Home Blog Page 94

ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক স্লোগান – ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা, আলোচনায় অতীতের নজির

ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক বার্তার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রিক একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে ফিফার স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবল মাঠে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, আদর্শিক বা আঞ্চলিক বিরোধসংক্রান্ত বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।

নেপথ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা

মাঠের এই বিতর্ক কেবল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে। আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তা হোসে লুইস কুইর্নো জানিয়েছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ব্রিটিশ জাহাজ ‘এইচ.এম.এস মেডওয়ে’-এর কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই অভিযোগে বুয়েনস আইরেসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

ফুটবল ও রাজনীতির মিশ্রণ: অতীতেও শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা

ফুটবল মাঠে ফকল্যান্ড (যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত) সংক্রান্ত দাবি তোলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।

  • ২০১৪ সালের ঘটনা: ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে বুয়েনস আইরেসে আয়োজিত একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলাররা “Las Malvinas son Argentinas” (মালভিনাস আর্জেন্টিনার অংশ) লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন।
  • ফিফার শাস্তি: বিশ্বকাপ আসর শেষ হওয়ার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টিকে নিয়মবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (AFA) ৩০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (তৎকালীন প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করে।

সমসাময়িক অন্যান্য ঘটনার নজির

আর্জেন্টিনার এই সাম্প্রতিক তদন্তের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অতীতে ঘটে যাওয়া একই ধরনের কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নজির সামনে এসেছে:

বছর ও টুর্নামেন্টসংশ্লিষ্ট দেশ/খেলোয়াড়ঘটনার বিবরণফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
২০১২ লন্ডন অলিম্পিকপার্ক জং-উ (দক্ষিণ কোরিয়া)জাপানের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ জয়ের পর বিতর্কিত ডকডো দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের দাবি করে দর্শকের কাছ থেকে “Dokdo is our territory” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।২০১৪ বিশ্বকাপের দুটি বাছাইপর্বের ম্যাচ থেকে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। ফিফা বিষয়টিকে “কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়” বলে উল্লেখ করে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপসার্বিয়া জাতীয় দলব্রাজিলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সার্বিয়ার ড্রেসিংরুমে কসোভোকে সার্বিয়ার মানচিত্রভুক্ত করে এবং “No Surrender” (আত্মসমর্পণ নয়) স্লোগানসংবলিত ব্যানার টানানো হয়।রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর দায়ে সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়।

খেলার মাঠে রাজনৈতিক প্রচারণাকে কঠোর হস্তে দমন করার যে দীর্ঘ ইতিহাস ফিফার রয়েছে, অতীতের এই নজিরগুলো তারই প্রমাণ দেয়। বর্তমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ফিফা কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

টস হেরে ব‍্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিকে থাকতে হলে আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ।

সফরে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন জিম্বাবুয়ের দুই পেসার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও এই দুই বোলারের দাপটে ব্যাটিং ধসে পড়ে বাংলাদেশের। দুজনই ৪টি করে উইকেট নিয়ে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন।

দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও স্বীকার করেছেন, পুরো সফরেই এনগারাভা ও মুজারাবানিকে সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। তাঁর ভাষায়, এই দুই পেসারের বিপক্ষে আরও পরিকল্পিত ও স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হবে। সালাউদ্দিন বলেন, ‘টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি-সব সংস্করণেই তারা আমাদের ভুগিয়েছে। তাদের উচ্চতার কারণে যেকোনো উইকেট থেকেই বাড়তি বাউন্স বের করে আনতে পারে। পরের ম্যাচে সেটা মাথায় রেখেই ব্যাটিং করতে হবে।’

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ কোচিং স্টাফও। সালাউদ্দিনের মতে, বুলাওয়ের উইকেট বাংলাদেশের মতোই ছিল এবং এই লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব ছিল। তবে শুরুতেই পাওয়ারপ্লেতে একাধিক উইকেট হারানো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে তাওহীদ হৃদয় ও ইয়াসির আলীর জুটি আশা জাগালেও হৃদয়ের আউটের পর আবারও ছন্দ হারায় দল। ব্যাটারদের একই ভুলের পুনরাবৃত্তি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালাউদ্দিন।

