Home Blog Page 70

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাবরদের

0

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার সিরিজ জয়ের পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। অন্যদিকে প্রথম টেস্টে ৯০ রানে হারের পর সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া পাকিস্তান। দুই দলের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ত্রিনিদাদের ঐতিহ্যবাহী কুইন্স পার্ক ওভালে। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়।

সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই দলের ব্যাটিং শক্তির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তুলনামূলক শক্তিশালী পেস আক্রমণই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টেও স্বাগতিকদের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে তাদের বোলিং শক্তি।

প্রথম টেস্টে ৯০ রানের জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও দারুণ শুরু পেয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থানও শক্ত করেছে ক্যারিবীয়রা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভালো সমন্বয় রয়েছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগেও রয়েছে কার্যকর কিছু বিকল্প। ব্যাটিং অবশ্য এখনো তাদের দুর্বল জায়গা। তবে পাকিস্তানের পেস আক্রমণে ধারাবাহিকতার ঘাটতি থাকায় বল হাতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সামর্থ্য রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

প্রথম টেস্টে পাকিস্তান একসময় ভালো অবস্থানে ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে মাত্র ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তাদের হাতে ছিল সাত উইকেট। সেখান থেকে বড় লিড নেওয়ার সুযোগ ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু পরের ১৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৯ রান যোগ করে তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা।

চাপের মুখে পাকিস্তানের ভেঙে পড়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিচের সারির ব্যাটিং এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত তিন বছর দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের স্বাদও পায়নি পাকিস্তান।

তবে কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির ব্যবধান খুব বেশি নয়। অধিনায়ক শান মাসুদের চোট পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হলেও দলের প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিদের গড় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংশ্লিষ্ট ব্যাটারদের চেয়ে ভালো। বাবর আজমও ফর্মহীনতার মধ্যেও এমন একজন ব্যাটার, যার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপে খুব কমই দেখা যায়।

তবে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের মূল শক্তি ছিল বোলিং। গতি কম হলেও মোহাম্মদ আব্বাস দুর্দান্ত কার্যকারিতা দেখিয়েছেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেছেন। মোহাম্মদ আলী ও খুররম শাহজাদও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভালো বোলিং করেছেন।

দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার তেগনারাইন চন্দরপলও আলোচনায় রয়েছেন। প্রথম টেস্টে ২১ ও ৩৫ রানের ইনিংস খেললেও তাঁর ব্যাটিংয়ের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেট ধরে রেখে ১৭৮ বল মোকাবিলা করেছেন তিনি। পাকিস্তানের বোলারদের দীর্ঘ সময় ব্যস্ত রেখে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫৬ রান যোগ করেন চন্দরপল।

অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে সুযোগ পাচ্ছেন আবদুল্লাহ শফিক। শান মাসুদ আঙুলের চোটে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর জায়গায় দলে এসেছেন শফিক। গত প্রায় তিন বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফর্মের সঙ্গে লড়াই করছেন এই ব্যাটার। তবে অতীতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের একাদশেও কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দলে যোগ হওয়া সৌদ শাকিলের কারণে আমের জামালের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন হতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুতগতির পেসার উবায়েদ শাহকে টেস্ট অভিষেক করানোর চিন্তাও করতে পারে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে আলি উসমানের তেমন প্রভাব না থাকায় তাঁর জায়গায় সাজিদ খানকে ফেরানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য প্রথম টেস্টে জয়ী একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন না করার দিকেই এগোতে পারে। ব্যাটিংয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকলেও দলের সামগ্রিক ভারসাম্য নিয়ে সন্তুষ্ট স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন—তেগনারাইন চন্দরপল, ব্র্যান্ডন কিং, কেভেম হজ, শাই হোপ, আমির জাঙ্গু, জাস্টিন গ্রিভস, রস্টন চেজ, জোমেল ওয়ারিক্যান, শামার জোসেফ, কেমার রোচ ও জেডেন সিলস।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশে থাকতে পারেন—আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হক, আবদুল্লাহ শফিক, বাবর আজম, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আগা, আমের জামাল, সাজিদ খান, মোহাম্মদ আলী/খুররম শাহজাদ/উবায়েদ শাহ এবং মোহাম্মদ আব্বাস।

