Home Blog Page 73

নতুন কুঁড়ির চ্যাম্পিয়ন কিসকুর মাকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির আশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

0

অনূর্ধ্ব পর্যায়ে আলো ছড়ানো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে রংপুর বিভাগকে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন তরুণ স্ট্রাইকার কিসকু। মাঠের পারফরম্যান্সে সে সেরা হলেও জয়ের আনন্দে ভাসার মুহূর্তে কিসকুর মনে লুকিয়ে ছিল এক গভীর আকুতি। এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে জানায়, তার মায়ের একটি নিজস্ব ফোন থাকলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই অভাবনীয় আনন্দটি প্রথমেই মায়ের সাথে ভাগ করে নিতে পারত।

কিশোরী এই ফুটবলারের এমন আবেগঘন বার্তা নজর এড়ায়নি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। কিসকুর আকুতির কথা জানতে পেরে তিনি ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে মায়ের সন্ধান

কিসকুর পরিবারে আনন্দের খবরটি পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শুরুতে কিছুটা বিপত্তি তৈরি হয়। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসা কিসকুর মাকে প্রথমে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে তাঁর খোঁজ মেলে।

ফোন, আর্থিক সহায়তা ও স্থায়ী কর্মসংস্থান

মিরপুরে প্রতিমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কিসকুর মায়ের হাতে একটি নতুন মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কিসকুর সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

জীবিকার অন্বেষণে ঢাকায় এলেও কিসকুর মা এতদিন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারেননি। এই মানবিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান:

“কিসকুর মাকে একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেন তিনি একটি নির্দিষ্ট আয়ের মাধ্যমে নিজে এবং সন্তানকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পারেন।”

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারিবারিক নিশ্চয়তা পাওয়ার পর কিসকু খেলায় আরও মনোযোগ দিতে পারবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুদূর এগিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় নৈশভোজের আমন্ত্রণ

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও একটি বড় সুখবর জানান। গত ২৭শে জুলাই জমকালো সমাপনী ও প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসর। সমাপনীর পরদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিসকুসহ আসরে বিজয়ী সকল খুদে ক্রীড়াবিদ এবং তাদের অভিভাবকদের রাষ্ট্রীয় বাসভবন ‘যমুনা’য় নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

বর্তমানে বিজয়ী সকল ক্রীড়াবিদ ও তাদের অভিভাবকদের সঠিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই তথ্য যাচাইকরণ শেষ হলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

যথাযথ পরিকল্পনা ও মান নিশ্চিত না হলে বিপিএল নয় – তামিম

0

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রয়োজনীয় সময়, সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্মত আয়োজন নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই কেবল দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

দেশের ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পরবর্তী আসর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। আগামী বিপিএল কবে এবং কীভাবে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এরই মধ্যে বুধবার রাতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বিপিএল নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন তামিম।

তিনি জানান, শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়োজন করার উদ্দেশ্যে বিপিএল আয়োজন করতে চান না তারা। বরং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক মান, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চান। সময়ের স্বল্পতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

তামিম বলেন, “শুধু আয়োজন করার জন্য আমরা বিপিএল আয়োজন করব না। আমার মনে হয়, আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় নেই। ভবিষ্যতে যদি বিপিএল আয়োজন করি, তাহলে সেটি যথাযথভাবে করব। যেভাবে একটি বিপিএল আয়োজন করা উচিত, সেভাবেই আয়োজন করব।”

বিসিবি সভাপতির এই বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়া তড়িঘড়ি করে বিপিএলের পরবর্তী আসর আয়োজনের পথে হাঁটতে চাচ্ছে না বোর্ড। ফলে আগামী আসর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবি আরও সময় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের ক্রিকেটের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনেও নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন তামিম ইকবাল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভায় তাকে আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই দায়িত্বকে নিজের এবং বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আইসিসির সভায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তামিম জানান, ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি অংশ নেন। এরপর ১১ ও ১২ জুলাই দুই দিন আইসিসির আনুষ্ঠানিক সভায় যোগ দেন। সেখানে অন্যান্য বোর্ড সদস্যদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার কথাও জানান তিনি।

তামিম বলেন, “আইসিসির সভা ভালো হয়েছে। ৯ জুলাই প্রথম অনানুষ্ঠানিক সভায় যোগ দিয়েছিলাম। এরপর ১১ ও ১২ জুলাই দুই দিন আনুষ্ঠানিক সভায় অংশ নিই। তারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমি বক্তব্য দিয়েছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছি।”

আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে নিজের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন তামিম। তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব লিগের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তামিম বলেন, “এটি আমার এবং দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। প্রথম দিনেই আমাকে একটি কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে।”

তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ চালু হচ্ছে। এসব লিগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, যা হওয়া উচিত নয়—এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করাই তার নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যতম দায়িত্ব।

তামিম আরও জানান, শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের তদারকিই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও এই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কমিটির সদস্যরা আলোচনা করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিপিএল আয়োজনের ক্ষেত্রে তামিমের এই অবস্থান বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে আরও গোছানো ও মানসম্মত করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পরবর্তী বিপিএলের সময়সূচি ও আয়োজন নিয়ে বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ইংল্যান্ডে বাড়ির নিরাপত্তায় লিসান্দ্রো-অ্যালিস্টার

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড- আর্জেন্টিনা ম্যাচ উত্তেজনা

বিশ্বকাপ যেন শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ। কোন না কোন ভাবে বিশ্বকাপের রেশ যেন ফিরে আসছেই এই যেমন আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের কথাই ধরুন, বিশেষ করে লিাসান্দ্রো মার্তিনেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিশ্বকাপ রেশ যেন অনেকটাই বিরক্তির কারণ, বিশ্বকাপ শেষ করে তাদের যে ফিরতে হয়েছে ইংল্যান্ডে যে ইংল্যান্ডের সাথে সেমিফাইনালের ম্যাচ নিয়ে তুমুল বাক যুদ্ধ আর সাইবার ফুটবল লড়াই থেকে শুরু করে ফকল্যান্ড লড়াই সব রকম লড়াইটা হয়েছিল ফাইনালে পৌঁছার জন্য‍ তবে সেই যুদ্ধটা দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে সেমিফাইনাল শেষে খেলোয়াড়রা যখন ‘ফকল্যান্ড’ আর্জেন্টিনার, ব্যানার নিয়ে মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন সেই একটা বিষয়ই ইংল্যান্ডের পরাজয়ে ঘি ঢেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল, বাস্তবে হয়েছেও তাই। লিসান্দ্রো ও অ্যালিস্টার যেহেতু ক্লাব ফুটবলে ইংল্যান্ডে খেলেন তাই ‘ইংল্যান্ডে বাড়ির নিরাপত্তায় লিসান্দ্রো-অ্যালিস্টার’ বেশী চিন্তিত ছিলেন।

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে তাই আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের বাড়িতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছিলেন।  

আর্জেন্টিনার জয়ের পর ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা এবং ফকল্যান্ডস/মালভিনাস ইস্যুতে বিতর্কিত উদযাপনের পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে তাদের বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজ-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: ২০২২ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর দলের গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলছেন। প্রিমিয়ার লিগেই তাঁর ৭৬টি ম্যাচ রয়েছে; ক্লাবটির হয়ে ১১০ ম্যাচে ৩টি গোল করেছেন। কারাবাও কাপ, এফ এ কাপে জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চোটের কারণে অবশ্য বেশ কিছু ম্যাচ তিনি মিসও করেছেন।

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার—লিভারপুল: ২০২৩ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর মিডফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। তিনি দলের মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ, বল পুনরুদ্ধার, পাসিং ও আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫০ ম্যাচ খেলে ১৯টি গোল করে ক্লাবকে এফ এ কাপ ও প্রিমিয়ার লিগ জয়ে মধ্যমাঠে বেশ ভাল ভূমিকা পালন করেছেন।  

ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিজের বাড়িতে থাকতেন এই দুই ফুটবলার। দুজনই ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তারা সকল নিরাপত্তার সাথে আরো ক্লাব ফুটবলের মাঠে অবদান রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা।

ফিফার ফুটবল বিক্রি, সমালোচনার ঝড়, কেউ ফুটবল বিক্রি করছেনা- ফিফা

এফএফই এর মাধ্যমে ফুটবল বানিজ্যকরণ

বিশ্বকাপ ক্লাব বিশ্বকাপ বা ফিফার নিজস্ব টুর্নামেন্টগুলোর শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতিবাদ: ফিফার এ প্রস্তাবের প্রতিবাদে সংস্থাটির অধীনে থাকা ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ (অ্যাসোসিয়েশন) বৃহস্পতিবার একযোগে ভোট দিয়ে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনক্যাকাফও জানিয়েছে, তাদের ৪১টি সদস্যদেশ ফিফার এ পরিকল্পনা একবাক্যে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।

ফিফার বিবৃতি: অবস্থা বেগতিক দেখে বাধ্য হয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে এক বিবৃতিতে ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ‘গণমাধ্যমের কিছু ভুল প্রতিবেদনের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে তথ্য ও সত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন যেন তাদের মতামত বা ভোট প্রদান করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই আমরা এ আলোচনাপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাব।’

ফিফা দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করে বলে ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। ‘ফিফা এমন চিন্তাভাবনা কখনো প্রশ্রয় দেবে না’।

এফএফ ই কি: ফিফা বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায়। আর সেই নতুন প্রতিষ্ঠানেই বহিরাগত বা তৃতীয় পক্ষকে শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে নিউজ হওয়ায় এই তোলপাড়।

ফিফা ভোট: ফিফার এফএফই বাস্তবায়ন করতে ফিফার সদস্য দেশ মোট ২১১টি তাদের ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়ে চাইলেই ফিফা সহজেই তা বাস্তবায়ন করতে পারবেনা, প্রস্তাবটি পাস করতে অন্তত ১০৬টি ভোটের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ইতিমধ্যে উয়েফা ও কনক্যাকাফ মিলিয়ে যৌথভাবে ৯৬টি দেশের অ্যাসোসিয়েশন এ প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সারকথা হল ফিফা চাইলেই এই এফএফই বাস্তবায়ন করতেপারবেনা ২১১টি দেশের মোট ১০৬ দেশের প্রয়োজন পড়বে ভোটে পাস হওয়ার জন্য এই ২ দিনেই যে পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে আরে কিছু দেশ এর বিরোধীতা করার সম্ভাবন আছে। আবার ফিফা যদি দেশগুলোকে ম্যানেজ করে আর্থিক সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে ভোট নিতে পারে সেটাও চিন্তার বিষয়। আসল কথা হল ফিফা এই নীতি বাস্তবায়ন করলেও নিজের ব্যবসাটা আগে ভাল ভাবে চিন্তা করবে নিজের স্বার্থ এবং ফিফা স্টেক হোল্ডারদের।তাই ব্যাটারটা যেমন সহজ নয় আবার বর্তমান বিশ্বের কথা চিন্তা করলে কঠিন ও নয়। ফুটবল থেকে আয় ইনকাম বাড়াতে ফ্রান্স ও স্পেনের কিছু লিগ এভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এটা অনেকটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর মত। তবে এটাও কিন্তু ফিফাকে মনে রাখা দরকার ১২২ বছর ধরে ফিফা পরিচালিত হয়ে আসছে দাতব্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। হুট করেই এফএফই নীতেতে ফিফার শেয়ার বিক্রি করা সম্ভব নয়।

ফিফার নতুন পরিকল্পনা ঘিরে বাড়ছে বিরোধিতা

0

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব দেওয়ার ফিফার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের ৪১টি সদস্যদেশ সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার মতো বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়নি কনকাকাফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যে সীমিত সময় দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কনকাকাফের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিফার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও পরিচালনা কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আগেই এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এত বড় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের পরও কেন ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য নতুন করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন হচ্ছে। কনকাকাফের মতে, নতুন বিনিয়োগ আনার আগে ফিফার বিদ্যমান বিপুল আর্থিক রিজার্ভ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

চলতি সপ্তাহেই ফিফা ঘোষণা দেয়, বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপসহ তাদের প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ওই প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

তবে ঘোষণার পর থেকেই পরিকল্পনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর আগে উয়েফা সতর্ক করে জানিয়েছিল, ফিফা পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে তারা বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

কনকাকাফ, যার সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশগুলোও, এখন ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে-যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন সংবিধান অনুযায়ী ফিফা কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়।

সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছে, ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং এর ভবিষ্যৎ ফুটবল পরিবারের হাতেই থাকা উচিত। একই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইউএসএসএফ জানিয়েছে, কনক্যাকাফ এবং এর সদস্যদেশগুলোর অবস্থানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

এমবাপ্পে নাকি ইয়ামাল কে বেশী ট্রফি জিতেছেন।

0

ক্রিয়েটর বনাম ওয়াইল্ড ফিনিশার

বিশ্বকাপ শেষ, তবে বিশ্বকাপের রেশ যেন শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। কারণ ভক্তদের নানা চাওয়া থেকে পাওয়ার যেন শেষ নেই। খেলোয়াড়দের চেয়ে ভক্ত সমর্থকরাই যেন তার প্রিয় ফুটবলারদের কাছে বেশী পেতে চান আর সেটা হল পারফরম্যান্স গোল অথবা জয় এ কারণেই খেলোয়াড়রা তাদের সাধ্যমত দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন বিশ্ব মঞ্চে। বিশ্বকাপে নতুনদের যেমন আগমনী বার্তা থাকে তেমনী আবার পুরনোরা অভিজ্ঞতা বলে হয়ে উঠেন ম্যাচ উইনার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এইসব ম্যাচ জয়ী তারকাদের মধ্যে স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও ফ্রান্সের এমবাপ্পে ছিলেন মেসির পরেই লাইম লাইটের আলোতে। আর এসব কারনেই মধুর তর্ক আর বাক যুদ্ধে নেমে পড়ে দর কষাকষি করে তাদের সমর্থকরা যে “এমবাপ্পে নাকি ইয়ামাল কে বেশী ট্রফি জিতেছেন” আর তাই ট্রফির হিসেব কষে আমরাও দেখবো আসলেই ফুটবল ক্রিয়েটর বনাম ওয়াইল্ড ফিনিশারের দ্বৈরথে কে এগিয়ে।

বিশ্বকাপ জয়ের পর এমবাপ্পে

খেলার ধরনে ভিন্নতা:

বিশ্বকাপে দু-জনার প্লেইং রোল প্রায় একই ধরনের হলেও খেলার ধরনে কিছুটা ভিন্নতাও ছিল। যেমন ইয়ামালে রাইট উইঙ্গারে খেলে থাকেন অপরদিকে এমবাপ্পে লেফট উইঙ্গার ও স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেন। ইয়ামালের খেলার মূল শক্তি হল ড্রিবলিং, ক্রিয়েটিভিটি ও সুযোগ তৈরী করা অপরদিকে এমবাপ্পে তার গতি, ফিনিশিং এ গোল করতে অভ্যস্ত। ইয়ামালের ড্রিবলিং এ ছোট জায়গায় বল পায়ে রেখে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে জাগয়া বের করতে পারার মুন্সিয়ানা আছে, আর এমবাপ্পে গতি ব্যবহার করে ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলেন। ইয়ামাল সতীর্থকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে বেশি দক্ষ, এমবাপ্পে নিজেই গোল করার ক্ষেত্রে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেন।

আক্রমনের ধরন: ইয়ামাল ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে খেলা বানিয়ে দেন। এমবাপ্পে বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিজেই গোলের দিকে ছুটে যান। পাসিং; ক্রস, কাটব্যাক ও থ্রু পাসে দুর্দান্ত। এমবাপ্পে পাসিং এ ভাল তবে গোল মুখে আক্রমন বেশী করেন। ফাইনাল থার্ডে লামিনে সতীর্থকে দিয়ে গোল করান, এমবাপ্পে নিজেই গোল করতে ভালো বাসেন।

ইয়ামালের ফিনিশিং উন্নতিশীল আর এমবাপ্পে ইতি মধ্যে প্রমানিত হয়েছেন সারাবিশ্বে। শারিরিক বৈশিষ্ট্য ইয়ামালের যেমন তাতে সে টেকনিক ও বুদ্ধিদীপ্ত খেলায় বেশি নির্ভরশীল আর এমবাপ্পে গতি ও শক্তির অসাধারণ সমন্বয়ে বেশ পারদর্শী। এক কথায় বলা যায় ইয়ামাল হলেন ক্রিয়েটর আর এমবাপ্পে ওয়াইল্ড ফিনিশার। তবে ইয়ামাল বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোলস্কোরিংয়ে আরও কার্যকর হয়ে উঠছেন, আর এমবাপ্পেও শুধু গোলস্কোরার নন-প্রয়োজনে আক্রমণ তৈরি করতেও পারেন।

ট্রফি জয়ের পর ইয়ামাল

বিশ্বকাপ জয়: ২০১৭ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলে অভিষেকের পর এমবাপ্পে ১০৬ ম্যাচে ৬৬ গোল করেছেন আর লামিনে ইয়ামালের স্পেন জাতীয় দলে ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়ার পর ৩৩ ম্যাচ খেলে ৭ গোল কটরেছেন। দুজনেই বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য হয়েছেন। এমবাপ্পে ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ জিতে স্পেনের হয়ে ইয়ামাল।

ট্রফি জয়ে কে এগিয়ে: কিলিয়ান এমবাপ্পের আন্তর্জাতিক খেলা শুরুর ৬ বছর পর লামিনে ইয়ামালের অভিষেক হয়েছে আর এরই মধ্যে ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মোট ৮টি বড় ট্রফি জিতেছেন জাতীয় দল ও ক্লাবের সিনিয়র দলের হয়ে যথা- লা লিগা-৩ বার, কোপা দেল রে-১ বার, স্প্যানিশ সুপার কাপ-২ বার, ইউরো-১ বার এবং বিশ্বকাপ-১ বার। অপরদিকে এমবাপ্পে জাতীয় দল ও সিনিয়র ক্লাব দলের হয়ে মোট ২১টি ট্রফি জিতেছেন যথা- জাতীয় দলের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ও উয়েপা নেশন্স লিগ। ক্লাব ফুটবলে মোনাকোর হয়ে লিগ-১ একবার, পিএসজির হয়ে লিগ-১ ৬বার, কুপ দে ফ্রান্স ৪ বার, কুপ দেলা লিগ ২ বার, ফরাসি সুপার কাপ ৩ বার, অপরদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বাপ্পে ৩টি শিরোপা ঘরে তুলেছেন যথা- উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ।

যেখানে এগিয়ে ইয়ামাল: আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর ইয়ামাল তার ক্যারিয়ারের সবগুলো অর্থাৎ ৮টি শিরোপা জিতেছেন আর এই সময়ে এমবাপ্পে জিতেছেন ৬টি আরেকটু খোলাসা করা যাক ব্যাপারটি। ২০২৩ সাল থেকে এমবাপ্পে মোট ৬টি শিরোপা জিতেছেন আর ইয়ামাল তার ক্যারিয়ারের সবগুলোই ৮টি জিতেছেন একই সময়ের মধ্যেই। তবে এই হিসেবটা মুখ্য নয়। কারণ ট্রফি জয়ের হিসেব করলে অভারঅল পুরো ক্যারিয়ারের সবগুলো ট্রফির হিসেবই ধরা হবে।  

সারকথায় বলা যায় এমবাপ্পে খুবই ডিসিপ্লিন ফুটবলার হিসেবে সামনে হয়তো আরো ২টি বিশ্বকাপ তিনি খেলবেন বর্তমান বয়স ২৭ বছর, আর ক্লাব ফুটবল তো আছেই। অপরদিকে ইয়ামালের বয়স মাত্র ১৯ এই বয়সে ৮টি শিরোপা কম ব্যাপার নয় সামনে আরো ৩টি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে যদি তিনি ডিসিপ্লিন থাকেন। এ কারণেই বলা যে তিনি এখনই যেভাবে চলাফেরা করছেন তাতে তার লাইফ স্টাইল অনেকটাই নেইমারের মত মনে হচ্ছে। ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করতে না পেরে আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে তার ক্যারিয়ার। তবে এমবাপ্পে ও ইয়ামাল দু-জনেই বিশ্ব ফুটবলের মহা তারকা তাতে কোন সন্দেহ নেই দু-জনের জন্যই রইল শুভ কামনা।

বিশ্বকাপে ১০ নয়, খেলবে ১৪ দেশ

0

বিশ্বকাপ ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টার শেষ নেই। আগামী বছরের ক্রিকেট বিশ্বকাপকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বড় পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগের আসরের ১০ দলের পরিবর্তে এবার অংশ নেবে ১৪টি দেশ। শুধু দলই বাড়ছে না, বাড়ছে ম্যাচের সংখ্যাও। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী সেমিফাইনালের আগে তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট।

বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের নতুন কাঠামো প্রকাশ করেছে আইসিসি। নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোর জন্য আগের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের নাম রাখা হয়েছে ‘সুপার সিরিজ’। এই পর্বে র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নিচের দিকে থাকা তিনটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। তিন দলের মধ্যে শীর্ষে থাকা দলটি মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।

দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে মোট ১২টি দল। এর মধ্যে থাকবে সরাসরি জায়গা পাওয়া ১১টি দল এবং সুপার সিরিজ থেকে উঠে আসা একটি দল। ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল। গ্রুপপর্বে প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য পাঁচ দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল এবং দুই গ্রুপ মিলিয়ে সেরা চতুর্থ স্থান অধিকারী দল জায়গা করে নেবে পরবর্তী পর্বে।

তিন দেশে আয়োজিত হবে ২০২৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেট

তৃতীয় পর্বের নাম ‘সুপার সেভেন’। এখানে সাতটি দল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ পাবে।

সেমিফাইনালে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দুই দল। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা লড়বে বিশ্বকাপের ফাইনালে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকায় ভারতের মতো দলগুলোকে প্রথম পর্বে খেলতে হবে না। তারা সরাসরি দ্বিতীয় পর্ব থেকে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপপর্বে অন্তত পাঁচটি এবং সুপার ৭-এ আরও ছয়টি ম্যাচ খেলবে তারা। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠতে পারলে ভারতের মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি।

নতুন এই ফরম্যাটের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি, বেশি ম্যাচ আয়োজন এবং প্রতিযোগিতার মান আরও উন্নত করাই আইসিসির মূল লক্ষ্য। এর ফলে বিশ্বকাপ আরও দীর্ঘ, আকর্ষণীয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

‘মেসি, অবসর নিও না’-বলিভিয়া কিংবদন্তির আবেগঘন আবেদন

0

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক এখনো জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। আর সেই নীরবতার মাঝেই মেসিকে ঘিরে আবেগঘন এক আবেদন জানিয়েছেন বলিভিয়ার সাবেক ফুটবলার ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সদস্য মার্কো অ্যান্টোনিও।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া রেডিও অনুষ্ঠান ‘সুপার দেপোর্তিভো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্টোনিও বলেন, তিনি মেসিকে ২০৩০ বিশ্বকাপেও দেখতে চান। তাঁর বিশ্বাস, ফুটবল এখনও এমন এক প্রতিভাকে হারানোর জন্য প্রস্তুত নয়।

আবেগভরা কণ্ঠে বলেন বলিভিয়ার সাবেক এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি ওকে পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলতে দেখছি। আশা করি সে অবসর নেবে না। তাকে অবশ্যই পরবর্তী বিশ্বকাপে থাকতে হবে।’

মেসির প্রশংসায় অ্যান্টোনিও

বিশ্বকাপজুড়ে মেসির পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসাও করেন অ্যান্টোনিও। তাঁর মতে, ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারী ফুটবলার যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা বিস্মিত করেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।

অ্যান্টোনিওর ভাষায়, ‘আমার কাছে এটি মেসির সেরা বিশ্বকাপ। আগের যেকোনো আসরের তুলনায় এবার সে আরও পরিণত, আরও প্রভাবশালী ছিল। বাকি সব খেলোয়াড়ের চেয়ে তার পারফরম্যান্সের মান ছিল অনেক উঁচুতে।’

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি শুধু নেতৃত্বই দেননি, মাঠেও ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। টানা আট ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েন। পুরো আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হলেও মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি

মেসির অবসর ঠেকাতে অভিনব এক প্রস্তাবও দিয়েছেন অ্যান্টোনিও। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে অন্তত ১০ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে মেসিকে জাতীয় দলে খেলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো উচিত।

এফএম দেল সোলকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষকে নিয়ে একটি চিঠি লেখা উচিত। সবাই স্বাক্ষর করবে এবং তাকে বলবে-অবসর নিও না। ভাবুন তো, মেসিকে ছাড়া বিশ্ব ফুটবল কেমন হবে? অনেক কিছুই আগের মতো থাকবে না। আমার বিশ্বাস, মেসিও এখনো অবসর নিতে চান না।’

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই তারকাকে ঘিরে এমন আবেগ নতুন নয়। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড, শিরোপা ও স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন মেসি। তাই প্রতিপক্ষ দেশের একজন সাবেক বিশ্বকাপারের মুখেও যখন শোনা যায়, ‘মেসিকে ছাড়া বিশ্ব ফুটবল অসম্পূর্ণ’, তখন বোঝা যায় তাঁর প্রভাব কোনো দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়।

টিভিতে আজকের খেলা: ৩১ জুলাই ২০২৬

গ্লাসগোতে চলছে কমনওয়েলথ গেমস। ইংল্যান্ডে চলছে দ্য হানড্রেড। ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগে মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া।

কমনওয়েলথ গেমস
৯ম দিন
বেলা ১টা, সনি স্পোর্টস ২

ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ
নেদারল্যান্ডস–নামিবিয়া
বেলা ৩টা, ফ্যানকোড

দ্য হানড্রেড
সুপার জায়ান্টস–রকেটস (নারী)
রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ২

সুপার জায়ান্টস–রকেটস (পুরুষ)
রাত ১১–৩০ মি., রাত ১১–৩০ মি.

ফিফার বিরুদ্ধে উয়েফার হুঁশিয়ারি,  বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা!

0

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এবার সেই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের পথে হাঁটতে পারে।

জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত উয়েফাভুক্ত কোনো জাতীয় দল ফিফার টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।

এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। কারণ সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে ইউরোপীয় দলগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। সর্বশেষ আসরের আট কোয়ার্টার ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের।

স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক মানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক আকর্ষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে মনে করছে উয়েফা।

সম্প্রতি ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল, যার নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-৩১ মেয়াদে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি সমর্থনকারী সদস্যদেশগুলোকে এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে প্রস্তাবটি অনুমোদন না পেলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে। অর্থাৎ সমর্থন না দেওয়া সদস্যদেশগুলো সম্ভাব্যভাবে ৩ কোটি ডলার কম অর্থ পাবে। উয়েফার অভিযোগ, এই আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সামনে এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে। হয় বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিতে হবে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং চাপ প্রয়োগের কৌশল।’

উয়েফার মতে, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা যাবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশ নেবে, সেদিন থেকে সিদ্ধান্তগুলো ফুটবলের স্বার্থে নয়, বরং শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হবে।’

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের প্রধান লক্ষ্য লাভের পরিমাণ বাড়ানো। বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের সম্পদ, এটি বিক্রির কোনো পণ্য নয়।’

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের সমর্থনও প্রয়োজন। তাই ইউরোপের বাইরে অন্যান্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায় এখন উয়েফার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।