Home Blog Page 72

আবার বাংলাদেশের হকির দায়িত্বে গেরহার্ড পিটার

0

আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে আবারও বাংলাদেশের জাতীয় হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটার। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন তিনি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার থেকেই দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

বাংলাদেশের হকির সঙ্গে পিটারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালে প্রথমবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এক যুগেরও বেশি সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের হকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সময়েই বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ইউরোপে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। জাতীয় দলের পাশাপাশি তিনি দেশের ঘরোয়া হকিতেও কাজ করেছেন। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও মেরিনার্স ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে বর্তমান সময়ে তাঁকে আবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে হকি অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, আধুনিক ও দ্রুতগতির আন্তর্জাতিক হকির সঙ্গে তাল মেলাতে পিটার আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারেন। অন্যদিকে, ফেডারেশনের একটি অংশ মনে করছে, বাংলাদেশের হকি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই পিটারের ফিরে আসার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কমিটি পুনর্গঠনের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। উল্লেখ্য, যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন ডাচ কোচ আইকম্যান। তাঁর মতো উচ্চপ্রোফাইল কোচের পরিবর্তে পিটারকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকায় পৌঁছে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় গেরহার্ড পিটার বলেন, “আমার মতে, সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোতে বাংলাদেশ যে ফল করেছে, দলটির সামর্থ্য তার চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের সেই সামর্থ্য অনুযায়ী দলকে গড়ে তুলতে হবে, আর সেটিই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বাংলাদেশের হকির সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রিন্সকে (আরিফুল হক প্রিন্স) আমি অনেক দিন ধরে চিনি। আর নতুন সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক হচ্ছেন সাদেকের ছেলে। আমি বিশ্বাস করি, তাঁরা দুজনই দলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন এবং বাংলাদেশের হকিকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।”

দেশ ছাড়লেন শান্ত-মুশফিকরা

দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম বহর। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন দলের ১৭ সদস্য।

এসময় টাইগারদের প্রথম বহরে রয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসান, দলের স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

এছাড়া বোলিং কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের কয়েকজন সদস্যও এই বহরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বাকি ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা পৃথক ফ্লাইটে পরে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন আগামী ২ আগস্ট। ডারউইনে আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকায়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

সিরিজ সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করবে বাংলাদেশ দল। সেখানে কয়েক দিনের অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচের পর মূল লড়াইয়ে নামবে টাইগাররা।

রিয়াল মাদ্রিদে দুই মৌসুম শেষে এমবাপ্পে বনাম রোনালদো – কে এগিয়ে?

0

২০০৯ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে দলে যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে শুরু থেকেই প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। রোনালদোর মতোই গোলের পর গোল করে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এমবাপ্পে। তবে রিয়ালে দুই পূর্ণ মৌসুম শেষে পর্তুগিজ কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন ফরাসি তারকা?

পরিসংখ্যান বলছে, দুই তারকার শুরুটা অনেকটাই কাছাকাছি। রিয়াল মাদ্রিদে প্রথম দুই পূর্ণ মৌসুম শেষে এমবাপ্পে ঠিক যতটি গোল করেছেন, একই সময়ে রোনালদোর গোলসংখ্যাও ছিল ততটাই। তবে এমবাপ্পে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে রোনালদোর চেয়ে বেশি ম্যাচ ও মিনিট খেলেছেন। একই সঙ্গে ফরাসি তারকা বেশি পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন এবং রোনালদোর তুলনায় তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।

ব্যক্তিগত সাফল্যে অবশ্য এমবাপ্পের শুরুটা দুর্দান্ত। রিয়ালের হয়ে গোল করার অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে তিনি জিতেছেন নিজের প্রথম ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের অবস্থানও আরও শক্ত করেছেন তিনি।

তবে দলীয় সাফল্যের বিচারে এমবাপ্পের প্রথম দুই মৌসুম খুব একটা উজ্জ্বল নয়। উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ছাড়া বড় কোনো শিরোপা এখনো জেতা হয়নি তার। এই দু’টি ট্রফি অবশ্য রিয়ালের আগের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ধারাবাহিকতায় অর্জিত হয়েছিল, অর্থাৎ এমবাপ্পে ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা নিশ্চিত হয়েছিল।