কুইন্স পার্ক ওভালের উইকেটে প্রথম টেস্টের ভেন্যু ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমির তুলনায় স্পিনাররা বেশি সুবিধা পেতে পারেন। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজে এখন বর্ষাকাল চলছে, দ্বিতীয় টেস্টের সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে ম্যাচে বড় ধরনের বিঘ্নের সম্ভাবনা কম।

এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ। ২০০০ সালের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে টানা দুই টেস্ট সিরিজ জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করবে ক্যারিবীয় দল।

অন্যদিকে পাকিস্তানের লক্ষ্য একটাই—হার এড়ানো এবং সিরিজ সমতায় শেষ করা। তবে প্রথম টেস্টের আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের ঘরের মাঠে হারাতে হলে বাবর আজমদের ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা এবং বোলিংয়ে বৈচিত্র্য—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি করতে হবে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে মানসিকভাবে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার ভালো সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের সামনে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটি শুধু সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ নয়, বরং সাম্প্রতিক টেস্ট ব্যর্থতার ধারা থেকে বেরিয়ে আসারও বড় পরীক্ষা।

বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে দামি ৫ ফুটবলার, শীর্ষে হালান্ড-ইয়ামাল

0

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বদলে গেছে বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের বাজারমূল্যের হিসাব। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে একাধিক খেলোয়াড় নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে দারুণ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে তাদের বাজারমূল্যেও।

ট্রান্সফারমার্কটের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে বেশি বাজারমূল্যের খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। একই তালিকায় তার সঙ্গে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তালিকার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম ও কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে।

৫. জুড বেলিংহাম, ২২৮ কোটি টাকা

তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। ২৩ বছর বয়সী এই তারকা পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নিতে না পারলেও বেলিংহামের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। গোল করার দিক থেকেও তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তাঁর চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর বেলিংহামের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২২৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

৪. মাইকেল অলিসে, ২৪২ কোটি টাকা

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি তারকা মাইকেল অলিসে। ২৪ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে আলোচনায় আসেন।

সরাসরি আক্রমণ, দ্রুতগতির দৌড় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতার কারণে অলিসে ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় তরুণ ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।

বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে পেলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। টুর্নামেন্টের পর তাঁর বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪২ কোটি টাকা।

৩. কিলিয়ান এমবাপ্পে, ২৮৫ কোটি টাকা

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন তিনি।

গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি ছিলেন এমবাপ্পে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন ফরাসি তারকা।

বিশ্বকাপের পর তাঁর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা।

২. লামিনে ইয়ামাল, ৩১৪ কোটি টাকা

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ১৯ বছরে পা দেওয়া এই উইঙ্গার স্পেনের ডান প্রান্তে খেলেছেন।

পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। তাঁর অসাধারণ প্রতিভা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কারণে বিশ্ব ফুটবলে ইতোমধ্যেই অন্যতম মূল্যবান খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের পর ইয়ামালের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা।

১. আর্লিং হালান্ড, ৩১৪ কোটি টাকা

তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে সমান বাজারমূল্য নিয়ে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে হালান্ড নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক শক্তি, গতি এবং গোল করার সহজাত দক্ষতার কারণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় আতঙ্ক ছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর তাঁর বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা।

বিশ্বকাপের পর বদলে গেল তারকাদের বাজারমূল্য

২০২৬ বিশ্বকাপের পর প্রকাশিত এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হলো হালান্ড ও ইয়ামালের যৌথভাবে শীর্ষে থাকা। তাদের পেছনে রয়েছেন এমবাপ্পে, অলিসে ও বেলিংহামের মতো তারকারা।

বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সাধারণত তাদের বাজারমূল্যে বড় প্রভাব ফেলে। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ক্লাবগুলোর আগ্রহ যেমন বাড়ে, তেমনি তার সম্ভাব্য ট্রান্সফার মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ট্রান্সফারমার্কটের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে মূল্যবান পাঁচ ফুটবলারের তালিকায় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, নরওয়ে ও জার্মানির ক্লাব ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

তবে এই বাজারমূল্য সরাসরি কোনো খেলোয়াড়ের সম্ভাব্য ট্রান্সফার ফি নয়। খেলোয়াড়ের বয়স, পারফরম্যান্স, চুক্তির মেয়াদ, ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাজারের চাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয় এর ওপর প্রভাব ফেলে।

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। ফলে আগের আসরগুলোর তুলনায় টুর্নামেন্টের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বাজার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বাংলাদেশ আর্মি নারী ও পুরুষ দলের দাপুটে জয়

ফুটসাল লীগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬

মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শ ‘দুয়েক দর্শকদের ভালই ফুটসাল বিনোদন দিলেন বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেডের নারী ও পুরুষ দলের খেলোয়াড়রা। নারী দলের খেলোয়াড়রা মুখোমুখি হয়েছিল ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমীর আবার পুরুষ দল তারাও লড়েছে এই প্রতিপক্ষের। তবে দিন শেষে “ফুটসালে বাংলাদেশ আর্মি নারী ও পুরুষ দলের দাপুটে জয়” দেখেছে উপস্থিত দর্শকরা।

বাংলাদেশ আর্মি নারী ও পুরুষ দলের দাপুটে জয়
ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন সেনাবাহিনীর খালেদ হাসান (বল পায়ে )

 খেলায় ওয়ারিয়রের খেলোয়াড়রা প্রতি আক্রমন নির্ভর খেলে পেরে উঠেনি বিশেষ করে আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের অধিনায়ক মেহেনুর, সুলতানা, হালিমা. মিতু, বৃষ্টিদের প্রেসিং ফুটসালে। খেলার শুরু থেকেই ২-২ ফরমেশনে মধ্যমাঠের দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটসালে আর্মি ব্যাস্ত করে তোলে প্রতিপক্ষ ওয়ারিয়রকে। অপরদিকে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটসাল খেলে হতাশ করেনি ওয়ারিয়র ম্যাচ হারলেও ওয়ারিয়র ২টি গোল করে স্পষ্ট ব্যাবধানের ম্যাচে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলে মাঝে মধ্যে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছে। খেলার ৬ মিনিটের মাথায় জোতি দলের প্রথম গোল করে ইঙ্গিত দিলেও আর্মি স্পোটস ক্লাবের কাছে হেরে যায় ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমী।

৫-২ গোলে জয় লাভ করে আর্মি নারী দল পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে নীড়ে ফিরেছে। বিজয়ী দলের মিতু, তনিমা জাহান ও নওশিন জাহানের কম্বিনেশনে আক্রমনের পর আক্রমন করে ওয়ারিয়রের গোল রক্ষক এনিমা খানমকে ক্লান্ত করে তুলেছিলেন অনেক গুলো গোল সেভ করেছেন খানম তা না হলে আরো ২ থেকে ৩টি গোল হজম করতে হত।অপরদিকে দিনের শেষ পুরুষ বিভাগের ম্যাচে আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিঃ খেলার ৩ মিনিটের সময় অধিনায়ক সাব্বিরের দেয়া গোলে এগিয়ে যায়। এরপরের গল্পটা শুধুই আর্মি দলের মারুফ, খালেদ হাসান, আতিক আর বাপ্পিদের, অর্থ্যাৎ নারী খেলোয়াড়দের চেয়েও পুরুষ দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচে বেশী কর্তৃত্ব নিয়ে খেলেছে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে। মাঝমাঠ, আক্রমণ ভাগ কিংবা লেফট উইং অথবা রাইট উইং সবখানেই ডমিনেট করে খেলে আর্মি স্পোর্টস ক্লাব প্রথম অর্ধ শেষ করে ৪-১ গোলে এগিয়ে থেকে। ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমীর হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তানভীর। তবে গোল ব্যাবধানে আর্মি এগিয়ে থাকলেও কোর্টের খেলায় তুমুল লড়াই হয়েছে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে উভয় দলই চিত্তাকর্ষক ফুটসাল উপহার দিয়েছে।

ওয়ারিয়র একাডেমীর গোল রক্ষক আব্দুর রহমান ভাল সেভ করেছেন

আসলে ফুটসাল খেলা অনেকটাই ট্যাকটিক্যাল গেম কারণ এখানে ছোট জায়গায় মুভমেন্ট, দ্রুত পাস, ড্রিবলিং, শুটিং এবং বল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার গুলো খুবই চোখে পড়ে তাই যারা এগুলো রপ্ত করতে পারবে ও প্রেসিং এ এগিয়ে থাকবে তারাই ভাল করবে, আর্মি স্পোর্টস ক্লাব সবগুলো টেকনিক ভাল ভাবে প্রয়োগ করে ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে বিশেষ করে ফিনিশিং টাচ এ বেশ দক্ষতার সাথে খেলেছে যার কারনে দ্বিতীয়ার্ধে আরো ৩টি গোল যোগ করে ৭-১ গোলের বিশাল জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছে।

বিশ্বকাপের আগে ফুটসাল লীগ বাংলাদেশে শুরু হলেও বর্তমানে মিরপুর ইন্ডোর উডেনফ্লোর স্টেডিয়ামে দর্শক খরা নিয়ে টুর্নামেন্টের খেলা গুলো চলছে। প্রচার প্রচারনা কেমন হয়েছে জানিনা তবে আমার মনে হয় ১১টি ক্লাব দল নারী ও পুরুষ বিভাগের সেই হিসেব করলে ২২টি ক্লাব দল যদি প্রতিটি খেলোয়াড়ের পরিবার বন্ধু বান্ধবরাও ঠিকমত আসতো তাহলে ৩শ থেকে ৪শ দর্শক হত, কিন্তু সেটাও দেখা যায় না। আশা করি সময় এখনও রয়েছে প্রচার প্রচারনা বাড়িয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করবে কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্টেডিয়ামের বাইরে রাস্তায় বড় কোন ব্যানার বা বিল বোর্ডও চোখে পড়েনা, এটা খুবই দুঃখ জনক।

ভিআইপি গ্যালারিতে এমন কিছু দর্শক এবং তার উপরের টায়ারে কিছু দর্শক ছাড়া তেমন কোন দর্শক দেখা যায়নি।

মেইন রাস্তার পাশের মূল ফটক সবসময় বন্ধ দেখা যায় অনেক দর্শক বুঝতেই পারেনা এখানে বিনা টিকিটে খেলা দেখা যায় বা খেলা হচ্ছে। যদি বাইরে মাঝে মাঝে ঘোষনা দেয়া হত, টুর্নামেন্ট নিয়ে ইনফরমেশন দেওয়া হত তাহলে চলন্ত মানুষ জনও বুঝতে পারতো শখ করে হলেও একবার ঢুকে দেখার চেষ্টা করতো। এমনকি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার থাকা সত্বেও আশানুরূপ দর্শক চোখ পড়ছেনা। বাইরে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে দেশের ১১টি পুরুষ ও নারী ক্লাব দলকে নিয়ে সবচাইতে বড় এবং প্রথম ফুটসাল টুর্নামেন্ট হচ্ছে।  

সমালোচনা ও বিভাজনের মুখে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প বাতিল

