Home Blog Page 147

ফ্রান্স ম্যাচের আগে মরক্কো শিবিরে দুশ্চিন্তা, চোটে অনিশ্চিত সাইবারি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল মরক্কো। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় তার খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নকআউট পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই খবর স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মরক্কো শিবিরকে।

রাউন্ড অব ১৬-এ কানাডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পান সাইবারি। ম্যাচ চলাকালীন হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করার পর আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। মরক্কো শিবিরের প্রাথমিক ধারণা, এটি হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেন বা পেশির টান। তবে এখন পর্যন্ত চোটের প্রকৃত অবস্থা বা কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা চলছে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় কি না, সেটিই এখন দেখছে দলটির মেডিকেল স্টাফ। ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেই তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সাইবারির সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং ও সুযোগ তৈরির দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিয়মিত চাপে রেখেছেন এই উইঙ্গার। তাই ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাকে না পেলে মরক্কোর আক্রমণভাগে প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তবে সেই লড়াইয়ে সাইবারি খেলতে পারবেন কি না, সেটিই এখন মরক্কো শিবিরের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে ফিরে পাওয়ার আশাতেই অপেক্ষা করছেন।

মিশরের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচকে সামনে রেখে শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলের অনুশীলন ও আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মিডফিল্ড, রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন যে, একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন থাকবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে মিডফিল্ডে। দীর্ঘদিন পর শুরুর একাদশে ফিরছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাঁর ফেরায় জায়গা হারাতে পারেন থিয়াগো আলমাদা, যিনি আগের ম্যাচে একাদশে ছিলেন।

রক্ষণভাগেও আসছে পরিবর্তন। চোট কাটিয়ে বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো আবারও প্রথম একাদশে ফিরছেন। আগের ম্যাচে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফাকুন্দো মেদিনাকে। ফলে তাঁর পরিবর্তে শুরু থেকেই খেলতে পারেন তাগলিয়াফিকো।

আক্রমণভাগেও বদলের আভাস মিলেছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে এবার শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে শুরুর একাদশে থাকা মার্তিনেজকে এবার বেঞ্চে বসতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলভারেজের গতি ও প্রেসিং ক্ষমতাকে কাজে লাগাতেই এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন স্কালোনি।

অনুশীলনে স্কালোনি মিডফিল্ডে রদ্রিগো দি পলর জায়গায় নিকো গঞ্জালেজকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই এই পরিবর্তন দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালেজকে মাঠে নামানো হতে পারে।

আর্জেন্টিনার একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিসরের বিপক্ষে প্রথম একাদশে নিশ্চিতভাবেই দেখা যেতে পারে পারেদেস, তাগলিয়াফিকো ও আলভারেজকে। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির কৌশল মাঠে কতটা সফল হয় এবং জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না।

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপ, লাল কার্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল বিতর্ক।

বিশ্বকাপ লাল কার্ড ট্রাম্প বিতর্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক যেন থামছেই না। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষের বালোগান সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা যা বেলজিয়ামের বিপক্ষে। বাঁচা মরার লড়াইয়ের ম্যাচে বালোগান খেলতে পারবেন না এমন খবর চাউর হলে নড়ে চড়ে বসেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেলজিয়াম ম্যাচ সামনে রেখে ফিফা সভাপতির কাছে ট্রাম্প ফোনে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করলে ফিফা নীতি পরিবর্তন করে বালোগানকে খেলার অনুমতি দেন যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠে “বিশ্বকাপ, লাল কার্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল বিতর্ক” নিয়ে।

ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ফোন করে বসেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে। আর তাতেই লাল কার্ডের শান্তি কমে যায় বালোগানের। খেলতে নামেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে। যদিও বালোগানে ভর করে বেলজিয়াম বাধা অতিক্রম করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতে থেমে নেই নেটিজেনদের সমালোচনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ড বলেন, “আমি কেবল সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ আমার মনে হয়নি ওটা কোন ফাউল ছিল। দুজন অ্যাথলেট পূর্ণ গতিতে দৌড়ানোর সময় একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে জড়িয়ে পড়েছিল মাত্র” তিনি আরো বলেন আমি ফিফাকে চাপ দেয়নি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যকার কথোপকথনে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিয়মের এমন নজিরবিহীন পরিবর্তনে বিশ্বকাপে কি কলঙ্ক লেপে দিলে? ফিফার এই আকস্মিক নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্তে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে অপরদিকে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক ফোনের মাধ্যমে ফুটবলের লাল কার্ড বা নিষেধাজ্ঞা এভাবে বাতিল হওয়া ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতাকেই শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আফগান সাবেক ক্রিকেটার শাপুর জাদরান আর নেই

0

দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা গেলেন আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান। আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম পরিচিত মুখ শাপুর জাদরান আর নেই। বিরল রোগে দীর্ঘদিন ভোগার পর মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন।

দীর্ঘদিন বিরল রোগ হেমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ)-এ ভুগছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান। ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এইচএলএইচ একটি বিরল রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরই আক্রমণ চালায়। এতে লিভার, প্লীহা ও অস্থিমজ্জাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জাদরানের। দেশের হয়ে তিনি ৪৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৩৬টি টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দুই সংস্করণ মিলিয়ে তার উইকেট ৮০টি।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শাপুর জাদরানের ব্যাট থেকে আসে জয়সূচক রান। সেই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় আফগানিস্তান। দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এখনো সেই ম্যাচের কথা মনে করা হয়।

জাদরানের মৃত্যুতে আফগানিস্তান ক্রিকেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, কর্মকর্তা এবং সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আফগান ক্রিকেটের পথচলার শুরুর সময়ের অন্যতম এই পেসারের অবদান দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী গালি, প্যারাগুয়ের সংসদ সদস্যের মন্তব্যে সরকারের নিন্দা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্যারাগুয়ের বিরোধী দলের সিনেটর সেলেস্তে আমারিল্লা। তাঁর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্যারাগুয়ে সরকার। একই সঙ্গে ফ্রান্স সরকার, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও এ ঘটনার নিন্দা করেছেন।

প্যারাগুয়ের প্রধান বিরোধী দল লিবারেল পার্টির সদস্য সেলেস্তে আমারিল্লা এমবাপ্পেকে ‘ঔপনিবেশিক ক্যামেরুনিয়ান’বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এমবাপ্পে নিজেকে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘অহংকারী’ ‘তিক্ত’ও ‘কুৎসিত’ বলে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি ম্যাচে এমবাপ্পে ‘মৃত্যুভয়ে ভীত’ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনার পর প্যারাগুয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সিনেটরের বক্তব্য দেশটির শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবমর্যাদার নীতির পরিপন্থী। সরকার স্পষ্ট করে জানায়, এই মন্তব্য কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে রাষ্ট্র বা দেশটির জনগণের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘মিসেস সেলেস্তে আমারিল্লা, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদের যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই পুরো টুর্নামেন্টে প্যারাগুয়ে আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছে।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এমবাপ্পের প্রতি হওয়া এই বর্ণবাদী আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ফরাসি দলের অধিনায়কের পাশে পুরো দেশ রয়েছে। এলিসি প্যালেস থেকেও জানানো হয়, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্স সবসময় কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে বলেন, পুরো ফুটবল বিশ্ব এমবাপ্পের পাশে রয়েছে। তিনি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান।

আত্মবিশ্বাসী মিশর ইতিহাস গড়তে চায়

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসী মিশর। দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান জানিয়েছেন, লিওনেল স্কালোনির দলকে যথেষ্ট সম্মান করলেও তারা আর্জেন্টিনাকে ভয় পান না। বরং শেষ ষোলোর ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনাও সমানভাবে দেখছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় ৭ জুলাই রাত ১০টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

মিশরের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হোসাম হাসান ১৯৯০ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৯ গোলের মালিক তিনি। এক গোল কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বর্তমান অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ।

এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দলটি। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামতে চান কোচ হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে অনেক কিছু অর্জন করেছি। কোচ হিসেবে আরও বেশি কিছু অর্জন করতে পারলে আমি খুশি হব। আমাদের লক্ষ্য জাতীয় দলকে নিয়ে মিশরীয়দের গর্বিত করা এবং সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা নিয়েও বাস্তববাদী মন্তব্য করেন মিশর কোচ। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে স্কালোনির দল। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসিদের দলকে অন্যতম সেরা বলেই স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘিরে ভীত নন হাসান। তার ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা দারুণ একটি দল এবং তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমরা জানি কোনো দলের জন্যই সহজ ম্যাচ হবে না। আমরা আর্জেন্টিনাকে সম্মান করি, কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’

এখন দেখার বিষয়, আত্মবিশ্বাসী মিশর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চমক দেখাতে পারে কি না। অন্যদিকে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে শিরোপা ধরে রাখার মিশন এগিয়ে নিতে চাইবে স্কালোনির দল।

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিশ্বকাপ যখন বিদায় মঞ্চ

অনেক সঙ্কার পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়েছিল নেইমার জুনিয়রের, শুরুতে নিয়মিত দলে না থাকলেও গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে ভালই খেলছিলেন। রাউন্ড অব সিক্সটিনের বাঁচা মরার লড়াইায়ে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলেন গোল করলেন কিন্তু ব্রাজিল হেরে গেল। শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের এমন বিদায়ের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমার। নেইমারের ক্যারিয়ার যেমন ছিল জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভরা তেমনই আবার ইনজুরি ও নাটকীয়তায় মোড়ানো ছিল অনেকটা সময়। বিশ্বকাপ শেষের দিকে দুজন খেলোয়াড়ের বিদায় বেলায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মনের গহীনে আর তা হল; নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

বিদায় বেলায় সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলের আন্তর্জাতিক ৭৭ গোলকে পেছনে ফেলে নেইমার ১৩১ ম্যাচে ৮১ গোলের রেকর্ড ঝুলিতে ভরেছেন। গতি, ড্রিবলিং, স্কিল এবং ক্রিয়েটিভিটির জন্য নেইমারকে রোনালদিনহো ও পেলের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করা হতো কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ব্রাজিলের জার্সিতে নিঃসন্দেহে তার ফুটবলীয় অবদান তাকে অবশ্যই ইতিহাসের অন্যতম সেরাদের কাতারে রাখবে।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প গাঁথায় ভরা। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং, কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিকতা তাকে ফুটবলের রেকর্ড চূড়ায় নিয়ে গেছে। ২৩২ ম্যাচে ১৪৬ গোল আর ৫টি ব্যালন ডি অর, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা দেশকে উপহার দিলেও বিশ্বকাপ যেন অধরা ছিল রোনালদোর কাছে আর এই আক্ষেপ নিয়ে নিজের ৬ষ্ট বিশ্বকাপটা রাঙ্গিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলের সকল রেকর্ড পুর্ণ হলেও শুধু বিশ্বকাপটাই অধরা ছিল কিন্তু বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে ওঠার ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো হার মানলেন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাট চুকিয়ে বিদায় বললেন ফুটবলকে। আসলে রোনালদো না যতটা পর্তুগালের তারকা তার চেয়ে বেশী যেন বিশ্ব ফুটবলের তারকা তাইতো বিদায় বেলায় শুধু তার চোখেই পানি ছিলনা বিশ্বময় অনেক ভক্ত সমর্থকরাও কেঁদেছে তার জন্য।

নেইমারের পর রোনালদো তবে কি বিশ্বকাপ শেষে মেসিও!

