে। তবে তার দুর্বল স্পট-কিকটি সহজেই রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

পেনাল্টি মিস করলেও ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে সেই ভুল পুষিয়ে নেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার এমবাপ্পে। পেনাল্টি বক্সের ঠিক ভেতর থেকে চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল।

এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির (৮ গোল) পাশে বসলেন এমবাপ্পে। তবে অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর দিক থেকে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এই মুহূর্তে ফরাসি ফরোয়ার্ডই শীর্ষে আছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার লড়াইয়েও ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে (২১ গোল) প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে (২০ গোল)।

এমবাপ্পের গোলের ঠিক ছয় মিনিট পর ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে। মরক্কোর রক্ষণভাগকে একা পরাস্ত করে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট নেন ডেম্বেলে। গোলরক্ষক বুনু বলের নাগাল পেলেও গোল আটকাতে পারেননি।

পুরো ম্যাচে মরক্কোকে দাঁড়াতেই দেয়নি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। র‍্যাংকিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা মরক্কো পুরো ম্যাচে মাত্র ৫টি শট নিতে পেরেছে, যার মধ্যে অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র একটি (৮৩ মিনিটে)।

ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে এমবাপ্পেকে তুলে ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জঁ-ফিলিপ মাতেতাকে মাঠে নামানো হয়। মাঠ ছাড়ার সময় এমবাপ্পের ডান গোড়ালিতে বরফ ব্যান্ডেজ দেখা দেওয়ায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও, ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সাথে তাকে উল্লাস করতে দেখে বোঝা গেছে চোটটি গুরুতর নয়।

চলতি বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল ফ্রান্স। আগামী ১৯ জুলাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লড়াইয়ে ফরাসিরাই এখন সবচেয়ে বড় দাবিদার।

হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল: মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশে বড় পরিবর্তন

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে ফ্রান্স ও মরক্কো। এই ম্যাচটি পিএসজি (PSG) তারকাদের এক দারুণ দ্বৈরথও বটে; যেখানে ফ্রান্সের পাঁচ পিএসজি তারকার মুখোমুখি হবেন মরক্কোর অধিনায়ক তথা রক্ষণভাগের প্রধান সেনানি আশরাফ হাকিমি। শেষ আটের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দুই দলেরই ইনজুরি ও একাদশ নিয়ে এসেছে বড় কিছু পরিবর্তন।

ফরাসি শিবিরে বড় চমক: একাদশে দুয়ে, বেঞ্চে বারকোলা

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬-এর জয়ের পর ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম তাঁর একাদশে একটি বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সপ্তাহের শুরুতে ফরাসি গণমাধ্যমগুলো ব্র্যাডলি বারকোলাকে বাঁ-দিকের উইঙ্গে খেলানোর আভাস দিলেও, শেষ মুহূর্তে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ক্যানাল প্লাস’ নিশ্চিত করেছে যে সেখানে আজ শুরুর একাদশে থাকছেন দেজিরে দুয়ে (Desire Doue)।

সুইডেন ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বারকোলা শুরু থেকে খেললেও, আজ হাকিমিকে রুখতে এবং মরক্কোর ডিফেন্স ভাঙতে তরুণ উইঙ্গার দুয়ে-র ওপরই ভরসা রাখছেন দেশম।

এদিকে ইনজুরির কারণে মিডফিল্ডার অরেলিয়ান চুয়ামেনি গতকাল দলের সাথে আংশিক অনুশীলন করলেও আজ শুরুর একাদশে থাকার মতো ফিট নন। ফলে আদ্রিয়েন রাবিওতের সাথে মাঝমাঠ সামলাবেন মানু কোনে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে যথারীতি আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন, ডান উইঙ্গে থাকবেন ওসমানে ডেম্বেলে এবং ১০ নম্বর পজিশনে (অ্যাটাকিং মিডফিল্ড) দেখা যাবে মাইকেল অলিসকে।

ফ্রান্সের সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১): মাইক মাইনিয়ান (গোলরক্ষক); জুলেস কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকাস দিনিয়ে; মানু কোনে, আদ্রিয়েন রাবিওত; ওসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল অলিস, দেজিরে দুয়ে; কিলিয়ান এমবাপ্পে (অধিনায়ক)।

ইনজুরি জর্জরিত মরক্কো: ছিটকে গেলেন সাইবারি

অন্যদিকে মরক্কো শিবিরের জন্য রয়েছে বড় ধাক্কা। দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি নিশ্চিত করেছেন যে, শেষ ১৬-এর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়া দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও স্ট্রাইকার ইসমায়েল সাইবারি এই ম্যাচের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। ফলে আজকের ম্যাচে তিনি থাকছেন না। তাঁর জায়গায় আল আইনের ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমির খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মরক্কোর জন্য সুখবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরছেন সেন্টার ব্যাক শাদি রিয়াদ। যদিও গতকাল অনুশীলনে তাঁর বাঁ-হাঁটুতে ভারী ব্যান্ডেজ দেখা গেছে। যদি তিনি শেষ মুহূর্তে খেলতে না পারেন, তবে তাঁর জায়গায় রেদুয়ান হালহাল মাঠে নামবেন। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ডানদিকের রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি যথারীতি মরক্কোকে নেতৃত্ব দেবেন।

মরক্কোর সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১): ইয়াসিন বুনু (গোলরক্ষক); আশরাফ হাকিমি (অধিনায়ক), দিওপ, শাদি রিয়াদ (অথবা রেদুয়ান হালহাল), নুসাইর মাজরাউই; বুয়াদ্দি, এল আইনাউই; ব্রাহিম দিয়াজ, আজাদ্দিন উনাহি, বিলাল এল খানৌস; সুফিয়ান রাহমি।

টেস্টের পর জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজও হারলো বাংলাদেশ

0

বাংলাদেশকে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

সিরিজ বাঁচানোর সমীকরণে জিম্বাবুয়ের ২৪৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে একপর্যায়ে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয়ের ৬০ এবং তানজিদ হাসান তামিমের ৫৭ রানের ওপর ভর করে একসময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৬৯ রান। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। মাত্র ৬৫ রান তুলতে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

কারানের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি ও ইভান্সের ক্যামিও

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। তবে ওপেনার বেন কারান জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ইনিংসের প্রথম থেকে শেষ ওভার (পুরো ৫০ ওভার) পর্যন্ত ব্যাটিং করার এক অনন্য কীর্তি গড়েন। তিনি ১৪১ বলে ১১১ রানের এক অপরাজিত মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। শেষদিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ব্র্যাডলি ইভান্স। তিনি খেলেন ৫৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস। কারান ও ইভান্সের অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর ভর করেই জিম্বাবুয়ে ২৪৭ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।

এনগারাভার হাত ধরে জিম্বাবুয়ের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

২৪৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই খেই হারিয়ে ফেলে। ৩ উইকেট ১৬৯ রান থেকে স্কোরবোর্ড মুহূর্তেই হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৭৬ রান। এরপর ২১১ রানে ৬ উইকেট থেকে ২২২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। তিনি ৫৫ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। গোধূলির আলোয় যখন ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন মিরাজকে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এনগারাভা। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো হারারে স্টেডিয়াম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ২৪৭/৬ (৫০ ওভার) | কারান ১১১*, ইভান্স ৫৮*; মিরাজ ২/৩২। বাংলাদেশ: ২৩৪/১০ (৪৭.৩ ওভার) | হৃদয় ৬০, তানজিদ ৫৭; এনগারাভা ৩/৫৫। ফল: জিম্বাবুয়ে ১৩ রানে জয়ী এবং ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়।

এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর হারারের ঘাসের গ্যালারিগুলো মেতে ওঠে বুনো উল্লাসে। জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের আনন্দের গান আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। নিশ্চিত খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ও সিরিজ জিতে এক নতুন ইতিহাস গড়ল স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে

হারারেতে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে শুরুতে ধাক্কা সামলেও বেন কারানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করেছে ২৪৭ রান।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। নবম ওভারে আক্রমণে এসে ক্রেগ আরভিনকে বোল্ড করেন নাহিদ রানা। ৯ রান করে ফেরেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। এরপর ৩০ বলে ১৫ রান করে আউট হন ওয়েসলি মাধেভেরে। মাত্র ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে ইনিংস গড়ে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে জিম্বাবুয়ে। রাজা ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হলেও অপর প্রান্তে দৃঢ় ছিলেন কারান। এরপর ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও সপ্তম উইকেটে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন কারান। ১২২ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২৪ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের ছাপ। অন্যদিকে মাত্র ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন ব্র্যাড ইভান্স।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন। এছাড়া নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন। জয় পেতে বাংলাদেশের সামনে এখন ৫০ ওভারে ২৪৮ রান করার চ্যালেঞ্জ। আগের ম্যাচে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হওয়ার স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সই হবে সফরকারীদের মূল প্রত্যাশা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেরা তারকাকে পাচ্ছে না মরক্কো

বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের বাঁচা মরার লড়াইয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে সাইবারিকে পাচ্ছে না মরক্কো। বিষয়টা নিশ্চিত করলেন কোচ ওয়াহ্‌বি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে খেলতে পারবেন না মরক্কোর তারকা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরক্কো অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মোহামেদ ওয়াহ্‌বি। তার চোট গুরুতর নয় এবং টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে ফেরার আশা রয়েছে। গত ৪ জুলাই কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাত্র ২২ মিনিট খেলার পর পায়ে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়েন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে মরক্কো।

আগামী ১০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় বস্টনে কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের আগে সাইবারির চোট নিয়ে কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সর্বশেষ এমআরআই রিপোর্টে জানা যায়, তার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট গুরুতর নয় এবং পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কাও নেই।

তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঝুঁকি নিতে চান না কোচ মোহামেদ ওয়াহ্‌বি। তিনি বলেন,‘সাইবারিকে ছাড়া সবাইকে পাওয়া যাবে। ম্যাচটি তার জন্য একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে। আশা করছি, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে সে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমরা কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই মাঠে নামাব।’

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এছাড়া শেষ বত্রিশে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার সফল শটেই জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। সাইবারির অনুপস্থিতি মরক্কোর আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা হলেও, ফ্রান্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দলটি।