0

বিতর্ক ও বিভাজনের কারণে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প আর এগিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সদস্য দেশগুলোর মতামত শোনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি বলেন, বিশ্বজুড়ে ফিফার সদস্য দেশগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং ফুটবলের উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিশেষ করে যেসব দেশে ফুটবলের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, সেসব দেশের জন্য এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইনফান্তিনো জানান, শুরু থেকেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফিফার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দেশের সমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সদস্য দেশ, ফিফা কাউন্সিল, বিভিন্ন কনফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত শোনার পর পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে হয়েছে বলে জানান ফিফা সভাপতি। তাঁর ভাষায়, প্রকল্পটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা এখন আর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে প্রকল্পটির পক্ষে যতটুকু সমর্থনই থাকুক না কেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আর এগিয়ে নেওয়া ফিফার মূল লক্ষ্যের স্বার্থে হবে না।

ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার মূল উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং এর উন্নয়ন ঘটানো। ভবিষ্যতেও সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ফিফা সভাপতি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পটি আর বাস্তবায়ন করা হবে না।

তবে প্রকল্পটি বাতিলের পরও আলোচনা ও সহযোগিতার পথ খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ফিফা সভাপতির লক্ষ্য, পারস্পরিক স্বার্থ ও ফুটবলের উন্নয়নের বিষয়টি সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ফুটবলের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, সেসব দেশে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বিকাশ অব্যাহত রাখতে চান তিনি।

এর ফলে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও, বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে সমন্বয় ও সহযোগিতার পথ খুঁজতে চাইছে ফিফা।

সুযোগ পেয়েও শীর্ষস্থান হাতছাড়া মায়ামির

0

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠার দারুণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ইন্টার মায়ামি। শীর্ষে থাকা নাশভিল নিজেদের ম্যাচে ডিসি ইউনাইটেডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করায় মায়ামির সামনে শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নিজেদের মাঠে কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

বিশ্বকাপের পর এ ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রথমবারের মতো মায়ামির হয়ে এ ম্যাচে মাঠে নামেন। তবে শুরুতে নয়, বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তবে শুরু থেকে মাঠে ছিলেন রদ্রিগো দি পল।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা মায়ামি ম্যাচের ১৬ মিনিটে এগিয়ে যায়। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ নিখুঁত ফিনিশে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

আত্মঘাতি গোল

মায়ামিতে নতুন যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় কলম্বাস। প্রতিপক্ষের একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলবশত নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন তিনি। এ গোলে কলম্বাস ম্যাচে ফিরে আসে।

অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে মেসি

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। নোয়াহ অ্যালেনের গোলে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধেও সেই ব্যবধান ধরে রেখে জয়ের পথেই এগোচ্ছিল দলটি। কিন্তু সেখানেও দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় মায়ামির। আর তাতেই নাশভিলকে শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে দেওয়ার যে সুযোগ তাদের সামনে এসেছিল তা হাতছাড়া হয়।

৮৪ মিনিটে গোল হজম

নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট আগে ইন্টার মায়ামি সেই দুর্ভাগ্যের শিকার। ৮৪তম মিনিটে ব্রাইস মেন্ডেজ মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ এক শটে গোল করে কলম্বাসকে সমতায় ফেরান। গোলটিতে মায়ামির গোলরক্ষক রিয়স নোভোর ভুলও স্পষ্ট ছিল। তিনি পোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে উঠে আসায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেন্ডেজ।

শেষ মুহূর্তে আর কোনো দলই গোল করতে না পারায় ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ফলে শীর্ষে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বাস ক্রু।

অন্যদিকে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে নাশভিলও নিশ্চিত জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে। প্রথমার্ধে তারা দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জয়ের দেখা পায়নি। ডিসি ইউনাইটেড ৫৬ ও ৭৭ মিনিটে দুই গোল করে পয়েন্ট ভাগ বসায়।