তাঁর মতে, সফরে প্রায় তিন সপ্তাহ কাটিয়ে দেওয়ার পরও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা হতাশাজনক। তিনি আশা করছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটাররা আরও দায়িত্বশীল ও পরিস্থিতি বুঝে খেলবেন। চোটের কারণে অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাওহীদ হৃদয়।

ফাইনালে মেসির সামনে যে সব কীর্তির হাতছানি

ক্যারিয়ারে তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ২০১৪ সালে না পারলেও ২০২২ সালে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। পর পর দু’বার আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার সুযোগ রয়েছে এখন মেসির সামনে। দলগত এই লক্ষ্যের পাশাপাশি ১৯ জুলাই স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে ব্যক্তিগত ভাবে অন্তত ১১টি কীর্তি গড়তে পারেন এলএম টেন।

১. বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন মেসির বয়স হব ৩৯ বছর ২৫ দিন। সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়বেন মেসি। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি রয়েছে ইতালির দিনো জ়ফের। তিনি ১৯৮২ সালের ফাইনালে সে সময়ের পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে খেলেছিলেন ৪০ বছর ১৩৩ দিন বয়সে। জফ অবশ্য গোলরক্ষক ছিলেন। গোলরক্ষক বাদে অন্য ফুটবলারদের মধ্যে মেসিই হবেন ফাইনাল খেলে বয়স্কতম ফুটবলার।

২. ১৯ জুলাই মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবল অধিনায়ক হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব অর্জন করবেন মেসি। এমন কৃতিত্ব রয়েছে শুধু ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক কাফুর। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল ব্রাজিল।

সতীর্থদের সঙ্গে মেসি

৩. আর্জেন্টিনার প্রথম অধিনায়ক হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন মেসি। টপকে যাবেন দিয়েগো মারাদোনার কীর্তিকে। মারাদোনার নেতৃত্বে দু’বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা।

৪. দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি রয়েছে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) বেশ কিছু ফুটবলারের। আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল পাসারেলারও এই কৃতিত্ব রয়েছে। তবে এ বার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে মেসি প্রথম অধিনায়ক হিসাবে দু’বার বিশ্বজয় করবেন।

৫. বিশ্বকাপে মেসি এখনও পর্যন্ত আটটি গোল করেছেন। ফাইনালে গোল করতে পারলে আরও একটি কীর্তি গড়বেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালে বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে গোল করার কীর্তি গড়বেন। এখন এই রেকর্ড রয়েছে সুইডেনের নিলস লিডহোমের দখলে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তিনি ৩৫ বছর ২৬৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।

মেসিকে নিয়ে সতীর্থদের উল্লাস

৬. স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে গোল করতে পারলে আরও একটি রেকর্ড গড়বেন মেসি। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মধ্যে একটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার কীর্তি গড়বেন। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে গিলেরমো স্ট্যাবিল আটটি গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে। ৯৬ বছরের পুরনো সেই কীর্তিকে টপকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে।

৭. বিশ্বকাপ ফাইনালে দু’টি গোল করতে পারলে আরও একটি কীর্তি গড়বেন। বিশ্বের চতুর্থ এবং ইউরোপের বাইরে প্রথম ফুটবলার হিসাবে একটি বিশ্বকাপে ১০টি বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়বেন মেসি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফতেঁ ১৩টি গোল করেছিলেন। যা এখনও বিশ্বরেকর্ড। এ ছাড়া ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোসিস ১১টি এবং ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির হয়ে গার্ড মুলার ১০টি গোল করেছিলেন।

৮. ১৯ জুলাই গোল করতে পারলে মেসি হবেন বিশ্বের ষষ্ঠ ফুটবলার, যিনি দু’টি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করবেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দু’টি গোল করেছিলেন মেসি। এমন কৃতিত্ব রয়েছে ব্রাজ়িলের ভাভা, পেলে, জার্মানির পল ব্রেইটনার, ফ্রান্সের জ়িনেদিন জ়িদান এবং কিলিয়ান এমবাপের।

গোলের পর মেসি

৯. ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারলে মেসি আরও একটি কীর্তি গড়বেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলার হিসাবে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়বেন। এই রেকর্ড রয়েছে ব্রাজ়িলের রোনাল্ডোর দখলে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। সে বার রোনাল্ডো আট গোল করেছিলেন।

১০. গত বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির দু’টি গোল রয়েছে। এ বারের ফাইনালে আরও দু’টি গোল করতে পারলে এমবাপের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের মালিক এমবাপে। স্পেনের বিরুদ্ধে বার্সেলোনার সাবেক এ তারকা হ্যাটট্রিক করতে পারলে গড়বেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর গোল সংখ্যা হয়ে যাবে পাঁচ।

১১. আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসাবে ফুটবলের বিশ্ব খেতাব ধরে রাখবে। পর পর দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২) এবং ইতালির (১৯৩৪, ১৯৩৮)। মেসি হবেন বিশ্বের বয়স্কতম ফুটবলার, যিনি টানা দু’বার বিশ্বকাপ জিতবেন। এখন এই রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের নিলটন স্যান্টোসের দখলে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপ জয়ের সময় স্যান্টোসের বয়স ছিল ৩৭ বছর। তিনি ১৯৫৮ সালের চ্যাম্পিয়ন দলেরও সদস্য ছিলেন।

৫০ লাখ ডলারে বিক্রি পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি

ফুটবলের ইতিহাসে কিছু জার্সি কেবল কাপড়ের টুকরো নয়, তারা হয়ে ওঠে একটি যুগের প্রতীক। সময়ের সীমানা পেরিয়ে সেই জার্সিই কখনো হয়ে ওঠে কিংবদন্তির স্পর্শ বহনকারী অমূল্য স্মারক। ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে পরা জার্সিটি এবার সেই ইতিহাসকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সাদেবিজ এর নিলামে বৃহস্পতিবার জার্সিটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারে (৪.৮৮ মিলিয়ন)। এটি পেলের কোনো স্মারকসামগ্রীর জন্য সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে ২০২২ সালে পেলের ১৯৫৮ সালের রুকি ফুটবল কার্ড ব্যক্তিগত বিক্রয়ে ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা ছিল তাঁর স্মারকসামগ্রীর আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

জোড়া গোল করেছিলেন পেলে

১৯৫৮ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে সেদিন ৫৫ ও ৯০ মিনিটে দুটি গোল করে ফুটবল বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন-এক নতুন মহাতারকার আবির্ভাব ঘটেছে। আজও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা এবং গোল করার রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন।

পেলের জার্সি

সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ শেষে পেলে তাঁর জার্সিটি উপহার দিয়েছিলেন সতীর্থ দিদাকে। পরে দিদা সেটি দান করেন রিও ডি জেনেইরোর ‘মুসেউ দোস এসপোর্তেস’ (ক্রীড়া জাদুঘর)-এ। ২০০৪ সালে জাদুঘরটি জার্সিটি ক্রিস্টিজের নিলামে তোলে, যেখানে এটি বিক্রি হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডলারে। দুই দশকের ব্যবধানে একই জার্সির মূল্য বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে, যা ফুটবল ইতিহাসে পেলের উত্তরাধিকারের মূল্যকেই নতুন করে তুলে ধরেছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম

ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার প্রথমটির স্মারক এই জার্সি এখন ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া জার্সি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পরা বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সি, যা ২০২২ সালে ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

শুধু ফুটবল নয়, সব ধরনের ক্রীড়া স্মারকের মধ্যেও ম্যারাডোনার সেই জার্সির অবস্থান তৃতীয়। এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে কেবল বেসবল কিংবদন্তি বেবে রুথের ‘কলড শট’ জার্সি (২ কোটি ৪০ লাখ ডলার) এবং বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের ‘লাস্ট ড্যান্স’ জার্সি (১ কোটি ১ লাখ ডলার)।

একই নিলামে ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে পরা আর্মব্যান্ডও বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার ডলারে। ইতিহাসের দুটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত-‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র সাক্ষী হয়ে থাকা সেই আর্মব্যান্ডও সংগ্রাহকদের কাছে দারুণ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়ের ইতিহাস

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ মানেই প্রতিটি দেশ ও খেলোয়াড়ের কাছে স্বপ্নের একটি টুর্নামেন্ট! যেখানে খেলার জন্য প্রতিটি খেলোয়াড় তার জীবনের স্বপ্ন বলে মনে করেন। আবার বিশ্বকাপে একটি দেশের অংশ গ্রহণ বিশ্বের বুকে সেই দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর একটি উপলক্ষ। আর যদি বিশ্বকাপ দল জয় পায় তাহলে তো কথাই নেই। বিশ্বকাপ ১৯৩০ সাল থেকে অনুষ্টিত হওয়া বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল গুলোর মধ্যে ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালী এবং আর্জেন্টিনা অন্যতম। বিশ্বকাপের সেরা ৪ বা সেমিফাইনালের স্বপ্ন প্রতিটি দলেরই থাকে কারণ সেমির বাধা অতিক্রম করতে পারলেই ফাইনাল বরাবরই সেমিফাইনালের লড়াই গুলো খুবই প্রতিদ্বন্ধিতা হয় কারণ ফাইনালের উঠার একটা ধাপ ই তখন বাকি থাকে তাই ম্যাচ গুলো হয় স্নায়ুর লড়াইয়ের আর এই লড়াইয়ে সফল দলগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা অন্যতম তাহলে দেখে নিন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়ের ইতিহাস।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর অধিনায়ক ম্যারাডোনা

চ্যাম্পিয়নঃ আর্জেন্টিনা ১৯৩০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২০ বার অংশ গ্রহণ করেছে ৩টি বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্টিনা অংশ গ্রহণ করেনি ১৯৩৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৩ বার যথাক্রমেঃ ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২।

রানার্সআপঃ হয়েছে ৩ বার যথা- ১৯৩০ ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে। প্রথম বিশ্বকাপে উরুগুয়ের কাছে ফাইনালে পরাজিত হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও জার্মানি কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ মেসির আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালঃ আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনি, মোট ৬ বার সেমিতে খেলেছে যথঃ ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬-এর আগে পর্যন্ত ৬টি সেমি খেলেছে তবে ১৯৭৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আনুষ্ঠানিক সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলেনি। কারণ, ওই বিশ্বকাপে বর্তমানের মতো নকআউট সেমিফাইনাল ছিল না। প্রথম গ্রুপ পর্বের পর দ্বিতীয় গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই দ্বিতীয় পর্বের দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি ফাইনালে ওঠে। আর্জেন্টিনা ছিল দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বের গ্রুপ ‘বি‘-তে। তাদের ম্যাচগুলো ছিল: আর্জেন্টিনা ২–০ পোল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ০–০ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ৬–০ পেরু। শেষ ম্যাচে পেরুকে ৬–০ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে ব্রাজিলকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা এবং সরাসরি ফাইনালে উঠেছিল। এরপর ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৩–১ গোলে (অতিরিক্ত সময়ে) হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল অধিনায়ক দানিয়েল পাসারেলার আর্জেন্টিনা।

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর অধিনায়ক দানিয়েল পাসারেলা

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবগুলো সেমিফাইনালের ফলাফলঃ

১ম সেমিফাইনাল: ১৯৩০ আর্জেন্টিনা ৬-১ যুক্তরাষ্ট্রকে।

২য় সেমিফাইনাল: ১৯৮৬ আর্জেন্টিনা ২-০ বেলজিয়াম।

৩য় সেমিফাইনাল: ১৯৯০ আর্জেন্টিনা ১-১ ইতালি (আর্জেন্টিনা ৪-৩ জয়ী টাইব্রেকার) ।  

৪র্থ সেমিফাইনাল: ২০১৪ আর্জেন্টিনা ০-০ নেদারল্যান্ডস (আর্জেন্টিনা ৪-২ জয়ী টাইব্রেকার) ।

৫ম সেমিফাইনাল: ২০২২ আর্জেন্টিনা ৩-০ ক্রোয়েশিয়া।

৬ষ্ঠ সেমিফাইনাল: ২০২৬ আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড।

আর্জেন্টিনা ২০২৬ সালের সেমিফাইনাল ৭ম বারের খেলে অপরাজিত থেমে ফাইনালে উঠলো। আর এ কারনেই বলা হয় আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনা।  

বিশ্বকাপ ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা মানেই আবেগের আরেক নাম। সেই আবেগ কখনো চোখের জলে ভাসে, কখনো উল্লাসে, আবার কখনো আশ্রয় নেয় ছোট ছোট বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাসেরই এক অনন্য প্রতিচ্ছবি দেখা গেল দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইর সিদ্ধান্তে। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিতে তিনি স্টেডিয়ামে যাবেন না। হাজারো আমন্ত্রণ, বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা-সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে তিনি ফাইনাল দেখবেন নিজের সরকারি বাসভবন থেকেই।

মাইলেইর কাছে এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়; এটি বিশ্বাসেরও পরীক্ষা। তাঁর ধারণা, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সাতটি ম্যাচই তিনি অলিভোস প্রেসিডেন্সিয়াল রেসিডেন্স থেকে একইভাবে দেখেছেন এবং প্রতিবারই দল জিতেছে। সেই সৌভাগ্যের ধারাবাহিকতা ভাঙতে তিনি নারাজ।

স্থানীয় রেডিও এল অবজারভাদর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাইলেই অকপটেই স্বীকার করেছেন, ফাইনালে মাঠে না যাওয়ার পেছনে কাজ করছে কুসংস্কার বা আর্জেন্টাইনদের ভাষায় ‘কাবালা’। তাঁর ভাষায়, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন একটি ভারী তেল কোম্পানির লোগোযুক্ত জ্যাকেট পরে ছিলেন তিনি। গরম লাগায় একবার জ্যাকেট খুলতেই আর্জেন্টিনা গোল হজম করে। পরে আবার জ্যাকেটটি গায়ে চাপিয়ে দেন। এরপর থেকে আর সেটি খোলেননি। তাই ফাইনালের দিনও একই জ্যাকেটই হবে তাঁর ‘সৌভাগ্যের সঙ্গী’।

ফুটবল সংস্কৃতির অংশ

আর্জেন্টিনায় ‘কাবালা’ কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, এটি যেন ফুটবল সংস্কৃতিরই অংশ। কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরে বসেন, কেউ বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রিয় জার্সিটি ধোয়ান না। কেউ আবার ঘরের একই জায়গায় বসে খেলা দেখেন। এমনও বিশ্বাস রয়েছে- যে মুহূর্তে দল গোল করে, তখন যদি কেউ বাথরুমে থাকে, তবে পরের ম্যাচেও তাকে ঠিক সেই সময়টাতেই বাথরুমে থাকতে হবে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই

বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করা শুরু করতেই কয়েকজন সমর্থক বাইবেল পাঠ শুরু করেন। এরপর প্রতিটি ম্যাচেই একই আচার অনুসরণ করেছেন তারা। আবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের নাম লেখা কাগজ কিংবা ছোট মূর্তি ফ্রিজে রেখে দেওয়ার মতো অদ্ভুত রীতিও অনেক সমর্থকের কাছে সৌভাগ্যের প্রতীক।

মেনেম গিয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতিদের মাঝেও এই বিশ্বাসের শেকড় অনেক গভীরে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম জাতীয় দলের ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। এরপরই উদ্বোধনী ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই পরাজয়ের পর মেনেমকে অনেকে ‘মুফা’-অর্থাৎ অশুভ বা অপয়া-বলে আখ্যা দেন। এরপর থেকে দায়িত্বে থাকা কোনো আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টকে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।

তাই স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে হাভিয়ের মাইলেইর সিদ্ধান্ত কেবল ব্যক্তিগত কুসংস্কারের গল্প নয়; এটি ফুটবলপ্রেমী একটি জাতির বিশ্বাস, আবেগ ও ইতিহাসেরও প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, অলিভোসের সেই পরিচিত কক্ষে, একই ভারী জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে বসে থাকা প্রেসিডেন্টের ‘কাবালা’ আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপার হাসি উপহার দিতে পারে কি না।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই

টিভিতে আজকের খেলা: ১৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি আজ। বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল দুটির পুনঃপ্রচার দেখতে পারেন।

ক্রিকেট
২য় টি-টুয়েন্টি

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
বিকেল ৪-৩০ মি., টি স্পোর্টস ও নাগরিক

ফুটবল
বিশ্বকাপ-পুনঃপ্রচার
ফ্রান্স-স্পেন
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
বেলা ১টা, টি স্পোর্টস

সিরিজ বাঁচানোর অগ্নিপরীক্ষায় টাইগাররা, ইতিহাস গড়ার হাতছানি জিম্বাবুয়ের সামনে

0

প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বাংলাদেশের। শুক্রবার বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি সিরিজে টিকে থাকার লড়াই, অন্যদিকে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের সামনে সুযোগ ২০২২ সালের পর টাইগারদের বিপক্ষে আরেকটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের স্বাদ নেওয়ার।

ব্যাটিং ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির আগুনে বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন টপ-অর্ডার ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ৩২ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।

এই হারের ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টানা পাঁচ ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তবে বর্তমান দলটিতে একাধিক নিয়মিত মুখ নেই। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদকে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে বিসিবি।

ইতিবাচক দিক: ইয়াসিরের প্রত্যাবর্তন ও তাসকিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং

প্রথম ম্যাচের চরম হতাশার মাঝেও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি ছিল ইয়াসির আলীর ব্যাটিং। প্রায় ৩৩ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ৩৮ বলে ৫৪ রানের এক দুর্দান্ত লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। মিডল অর্ডারে তার এই ফর্ম নির্বাচকদের ভরসা জোগাচ্ছে। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা পেসার তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন।

বল হাতে অপ্রতিরোধ্য জিম্বাবুয়ের পেস জুটি

জিম্বাবুয়ের পেসার রিচার্ড এনগারাভা বর্তমানে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ৫ উইকেট, ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচসেরা হন। তার সঙ্গে ব্লেসিং মুজারাবানির গতি ও বাউন্স টাইগার শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একাদশে রদবদলের হাওয়া

বাংলাদেশ দলে আজ দেখা যেতে পারে পরিবর্তন। স্পিন বিভাগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াতে লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে একাদশে ফেরানো হতে পারে।

অন্যদিকে, স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার সম্ভাবনা কম থাকলেও ওপেনিংয়ে বেন কারানের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হতে পারে আজ।

বুলাওয়ের উইকেট কেমন আচরণ করবে?

বুলাওয়ের পিচ সাধারণত স্পিনারদের জন্য সাহায্যকারী হলেও প্রথম ম্যাচে পেসাররাই ছড়ি ঘুরিয়েছেন। একদিকে এনগারাভা-মুজারাবানি যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানাও ৪ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। আজকের ম্যাচেও নতুন বলে পেসাররা সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে খেলা যত গড়াবে স্পিনারদের ভূমিকা তত বাড়বে।

একনজরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও রেকর্ড

  • বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে এটি ১০ম দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
  • অতীতে জিম্বাবুয়ে মাত্র একবার (২০২২ সালে) বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল। আজ জিতলে সেটি হবে তাদের দ্বিতীয় সিরিজ জয়।
  • প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেট শিকার করে ব্লেসিং মুজারাবানি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের যৌথ সেরা বোলিং ফিগার স্পর্শ করেছেন।

দুই অধিনায়কের বক্তব্য:

সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক): “আমাদের পেসাররা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক পারফর্ম করছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি, তা কাজে লাগিয়ে দলকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

তাওহীদ হৃদয় (বাংলাদেশ অধিনায়ক): “১৭১ রান তাড়া করার সামর্থ্য আমাদের ছিল, কিন্তু বড় কোনো জুটি গড়ে না ওঠায় আমরা পিছিয়ে পড়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে শুরুতেই বড় পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।”

আইসিসি র‍্যাঙ্কিং – ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে শরিফুল, তাসকিন ও তানজিদ

0

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বড় পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আইসিসির সবশেষ ওয়ানডে খেলোয়াড় র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনজনই ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে পৌঁছেছেন।

বোলিংয়ে শরিফুল-তাসকিনের বাজিমাত

বল হাতে দুর্দান্ত সময় পার করা শরিফুল ইসলাম র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে মাত্র ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকারের দুর্দান্ত পুরস্কার পেয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

  • শরিফুল ইসলাম: ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো আইসিসি ওয়ানডে বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ের টপ ১৫-এ জায়গা করে নিয়েছেন (বর্তমান অবস্থান ১৫তম)।
  • তাসকিন আহমেদ: পুরো সিরিজে ধারাবাহিক বোলিংয়ের (প্রতি ম্যাচে ২টি করে উইকেট) পুরস্কার হিসেবে ৭ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ২১তম স্থানে উঠে এসেছেন তাসকিন।

ব্যাটিংয়ে তানজিদের বড় লাফ

শুধু বোলিংয়েই নয়, ব্যাটিংয়েও এসেছে সুখবর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ দুটি ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৫৭ ও ৯৪ রানের দুটি ঝলমলে ইনিংস খেলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।

  • এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে তানজিদ এক ধাক্কায় ১২ ধাপ এগিয়ে ওয়ানডে ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৫তম স্থানে চলে এসেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিং।

বৈশ্বিক ক্রিকেটের অন্যান্য খবরাখবর

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চেও র‍্যাঙ্কিংয়ে এসেছে বেশ কিছু চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন:

  • সিংহাসনের লড়াইয়ে গিল: ওয়ানডে ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের লড়াই জমিয়ে তুলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৮০ রানের ইনিংস খেলে তিনি আরও ১২ রেটিং পয়েন্ট যোগ করেছেন। বর্তমানে ৮০৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি শীর্ষে থাকা কিউই তারকা ড্যারিল মিচেলের (৮১৪ পয়েন্ট) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন।
  • টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের দাপট: ভারতের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতার পর র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। হ্যারি ব্রুক ১২ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৭ম স্থানে উঠে প্রথমবার শীর্ষ দশে পা রেখেছেন। জস বাটলার উঠে এসেছেন ৬ষ্ঠ স্থানে। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা জোফরা আর্চার ৮ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে বোলারদের তালিকায় ১৮তম অবস্থানে রয়েছেন।
  • এগিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার: ভারতের পক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আলো ছড়িয়ে বড় লাফ দিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ারও। তিনি ৬২ ধাপ এগিয়ে ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩১তম স্থানে উঠে এসেছেন।

এই দল আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে – স্কালোনি

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনিও।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য এটি অসাধারণ এক আনন্দের মুহূর্ত। আমি আগেও বলেছি, এই দল আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে চলেছে।’

দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্কালোনি খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই ছেলেরাই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে। তারা অসাধারণ। আমরা সত্যিই একটি বিশেষ দল।’

আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল সামনে রেখে স্কালোনি জানান, শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তার দল।

‘আমরা অবশ্যই জয়ের জন্য খেলব এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে আজ খেলোয়াড়রা যা করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি অহংকার নয়, বাস্তবতা। এই দলই আমাদের বারবার জয়ের পথে নিয়ে গেছে,’ বলেন ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ।

আর্জেন্টিনার হয়ে এরই মধ্যে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে চারটি শিরোপা জিতেছেন স্কালোনি। তার মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি খেলোয়াড়দের আত্মনিবেদন।

স্কালোনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপানোর অর্থ হলো শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত নিজের সবকিছু উজাড় করে দেওয়া। আমার খেলোয়াড়রা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের প্রতি তাদের অনুভূতি কতটা গভীর।’

এখন আর্জেন্টিনার সামনে আরও একটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ। স্পেনকে হারাতে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।