Home Blog Page 71

শুটিং-আরচ্যারিতে বছরব্যাপী ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা – টঙ্গীতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে শুটিং ও আরচ্যারীর মতো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আসরে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ান গেমসের পর থেকেই বছরব্যাপী নিবিড় ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শনকালে এসব কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সাথে একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় করার প্রক্রিয়া চলার বিষয়ে কঠোর ও আশ্বস্ত করার মতো অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরির উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আরচ্যারী দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খেলা এবং খেলোয়াড়দের অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটে এমন কিছু হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন: “আমাকে যদি ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন, তাহলে আমার জায়গা থেকে যা যা করণীয়, আমি সব করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।”

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “এটা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ আমাদের আরচ্যারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরচ্যারীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাই আরচ্যারীর সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের খেলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে আমরা নজর রাখব ইনশাআল্লাহ।”

সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া খাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় শুটিং ও আরচ্যারীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে একদম ‘জিরো’ থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে।

খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে ১৫-১৬ জন আরচ্যারকে পেশাগত স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়াকার্ডের আওতায় আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে দেশজুড়ে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলার এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানান আমিনুল হক। চলতি বছরই ১০টি স্পোর্টস ভিলেজের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা দেশের ৬৪টি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি স্পোর্টস ভিলেজে শুটিং ও আরচ্যারীর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে, যাতে জেলার তরুণ প্রতিভাবানরা সহজেই জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসতে পারেন।

এর আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে চলমান জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচ্যারী টুর্নামেন্ট পরিদর্শন করেন। সেখানে পৌঁছালে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী সেখানে বিভিন্ন দেশের আরচ্যারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে, যারা দেশের আরচ্যারীকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে কাজ করবে।

নাহিদের ইনজুরি নিয়ে বিতর্কে মুখ খুললেন শাহরিয়ার নাফিস

0

জিম্বাবুয়ে সফরে ইনজুরিতে পড়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। এরপর থেকেই তার চোটের জন্য অতিরিক্ত ম্যাচ খেলা ও বাড়তি ওয়ার্কলোডকে দায়ী করা হচ্ছিল। তবে সেই অভিযোগ স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস।

শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাফিস বলেন, নাহিদের বোলিং ওয়ার্কলোড পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল এবং তাকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘২০ দিনের মধ্যে ২৪-২৫ ওভার বোলিং করাকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত বলা যায় না। আমরা খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড আন্দাজে হিসাব করি না।

ক্যাটাপাল্ট জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি খেলোয়াড়ের শারীরিক চাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। নাহিদের ক্ষেত্রেও সেটাই করা হয়েছে এবং তার ওয়ার্কলোড স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই ছিল।’
নাহিদের চোট এড়ানো যেত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাফিস বলেন, ইনজুরি সব সময় পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়।

‘অনেকে বলছেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে না খেলালে হয়তো ইনজুরি হতো না। কিন্তু একই ধরনের ইনজুরি অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলনের সময়ও হতে পারত। এটি দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, নাহিদকে দিয়ে অতিরিক্ত বোলিং করানো হয়নি,’ বলেন তিনি।

জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল থেকে ছিটকে যান নাহিদ। তার অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিসিবির দাবি, এই ইনজুরির সঙ্গে অতিরিক্ত ম্যাচ বা ওয়ার্কলোডের কোনো সম্পর্ক নেই।

টঙ্গীর আরচ্যারী একাডেমির পাশে তৈরি হচ্ছে ময়লার ভাগাড় – সমাধানের আশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর


টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমির পাশে ময়লার ভাগাড় করার প্রক্রিয়া চলা প্রসঙ্গে কঠোর ও আশ্বস্ত করার মতো অবস্থান নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, আরচ্যারী দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খেলা এবং এ খেলোয়াড়দের অনুশীলনে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হবে। ময়লার ভাগাড়ের বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে যদি ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন, তাহলে আমার জায়গা থেকে যা যা করণীয়, আমি সব করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

​গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘এটা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ আমাদের আরচ্যারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরচ্যারীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাই আরচ্যারীর সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের খেলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে আমরা নজর রাখব ইনশাআল্লাহ।’

​এর আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচ্যারী টুর্নামেন্ট পরিদর্শন করতে আসেন। এ সময় ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের আরচ্যারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

​সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়া খাতের সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় শুটিং ও আরচ্যারীর মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ আসরে পদক অর্জনের লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসের পর থেকে বছরব্যাপী ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

​প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ১৫-১৬ জন আরচ্যারকে ইতোমধ্যে পেশাগত স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়াকার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জিরো থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরিতে দেশজুড়ে স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছর ১০টি স্পোর্টস ভিলেজের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা ৬৪টি জেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি স্পোর্টস ভিলেজে শ্যুটিংয়ের পাশাপাশি আরচ্যারীর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে, যাতে জেলার তরুণ প্রতিভাবানরা জাতীয় পর্যায়ে সহজে অংশ নিতে পারেন।

নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রতি আস্থা রেখে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে, যারা দেশের আরচ্যারীকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে কাজ করবে।

মেয়েদের খেলায় আনসার ভিডিপি, ছেলেদের খেলায় জেনন এফসির জয়।

ফুটসাল লীগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬

মোট ১১টি ফুটবল ক্লাব দলকে নিয়ে দেশে প্রথম বারের মত মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটসাল লীগ। বিশ্বকাপের বিরতির পর আজ ২য় দিনে টুর্নামেন্টে নিজেদের ৪র্থ ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেয়েছে আনসার বিডিপি ফুটবল ক্লাব ফলে ‘মেয়েদের খেলায় আনসার ভিডিপি, ছেলেদের খেলায় জেনন এফসির জয়’ দিয়ে শুরু দিনের প্রথম দুটি ম্যাচ।  

আনসার ভিডিপি এফসি

জেনন এফসির বিপক্ষে শুরু থেকেই অল আউট ফুটসাল খেলে প্রতিপক্ষের দূর্গে আক্রমন চালিয়ে ৮-১ গোলের বড় জয়ে প্রথম পয়েন্টের দেখা পেয়েছে আনসার ভিডিপি এফসি। মামনি চাকমা, অতুইমা মারমা আর অংম্রাচিংদের মুহুর্মুহু আক্রমন ঠেকিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটসাল খেলে একবার মাত্র আনসার ভিডিপির গোল রক্ষক মাহলাথুই মারমাকে পরাস্ত করতে পেয়েছে জেনন এফসি। প্রথম অর্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল আনসার ভিডিপি এফসি।

পুরুষ বিভাগের খেলা উভয় দল সমান সমান লড়াইটা ছিল দারুন উপভোগ্য। প্রথমার্ধে উভয় দল ১-১ গোলের সমতা নিয়ে খেলা শেষ করে।তবে ফিনিশিং ভাগে উভয় দলের দুর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মত। আনসারের পক্ষে পাসিং প্রথমে গোল করে এগিয়ে নিলে সাইফ ১২ মিনিটের মাথায় দলের পক্ষে প্রথম গোল করে সমতায় আনেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৩ মিনিটের মাথায় হৃদয় নিজের প্রথম এবং দলের ২য় গোল করে প্রথম লিড নিলে আনসার ভিডিপি গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠলে জমে উঠে খেলা। আক্রমন এবং পাল্টা আক্রমনে খেলা চললেও অন্তিম মুহুর্তে জোন্সের ব্যাকহিল অ্যাসিস্ট থেকে সাইফ ক্লিনিক্যালি ফিনিশ করলে ৩-১ গোলের লিড নিয়ে আনসার ভিডিপির সাধ্যের বাইরে চলে যায় ম্যাচ, জেনন ৩ ম্যাচে ২ জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট অর্জন করে।

দেশে ফুটসাল লীগ শুরু হয়েছে এটা একটা আশাব্যাঞ্জক দিক তবে প্রচার প্রচারনা যদি বাড়ানো যেত আমার মনে হয় দর্শক গ্যালারী আরো একটু হেলদি করা যেত, মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুক্র-শনি খেলা থাকলেও আশানুরুপ দর্শক দেখা যাচ্ছেনা গ্যালারীতে।

চোট কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ডাক পেলেন লিটন

অবশেষে চোট কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হলো লিটন দাসকে। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  পায়ের চোট থেকে সেরে উঠতে না পারায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে ছিলেন না লিটন।

দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছে বাংলাদেশ দলের প্রথম বহর। এর মধ্যেই এলো সুখবর। প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে উইকেটকিপার ব্যাটার লিটনকে।

জানা গেছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত সেরে উঠায় শেষ মুহূর্তে তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। ডারউইনে দলের সঙ্গে যোগ দিতে আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিমান ধরবেন লিটন।

আজ শনিবার বিসিবি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘বাম পায়ের কাফের চোট থেকে সেরে ওঠায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন লিটন কুমার দাস। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট।’

তবে চোটের কারণে গত জুন মাস থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হওয়ায় তাকে প্রথম টেস্টের জন্য বিবেচনায় রাখা হয়েছে। রোববার তিনি ডারউইনের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।’

সফরে আগামী ৬-৮ আগস্ট তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে টাইগারদের। এরপর আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মাররারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে ২২ আগস্ট।

বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড :  নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন, মুশফিক হাসান।

বিশ্বকাপ ফুটবল কোনো নির্বাহী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সম্পত্তি নয়

ফিফার মেজর টুর্নামেন্টের স্বত্ব বিক্রি

বিশ্বকাপ সহ ফিফার শীর্ষ টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (এফএফএ) গঠন করে তার ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগ কারীদের কাছে ছাড়ার পরিকল্পনার তীব্র ও কঠোর সমালোচনা করে সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার বলেন বিশ্বকাপ ফুটবল কোনো নির্বাহী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সম্পত্তি নয়।

বিশ্বকাপ ফুটবল কোনো নির্বাহী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সম্পত্তি নয়

সেপ ব্ল্যাটারের বর্তমান বয়স ৯০ বছর বয়সের ভারে ক্লান্ত হলেও তীব্র ভাষয়ায় ব্ল্যাটার বলেন ‘বিশ্বকাপ কোনো ব্যক্তিবর্গের নয়, এটি জনগণের সম্পদ। ফুটবলের আত্মা বিক্রি করার অধিকার কারও নেই।’ তবে এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন সেপ ব্ল্যাটার কারণ দুর্নীতির অভিযোগে একসময় ফিফা থেকে নিষিদ্ধ হওয়া ব্ল্যাটারের বক্তব্যকে ঘিরে অনেকে তার অতীতের প্রসঙ্গ টেনে এন মনে করিয়ে দিয়েছেন। ২৯ জুলাই তিনি রয়টার্সকে সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন।

ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনায়, নতুন প্রতিষ্ঠানের ২১ শতাংশ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। যদিও শেয়ার বিক্রির পর সংস্থাটি প্রায় ৮০ শতাংশ মালিকানা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখবে বলে জানিয়েছিল।

কড়া সমালোচনায় সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারঃ

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্ল্যাটার বলেন, ‘বিশ্বকাপ’ ফুটবলের কোনো নির্বাহী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সম্পত্তি নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। ফিফা শুধু বিশ্বকাপের রক্ষক মাত্র, এর মালিক নয়। ফিফাকে যদি লাভজনক কোনো কর্পোরেট সংস্থায় রূপান্তর করা হয়, তবে ফুটবল তার আত্মাকে হারাবে।’ উল্লেখ্য ফিফা এখনও দাতব্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে আছে সুইজারল্যান্ডে।

বিশ্বকাপের পর ছুটি শেষ, মাঠে ফিরছেন মেসি

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর সংক্ষিপ্ত বিশ্রামে ছিলেন লিওনেল মেসি। সেই সময়ে তাকে ছাড়াই মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দুটি ম্যাচ খেলেছে ইন্টার মায়ামি। তবে এবার দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার (বাংলাদেশ সময় ভোরে) কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আবার মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।

ঘরের মাঠ এনইউ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচের আগে শুক্রবার দলের অনুশীলনে অংশ নেন মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো দে পলও। ইন্টার মায়ামির কোচ গিলের্মো হয়োস জানিয়েছেন, দুজনই কলম্বাসের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে থাকবেন।

মেসির ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হয়োস বলেন, “সে (মেসি) ক্লাবে ফিরেছে খুব বেশি সময় হয়নি। তাই এখনো বিস্তারিতভাবে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে সে এবং দে পল ফিরে আসায় আমরা খুবই আনন্দিত।”

বিশ্বকাপের বিরতির সময় মেসি ও দে পলকে ছাড়াই দুটি ম্যাচ খেলেছে ইন্টার মায়ামি এবং দুটিতেই জয় পেয়েছে দলটি। বিরতিতে যাওয়ার আগেও টানা চার ম্যাচ জিতেছিল মায়ামি। ফলে দারুণ ছন্দে রয়েছে ক্লাবটি।

এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ১৭ ম্যাচে ১১ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই সংখ্যক ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ন্যাশভিল এসসি।

এখন সমর্থকদের অপেক্ষা, বিশ্রাম শেষে মাঠে ফিরে মেসি আবারও তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে দলকে জয়ের ধারায় এগিয়ে নিতে পারেন কি না।

সাবিনাদের ২৬-০ গোলের ফুটসালের গল্প

ফুটসাল লীগ বাংলাদেশ ২০২৫-২৬

বাংলাদেশ ফুটসাল লিগ ২০২৫-২৬! নতুন এক যাত্রার নাম। ১১টি ক্লাব দলকে নিয়ে প্রথম বারের মত যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই দল গঠন করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের ফুটসাল ইতিহাসে একটি বড় মাইল ফলক। বিশ্বকাপর বিরতির পর গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া ‘সাবিনাদের দল ২৬-০ গোলে জয় লাভ করে ফুটসালের গল্প’ তৈরী করেছে।

বিশ্বকাপের আগেই এই ফুটসাল লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপ বিরতির পর গতকাল প্রথম খেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রথম খেলায় নারী বিভাগে পরস্পর মোকাবেলা করে ফকির এফসি বনাম ঢাকা অ্যাথলেটিকস ক্লাব খেলায় ফকির এফসি ১০-২ গোলে ব্যবধানে জয় লাভ করে দীর্ঘ বিরতির পর শুভ সূচনা করে। অপরদিকে দিনের ২য় ম্যাচে পুরুষ বিভাগের এই দুটি দলই মোকাবেলা করে এবং যথারিতি ফকির এফসি ১২-১ গোলে জয় লাভ করে। প্রতিদিন ৪টি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারী এবং পুরুষদের। নিয়ম অনুযায়ী যে দুটি দল খেলবে সেই দলেরই নারী এবং পুরুষ দুটি দল খেলবে একই দিনে। সেই নিয়মেই গতকাল আইএম ১০ এফসি (IM 10 FC ) এবং স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস প্রথমে নারী দল মোকাবেলা করে যে ম্যাচে সাবিনাদের দল ২৬-০ গোলের জয় পায় স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকসকে পরাজিত করে। যে দলে ছিলেন সাবিনা, কৃষ্ণা রানি সরকার, মাসুরা, মার্জিয়া, গোল রক্ষক স্বপ্নার মত খোলোয়াড়রা। দিনের শেষ ম্যাচে যথারিতি নারী বিভাগের এই দুটি দলই মুখোমুখি হয় এবং এখানেও জয় লাভ করে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের কোচিং এ গড়া ‘আইএম ১০ এফসি’। পুরুষ বিভাগে মামুনুলের বয়েজরা জয় লাভ করেছে ১০-৩ গোলের বড় ব্যবধানে। ‘আইএম ১০ এফসি’র মইন হ্যাট্রিক করেন। এছাড়া শাকিল, মুস্তাফিজ, নিটলদের সমন্বয়ে গড়া দলটিকে‘ মনে হয়েছে চ্যাম্পিয়নের জন্যেই তার দল গড়েছে।

ফুটসাল যুগে বাংলাদেশঃ

ফুটসাল কী? ফুটসাল হলো ৫-এ-সাইড (প্রতি দলে ৫ জন) ইনডোর ফুটবল। এটি সাধারণত হার্ড কোর্টে খেলা হয় এবং FIFA-এর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে। খেলাটি দ্রুতগতির হওয়ায় খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, কম জায়গা ব্যবহার করে বলের সুষ্ঠ বন্টন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ায়। বাংলাদেশ ফুটসাল লীগের বৈশিষ্ট্য: আয়োজক- বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রথম আসর: ২০২৫–২৬ মৌসুম। ভেন্যু: মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়াম। পুরুষ বিভাগ: ১১টি ক্লাব এবং দল নারী বিভাগ: ১১টি ক্লাব দল।

ফুটসাল লীগের গুরুত্বপূর্ণঃ

 বাংলাদেশে ফুটসালের এই আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যম ফুটসালের কাঠামো তৈরি হল যার কারণে জাতীয় ফুটসাল দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাই সহজ হবে। তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের ফুটসাল খেলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে AFC ও FIFA আয়োজিত ফুটসাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। জাতীয় ফুটসাল চালুর মাধ্যমে সাবেক জাতীয় খেলোয়াড়দের কোচিং পেশার দ্বার উন্মোচন হল এতে করে নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে তারা সাহায্য করতে পারবে যা দিন শেষে বাংলাদেশের ফুটবল লাভবান হবে। ক্রিকেটে যেমন টি-২০, ফুটবলে তেমনী নতুন শাখা বা ভার্সন হল ফুটসাল।

সাবিনাদের ২৬-০গোলের ফুটসালের গল্প

ফুটসালের ১১টি ক্লাব দলঃ

১. আইএম ১০ এফসি, ২. স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, ৩. বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিঃ, ৪. ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমী, ৫. জিনন এফসি, ৬. আনসার এন্ড ভিডিবি ফুটবল ক্লাব, ৭. ফকির এফসি, ৮. ঢাকা অ্যাথলেটিক ক্লাব, ৯. চাঁদপুর ফুটবল ক্লাব, ১০. বিকেএসপি ফুটবল ক্লাব, ১১. টেকভিল ফুটসাল ক্লাব।  

সারকথা: ফুটসালের এই নব জাগরণ যদি ঠিক রাখা যায় অর্থাৎ প্রতিবছর আয়োজন করা যায় মানসম্মত দল গঠন করে তাহলে এখান থেকেই ফুটসালের নতুন তারকা বের হবে এবং বাংলাদেশের ফুটসালকে সমৃদ্ধ করবে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে। বাংলাদেশের উচিত এখন থেকেই ফুটসাল বিশ্বকাপের খেলার পরিকল্পনা করা এবং কত সালের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলবে এই ভাবে ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে যাত্রা করা উচিত।  

বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে এল ফিফা

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি নিয়ে বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা। একাধিক মহাদেশীয় কনফেডারেশন ও সদস্যদেশের আপত্তির পর সংস্থাটি জানিয়েছে, এ উদ্যোগ আর এগিয়ে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশ সময় ভোরের দিকে প্রকাশিত ফিফার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রিসংক্রান্ত প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।

চার অনুচ্ছেদের ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, সদস্যদের মধ্যে পর্যাপ্ত ঐকমত্য না থাকায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না।

এর আগে ইনফান্তিনো বিশ্বের ২১১টি সদস্য ফুটবল ফেডারেশনকে একটি প্রস্তাব দেন। এতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মতামত জানাতে বলা হয়। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি বিশ্বকাপ বর্জনের হুঁশিয়ারিও দেয়। পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনফেডারেশন কনকাকাফও একই অবস্থান নেয়।