১৮ ম্যাচ শেষে নাশভিলের পয়েন্ট ৪০। পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান সবার উপরে। সমান ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে ইন্টার মায়ামি দ্বিতীয় স্থানে।

ইউরোপ ছাড়লেও গোলের রাজত্বে মেসি-রোনালদো

0

ইউরোপের শীর্ষ লিগ ছেড়েছেন তিন বছরেরও বেশি সময় আগে। একজন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস), অন্যজন সৌদি আরবের প্রো লিগে খেলছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলায়নি একটি বিষয়-ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষ দুটি স্থান এখনও দখলে রয়েছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর এবার শুরু হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুম। আগামী ১৫ আগস্ট লা লিগা, ২১ আগস্ট প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ ওয়ান, ২২ আগস্ট সেরি আ এবং ২৮ আগস্ট বুন্দেসলিগা মাঠে গড়াবে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে ফিরে দেখা যাক ইউরোপের পাঁচ শীর্ষ লিগের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের।

সবার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগায় ৫২০ ম্যাচে ৪৭৪ গোল করার পর প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের হয়ে লিগ ওয়ানে আরও ২২ গোল যোগ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সব মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৪৯৬।

মেসির ঠিক পেছনেই রয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো ক্রিশ্চিয়ানো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়ে তিনটি ভিন্ন শীর্ষ লিগে গোলের বন্যা বইয়ে মোট ৪৯৫ গোল করেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। লা লিগায় রিয়ালের হয়ে ৩১১, সেরি আ-তে জুভেন্টাসের হয়ে ৮১ এবং প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন।

তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পোল্যান্ডের রবার্ট লেফানদোভস্কি। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনার হয়ে তাঁর মোট গোল ৩৯৫। বুন্দেসলিগায় ২০২০-২১ মৌসুমে গার্ড মুলারের এক মৌসুমে ৪০ গোলের রেকর্ড ভেঙে ৪১ গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

চতুর্থ স্থানে থাকা জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগায় করেছেন ৩৬৫ গোল। দীর্ঘদিন এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪০ গোলের রেকর্ডও ছিল তাঁর দখলে।

পঞ্চম স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের জিমি গ্রিভস। চেলসি, টটেনহাম ও ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে ৫১৬ ম্যাচে ৩৫৭ গোল করে তিনি ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতার মর্যাদা অর্জন করেছেন।

ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন স্টিভ ব্লুমার। উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুর দিকের এই কিংবদন্তি ডার্বি কাউন্টি ও মিডলসব্রোর হয়ে মোট ৩১৪ গোল করেন।

সপ্তম স্থানে থাকা হ্যারি কেইন এই তালিকার একমাত্র সক্রিয় ফুটবলার, যিনি এখনও ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলছেন। টটেনহাম ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৩১১, যা ইতোমধ্যেই ডিক্সি ডিনকে ছাড়িয়ে গেছে।

অষ্টম স্থানে রয়েছেন এভারটনের কিংবদন্তি ডিক্সি ডিন। ইংলিশ শীর্ষ লিগে এক মৌসুমে ৬০ গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড এখনও তাঁর দখলে। ক্যারিয়ারে করেছেন ৩১০ গোল।

নবম স্থানে থাকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ডের লিগে খেলে মোট ৩০২ গোল করেছেন। তাঁর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৬ গোল এসেছে ইতালিয়ান সিরি আ-তে।

শীর্ষ দশের শেষ নামটি ডেলিও ওনিস। ইতালিতে জন্ম নেওয়া এবং আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা এই কিংবদন্তি ফরাসি লিগ ওয়ানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। রেইমস, মোনাকো, ত্যুর ও তুলোঁর হয়ে খেলেছেন তিনি। মোট ২৯৯ গোলের পাশাপাশি পাঁচবার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

টিভিতে আজকের খেলা: ০২ আগস্ট ২০২৬

গ্লাসগোতে চলছে কমনওয়েলথ গেমস। শ্রীলঙ্কায় চলছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ, আজ একটি ম্যাচ। ইংল্যান্ডে চলছে দ্য হানড্রেড।

কমনওয়েলথ গেমস
১১তম দিন

বেলা ১টা, সনি স্পোর্টস ২

পোর্ট অব স্পেন টেস্ট–১ম দিন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান

রাত ৮টা, পিটিভি স্পোর্টস

দ্য হানড্রেড
ট্রেন্ট-সানরাইজার্স (পুরুষ)

সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ডাম্বুলা-জাফনা

রাত ৮টা, টি স্পোর্টস

‘জিমিই বাংলাদেশের মেসি’, অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে বিশেষ স্বীকৃতি জার্মান কোচের

0

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশ হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ফিরেছেন জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমিকে নিয়ে উচ্চ প্রশংসা করেছেন তিনি। গেরহার্ডের ভাষায়, জিমি শুধু বাংলাদেশের হকির ‘প্রিন্স’ নন, তিনি ‘বাংলাদেশের মেসি’।


মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়ে ৩৯ বছর বয়সী জিমির সঙ্গে আবারও কাজ শুরু করেন গেরহার্ড।

পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জিমির প্রতিভা ও ম্যাচের ওপর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন তিনি।
গেরহার্ড বলেন, ‘তরুণ বয়স থেকেই আমি জিমিকে দেখে আসছি। আমার কোচিং ক্যারিয়ারে দুজন খুব কঠিন স্বভাবের খেলোয়াড় দেখেছি। একজন ভারতের ধনরাজ পিল্লাই, আরেকজন জিমি। তবে ধনরাজ জিমির চেয়ে বেশি একরোখা ছিল। ২০০৪ অলিম্পিকে ভারতের কোচ থাকাকালে একদিন হাফটাইমে আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি, আর সে তখন ফোনে কথা বলছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, এটা করা যায় না।’

গেরহার্ডকে নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে জিমি বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং একজন দারুণ কোচ। তার সঙ্গে আরও দুজন জার্মান কোচ যোগ দেবেন। নতুন কোচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে, কিন্তু পিটারকে ফেরানোর সিদ্ধান্তটা খুব ভালো হয়েছে।’

৭৮ বছর বয়সেও কোচিং চালিয়ে যাওয়ার রহস্যও জানিয়েছেন গেরহার্ড। হাসতে হাসতেই বলেন, ‘দেখুন না, আমি পারি কি না! প্রতিদিন দুই ঘণ্টা জিম করি। মিউনিখে থাকাকালে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সাইকেল চালাতাম।’


বয়সকে কেবল একটি সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে। জীবনে কখনো ধূমপান করিনি, অ্যালকোহলও ছুঁইনি। তবে মিষ্টি অনেক খেয়েছি। আমার ওজন ১০৫ কেজি হলেও কোচিংয়ে কোনো সমস্যা হয় না।’

ক্যাম্পে থাকা ৩৮ খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে আরও প্রস্তুত করতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘ট্রেইন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক একটি কর্মশালার। ‘স্বপ্ন নয়, এবার ইতিহাস’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মশালায় খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, চাপ সামলানো এবং দলগত সমন্বয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘এই কর্মশালায় আমরা শিখেছি কীভাবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে দল হিসেবে আরও ভালো খেলতে হয়। খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এশিয়ান গেমসে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।’

বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিলেও রক্ষা নেই, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চায় উয়েফা

0

বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে ফিফা। তবে এতেই শেষ হয়নি বিতর্ক। উল্টো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা (উয়েফা)। এমনকি তাকে পদত্যাগ অথবা অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০২৬ বিশ্বকাপজুড়েই একাধিক বিতর্কে জড়ান ইনফান্তিনো। বিভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ, ইরানের সঙ্গে আচরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক ফুটবলারের লাল কার্ড স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এসব ইস্যুতে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ দেখিয়েছিলেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। বিশ্বকাপের ফাইনালের দিনও তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন না।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন ফিফা বিশ্বকাপসহ নিজেদের টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতিক্রমে অবস্থান নেয় উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ। শুধু তাই নয়, কনকাকাফ ও এএফসিও পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে। একপর্যায়ে চাপের মুখে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা।

তবে বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করেও উয়েফার আস্থা ফেরাতে পারেননি ইনফান্তিনো। ইউরোপের ফুটবল সংস্থাটি এখন তার নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এবং ফিফায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনার পক্ষে প্রস্তুত উয়েফার ৫৫ সদস্য। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে ৪৩টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনই যথেষ্ট।

উয়েফা ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তারা বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং ফিফায় বড় ধরনের সংস্কার দেখতে চায়।

উয়েফার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘আমরা উয়েফার অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানাই। বিশ্ব ফুটবলের সুশাসন নিশ্চিত করতে ফিফার নেতৃত্ব ও পরিচালন ব্যবস্থার একটি ব্যাপক এবং কার্যকর পর্যালোচনার সময় এসেছে। এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে ২১১টি সদস্য সংস্থার স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

ফিফার বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত থেমে গেলেও, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আবারও সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

0

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখলেন কাজী সালাহউদ্দিন। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার।

এর মধ্য দিয়ে সাফের শীর্ষ পদে টানা ১৭ বছর পূর্ণ হলো সালাহউদ্দিনের। ২০০৯ সালে প্রথমবার সাফের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এবারও তাঁর নেতৃত্বেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সংস্থাটি এগিয়ে যাবে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাফুফের সভাপতির পদে দীর্ঘ ১৬ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে সালাহউদ্দিনের। তবে দেশের ফুটবল প্রশাসন থেকে বিদায় নিলেও আঞ্চলিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পদটি ধরে রাখতে সক্ষম হলেন তিনি।

সাফের গঠনতন্ত্রে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও সালাহউদ্দিনের পুনর্নির্বাচনের পথ সহজ করে দেয়। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে সভাপতির ক্ষেত্রে ৭০ বছর বয়সসীমা এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সাফের নেতৃত্বে থাকার ক্ষেত্রে আর আগের বিধিনিষেধ থাকেনি।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্ব সালাহউদ্দিনকে সমর্থন দেয়নি। তবে তাতে তাঁর প্রার্থিতা থেমে থাকেনি। নেপাল ও ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব এবং সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিপরীতে আর কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। কংগ্রেসেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

সাফের নতুন নির্বাহী কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। বাফুফের বর্তমান সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফকে সংস্থাটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, নেপাল ও ভুটানের প্রস্তাব ও সমর্থনেই তিনি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য সদস্যদের আস্থার কারণেই তাঁর বিপরীতে আর কেউ প্রার্থী হননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে নিজের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের সাবেক এই ফুটবলার।

সাফের নেতৃত্বে আগামী দিনেও আগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সালাহউদ্দিন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সাফের কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার পরিধি আগের তুলনায় বেড়েছে। সেই গতি ধরে রাখার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলকে আরও এগিয়ে নেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

সাফ ফুটবলে নেপালের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

এদিকে সাফের পরবর্তী আসর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। আজ বিকেলে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত ড্রয়ে রাখা হচ্ছে না নেপালকে। দেশটিকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সাফ। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে নেপাল।

নেপাল শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলে নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর সালাহউদ্দিনও আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নেপাল অংশ নেবে আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে।

বাফুফের নেতৃত্ব হারানোর পরও সাফের শীর্ষ পদে নিজের অবস্থান ধরে রেখে কাজী সালাহউদ্দিন দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল প্রশাসনে নিজের দীর্ঘ প্রভাবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আঞ্চলিক ফুটবলের উন্নয়ন এবং সাফের প্রতিযোগিতাগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।