নতুন অভিযানে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে? এই প্রশ্নে যে নাম দুটি প্রথমে আসবে তা হল পেলে এবং ম্যারাডোনা আর তার পরেই আসবে লিওনেল মেসি। আপাতত উত্তরটা কি হবে তা আপাতত থাক, এবার মেসিকে নিয়ে না হয় কিছু অনুমান করা যাক, না তাকে নিয়ে তো অনুমান করলে তিনি আবার ভুল প্রমাণ করেন, রোনালদোর মতই ক্লাব ফুটবলের সকল অর্জন পুর্ণ করলেও শুধু বিশ্বকাপের স্বপ্নটাই ছিল তার কাছে আকাশের চাঁদ তবে সেই স্বপ্ন ২০২২ সালে পুরণ করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন গুঞ্জন উটেছিল বিদায়ের, এবার মনে হয় মেসি বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে কিন্তু না থেমে যাননি, অবসরের বিষয়টা মেসি পরিস্কার করে বলেননি আবার জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলবেন এটাও পরিস্কার না করে খেলা চালিয়ে যাওয়া মেসি যেন নিজের দিকে তাকিয়েছেন আর ভেবেছেন আর কত? কিন্ত যার মধ্যে ফুটবলের অনন্ত ক্ষুধা লুকায়িত তিনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেননি তাকে কোথায় থামতে হবে এ যেন স্কালোনি-মেসি জুটির অপুর্ব মেলবন্ধন যা মেসিকে নিয়ে এলো আরেকটা বিশ্বকাপের মঞ্চে।

মেসি ক্যারিয়ারের ৮টি ব্যালন ডি অর, ২টি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়, ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ট্রফি জয়ী খেলোয়াড় আর চলমান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০টি গোলদাতা মেসি কি তবে এবার নেইমার, রোনালদোর মত বিশ্বকাপটা শেষ করে বিদায় বলবেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে? আসলে রেকর্ড দিয়ে মাপা যায় নিদিষ্ট মাপের কিছু খেরোয়াড়কে কিন্তু কোন খেলোয়াড় যখন আকাশের মত বিশাল হয়ে যান তখন তাকে মাপার সাধ্য আর রেকর্ডের থাকেনা, মেসি হলেন সেই রকম ফুটবলের মহীরুহ যাকে দেখতে হয় শুধুই আকাশের দিকে তাকিয়ে। তাই এখন শুধুই অপেক্ষার পালা কবে কখন থামবেন ফুটবল ইতিহাসের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মহাকাব্যিক লিওনেল মেসি!

মেসি-সালাহ মহারণের রাত, শেষ আটে জায়গা পাবে কে?

বিশ্বকাপ থেকে ইতোমধ্যেই বিদায় নিয়েছে নেইমারের ব্রাজিল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। দুই মহাতারকার চোখের জলের বিদায়ের পর এবার আরও একটি তারকাখচিত দলের স্বপ্ন ভাঙার অপেক্ষা। শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও মোহাম্মদ সালাহর মিশর। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের পর এক দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হবে। অন্য দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার-ফাইনাল।

বিশ্বকাপে আরও একটি হৃদয় ভাঙার রাত আজ। রোনালদো ও নেইমারের বিদায়ের পর বিশ্বকাপে আরেক মহাতারকার স্বপ্ন শেষ হওয়ার অপেক্ষা। মেসি নাকি সালাহ-আজকের রাতেই মিলবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত উত্তর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টার মাঠে শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও মোহাম্মদ সালাহর মিশর। দুই দলই জয়ের জন্য মাঠে নামতে চায়।

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল আর্জেন্টিনা। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে মিশরও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।

শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়লেও কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় সালাহর মিশর।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান অবশ্য স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার পক্ষে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা জিতেছে তিনটি ম্যাচ, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মিশর এখনো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। গোলের হিসাবেও এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্টরা।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার নান্দনিক ফুটবল ও গোল করার ক্ষমতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অন্যদিকে মিশরের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র মোহাম্মদ সালাহ। তার গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

সম্ভাব্য একাদশে আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গে তরুণ ফরোয়ার্ডদের ওপর আস্থা রাখবে। মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও গতি মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে সালাহকে কেন্দ্র করেই পাল্টা আক্রমণের কৌশল সাজাবে মিশর। রক্ষণে শক্তি বাড়িয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা রাখবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ব্রাজিল-পর্তুগালের বিদায়ের পর স্কালোনির ঘুম হারাম!

বিশ্বকাপে এবার আর কোনো দলকে আলাদা করে ফেভারিট বলতে পারছেন না লিওনেল স্কালোনি। ঐতিহ্যবাহী বা শক্তিশালী দলগুলোকেও প্রতিটি ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করেন আর্জেন্টিনা কোচ।

ডালাসে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই ভীষণ কঠিন। এখানে আর কোনো স্পষ্ট ফেভারিট নেই।’

গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও নকআউটের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে বড় ধাক্কা খেতে বসেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, অন্য বড় দলগুলোর অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট রানার্সআপ ফ্রান্স শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছে পেনাল্টিতে পাওয়া গোলে।

পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের জয় এসেছে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে। পরপর দুই দিন হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগাল। এর আগে রাউন্ড অব ৩২ থেকে ফিরেছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস।

প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে তো গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। এসব উদাহরণ টেনে স্কালোনি বলেন, এবার কোনো ফেভারিট দল নেই।

“বিশ্বকাপে আগে যেমন আমরা দেখতাম… কোনো জাতীয় দলকেই এবার স্পষ্ট ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। আগের আসরগুলোর তুলনায় এবার পরিস্থিতিও অনেক ভিন্ন।”

‘চার-পাঁচটি দলকে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে ধরা হলেও, তারা এখনও বিশ্বকাপের আগে আমরা যে ধরনের ফুটবল প্রত্যাশা করি, সেই মানের পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।’

‘খেলোয়াড়দের এরই মধ্যে অনেক ম্যাচের ধকল জমে গেছে। তাই হয়তো আমরা যে মানের ফুটবল দেখতে অভ্যস্ত, সেটা দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ভ্রমণ, গরম আবহাওয়া, মাঠের অবস্থা, ঘাস- সব মিলিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তবে নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্কালোনি। ‘আমাদের পারফরম্যান্স গ্রহণযোগ্য। আমরা চারটি ম্যাচই জিতেছি, এটিই সন্তুষ্ট হওয়ার মতো বিষয়। তবে জিতলেও উন্নতির সুযোগ সব সময় থাকে।’

নতুন দিনের আশায় কিংবদন্তি রোনালদো

নতুন দিনের আশায় কিংবদন্তি রোনালদো। বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা চোখে নিয়েই বিদায় নিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে অনেকক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও প্রতিপক্ষের সান্ত্বনা সত্ত্বেও চোখের জল লুকাতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তবে হতাশার মাঝেও তিনি জানিয়েছেন, একজন ফুটবলারের জীবন কখনোই থেমে থাকে না—নতুন দিনের আশায় সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘এভাবেই বিশ্বকাপ ছাড়াটা অবশ্যই কষ্টের। কিন্তু আমি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং স্বচ্ছ বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, এটাই একজন ফুটবলারের জীবন। জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়েই জীবন এগিয়ে চলে।’

এই বিশ্বকাপেই ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো। দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করে সবচেয়ে বেশি বয়সে নকআউটে গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে লেখান। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে নতুন সংযোজন হলেও অধরা থেকে গেল বিশ্বকাপ ট্রফি।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই রোনালদো নিশ্চিত করেছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। তার ভাষায়, ‘এখনও পরিবার ও নিজের সঙ্গে কথা বলার সময় আছে। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় আছে।”

ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো ফাইনালে ওঠা হয়নি রোনালদোর। অভিষেক বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলাই ছিল তার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর তিনবার বিদায় নিতে হয়েছে শেষ ষোলো থেকে, একবার কোয়ার্টার-ফাইনাল এবং একবার গ্রুপ পর্ব থেকেই।

তবে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও জাতীয় দলের হয়ে অর্জন নিয়ে গর্বিত রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমার আগে পর্তুগাল কোনো বড় শিরোপা জেতেনি। আমি দেশের হয়ে তিনটি ট্রফি জিতেছি। বিশেষ করে ২০১৬ ইউরো শিরোপা আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই মূল্যবান।’

বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে আরও এক মৌসুমের চুক্তিতে আছেন রোনালদো। ক্লাব ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে তার শেষ কথায় স্পষ্ট ছিল আশাবাদ-আগামীকাল একটি নতুন দিন আসবে, আর জীবন চলতেই থাকবে।’