রোনালদোর ক্ষেত্রেও রিয়ালে শুরুর সময়টা ছিল অনেকটা একই রকম। ২০০৯ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় মৌসুমেও বার্সেলোনার আধিপত্যের কারণে লা লিগা হাতছাড়া হয়। একই সময়ে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জেতে এবং সেমিফাইনালের পথে রিয়াল মাদ্রিদকে হারায়।

তবে সেই মৌসুমে রোনালদো একটি বড় সাফল্য পেয়েছিলেন। কোপা দেল রে ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে রিয়ালকে শিরোপা এনে দেন তিনি।

রোনালদোর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে তৃতীয় মৌসুমে। ২০১১-১২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬০ গোল করেন পর্তুগিজ তারকা। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে চার বছর পর লা লিগার শিরোপা জেতে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই মৌসুমে রোনালদোর কোচ ছিলেন হোসে মরিনিও।

এখন এমবাপ্পের ক্ষেত্রেও তৃতীয় মৌসুমকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। রোনালদোর মতো তিনিও যদি নিজের গোলসংখ্যার সঙ্গে দলীয় সাফল্য যোগ করতে পারেন, তাহলে রিয়াল মাদ্রিদে তার ক্যারিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

তবে রোনালদোর সেরা সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এমবাপ্পেকে এখনো আরও এক ধাপ এগোতে হবে। গোল করার ক্ষেত্রে দুই তারকার শুরুটা কাছাকাছি হলেও ম্যাচ, মিনিট ও অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে রোনালদো এগিয়ে ছিলেন। বিশেষ করে রোনালদো যখন তার সেরা সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার গোলের পাশাপাশি ম্যাচে প্রভাব বিস্তার এবং সতীর্থদের গোল করানোর ক্ষমতাও ছিল অসাধারণ।

এমবাপ্পেকে নিয়ে রোনালদো নিজেও একাধিকবার প্রশংসা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে পর্তুগিজ কিংবদন্তি বলেছিলেন, এমবাপ্পে তার ভক্ত ছিলেন এবং রোনালদো নিজেও ফরাসি তারকার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেন। তবে এমবাপ্পের খেলার ধরন নিয়ে রোনালদোর একটি বিশেষ পরামর্শও রয়েছে।

রোনালদোর মতে, এমবাপ্পের উচিত নিজের স্বাভাবিক খেলার ধরন বজায় রাখা এবং তাকে একজন ‘টিপিক্যাল’ নম্বর নাইন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ রোনালদো নিজেও ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন মূলত উইঙ্গার। পরে ধীরে ধীরে নিজের খেলার ধরন পরিবর্তন করে গোলমুখী ফরোয়ার্ডে পরিণত হন।

এখন প্রশ্ন হলো, এমবাপ্পে কি রোনালদোর মতো রিয়াল মাদ্রিদে ইতিহাস তৈরি করতে পারবেন? দুই পূর্ণ মৌসুম শেষে গোলের হিসেবে দুই তারকার অবস্থান কাছাকাছি হলেও রোনালদোর পরবর্তী মৌসুমগুলোই তাকে রিয়ালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল। এমবাপ্পের সামনে এখন সেই একই চ্যালেঞ্জ—ব্যক্তিগত গোলের ধারাবাহিকতাকে দলীয় শিরোপায় রূপ দেওয়া।

রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের তৃতীয় মৌসুম তাই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যদি তিনি রোনালদোর মতোই এই সময়ে নিজের পারফরম্যান্সকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে যেতে পারেন এবং দলকে লা লিগা কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় শিরোপা জেতাতে পারেন, তাহলে রিয়ালের ইতিহাসে নিজের জায়গা তৈরি করার পথে আরও বড় পদক্ষেপ নিতে পারবেন ফরাসি তারকা।

ইউরোপের দলগুলো না খেললে বিশ্বকাপ কেমন হবে?

0

ইউরোপের জাতীয় দলগুলো অংশ না নিলে ২০৩০ বিশ্বকাপের চিত্র কেমন হতে পারে, এমনই এক চমকপ্রদ সম্ভাব্য হিসাব সামনে এনেছে একটি সুপারকম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাস। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপের কোনো দল বিশ্বকাপে না খেললেও শিরোপা ধরে রাখতে পারে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে লিওনেল মেসিদের দেশটির।

বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না, এমন দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্টকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিযোগিতার অংশবিশেষ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার সঙ্গে উয়েফার মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন সংস্থা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে উয়েফা ফিফা আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

যদিও এটি এখনো একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি এবং উয়েফার পক্ষ থেকে এমন কোনো বয়কটের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হয়নি, তবু ইউরোপের দলগুলো বিশ্বকাপে অংশ না নিলে টুর্নামেন্টের চেহারা যে আমূল বদলে যাবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ইউরোপের দল ছাড়া বিশ্বকাপ কেমন হতে পারে?

এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২৩টি বিশ্বকাপের মধ্যে ১৩ বারই শিরোপা জিতেছে ইউরোপের কোনো না কোনো দেশ। সর্বশেষ ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও ইউরোপের দল ফ্রান্স ফাইনালে উঠেছিল। তার আগের আসরে ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ইউরোপের দলগুলোর দীর্ঘদিনের আধিপত্যের কারণে তাদের ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন করা হলে প্রতিযোগিতার শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামনে রেখে বর্তমান দলগুলোর শক্তি, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও বিভিন্ন পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে একটি সম্ভাব্য মডেল তৈরি করেছে CasinoHawks-এর সুপারকম্পিউটার। মডেলটি ২০৩০ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপারকম্পিউটারটি একই টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য ফলাফল ১ লাখ বার সিমুলেশন করেছে। এরপর এসব সিমুলেশনের গড় ফলাফল বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ও অন্যান্য ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক বা আকস্মিক ফলাফলের প্রভাব কমিয়ে বাস্তবসম্মত একটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরাই ছিল এই মডেলের উদ্দেশ্য।

এই পূর্বাভাসে বিশ্বকাপের দলগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং এবং কনফেডারেশনভিত্তিক নির্ধারিত আসন বণ্টনের ওপর ভিত্তি করে পূরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধরে নেওয়া হয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত ৬৪ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও ফুটবলবিশ্বে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।

ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল

সুপারকম্পিউটারের সবচেয়ে বড় চমক হলো, ইউরোপের দলগুলো না থাকলেও বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারে আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলো না থাকলেও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে আলবিসেলেস্তেরা।

সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পুরো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায় আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ এগিয়ে।

যদিও এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং বর্তমান দলগুলোর শক্তি ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য মডেল। বাস্তবে বিশ্বকাপের ফলাফল নির্ভর করে খেলোয়াড়দের ফর্ম, ইনজুরি, ড্র, ম্যাচের কৌশল এবং মাঠের পারফরম্যান্সসহ অসংখ্য বিষয়ের ওপর।

বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে অনেক দেশের

তবে এই পূর্বাভাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য শিরোপা জয় নয়। বরং ইউরোপের দলগুলো না থাকলে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে এমন অনেক নতুন দেশের নাম।

ইউরোপের জাতীয় দলগুলো বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকা বিপুলসংখ্যক জায়গা খালি হয়ে যাবে। ফলে অন্যান্য মহাদেশের অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দলগুলোর সামনে বিশ্বকাপ খেলার বড় সুযোগ তৈরি হবে।

সুপারকম্পিউটারের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, গুয়াতেমালা, বাহরাইন, উগান্ডা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মোজাম্বিক ও মাদাগাস্কারের মতো দেশগুলো বিশ্বকাপে অভিষেক করতে পারে। এসব দেশের জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার খেলার সুযোগ তৈরি হলে তা হবে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন।

বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ইউরোপের দলগুলোর অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারে। এর ফলে টুর্নামেন্টের বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও প্রতিযোগিতার মান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

সেমিফাইনালে উঠতে পারে নাইজেরিয়া

পূর্বাভাসে আরও একটি বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে নাইজেরিয়ার নাম। ইউরোপের দলগুলো না থাকলে নাইজেরিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

এমনটা হলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নাইজেরিয়া হবে সেমিফাইনালে ওঠা দ্বিতীয় আফ্রিকান দল। আফ্রিকার ফুটবলে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার একমাত্র নজির তৈরি করেছে মরক্কো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তারা ইতিহাস গড়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় এবং প্রথম কোনো আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করে।

সেই ধারাবাহিকতায় নাইজেরিয়া সেমিফাইনালে উঠলে আফ্রিকান ফুটবলের জন্য তা হবে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের শক্তির ভারসাম্য

ইউরোপের দলগুলোর অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপের শক্তির ভারসাম্য যে পুরোপুরি বদলে যাবে, তা এই পূর্বাভাসেই স্পষ্ট। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির মতো দলগুলো বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই দলগুলো না থাকলে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি আফ্রিকা, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার দলগুলোর সামনে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ আরও বাড়বে। বিশ্বকাপের মূল পর্বে নতুন নতুন দেশের অংশগ্রহণও টুর্নামেন্টকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারে।

তবে অন্যদিকে ইউরোপের দলগুলো না থাকলে বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী জাতীয় দলগুলোর বড় একটি অংশই ইউরোপের। তাদের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বাস্তবে কি এমন বিশ্বকাপ সম্ভব?

