Home Blog Page 95

ফকল্যান্ডস ব্যানার নিয়ে উদযাপন করায় শাস্তির ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা

আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হাতে দেখা যায়, ‘দ্য ফকল্যান্ডস আর আর্জেন্টাইন’ লেখা একটি ব্যানার। দর্শকাসন থেকে নেওয়া ব্যানারটি মাঠে প্রদর্শনের পরই শুরু হয়েছে আলোচনা। রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী এই ব্যানারের কারণে ফিফার তদন্ত ও শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক, আদর্শিক বা বিতর্কিত বার্তা বহনকারী কোনো ব্যানার, স্লোগান বা অঙ্গভঙ্গির দায় সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থাকেই নিতে হয়। এমন ঘটনায় সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, পুরস্কারের অর্থ ফেরত কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে।

এছাড়া ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত চলাকালে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ‘যে লাফাবে না, সে ইংরেজ’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও নজরে এসেছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংগীতের সময় এমন আচরণের কারণেও জরিমানার মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা।

সব বিতর্কের মধ্যেই এখন ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি জিততে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধে জয়ী হয়ে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রিটেন, যদিও আর্জেন্টিনা এখনো সেগুলোর ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে।

মেসির জীবনের উত্থানের গল্প – কীভাবে হলেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি?

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রভাব শুধু মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের সাফল্য, ব্যক্তিত্ব এবং জীবনসংগ্রাম কোটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি সেই বিরল ক্রীড়াবিদদের একজন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারের গল্প আজ বিশ্বজুড়ে অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক।

লিওনেল মেসি শুধু আর্জেন্টিনার নন, তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি। দারিদ্র্য, গ্রোথ হরমোনের সমস্যা এবং কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে কীভাবে তিনি বিশ্বকাপজয়ী ও সর্বকালের অন্যতম সফল ফুটবলার হয়ে উঠলেন, সেটিই জানবেন এই নিবন্ধে। এখানে তুলে ধরা হয়েছে লিওনেল মেসির জীবনী, শৈশব, পরিবার, ক্যারিয়ার, রেকর্ড, অর্জন এবং তার সাফল্যের পেছনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

রোজারিওর সেই ছেলেটি

লিওনেল আন্দ্রেস মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের রোজারিও শহরে। তার বাবা হোর্হে মেসি একটি স্টিল কারখানায় কাজ করতেন এবং অবসরে স্থানীয় একটি ফুটবল দলের কোচিং করাতেন। মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

অর্থনৈতিকভাবে পরিবারটি মধ্যবিত্ত হলেও সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে বাবা-মায়ের কোনো কমতি ছিল না। ছোটবেলা থেকেই মেসির সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী ছিল একটি ফুটবল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুযোগ পেলেই তিনি বল নিয়ে খেলতে বেরিয়ে যেতেন। অন্য শিশুরা যখন বিভিন্ন খেলনায় ব্যস্ত থাকত, তখন মেসির আনন্দ ছিল ফুটবল নিয়েই।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি স্থানীয় ক্লাব গ্রানদোলিতে ফুটবল খেলা শুরু করেন। সেখানে তার প্রথম কোচ ছিলেন তার নিজের বাবা। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কোচ ও দর্শকেরা বুঝতে পারেন, এই ছোট্ট ছেলেটির মধ্যে রয়েছে অসাধারণ প্রতিভা।

শৈশবের কঠিন লড়াই

মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি আসে মাত্র ১০ বছর বয়সে। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি Growth Hormone Deficiency (GHD) এ আক্রান্ত। এই সমস্যার কারণে তার স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছিল।

চিকিৎসা ছিল দীর্ঘমেয়াদি এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতি মাসে ইনজেকশন ও চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, হয়তো মেসির ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। বার্সেলোনার স্কাউটরা তার অসাধারণ প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হন এবং তাকে স্পেনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু চুক্তিই নয়, তার চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্বও নেয় ক্লাবটি। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস বদলে দেয়।

বার্সেলোনায় নতুন জীবন

২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসি পরিবারসহ স্পেনে চলে যান। নতুন দেশ, নতুন ভাষা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। বন্ধু, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে আসার কষ্টও তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছিল।

তবে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর খুব দ্রুতই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি কোচদের আস্থা অর্জন করেন।

সেই সময় একাডেমির কোচরা বলতেন, মেসির বিশেষত্ব শুধু তার ড্রিবলিংয়ে নয়; বরং বল পায়ে থাকাকালীন মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায়। এই গুণই তাকে ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকার ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত করে।

পরিশ্রমই তার বড় শক্তি

প্রাকৃতিক প্রতিভা মেসির ছিল, কিন্তু তিনি কখনো সেটির ওপর নির্ভর করে বসে থাকেননি। অনুশীলনে তিনি ছিলেন সবচেয়ে মনোযোগী খেলোয়াড়দের একজন। সতীর্থদের মতে, দলীয় অনুশীলন শেষ হওয়ার পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফ্রি-কিক, ফিনিশিং এবং বল নিয়ন্ত্রণের আলাদা অনুশীলন করতেন।

এই অতিরিক্ত পরিশ্রমই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ফুটবল ইতিহাসে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় এসেছেন, কিন্তু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি। মেসি সেই ব্যতিক্রম, কারণ তিনি প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছেন।

বাস্তব জীবন থেকে শেখা

লিওনেল মেসির জীবনের গল্প শুধু ফুটবলের নয়; এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার উৎস। যে শিশু শারীরিক সমস্যার কারণে স্বপ্ন হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল, সেই মানুষটিই পরবর্তীতে বিশ্বকাপ জয় করেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

এই কারণেই মেসির জীবন তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে-প্রতিকূলতা কখনো স্বপ্নের শেষ নয়। সঠিক সুযোগ, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল একাডেমিতে মেসির গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তার ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, সাফল্য একদিনে আসে না; এটি বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠা, ধৈর্য এবং আত্মত্যাগের ফল।

লিওনেল মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-প্রতিকূলতা কখনো স্বপ্নের শেষ নয়। ছোটবেলায় গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো আর পেশাদার ফুটবলার হতে পারবেন না। চিকিৎসার খরচ ছিল এতটাই বেশি যে তার পরিবারের পক্ষে তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মেসি হতাশ হননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, কঠোর পরিশ্রম একদিন সব বাধা দূর করবে।

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, তিনি সবসময় নিজের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়েছেন। অন্যের সমালোচনা বা সন্দেহ তাকে কখনো থামাতে পারেনি। এই আত্মবিশ্বাসই তাকে ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারে পরিণত করেছে। আজ তার গল্প শুধু ফুটবলারদের জন্য নয়, জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সফল হতে চাওয়া মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।

লিওনেল মেসি কেন এতটা ব্যতিক্রম?

বিশ্ব ফুটবলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। কিন্তু লিওনেল মেসিকে আলাদা করেছে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, অসাধারণ মানসিক শক্তি এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্ব। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়া খুব কম ফুটবলারের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।

মাঠে প্রতিপক্ষের জন্য তিনি যতটা ভয়ংকর, মাঠের বাইরে ঠিক ততটাই শান্ত ও সাধারণ জীবনযাপন করেন। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তানকে নিয়ে সময় কাটাতে তিনি ভালোবাসেন। ব্যস্ত ক্যারিয়ারের মাঝেও পরিবারের প্রতি তার এই দায়বদ্ধতা অনেকের কাছেই অনুসরণীয়।

বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক

লা মাসিয়ায় ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর খুব দ্রুতই বার্সেলোনার সিনিয়র দলের নজরে আসেন মেসি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি প্রথম দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পান। সেই সময় বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে ছিলেন রোনালদিনহো, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং কার্লেস পুয়োলের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার।

২০০৩ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন তিনি। যদিও সেটি ছিল আনুষ্ঠানিক ম্যাচ নয়, তবুও তার পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফকে মুগ্ধ করেছিল। এক বছরের মধ্যেই আসে বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয় মেসির। সেদিন থেকেই শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।

রোনালদিনহোর অমূল্য অবদান

২০০৫ সালের ১ মে আলবাসেতের বিপক্ষে ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে নিজের প্রথম অফিসিয়াল গোল করেন লিওনেল মেসি। গোলটি এসেছিল রোনালদিনহোর নিখুঁত এক পাস থেকে। গোল করার পর রোনালদিনহো যেভাবে তরুণ মেসিকে কাঁধে তুলে উদযাপন করেছিলেন, সেই মুহূর্তটি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

রোনালদিনহো শুধু একজন সতীর্থ ছিলেন না, বরং নতুন শহর ও নতুন দলে মানিয়ে নিতে মেসির অন্যতম ভরসা ছিলেন। পরবর্তীতে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর কঠিন সময়ে রোনালদিনহোর সমর্থন তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে অনেক সাহায্য করেছে।

বার্সেলোনার প্রধান ভরসা

ক্যারিয়ারের শুরুতে ইনজুরির কারণে কয়েকবার মাঠের বাইরে থাকতে হলেও মেসি কখনো নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। সুস্থ হয়ে ফিরে প্রতিটি ম্যাচে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বিশেষ প্রতিভা বলা হয়।

তার ছোট গড়নের শরীর, অসাধারণ গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ড্রিবলিংয়ের কারণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা প্রায়ই তাকে থামাতে হিমশিম খেতেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি বার্সেলোনার আক্রমণভাগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন এবং দলের খেলার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।

পেপ গার্দিওলার অধীনে শুরু

২০০৮ সালে পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর মেসির ক্যারিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। গার্দিওলা প্রচলিত উইঙ্গারের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় এই কৌশল ছিল অভিনব এবং পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হয়।

মেসি, জাভি ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সমন্বয়ে বার্সেলোনা এমন এক পাসিং-ভিত্তিক ফুটবল উপহার দেয়, যা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বল দখলে রাখা, দ্রুত ছোট পাস এবং আক্রমণে সৃজনশীলতা-এই তিনটি বিষয় বার্সেলোনাকে অন্য সব দলের চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল।

২০০৮-০৯ মৌসুম

২০০৮-০৯ মৌসুম বার্সেলোনা এবং লিওনেল মেসি-দুজনের জন্যই ছিল অবিস্মরণীয়। এই মৌসুমে ক্লাবটি লা লিগা, কোপা দেল রে এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এই তিনটি বড় শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে। ফুটবল বিশ্বে এই অর্জন ‘ট্রেবল’ নামে পরিচিত।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে মেসির হেডে করা গোলটি এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। সেই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ৩৮টি গোল করেন এবং ১৮টি অ্যাসিস্ট করেন, যা তাকে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয়।

এই সাফল্যের পর থেকেই লিওনেল মেসিকে শুধু ভবিষ্যতের তারকা নয়, বরং বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে মূল্যায়ন করা শুরু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে প্রমাণ করেন, ২০০৮-০৯ মৌসুম ছিল তার কিংবদন্তি হয়ে ওঠার সূচনা মাত্র।

২০০৯ সাল লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় বছর। বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয় করেন। বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই পুরস্কার শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না, বরং তার অসাধারণ ধারাবাহিকতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

রেকর্ড ভাঙাই তার অভ্যাস

গোল করা মেসির জন্য নতুন কিছু নয়, তবে যেভাবে তিনি ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড ভেঙেছেন, তা আধুনিক ফুটবলে খুব কমই দেখা গেছে।

২০১১-১২ মৌসুমে তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩টি গোল করেন, যা ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। একই বছর ক্যালেন্ডার বছরে ৯১ গোল করে তিনি জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই কীর্তি ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করে।

গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করাতেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। অনেক মৌসুমে তিনি একই সঙ্গে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা ছিলেন, যা একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের জন্য বিরল অর্জন।

এল ক্লাসিকোতে আধিপত্য

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি হলো এল ক্লাসিকো-বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স ছিল বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন এবং কঠিন মুহূর্তে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল করার পর নিজের জার্সি দর্শকদের সামনে তুলে ধরার দৃশ্যটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক উদযাপন হিসেবে পরিচিত।

ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসির নাম এখনও শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। বড় ম্যাচে চাপ সামলে পারফর্ম করার এই ক্ষমতাই তাকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে।

জাভি, ইনিয়েস্তা ও মেসি

বার্সেলোনার সাফল্যের কথা বলতে গেলে জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং লিওনেল মেসির নাম একসঙ্গে উচ্চারণ করতেই হয়।

এই তিনজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। জাভির নিখুঁত পাস, ইনিয়েস্তার সৃজনশীলতা এবং মেসির ফিনিশিং মিলিয়ে বার্সেলোনা এমন এক ফুটবল উপহার দিয়েছিল, যা আজও বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব অনুসরণ করার চেষ্টা করে।

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার আধিপত্যের পেছনে এই ত্রয়ীর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আধুনিক যুগের সেরা ক্লাব ফুটবল এই সময়েই দেখা গেছে।

ব্যর্থতা থেকেই তৈরি হয় সফলতার গল্প

আজকের বিশ্বজয়ী মেসির ক্যারিয়ারও ব্যর্থতামুক্ত ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং পরপর কয়েকটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

কিন্তু সমর্থকদের ভালোবাসা এবং দেশের হয়ে একটি বড় শিরোপা জয়ের ইচ্ছা তাকে আবার ফিরিয়ে আনে। সেই প্রত্যাবর্তনের ফলই ছিল ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ জয়। এই দুটি সাফল্য তার ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেয় এবং সমালোচকদের সব প্রশ্নের উত্তর হয়ে দাঁড়ায়।

ভবিষ্যৎ ভাবনা

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পর এখন মেসির লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড বাড়ানো নয়। তিনি তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করতে চান এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখতে চান।

বর্তমানে তিনি ক্লাব ফুটবলে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স ধরে রাখার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নিজের শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস এবং খেলার আনন্দ অনুভব করলেই কেবল ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করেন, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও মেসি কোচিং, যুব ফুটবল উন্নয়ন কিংবা তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। কারণ নতুন প্রজন্মের জন্য তার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব অত্যন্ত মূল্যবান।

লিওনেল মেসির গল্প কেবল ফুটবলের নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং স্বপ্নপূরণের এক অনন্য উদাহরণ। রোজারিওর ছোট্ট এক ছেলের বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতাই প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।

তিনি মাঠে থাকুন বা অবসর নিন, ফুটবল ইতিহাসে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের কাছে লিওনেল মেসি শুধু একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড় নন, বরং এমন একজন মানুষ, যিনি প্রমাণ করেছেন-বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস থাকলে অসম্ভবও একদিন সম্ভব হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্য লড়াইয়ে কে এগিয়ে

বিশ্বকাপ ফাইনালে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। এটি কেবল দুই দেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা-লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের গুরু-শিষ্য দ্বৈরথও। তবে অনেকে ইয়ামালকে ‘নতুন মেসি বললেও বাস্তবে তাদের খেলার ধরণ এক নয়।

রোববার নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ফুটবল কিংবদন্তি মেসি এবং স্পেনের বিস্ময়বালক

ছোটবেলা থেকেই কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করে আসছেন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ উইঙ্গার বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মেসির খেলা দেখেই তিনি ফুটবলের প্রেমে পড়েছেন।

মাঠে ড্রিবলিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার কৌশলেও মেসির প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ইয়ামালের খেলায়। ফুটবলের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে এই দুই তারকার সঙ্গে। ২০০৭ সালে একটি দাতব্য ফটোশুটে মাত্র কয়েক মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি।

প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে, যা এই ফাইনালকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।

৩৯ বছর বয়সী মেসির লক্ষ্য ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ করা। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল চান প্রথম বিশ্বকাপেই স্পেনকে শিরোপা এনে নতুন যুগের সূচনা করতে।

লিওনেল মেসির মূল শক্তি হলো বল নিয়ন্ত্রণ, সংকীর্ণ জায়গায় ড্রিবলিং, খেলা তৈরি এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ প্লেমেকারে পরিণত হয়েছেন।

তবে লামিন ইয়ামাল বেশি সরাসরি আক্রমণাত্মক। উইং থেকে গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠা, ক্রস করা এবং দূরপাল্লার শটে দক্ষ।

বল পজিশনে মেসির ক্যারিয়ারের শুরুতে ডান উইঙ্গার হলেও পরে ফলস নাইন, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং ফ্রি-রোলে খেলেছেন।

আর ইয়ামাল মূলত ডান উইঙ্গার। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে আক্রমণ গড়তে পছন্দ করেন।

মাঠে দ্রত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে মেসির। হঠাৎ খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়ে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাসের অন্যতম সেরা।

আর ইয়ামালের বয়স কম হওয়ায় এখনো শেখার পর্যায়ে। অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ ড্রিবল বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ বেশি নেন।

গোল বনাম অ্যাসিস্টে মেসি সমানভাবে গোল করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করান।

আর ইয়ামাল এখন পর্যন্ত গোলের চেয়ে সুযোগ তৈরি এবং অ্যাসিস্টে বেশি কার্যকর।

অভিজ্ঞতায় মেসি: বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ প্রায় সব বড় শিরোপার জয়ী।

ইয়ামালের ক্যারিয়ারের শুরুতেই ইউরো জিতেছেন এবং বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছেন, তবে অভিজ্ঞতায় এখনও অনেক পিছিয়ে।

মরিশাসকে ১১১তম সদস্য, ফ্রান্সকে সতর্ক, শ্রীলঙ্কা ও কানাডা নিয়ে কঠোর অবস্থান

0

আইসিসি’র বার্ষিক সভায় সিদ্ধান্ত

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক সভায় বিশ্ব ক্রিকেটের সুশাসন, সদস্যপদ এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বের একাধিক দেশের বর্তমান প্রশাসনিক সংকট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এই সভায় বিশদ আলোচনা হয়।

সভায় গৃহীত মূল সিদ্ধান্ত ও বিষয়সমূহ নিচে একনজরে তুলে ধরা হলো:

মরিশাসের অন্তর্ভুক্তি ও ফ্রান্সকে নোটিশ

ক্রিকেটের বিশ্বায়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে মরিশাসকে আইসিসি’র সহযোগী সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মরিশাস বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ১১১তম সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করল।

অন্যদিকে, সদস্যপদের শর্ত ও মানদণ্ড সঠিকভাবে পূরণ করতে না পারায় ফ্রান্স ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন নোটিশ’ বা সতর্কবার্তার আওতায় আনা হয়েছে। তবে আপাতত দেশটির বিরুদ্ধে বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিশাল আর্থিক অনুদান

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (CWI) প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইসিসি বোর্ড ১২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৩০ কোটি টাকার বেশি) একটি বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করেছে।

কানাডার স্থগিতাদেশ বহাল ও শ্রীলঙ্কা প্রসঙ্গে কড়া বার্তা

গত জুনে সদস্যপদের বাধ্যবাধকতা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করায় ক্রিকেট কানাডাকে বহিষ্কার করেছিল আইসিসি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। যদিও ক্রিকেট কানাডা দ্রুত পুনর্বহালের জন্য একটি ‘বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা’ জমা দিয়েছে, তবে আইসিসি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে; যা পূরণ করলেই কেবল তাদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (SLC) নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানেই রয়েছে আইসিসি। মে মাসে শ্রীলঙ্কা সরকার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে একটি ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’ গঠন করার পর থেকেই দেশটির ক্রিকেটে অচলাবস্থা চলছে। আইসিসি শ্রীলঙ্কার সংশোধিত সংবিধান তৈরির অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও, অবিলম্বে সেখানে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের কোনো প্রতিনিধি আইসিসি-র বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন না।

দুটি নতুন উপ কমিটি গঠন

আইসিসি-র প্রশাসনিক সংস্কার ও বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর সুষ্ঠু তদারকির জন্য দুটি নতুন উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে:

সুশাসন পর্যালোচনা কমিটি: এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিসিসিআই (BCCI) সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া, সিএসএ (CSA) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মুসাজি এবং আইসিসি-র স্বাধীন পরিচালক ড. রস রিভাজ।

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটি: এই কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে বিসিবি (BCB) সভাপতি তামিম ইকবালকে। তার সাথে আরও থাকছেন রুডি ভ্যান ভুরেন (ক্রিকেট নামিবিয়া), রিচার্ড গোল্ড (ইসিবি), টড গ্রিনবার্গ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) এবং দেবজিৎ সাইকিয়া।

আইসিসি-র এই বার্ষিক সভার সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটীয় কাঠামো এবং বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের হারের যত কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনও হারেনি আপরদিকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৩য় বার সেমির বাধা অতিক্রমের ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিল বিশ্বকাপে থেকে। ১৯৬৬ সালে প্রথম সেমির বাধা অতিক্রম করে ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রিটিশরা তারপর ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনা মোট ৭ বার বিশ্বকাপের সেমিতে খেললো এবং প্রতিবার বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এই ম্যাচ ঘিরে তাই অনেক যুদ্ধ যুদ্ধ কথার লড়াই চলছিল এমন কি রাজনৈতিক করণ যেমন ১৯৮২ সালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবেও দেখছিল আর্জেন্টিনা এমন এক বিগ ম্যাচে ০-১ গোলে এগিয়ে থেকেও ইংল্যান্ড কেন ২-১ গোলে পরাজিত হল? চলুন দেখা যাক বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের হারের যত কারণ।

ইংল্যান্ডের পরাজেয়ের যত কারণ    

১. লিড ধরে রাখতে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলঃ
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড আক্রমণের বদলে অতিমাত্রায় রক্ষণে মনোযোগ দিয়ে ব্যবধান ধরে রেখে খেলা শেষ করতে চেয়েছিল যার ফলে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমনের পর আক্রমন করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। যেখানে ব্যাকফুটে চলে যায় ইংল্যান্ড।

২. মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানোঃ
শেষ ২০-২৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো প্যারাডেস দাপটে ফুটবল খেলে যার কারণে আর্জেন্টিনা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে আর এখানেই ইংল্যান্ড খেই হারিয়ে বলের দখল হারায়।  

৩. লিওনেল মেসির জাদুকরী প্রভাবঃ
ম্যাচের শেষ দিকে মেসি ২টি নিখুঁত অ্যাসিস্ট করেন-প্রথমে ৮৫ মিনিটে ডান প্রান্তের পেনাল্টি এরিয়ার মধ্য থেকে পেনাল্টি আর্কের কাছে বল ব্যাক পাস দিয়ে সমতা সূচক গোল করান এনজো ফার্নান্দেজকে দিয়ে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিটে পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে থেকে গোল এরিয়ার কাছাকাছি ক্রস তুলে দেন যা থেকে লাউতারো মার্তিনেজ ফ্লিক হেডে দুইজন ডেফেন্ডারের মাঝে থেকে জয় সূচক গোল করে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন।  

৪. কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক বদলিঃ
কোচ টুখেল ব্যাক-ফাইভে চলে গিয়ে আক্রমণভাগ দুর্বল করে ফেলেন। এতে ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণের ধার কমে যায় এবং আর্জেন্টিনা আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করে গোল আদায় করে নেয়।  

৫. আর্জেন্টিনার নিরবচ্ছিন্ন চাপঃ
সমতা ফেরানোর আগেই আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লাগে, এনজো বেশ কয়েকবার ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পিকপোর্ডের পরীক্ষা নিয়েছেন বক্সের বাইরে থেকে পাওয়াফুল শটে এছাড়া মেসির ক্রস ভেসে আসছিল বৃষ্টির মত-যা থেকে অনুমান করা যাচ্ছিল যে আর্জেন্টিনা গোল পাবে।

৬. শেষ মুহূর্তে মনোযোগের ঘাটতিঃ
আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে ফিনিশিং এ অনেকের চাইতে এগিয়ে তাই বিশেষ করে ইনজুরি টাইমে কর্নার/ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজকে ফাঁকা জায়গা দেওয়া ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের বড় ভুল ছিল। সেই সুযোগেই আসে মেসির ক্রস থেকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল।

৭. বিকল্প আক্রমণভাগের যথাযথ ব্যবহার না করাঃ
সাইড বেঞ্চে থাকা গতিময় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের দেরিতে মাঠে নামানোতে ইংল্যান্ড প্রতিআক্রমণের হুমকি তৈরি করতে পারেনি।

৮. আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন মানসিকতাঃ
বিগত ম্যাচ গুলোতে দেখা গেছে যে আর্জেন্টিনা আগে গোল হজম করেও বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ধৈর্য না হারিয়ে জয়ের জন্য খেলে জয় পেয়েছে যা তাদের আত্নবিশ্বাসে ফুয়েল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তিই তাদের ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।

মোটা দাগে বলা যায় ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মেসির অসাধারণ নেতৃত্ব ও অ্যাসিস্ট, এবং শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভুল-এই ৪টি কারণই ইংল্যান্ডের হারের আর আর্জেন্টিনার ২-১ জয়ের মূল কারণ।  

কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ শিরোপা?

রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হল বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দল। যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে বর্তমান সময়ের সেরা দুই দল। রোববার রাতে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

শক্তির বিচারে দুই দলই প্রায় সমানে সমান। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা, আক্রমণভাগের ধার এবং টানা জয়ের আত্মবিশ্বাস তাদের এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে এগিয়ে থাকবে। তবে স্পেনের নান্দনিক ফুটবল, দুর্দান্ত রক্ষণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে এই ফাইনালে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেভারিট বলা কঠিন।

তাই নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের মঞ্চে জমজমাট এক ফাইনালের অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব। ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তির এই লড়াইয়ে শিরোপার পাশাপাশি ইতিহাস গড়ার সুযোগও থাকছে দুই দলের সামনে।

যেখানে শক্তির বিচারে দুই দলই প্রায় সমানে সমান। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছে। অন্যদিকে স্পেন ছয় জয় ও এক ড্র নিয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে।

পুরো আসরে মাত্র এক গোল হজম করে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগের দল হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে স্পেন। তাই আক্রমণে আর্জেন্টিনা এবং রক্ষণে স্পেন-এমন এক ভিন্নধর্মী লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের দেখা হয়েছে মোট ১৪ বার। সেখানে পরিসংখ্যানও অবিশ্বাস্যভাবে সমান-দুই দলই জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ, আর ড্র হয়েছে ২টি।

ফলে ফাইনালের এই লড়াইকে অনেকেই দুই পরাশক্তির আধিপত্য নির্ধারণের ম্যাচ হিসেবে দেখছেন। ফাইনালে ওঠার পথে স্পেন শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০, কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে কেপ ভার্দেকে ৩-২, মিসরকে ৩-২, সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার-কেইন

লিওনেল মেসির প্রশংসায় নতুন করে বলার খুব বেশি কিছু যেন অবশিষ্ট নেই। প্রায় দুই দশক ধরে নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বয়স ৩৯ হলেও বড় ম্যাচে তাঁর প্রভাব যে এখনো অটুট, সেটিই আবারও দেখা গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আর সেই ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসায় মুখ খুললেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে গোল করতে না পারলেও আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। তাঁর দুটি নিখুঁত পাস থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেসির প্রশংসা করেন কেইন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। তারা যখন প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে।’

এরপর মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেইনের ভাষায়, ‘মেসি আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। কেন তাকে এত বড় খেলোয়াড় বলা হয়, সে তার প্রমাণ বারবার দিয়েছে।’

ম্যাচে অবশ্য দীর্ঘ সময় এগিয়েই ছিল ইংল্যান্ড। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় ইউরোপের দলটি। তবে শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির বাড়ানো বল থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

এগিয়ে থেকেও হার মানতে হওয়ায় হতাশা লুকাননি কেইন। তাঁর মতে, শেষ কয়েক মিনিটে রক্ষণভাগের মনোযোগ হারানোই ইংল্যান্ডের সর্বনাশ ডেকে আনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিজেদের করে নেয় এবং আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।

সারা জীবনের স্বপ্নের গোল, মাকে উৎসর্গ মার্তিনেসের

আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছেন লাউতারো মার্তিনেস। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত এই স্ট্রাইকার জানালেন, এমন একটি গোল করার স্বপ্ন তিনি দেখে আসছেন ছোটবেলা থেকেই। সেই গোল তিনি উৎসর্গ করেছেন নিজের মাকে।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১–০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর বক্সের বাইরে থেকে এন্সো ফের্নান্দেসের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে দলটি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২–১ ব্যবধানে ফাইনালে তোলেন মার্তিনেস।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।‘সত্যি বলতে, আমি অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। প্রথম যেদিন বাবা আমাকে এক জোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখেছি।’

কথা বলতে গিয়ে কয়েকবার গলা ধরে আসে মার্তিনেসের। পরে নিজের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর মা কখনো তাঁর প্রতি যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি।‘এই গোলটা আমার মায়ের জন্য। আমি রেসিংয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি কখনো আমার বিছানা গুছিয়ে রাখা বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেটার মূল্য একটি গোল বা একটি ফাইনালের চেয়েও অনেক বেশি।’

চলতি বিশ্বকাপে এটি মার্তিনেসের তৃতীয় গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ে গোল করেছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষেও একটি গোল আছে তাঁর। নিজের পারিবারিক জীবনের পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন ইন্টার মিলানের এই অধিনায়ক।

‘আমার দুই সন্তান জন্ম নেওয়ার পর জীবন পুরো বদলে গেছে। আমি অনেক বেশি স্থির হয়েছি। এখন এসব মুহূর্ত উপভোগ করতে পারি। আমি এখন আরও পরিণত এবং জীবনকে উপভোগ করছি।’চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হলেও সেই আসরে গোলের দেখা পাননি মার্তিনেস। এবার অবশ্য নিজের ওপর আস্থা ছিল তাঁর। ম্যাচে নামার আগেই সতীর্থদের বলেছিলেন, তিনিই দলের জয়সূচক গোল করবেন।

‘আমি সত্যিই এমন একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আলেক্সিসকে বলেছিলাম, আমি গোল করব। ফাকুকেও বলেছিলাম, মাঠে নেমে ম্যাচটা জিতিয়ে দেব।’ম্যাচের বিশ্লেষণে মার্তিনেস বলেন, প্রতিপক্ষ প্রথম এক ঘণ্টা ভালো খেললেও পরে শারীরিকভাবে ছন্দ হারিয়ে ফেলে, আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে আর্জেন্টিনা।

‘এই দল বারবার প্রমাণ করছে, আমরা কী দিয়ে তৈরি। তারা ৬০ মিনিট পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি করেছিল, এরপর আর পারেনি। গোল করার পর তারা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। এতে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছি এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের গোলও পেয়েছি।’

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

১৯৮৬-এর ম্যারাডোনা, ২০২৬-এর মেসি-একই আকাশি-সাদা মহাকাব্যের দুই অধ্যায়

ফুটবলের সৌন্দর্য শুধু গোলে, জয়ে কিংবা ট্রফিতে নয়; এর সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ইতিহাসের পুনর্জন্মে। কখনো কোনো ম্যাচ কেবল একটি ম্যাচ থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে সময়ের দুই প্রান্তকে যুক্ত করে রাখা এক অদৃশ্য সেতু। ১৯৮৬ আর ২০২৬-এই দুই বিশ্বকাপ যেন তেমনই দুটি সময়ের নাম, যার মাঝখানে রয়েছে চল্লিশ বছরের ব্যবধান, অথচ হৃদস্পন্দন যেন একই।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাত্র চার বছর আগে শেষ হওয়া ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের ক্ষত তখনও ছিল তাজা। তাই সেই ম্যাচটি ছিল শুধুই একটি কোয়ার্টার ফাইনাল নয়; এটি ছিল ইতিহাস, রাজনীতি, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও ফুটবলশিল্পের এক বিস্ময়কর মিশেল।

ম্যারাডোনার উপহার

সেদিন দিয়াগো ম্যারাডোনা এমন এক মুহুর্ত উপহার দিয়েছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে আছে। প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’, এরপর পাঁচ ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’- দুটি গোলেই ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই জয় ছিল শুধু সেমিফাইনালে ওঠার টিকিট নয়; সেটিই হয়ে উঠেছিল বিশ্বকাপ জয়ের অভিযাত্রার মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। পরে সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে পরাজিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি

চার দশক পরে ইতিহাস যেন আবারও একই গল্পের নতুন সংস্করণ লিখল। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। এবার মঞ্চ যুক্তরাষ্ট্র। অধিনায়কের হাতে আর ১০ নম্বর জার্সি পরে ম্যারাডোনা নন, আছেন আরেক কিংবদন্তি-লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষ আবারও ইংল্যান্ড। এবার লড়াই সেমিফাইনালে। আর ফলাফল? আবারও ২-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার জয়।

চল্লিশ বছরের ব্যবধানে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেল আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা।

এ যেন কেবল একটি কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং আর্জেন্টাইন ফুটবলের উত্তরাধিকারের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

দুই যুগ দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্ব

ম্যারাডোনা ও মেসি-নাম, দুই যুগ, দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্ব। একজন ছিলেন বিস্ফোরণ, অন্যজন প্রবাহ। একজন আগুনের শিখার মতো প্রতিপক্ষকে পুড়িয়ে দিতেন, অন্যজন নদীর মতো নিঃশব্দে পথ তৈরি করেন। কিন্তু দুজনের মাঝেই ছিল একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্য-আর্জেন্টিনাকে বিশ্বাস করানোর ক্ষমতা যে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা নিজের পায়ে ম্যাচের ভাগ্য লিখেছিলেন। ২০২৬ সালে মেসি হয়তো গোলের নায়ক নন, কিন্তু তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রভাব পুরো দলকে এক অদম্য আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে দিয়েছে। তার চারপাশে গড়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের একদল যোদ্ধা-যারা জানে, আকাশি-সাদা জার্সির ওজন কতটা।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের বিশেষত্ব এখানেই। এই ম্যাচের প্রতিটি পাস, প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি গোল যেন অতীতের প্রতিধ্বনি বহন করে। ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, ম্যারাডোনার জাদু, মেসির নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ফুটবলের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই জাতির আবেগের এক দীর্ঘ ইতিহাস।

বিশ্বকাপের পাতায় তাই ১৯৮৬ এবং ২০২৬ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে। একটিতে ম্যারাডোনা কোয়ার্টার ফাইনালের দরজা পেরিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বজয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। অন্যটিতে মেসি সেমিফাইনাল জিতে আবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের শেষ মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন।

সময়ের ক্যালেন্ডার বদলেছে, স্টেডিয়াম বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে। কিন্তু বদলায়নি আকাশি-সাদা জার্সির স্বপ্ন। ইতিহাস যেন নতুন ভাষায় আবারও বলছে- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় আর্জেন্টিনার কাছে কখনো কেবল একটি ফল নয়; অনেক সময় সেটিই বিশ্বজয়ের মহাকাব্যের প্রথম পূর্ণচ্ছেদ।

এখন বিশ্বকাপের ট্রফি থেকে আর্জেন্টিনা মাত্র এক ধাপ দূরে। চার দশক আগে ম্যারাডোনা যে পথ ধরে সোনালি ট্রফি তুলেছিলেন, আজ সেই পথেই হেঁটে চলেছেন মেসি। আর তাই আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের মনে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে-ইতিহাস কি আবারও আকাশি-সাদা রঙেই নিজেকে সম্পূর্ণ করবে?

গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে একক ভাবে শীর্ষে মেসি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে নিজে শীর্ষে উঠলেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে। এই ম্যাচে নিজে গোল পাননি কিন্তু ২টি গোল অ্যাসিস্ট করে সেমিফাইনালে ফুটবলের চিরশত্রুদের বিপক্ষে জয়ী হয়ে ২য় বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল তুললেন আর্জেন্টিনাকে। ঐতিহাসিক ম্যাচে নিজে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে একক ভাবে শীর্ষে মেসি।

গতকাল রাতে আটলান্টায় ইংল্যান্ড বধ ম্যাচে নিজের দুর্দান্ত প্রভাব ঠিকই রেখেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে দলের দুই গোল বানিয়ে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম নায়কও মেসি। তাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন মেসি

মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, দুজনেরই গোল ৮টি করে। কিন্তু বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে মেসিই। কারণ, গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট সংখ্যা হিসাব করা হয়। ইংল্যান্ড ম্যাচ শুরুর আগে মেসির অ্যাসিস্ট ছিল ২টি সেখানে এমবাপ্পের ৩টি অ্যাসিস্ট ছিল। এই ম্যাচে ২টি অ্যাসিস্ট করে শীর্ষে উঠলেন মেসি।

গোল্ডেন বুট দৌড়ঃ  

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট

আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল

জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট

মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

উপরের ৭ জনের মধ্যে হলান্ড ছাড়া বাকি ছয়জনের সামনে আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। রোববারের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

ফিফা বিশ্বকাপে মোট ২২টি আসর (১৯৩০–২০২২) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গোল্ডেন বুট/গোল্ডেন শু (সর্বোচ্চ গোলদাতা) জিতেছেন ২৮ জন খেলোয়াড়। কারণ ১৯৬২ সালে ৬ জন এবং ১৯৯৪ সালে ২ জন যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে এই পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে গোল্ডেন শু নামে চালু হয়, পরে ২০১০ সালে এর নাম বদলে গোল্ডেন বুট রাখা হয়।

বিশ্বকাপখেলোয়াড়দেশগোল
১৯৩০গিয়ের্মো স্তাবিলেআর্জেন্টিনা৮
১৯৩৪ওলদ্রিখ নেয়েদলিচেকোস্লোভাকিয়া৫
১৯৩৮লিওনিদাসব্রাজিল৭
১৯৫০আদেমিরব্রাজিল৮
১৯৫৪শানদর কচিসহাঙ্গেরি১১
১৯৫৮জুস্ত ফঁতেনফ্রান্স১৩
১৯৬২গারিঞ্চাব্রাজিল৪
১৯৬২ভাভাব্রাজিল৪
১৯৬২লিওনেল সানচেসচিলি৪
১৯৬২দ্রাজান জেরকোভিচযুগোস্লাভিয়া৪
১৯৬২ভ্যালেন্তিন ইভানোভসোভিয়েত ইউনিয়ন৪
১৯৬২ফ্লোরিয়ান আলবার্টহাঙ্গেরি৪
১৯৬৬ইউসেবিওপর্তুগাল৯
১৯৭০গার্ড মুলারপশ্চিম জার্মানি১০
১৯৭৪গ্রেজেগর্জ লাতোপোল্যান্ড৭
১৯৭৮মারিও কেম্পেসআর্জেন্টিনা৬
১৯৮২পাওলো রসিইতালি৬
১৯৮৬গ্যারি লিনেকারইংল্যান্ড৬
১৯৯০সালভাতোরে স্কিলাচ্চিইতালি৬
১৯৯৪ওলেগ সালেঙ্কোরাশিয়া৬
১৯৯৪হ্রিস্টো স্তইচকভবুলগেরিয়া৬
১৯৯৮দাভোর শুকেরক্রোয়েশিয়া৬
২০০২রোনালদোব্রাজিল৮
২০০৬মিরোস্লাভ ক্লোসেজার্মানি৫
২০১০টমাস মুলারজার্মানি৫
২০১৪হামেস রদ্রিগেসকলম্বিয়া৬
২০১৮হ্যারি কেনইংল্যান্ড৬
২০২২কিলিয়ান এমবাপ্পেফ্রান্স৮

মজার ব্যাপার হল একই বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের রেকর্ড করেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন যিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি।