Home Blog Page 148

ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে পারছেন না সাইবারি

বিশ্বকাপ ফুটবলে টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি। স্বপ্নযাত্রার অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন। করেছেন তিন গোল। কিন্তু তাকে নিয়ে হঠাৎ দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই মরক্কোর। ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না মরক্কো। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।

মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বুধবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একটা স্বস্তির বিষয় রয়েছে। সাইবারির চোট খুব একটা গুরুতর নয়। ফলে বিশ্বকাপের বাকি অংশ তার খেলার সম্ভাবনা থাকছে।

কানাডার বিপক্ষে ইনজুরিতে

কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২২ মিনিটের মাথায় অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ম্যাচ শেষে করা পরীক্ষার পর সোমবার এমআরআই রিপোর্টে জানা যায়, হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছে। ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না।

ওয়াহবি বলেন, সাইবারি ছাড়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সবাই প্রস্তুত। এই ম্যাচটি সাইবারির জন্য দ্রুত চলে এসেছে। তবে আশা করছি সে পরবর্তীতে খেলতে পারবে এবং শতভাগ ফিট হয়ে ফিরে আসবে।

সাফল্যের কারিগর ছিলেন সাইবারি

এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও গোলের দেখা পান তিনি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন সাইবারি।

ইসমাইল সাইবারির ইনজুরি নিয়ে উদ্বিগ্ন সতীর্থ খেলোয়াড়রা

নকআউট পর্বেও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন সাইবারি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেননি, তবে টাইব্রেকারে মরক্কোর পক্ষে শেষ শটে লক্ষ্যভেদ করে দলকে শেষ ষোলোতে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কার

বিশ্বকাপে ধারাবাহিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কারও এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন সাইবারি। ১ জুলাই ৫ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন ছেড়ে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে আশরাফ হাকিমির পর মরক্কোর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামের ফুটবলার হয়ে উঠেছেন তিনি।

সাইবারির পরিবর্তে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন সুফিয়ান রহিমি। ফ্রান্সের বিপক্ষেও আক্রমণের দায়িত্ব তার কাঁধেই উঠতে পারে। তবে একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি বড় সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ কোচ ওয়াহবি। তার বিশ্বাস পুরো স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, অনেকদূর যেতে হলে পুরো দলকেই প্রয়োজন। যারা প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না, তারাও জানে শেষ দিকে নেমে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের আছে।

টিভিতে আজকের খেলা: ৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু আজ। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি ফ্রান্স ও মরক্কো। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে আজ।

বিশ্বকাপ ফুটবল: কোয়ার্টার
ফ্রান্স-মরক্কো

রাত ২টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

ক্রিকেট
২য় ওয়ানডে

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
বেলা ১-৩০ মি., নাগরিক ও টি স্পোর্টস

৪র্থ টি-টুয়েন্টি
ইংল্যান্ড-ভারত
রাত ১০-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

টেনিস
উইম্বলডন

নারী সেমিফাইনাল
সন্ধ্যা ৬টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২

ইতালি-ব্রাজিলের পর কি ইতিহাস গড়বে আর্জেন্টিনা?

ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি আছে মাত্র দুটি দলের। প্রথমে ভিতোরিও পোজোর ইতালি, এরপর পেলে-গারিঞ্চার ব্রাজিল। সেই তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগ এখন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলছে লিওনেল স্কালোনির দল। ইতোমধ্যেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আর মাত্র তিনটি জয় পেলেই চতুর্থ বিশ্বকাপের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, এই কাজটি কতটা কঠিন। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। এরপর ১৯৩৮ সালে ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আজ্জুরিরা।

ইতালির সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করে ব্রাজিল। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জেতে সেলেসাওরা। চার বছর পর ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬৪ বছর। বিশ্বফুটবলে বহু পরাশক্তি এসেছে, অনেক দল ফাইনাল খেলেছে, কিন্তু কেউই শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল ফ্রান্স। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল। কিন্তু লুসাইল স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। এর আগে ১৯৯০ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাও ১৯৮৬ সালের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ পেয়েছিল। তবে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।

এবার সেই ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ মেসিদের সামনে। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা যদি আরও তিনটি ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে ইতালি ও ব্রাজিলের পাশে জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজাত এক ক্লাবে।

ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল হবে কৌশলের লড়াই

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল

বিশ্বকাপ ৪৮ দল থেকে নেমে এসেছে ৮ দলে। চরম নাটকীয়তায় শেষ হয়েছে শেষ ষোলর শেষ লড়াই। বিশ্বকাপে স্মার্ট ফুটবল খেলতে থাকা ফ্রান্স রাউন্ড অব ৩২’তে সুইডেনকে ৩-০ এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে প্যারাগুয়ের সাথে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। অপরদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ৩২’তে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ (নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতা) ব্যবধানে এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে। শক্তি ও র‌্যাঙ্কিং এর বিচারে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল হবে কৌশলের লড়াই।

টেকনিক্যাল তুলনাঃ

 তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগে এগিয়ে থাকবে ফ্রান্স, অন্যদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দ্রুত ট্রানজিশনে এগিয়ে মরক্কো। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ ফ্রান্সের জন্য টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ফ্রান্স বনাম মরক্কোর খেলাকে যদি ৬টি বিভাগে ভাগ করে দেখবো কে কোন বিভাগে এগিয়ে রয়েছে।

১. আক্রমন ভাগঃ

আক্রমন ভাগে যদি ফ্রান্স ৫ তারকা পায় তাহলে মরক্কো পাাবে ৪ তারকা তাহলে আক্রমন ভাগে ফ্রান্স এগিয়ে থাকছে।

২. মাঝ মাঠেঃ

মাঝ মাঠে ফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আবার মরক্কোও পাবে ৪ তারকা তাহলে এই বিভাগে উভয় দল সমান অবস্থানে থাকবে।

৩. রক্ষন ভাগঃ এই বিভাগেফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আর মরক্কো পাবে ৫ তারকা তাহলে রক্ষণভাগে মরক্কো এগিয়ে থাকবে।

৪.কাউন্টার অ্যাটাকঃ এই বিভাগেফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আর মরক্কো পাবে ৫ তারকা অতএব কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কো এগিয়ে থাকছে।

৫. স্কোয়াড গভীরতাঃ এ খানে ফ্রান্স ৫ তারকা নিয়ে এগিয়ে থাকবে মরক্কোর ৪ তারকার তুলনায়।

৬. বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাঃ এই বিভাগে ফ্রান্স ৫ তারকা নিয়ে এগিয়ে থাকবে তার বিপরীতে মরক্কো ৪ তারকা তার মানে এখানেও ফ্রান্স এগিয়ে থাকবে। 

উপরের ৬ বিভাগের মধ্যে ফ্রান্সকে দেখতে পাচ্ছি ১, ৫ এবং ৬ নম্বর এই ৩টি বিভাগে এগিয়ে রয়েছে অপরদিকে মরক্কো ৩ এবং ৪ নম্বর বিভাগে এগিয়ে থাকছে। অন্যদিকে ২ নম্বর বিভাগে উভয় দলই সমান অবস্থানে রয়েছে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখতে হবে।

 ফ্রান্সের শক্তিঃ কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের কারণে ফ্রান্সের উইং আক্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। আবার যেমন আক্রমনে বৈচিত্র-উইং, কাট-ইন, থ্রু বল এবং লংশট বেশ চমৎকার। আবার সাইড বেঞ্চ অনেক শক্তিশালী যা ম্যাচের শেষ ভাগেও আক্রমনের গতি ধরে রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ধারাবাহিক জয়ে তারা আত্নবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে যা ম্যাচে টনিক হিসেবে কাজ করবে।

মরক্কোর শক্তিঃ মরক্কোকে বলা হয়বিশ্বের অন্যতম সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ ইউনিট। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত রক্ষণে ফিরে যেতে পারে। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির ওভারল্যাপ উইং থেকে আক্রমণ বড় ভুকিমা রাখেতে পারে, তাছাড়া মিডফিল্ডে বল দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে পারে, যার প্রমান মরক্কো দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে।

মূল দ্বৈরথঃ এমবাপ্পে বনাম হাকিমির মধ্যে সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লড়াইটা হতে পারে। ফ্রান্সের উইং আক্রমণ বনাম মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাগ। মরক্কো যদি মাঝমাঠে ফ্রান্সের গতি কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে ম্যাচ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

সম্ভাব্য কৌশলঃ

ফ্রান্সের ফরমেশনঃ ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১। তাছাড়া দ্রুত উইং পরিবর্তন এবং এমবাপ্পেকে স্পেসে বল দেওয়া এবং শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং ফ্রান্সের আক্রমনের অনন্য দিক।  

মরক্কোর ফরমেশনঃ ৪-১-৪-১ এবং ৪-৩-৩ তবে ১ম ফরমেশনের সাথে ফ্রান্সের ২য় ফরমেশন মিলে যেতে পারে। তাছাড়া মরক্কো নিচু ব্লকে ডিফেন্ড করে দ্রুত কাউন্টারে যেতে পারে আবার সেট পিস থেকে গোলের সুযোগের অপেক্ষাতেও থাকে।  

কাগজে–কলমে কে এগিয়ে?