ইউরোপের দলগুলোকে ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজনের এই সম্ভাব্য চিত্র মূলত একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উয়েফা ও ফিফার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ইউরোপের দেশগুলো বিশ্বকাপ বয়কট করবে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো নেই।

তাই সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাসকে বাস্তব ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্ভাব্য মডেল, যেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি করে তার সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তবে এই পূর্বাভাস একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে ইউরোপের দলগুলো সরে দাঁড়ালে টুর্নামেন্টের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। একদিকে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মতো দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে, অন্যদিকে নাইজেরিয়ার মতো দল সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়তে পারে। একই সঙ্গে গুয়াতেমালা, বাহরাইন, উগান্ডা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মোজাম্বিক ও মাদাগাস্কারের মতো দেশগুলোর সামনে খুলে যেতে পারে বিশ্বকাপের দরজা।

সব মিলিয়ে, ইউরোপের দলগুলোকে ছাড়া ২০৩০ বিশ্বকাপ হলে সেটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ফুটবল মহাযজ্ঞ, যেখানে পুরোনো শক্তির পাশাপাশি নতুন দেশগুলোর উত্থান দেখা যেতে পারে। আর সেই কাল্পনিক বিশ্বকাপে সুপারকম্পিউটারের হিসাবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠতে পারে আর্জেন্টিনার মাথায়, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে।

নিয়ম ভঙ্গের দায়ে চেলসিকে এক কোটি পাউন্ড জরিমানা

0

নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কাছ থেকে এক কোটি পাউন্ড জরিমানা গুনতে হচ্ছে চেলসিকে। একই সঙ্গে ক্লাবটির ওপর টানা দুই ট্রান্সফার উইন্ডোতে খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, সেই শাস্তি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এফএ জানায়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের তদন্তে চেলসির বিরুদ্ধে আনা ৭৪টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। শুরুতে ক্লাবটির ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তি দেওয়া হলেও আপিলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এর পরিবর্তে দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ফুটবল এজেন্ট ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ এবং খেলোয়াড়দের চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে চেলসির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এফএ। সংস্থাটির দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এর বেশির ভাগই ঘটেছে রোমান আব্রামোভিচের মালিকানাধীন সময়ে, বিশেষ করে ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুমের মধ্যে।

এফএর ভাষ্য অনুযায়ী, শুনানি শুরুর আগেই চেলসি ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ স্বীকার করে নেয়। এরপর স্বাধীন কমিশন ক্লাবটিকে এক কোটি পাউন্ড জরিমানা এবং ছয় পয়েন্ট কর্তনের স্থগিত শাস্তি দেয়। পরে আপিল বোর্ড পয়েন্ট কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য স্থগিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তবে এফএ জানিয়েছে, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

২০২২ সালে চেলসির মালিকানা পরিবর্তনের পর এসব বিষয় সামনে আসে। নতুন মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো ক্লাবটি অধিগ্রহণের সময় অতীতের আর্থিক লেনদেনে সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করে। এরপর তারা স্বেচ্ছায় বিষয়টি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ ও উয়েফাকে জানায়।

চেলসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফএর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। ক্লাবটির দাবি, শুরু থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং স্বেচ্ছায় হাজার হাজার নথি সরবরাহ করেছে। একই ঘটনায় এর আগে উয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেও সমঝোতায় পৌঁছেছিল ক্লাবটি।

টিভিতে আজকের খেলা, ০১ আগস্ট ২০২৬

টিভিতে দেখা যাবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ ছাড়াও গ্লোবাল সুপার লিগ।

ক্রিকেট
গ্লোবাল সুপার লিগ
কোয়ালিফায়ার
সরাসরি, সকাল ৬টা, টি স্পোর্টস

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
কলম্বো-গল
সরাসরি, রাত ৮টা, টি স্পোর্টস