প্রায় ৯৫টি সদস্যদেশের বিরোধিতার পর ফিফা শুরুতে দাবি করেছিল, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকল্পটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় যখন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও উদ্বেগ প্রকাশ করে। আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশ ফিফার আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হলেও এএফসির অবস্থান ইনফান্তিনোর জন্য চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

শুরুতে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরে সুর নরম করেন ইনফান্তিনো। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ তখনই বিবেচনায় আনা হবে, যখন ফিফার অধিকাংশ সদস্য এর প্রতি সমর্থন জানাবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সদস্য ফেডারেশন, ফিফা কাউন্সিল, মহাদেশীয় কনফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

ইনফান্তিনো আরও বলেন, সব পক্ষের মতামত শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রস্তাবটি ফুটবল অঙ্গনে বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষায়, সমর্থনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য আর সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই এটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।

এই বিতর্কে ফিফা ও বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগামী দিনগুলোতে সব পক্ষকে একত্র করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইনফান্তিনো।

২০২৭ বিশ্বকাপের তিন দেশের যৌথ আয়োজনে নতুন ব্র্যান্ড উন্মোচন

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০২৭ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২টি ভেন্যুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। একই অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড পরিচিতি ও আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্যও উন্মোচন করা হয়।

প্রায় ২৪ বছর পর আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। আর নামিবিয়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মেক দ্য সার্কেল বিগার’। টুর্নামেন্টের প্রতিপাদ্য ‘থ্রি নেশন্স, ওয়ান হার্টবিট’, যার মাধ্যমে তিন দেশের ঐক্য ও আফ্রিকান ক্রিকেটের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে।

জোহানেসবার্গের ইনান্ডা পোলো ক্লাবে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ও বর্তমান তারকা গ্রায়েম স্মিথ, মাখায়া এনটিনি, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা ও কাগিসো রাবাদা। জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন সাবেক অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং নামিবিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রুডলফ ইয়ানেস ফন ফুরেন। অনুষ্ঠানে আইসিসি ও তিন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড পরিচয়ের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী গোলাকার বোনা বাটি। দীর্ঘদিন ধরে ফসল, উপহার ও নৈবেদ্য বহনে ব্যবহৃত এই প্রতীককে অন্তর্ভুক্তি, আতিথেয়তা ও সম্প্রদায়বোধের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের আফ্রিকায় স্বাগত জানিয়ে ক্রিকেটের পরিধি আরও বিস্তৃত করাই ‘মেক দ্য সার্কেল বিগার’-এর মূল বার্তা।

বিশ্বকাপে মোট ৫৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর বেশির ভাগই আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির জোহানেসবার্গ, সেঞ্চুরিয়ন, ডারবান, গকেবেরহা (সাবেক পোর্ট এলিজাবেথ), বাফেলো সিটি (সাবেক ইস্ট লন্ডন), কেপ টাউন, পার্ল ও ব্লুমফন্টেইন—এই আট শহরে হবে ম্যাচ।

ফাইনাল আয়োজনের জন্য বিবেচনায় রয়েছে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম এবং কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস।

জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে সাত থেকে ১০টি ম্যাচ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব ও বুলাওয়েওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের পাশাপাশি নতুন নির্মিত ভিক্টোরিয়া ফলস স্টেডিয়ামেও ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের শেষ দিকে এটি উদ্বোধনের পর ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী বছরের শুরুতেই সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আয়োজকেরা।

নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহুকে অনুষ্ঠিত হবে অন্তত তিনটি ম্যাচ।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনি ও পচেফস্ট্রুমে। এই দুটি ভেন্যু এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বও। আগামী বছরের শুরুতে সেই বাছাইপর্ব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান ভেন্যুগুলো ব্যস্ত থাকবে এসএ২০ লিগ নিয়ে।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।