 ফ্রান্স তাদের আক্রমণের গভীরতা, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের মানে একটু এগিয়ে থাকবে তবে মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত ট্রানজিশনের কারণে একেবারেই একপেশে সুযোগ পাবে না ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল যে ফ্রান্সের প্রথম বড় পরীক্ষা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর যদি এটলাস লায়ন্সরা সুযোগের সৎব্যাবহার করে এগিয়ে যা তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মরক্কো যদি প্রথমে গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। আবার যদি ফ্রান্স আগে এগিয়ে যায়, তাদের আক্রমণভাগের মান বিবেচনায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফ্রান্সের কাছেও চলে যেতে পারে। তবে আমার মনে হয় ১০ জুলাই রাত ২টায় ফুটবল প্রেমীরা একটা ক্লাসিক্যাল লড়াই দেখতে যাচ্ছে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে।

‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি’ হোসে মরিনহো

বিশ্বকাপে মিসরের গোল বাতিল নিয়ে মরিনহোর ক্ষোভ, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি’। মিসরের বাতিল হওয়া গোল, ভিএআর বিতর্ক এবং হোসে মরিনহোর মন্তব্য ঘিরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আলোচনা এখনও থামেনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে চলছে তীব্র বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কে সরব হয়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি কোচ হোসে মরিনহো।

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকো দুর্দান্ত এক গোল করে মিসরকে সমতায় ফেরানোর আশা জাগান। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি গোলটি বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের বিল্ডআপে মারওয়ান আত্তিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সংঘর্ষকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপরই গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে মরিনহো বলেন, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি। যদি ফাউলই হয়ে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামানো উচিত ছিল। গোল হওয়ার পর আবার ফিরে গিয়ে সেটি বাতিল করা ফুটবলের জন্য ভালো বার্তা নয়।”

শুধু এই একটি সিদ্ধান্ত নয়, পুরো ম্যাচে ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মরিনহো। তাঁর দাবি, আর্জেন্টিনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত খুঁটিয়ে দেখা হলেও মিসরের ক্ষেত্রে একই ধরনের মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, ‘আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে শুধু মাঠের ১১ জন ফুটবলার নয়, বাঁশি ও ভিএআরকেও হারাতে হয়।’

তবে মরিনহোর সঙ্গে একমত নন সবাই। ব্রাজিলের সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি ও বিশ্লেষক পিসি অলিভেইরার মতে, গোলের আগে মারওয়ান আত্তিয়ার ফাউল ছিল স্পষ্ট। তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং গোল বাতিল-দুটিই ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত।

শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে মিসরের বাতিল হওয়া গোল, ভিএআর বিতর্ক এবং মরিনহোর কঠোর মন্তব্যই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মেসির হাসি, সালাহর বিদায়!

আর্জেন্টিনা-মিসর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াই।

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে যতটা না প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ তার চেয়ে বেশী আলোচনা-সমালোচনা হল ফাউল দেয়া ও না দেয়ার নিয়ে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে মিসর তীব্র আপত্তি তুলেছে রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে। মিসর কোচ হোসাম হাসানের দাবি ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকো যে গোলটি করেছিরেন তা অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে, এবং আর্জেন্টিনা জয় সূচক গোল করার আগে ফাউল হলেও তা আমলে নেয়নি রেফারি। তবে এই দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঘাম ঝরানো আর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মেসির হাসি, সালাহর বিদায়!

ম্যাচ শেষে মিসর কোচ বলেছেন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিসরের প্রতি অবিছার করা হয়েছে। আবার রেফারিকে ‘জালিম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মিসর ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো যার একটি গোল বাতিল করেছিল ভিএআর দেখে।

ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষনঃ মিসরের গোল বাতিল আর আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এক যুগের বেশি সময় রেফারিং করা ও ভিএআর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস।

রেফরি ডেভিসের ব্যাখ্যাঃ

৬২তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো একটি গোল করেন সেই গোলে মিসর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন। ভিএআরের মতে, আত্তিয়া একই সময়ে মার্তিনেজের জার্সি ধরে টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিডিও দেখার পর ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সঙ্গে একমত হন এবং গোল বাতিল করেন। ঘটনাটি বক্সের বেশ বাইরে মিসরের অর্ধে ঘটেছিল বলে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু নিয়ম হলে একই আক্রমণ পর্বে যদি কোনো ফাউলের সরাসরি পরিণতিতে গোল হয়, তাহলে সেই গোল বাতিল করতে হয়। রেফারিকে যখন একসঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা রাখার দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাঁর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত (গোল) বহাল রাখা সম্ভব ছিল না।

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে রেফারি ফাউল দেয়নি: খেলার শেষের দিকে মিসর ২টি আলাদা ঘটনায় ফাউলের আবেদন করে যার একটি ঘটে যোগ করা সময়ের ২য় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে। দুটি ঘটনা আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ছিল।

প্রথম ঘটনা: আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। এরপর ফাতি মাটিতে পড়ে যান। তবে রেফারি কোনো ফাউল দেননি।

২য় ঘটনা: খেলার শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন তিনি যখন আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে যান তখন হুলিয়ান আলভারেস তাঁকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যঃ

প্রথম ঘটনায় দেখা যায় মিসরের মারওয়ান আত্তিয়া ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। কিন্তু সালাহর ঘটনায় দুজনের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা দুই খেলোয়াড়ের সমান গতি । তাই দুটি ঘটনা এক নয়।

সারসংক্ষেপঃ
১. মিশরের বাতিল হওয়া VAR গোল খেলার ৬২ মিনিটে।

২. মিশরের দাবিকৃত পেনাল্টি VAR-এ না দেখা। খেলার শেষের দিকে মোহাম্মদ সালাহর সাথে।  

এই ২টি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ম্যাচের পর বিশ্বজুড়ে সমর্থক, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক হতে দেখা যায়।  

২৩ বছর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় উইন্ডিজের

দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ড্র হলেও প্রথম ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের পঞ্চম দিনে লাঞ্চ বিরতির পর ৯ উইকেটে ২৫১ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসের ৫০ রানের লিড যোগ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০২ রান। তবে জয়ের ঝুঁকি না নিয়ে স্বাগতিকরা নিরাপদ ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেয়। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ ওভারে ১০৯ রান যোগ করলে ম্যাচটি ড্রয়ে শেষ হয়। বৃষ্টির কারণে মাঝখানে কিছু সময় খেলাও বন্ধ ছিল।

ক্যাম্পবেল ১১৩ বলে ৫১ এবং কিং ১২৯ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলে কোনো উইকেট না হারিয়েই ড্র নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এর আগে দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ৯২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪ রান করার পর আউট হলেও দিনেশ চান্দিমাল দারুণ ব্যাটিং করেন। ১০৭ বলে ৭১ রানের ইনিংসে চারটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন তিনি। অধিনায়ক ধানাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৪ এবং সোনাল দিনুশা ২৮ রান করে দ্রুত লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে মিলান রাথ্নায়াকা ২০ রানে পৌঁছানোর পর ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা।

এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ব্রায়ান লারার নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। এরপর দুই দলের মধ্যকার সাতটি সিরিজের তিনটিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা, আর চারটি সিরিজ ড্র হয়।

এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও কোনো টেস্ট সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। এরপর টানা ১০ সিরিজের মধ্যে ছয়টিতে পরাজয়ের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল দলটির।

প্রথম টেস্টে কঠিন পরিস্থিতিতে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রেভস পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

 সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৫৪৯/৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৪৯৯/১০

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ৪৯ ওভারে ২৫১/৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩০২) ৪০ ওভারে ১০৯/০

ফল: ম্যাচ ড্র

সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ১-০ তে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি মিশরে

বাঁচা মরার ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি মিশরের, বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের আবেদন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সংস্থাটির সভাপতি হানি আবো রিদা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা রেফারি ও অন্যান্য ম্যাচ অফিসিয়ালদের টুর্নামেন্টের বাকি অংশ থেকে বহিষ্কারের আবেদনও করেছেন।

৭ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ফলে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মাঠে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি হলুদ কার্ডও দেখেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ম্যাচের কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং ফরাসি রেফারি ফঁসোয়া লুতেক্সিয়েরের ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা। অন্যদিকে, কোয়ার্টার-ফাইনালে মিশরের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রথমটি, ভিএআরের হস্তক্ষেপে আগের একটি ফাউলের কারণে মিশরের একটি গোল বাতিল করা। দ্বিতীয়টি, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মিশরের খেলোয়াড়ের ওপর ফাউলের অভিযোগ উঠলেও সেটি ভিএআরে পর্যালোচনা না করা। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এই দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, মিশরের আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটি আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

দেখে নিন কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার মুখোমুখি

জমে উঠেছে বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে টিকে রইল ৮। নানা নাটকীয়তা, স্বপ্নভঙ্গ ও বিতর্ক শেষে বিশ্বকাপ এখন শেষ ভাগে এসে পৌঁছেছে। শেষ ষোলোয় সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা দেখা গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচে।

মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে এই ম্যাচের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মিশরের বাতিল হওয়া একটি গোল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ তুলে রেফারি ও ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেছে সালাহর মিসর। এছাড়া ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলতে আসা স্পেনও উঠেছে কোয়ার্টারে ফাইনালে।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে বেলজিয়াম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে।

বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সও। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে সহজেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে ২০২২ সালের রানার্সআপরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা আফ্রিকার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে।

মরক্কো শেষ আটে উঠেছে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। এছাড়া ইংল্যান্ডের কোয়ার্টারে উঠতে লড়াই-ই করতে হয়েছে। টুর্নামেন্টের সহ–আয়োজক মেক্সিকোকে ৩–২ গোলে হারিয়ে হ্যারি কেইনরা এখন শেষ আটে।

সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেওয়া নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে নরওয়ে হারিয়েছে ২-১ গোলে। শেষ ষোলোর সবচেয়ে নিষ্প্রাণ ম্যাচটি ছিল কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের।

ম্যাচের ১২০ মিনিটেও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের সেই লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে উঠেছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই

ফ্রান্স বনাম মরক্কো

বাংলাদেশ সময় রাত ২টা

ভেন্যু: জিলেট স্টেডিয়াম, ফক্সবরো, ম্যাসাচুসেটস

শুক্রবার, ১০ জুলাই

স্পেন বনাম বেলজিয়াম

বাংলাদেশ সময় রাত ১টা

ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম, ইনগলউড, ক্যালিফোর্নিয়া

শনিবার, ১১ জুলাই

নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড

বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা

ভেন্যু: হার্ড রক স্টেডিয়াম, মায়ামি গার্ডেনস

রোববার, ১২ জুলাই

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড

বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা

ভেন্যু: অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, কানসাস সিটি

পেনাল্টি মিসের লজ্জার রেকর্ড মেসির

বিশ্বকাপ ফুটবলের চলমান আসর যেন লিওনেল মেসিকে দু’হাত উজাড় করে দিয়ে চলেছে। গোল করছেন, করাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই একের পর এক গোল করে বিষ্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন। কখনো নিজের রেকর্ড ভাঙ্গছেন, কখনো তা সমৃদ্ধ করছেন, আবার কখনো নিজের গড়া রেকর্ডকে ধরাঁছোয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার রেকর্ড গড়ছেন লজ্জার।

এবারের বিশ্বকাপে মেসি এমন এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন তা আর কারো নেই। পেনাল্টি থেকে গোল করার ব্যর্থতার রেকর্ড। একই ভুল বারবার করছেন মেসি। মিসরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ম্যাচের ২১ মিনিটের সময় নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিসরের ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্বাভাবিকভাবেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান অধিনায়ক মেসি। কিন্তু জঘন্য এক শট মারেন বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা। গোলরক্ষকের বাম দিক দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন তিনি। কোনো দুর্ভেদ্য শট ছিল না। ফলে মিসরের গোলরক্ষক মুস্তাফা বোশ সহজেই তা ফিরিয়ে দেন।

শেষ হতে পারতো মেসিদের বিশ্বকাপ

মেসির এই ব্যর্থতায় শেষ হয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। যে গোল দিয়ে তারা সমতায় ফিরতে পারতো, মেসির ব্যর্থতা মিসরকে আরো উজ্জ্বীবিত করে দেয়। তার সুফলও তারা ঘরে তোলে। দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। সে সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে তোলে।

পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ মেসি

মেসি এবারের বিশ্বকাপে এবার নিয়ে দুইবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেবারও একই অবস্থা। গোলরক্ষকের বাম দিক থেকে মারতে গিয়ে বাইরে পাঠান বল। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের লজ্জাটা ঘানার অসমো গিয়ানের সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন। এবার এক আসরে দুই পেনাল্টি নষ্ট করে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপে চার পেনাল্টি নষ্টের রেকর্ড আর কারো নেই।

প্রথম ব্যর্থতা ২০১৮ বিশ্বকাপে

বিশ্বকাপে মেসি প্রথমবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ২০১৮ সালে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যর্থ হন। তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালের ব্যর্থতার সঙ্গে এবারের ব্যর্থতা ভিন্ন। ওই দুই আসরে মেসিকে লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন। এবার পেনাল্টি মিস করলেও পরে ঠিকই গোলের দেখা পেয়েছেন। দলও জয় পেয়েছে। যা তার পেনাল্টি মিসের দুঃখকে কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পেনাল্টি মিসের রেকর্ড ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।