ফুটসাল লিগ
সরাসরি, বেলা ৩টা, টি স্পোর্টস ইউটিউব

বিপাকে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো – পদত্যাগ করেছেন সিনিয়র উপদেষ্টা

0

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রস্তাবিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন, এএফসি। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এএফসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাও এখন প্রকাশ্য আলোচনায় এসেছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই ফিফা সভাপতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে তার সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরোর পদত্যাগ। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক প্রধান এই কর্মকর্তা।

কর্দেইরো বলেন, “ফিফা সভাপতির সিনিয়র উপদেষ্টা, সাবেক ব্যাংকার এবং আজীবন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমি ফিফার বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করার সময় নীরব থাকতে পারি না। এই প্রস্তাবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি।”

তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনা ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য খারাপ চুক্তি, ফুটবলের জন্য খারাপ এবং খেলাটির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।

ফিফা প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর অবস্থানের পরই কর্দেইরোর পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি নিয়ে তারা একটি “উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক” পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে।

ফিফার পরিকল্পনার বিষয়ে এএফসি এক বিবৃতিতে উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেছে, প্রস্তাবটি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ৪৭টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত এএফসি বলেছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছানো, যেখানে বিশ্বকাপ বয়কটের বাস্তব সম্ভাবনা প্রকাশ্য আলোচনায় এসেছে—এটি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তাদের সবার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

এএফসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান ও সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল দেশও।

তবে ফিফা জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। সংস্থাটির দাবি, “কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।” ফিফা আরও বলেছে, এমন কোনো বিষয় তারা কখনোই বিবেচনা করবে না।

ফিফা জানিয়েছে, উয়েফা ও কনকাকাফের কাছ থেকে তারা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের কথা শুনেছে। এর মধ্যে কনকাকাফের ৪১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনই ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে ফিফার দাবি, কিছু ভুল সংবাদ প্রতিবেদনের কারণে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে নির্ধারিত পরামর্শ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।

ফিফা আরও বলেছে, তারা প্রকাশ্যে উঠে আসা উদ্বেগ ও মতামতকে সম্মান করে এবং একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করেই পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

কী আছে ফিফার প্রস্তাবে?

মঙ্গলবার ঘোষণা করা ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটি তাদের বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)-এর মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার ধরে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ২০২৭ সালের শুরুতে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার করে পেতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চক্রে প্রতিটি সদস্যের তহবিল বরাদ্দ ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।

এই পরিকল্পনার আওতায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারিত্ব কিনতে পারবে। তবে তারা সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবেই থাকবে বলে জানিয়েছে ফিফা।

উয়েফার কঠোর অবস্থান

ফিফার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি বহাল থাকলে তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

উয়েফার ভাষায়, “বিশ্বকাপকে কোনো বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।”

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো অবশ্য এই উদ্যোগকে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার “সুবর্ণ সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছেন, বিশ্ব ফুটবলে এমন একটি মডেলের কোনো জায়গা নেই। তার মতে, যাদের প্রধান লক্ষ্য আর্থিক মুনাফা সর্বোচ্চ করা, তাদের প্রত্যাশা দিয়ে ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে না।

সেফেরিন আরও বলেন, জাতীয় ফুটবল সংস্থা, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থ কখনোই বিনিয়োগকারীদের আর্থিক লাভের নিচে চলে যেতে পারে না। আর্থিক লাভের জন্য ফুটবল তার ভবিষ্যৎকে বন্ধক রাখতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও উয়েফার অবস্থানকে সমর্থন করে ফুটবলের অখণ্ডতা রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

মাঠের বাইরেও সমালোচনা

ফিফার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কে যোগ দিয়েছেন চেলসির স্প্যানিশ কোচ জাবি আলোনসোও। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সদস্য আলোনসো বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ খুব ভালো হয়েছে এবং কিছু বিষয় একইভাবে ধরে রাখা উচিত। ফুটবলের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে “ফিফার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভুল ব্যক্তি” হিসেবে মন্তব্য করেছেন এবং প্রস্তাবটিকে “আপত্তিকর” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সবশেষে, ফিফার অন্যতম বড় স্পনসর একটি বিয়ার ব্র্যান্ডও ব্যঙ্গাত্মক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিতর্কে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছে। বিশ্বকাপের ম্যাচে খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত বিরতির প্রসঙ্গ টেনে বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে—“জিয়ান্নি, হাইড্রেশন ব্রেক নেওয়ার সময় হয়েছে? সম্ভবত।”

ফলে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে ফিফার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল প্রশাসনের বিরোধ এখন আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একদিকে ফিফা পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের বিরোধিতা এবং ফিফার শীর্ষ পর্যায়ের একজন উপদেষ্টার পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন ফিফার এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়, নাকি আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলের তীব্র বিরোধিতায় তা থেকে সরে আসতে হয়—সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।

জাতীয় হকি খেলোয়াড়দের মানসিক দক্ষতা বাড়াতে শনিবার বিশেষ কর্মশালা

0

জাতীয় দলের হকি খেলোয়াড়দের মানসিক দক্ষতা ও মনোযোগ বাড়াতে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বিএইচএফ)। আগামীকাল শনিবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ‘ট্রেন ইয়োর মাইন্ড’ শীর্ষক এই মানসিক সক্ষমতা বিষয়ক কর্মশালা।

সকাল ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল পাওয়ার জন্য শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, মনোযোগ এবং আত্মবিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ, এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই কর্মশালাটি আয়োজন করা হচ্ছে।

কর্মশালায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে স্থির থাকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাঠে চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা এবং জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মানসিক সক্ষমতা বিষয়ক এই কর্মশালা শেষ হওয়ার পর শনিবার বিকেলেই অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করবে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ হকি দল। জার্মানির নবনিযুক্ত প্রধান কোচ পিটার গেরহার্ড রাচের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুরু হবে দলের নতুন ক্যাম্প।

আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও বিশেষ ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলাই এই ক্যাম্পের অন্যতম লক্ষ্য।

নতুন প্রধান কোচ পিটার গেরহার্ড রাচের অধীনে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে আধুনিক কোচিং পদ্ধতির পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএইচএফ। জার্মান এই অভিজ্ঞ কোচের নির্দেশনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে জাতীয় দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগের তুলনায় আরও ভালো ফল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরের আগে মানসিক দক্ষতা উন্নয়নের এই বিশেষ উদ্যোগ এবং নতুন কোচের অধীনে নিবিড় প্রশিক্ষণ জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ফেডারেশন। এখন নতুন কোচের অধীনে ক্যাম্পে নিজেদের প্রস্তুতি কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই দেখার বিষয়।

ক্যাম্প শুরু হলেও আল-নাসরে ফেরেননি রোনালদো, পর্তুগিজ তারকার অপেক্ষায় পুরো দল

0

নতুন মৌসুম শুরুর আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর। প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই যোগ দিয়েছেন। নতুন মৌসুমের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুশীলন ও প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে ক্লাবটি। তবে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো ক্যাম্পে যোগ না দেওয়ায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে পারছে না আল-নাসর।

গত ১৯ জুলাই পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে প্রাক-মৌসুম ক্যাম্প শুরু করে আল-নাসর। ক্যাম্পের শুরুতে কয়েকজন খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকলেও ধীরে ধীরে দলের সদস্যরা যোগ দিতে শুরু করেন। একে একে সবাই অনুশীলনে ফিরলেও এখন পর্যন্ত রোনালদোর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে সৌদি ক্লাবটি।

সৌদি সাংবাদিক রতিবান আল-দোসারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় লিসবনে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্স এবং সেনেগালের তারকা ফুটবলার সাদিও মানে। এর আগে বুধবার রাতে দলের অনুশীলনে যোগ দেন ডিফেন্ডার আব্দুলইলাহ আল-আমরি। ফলে আল-নাসরের স্কোয়াডে অনুপস্থিত থাকা খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমতে কমতে এখন মূলত রোনালদোকেই ঘিরে রয়েছে অপেক্ষা।

পর্তুগিজ এই মহাতারকা সর্বশেষ গত ৬ জুলাই পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করার পর থেকেই ছুটিতে রয়েছেন। দীর্ঘ ও ব্যস্ত মৌসুমের পর বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে নতুন মৌসুম শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। তাই রোনালদোর দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখন আল-নাসরের প্রস্তুতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, খুব শিগগিরই লিসবনে আল-নাসরের প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে যোগ দেবেন রোনালদো। তার ফেরার পরই পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুতির শেষ ধাপ শুরু করতে পারবে দলটি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে রোনালদোর উপস্থিতি নতুন মৌসুমের জন্য আল-নাসরের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন মৌসুমে আল-নাসরের সামনে রয়েছে একাধিক বড় লক্ষ্য। আগামী ১৫ আগস্ট আল-ফাতেহের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সৌদি প্রো লিগের নতুন মৌসুম শুরু করবে দলটি। গত মৌসুমে দীর্ঘ সাত বছর পর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে আল-নাসর। এবার সেই সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য তাদের।

তবে শুধু সৌদি প্রো লিগ নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বড় স্বপ্ন নিয়ে মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে আল-নাসর। প্রথমবারের মতো এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য রয়েছে ক্লাবটির। এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায় তারা। আর সেই অভিযানে দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম নিঃসন্দেহে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রোনালদো দলের আক্রমণভাগের প্রধান শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার গোল, নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা দলটির পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ফলে নতুন মৌসুমের শুরুতেই তার উপস্থিতি আল-নাসরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে একাধিক প্রতিযোগিতায় ভালোভাবে এগিয়ে যেতে হলে রোনালদোর সঙ্গে সতীর্থদের বোঝাপড়া এবং ম্যাচ ফিটনেসও দ্রুত ফিরে পাওয়া প্রয়োজন।

এদিকে প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে দলের বাকি খেলোয়াড়দের যোগ দেওয়ার বিষয়টি আল-নাসরের প্রস্তুতির জন্য ইতিবাচক খবর। জোয়াও ফেলিক্স ও সাদিও মানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় আক্রমণভাগে বিকল্প ও বৈচিত্র্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আব্দুলইলাহ আল-আমরির ফেরাও রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে।

সব মিলিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর আগে আল-নাসরের প্রস্তুতি প্রায় পূর্ণতার পথে। এখন শুধু দলের প্রাণভোমরা রোনালদোর ফেরার অপেক্ষা। পর্তুগিজ তারকা ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পরই নতুন মৌসুমের জন্য আল-নাসরের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু হবে। আগামী মৌসুমে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা ধরে রাখা এবং এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে রোনালদোর নেতৃত্বে আল-নাসর কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের আরচ্যারী উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়ার মহাসচিব

0


বাংলাদেশ সফরে এসে দেশের আরচ্যারীর অভূতপূর্ব উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়ার মহাসচিব জাসেম শাহীন আল-সুলাইতি। বর্তমানে টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে চলমান জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচ্যারী টুর্নামেন্ট পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান।

​এর আগে টঙ্গী প্রশিক্ষণ একাডেমিতে পৌঁছালে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
​
​জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জাসেম শাহীন আল-সুলাইতি জানান, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের প্রতিনিধি ও অ্যাথলেটদের কাছ থেকে তিনি খোঁজ নিয়েছেন। যাতায়াত, আবাসন থেকে শুরু করে বিমানবন্দর অভ্যর্থনা – সবকিছুতেই সবাই সন্তুষ্ট এবং টুর্নামেন্ট নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘যখন এত অ্যাথলেট ও কোচ থাকার পরও কারো কোনো অভিযোগ থাকে না, তার মানে আয়োজকরা শতভাগ সফল।’

​তিনি আরও বলেন, সাধারণত এশিয়ার যুবকদের জন্য আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পগুলো অনেক দূরে পূর্ব দিকে হয়ে থাকে। তবে এবার তা কেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশে নিয়ে আসায় এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অংশগ্রহণ করা সহজ হয়েছে। সময়ের ব্যবধান ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।
​
​বাংলাদেশের আরচ্যারীর অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়ার মহাসচিব বলেন, আরচ্যারির কঠিন মহাদেশ হিসেবে পরিচিত এশিয়ায় শীর্ষ চার বা পাঁচের মধ্যে থাকা একটি আশ্চর্যজনক অর্জন। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের বেশিরভাগ স্বর্ণপদকজয়ী সুপারস্টাররা এই অঞ্চলেই থাকেন। সেই প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং শীর্ষ স্তরের সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে। প্যারিস অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের পর গত অলিম্পিক চক্রের তুলনায় বাংলাদেশ আরও দ্রুত বিকাশ লাভ করছে বলে তিনি মনে করেন।

​বাংলাদেশে এর আগেও এসেছেন জানিয়ে জাসেম শাহীন আল-সুলাইতি বলেন, এ দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা তাকে পরিবারের কথা মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের নতুন নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশের আরচ্যারীকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন।