Home Blog Page 93

মেসির কোলে গোসল করা সেই বাচ্চাই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ

ক্রীড়াঙ্গনে কতশত রূপকথার গল্পই তো তৈরি হয়, তবে লিওনেল মেসি এবং লামিনে ইয়ামালের এই গল্পটি যেন সব কল্পনাকেও হার মানায়। গত বুধবার রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আর্জেন্টিনা যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রাখল, তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় এক অবিশ্বাস্য মহারণ।

রোববারের ফাইনালে ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি লিওনেল মেসির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল, যাকে ইতিমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মাঠে রবিবারের এই শিরোপা নির্ধারণী লড়াইটি কিন্তু মেসি ও ইয়ামালের প্রথম দেখা নয়।

প্রায় ১৯ বছর আগে স্পেনের বার্সেলোনায় প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। তখন ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি খেলতেন এফসি বার্সেলোনায়। একটি দাতব্য ফটোশুটের অংশ হিসেবে মেসি তখন মাত্র ৫ মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে পরম যত্নে প্লাস্টিকের টবে গোসল করিয়েছিলেন—যার ছবি এখন নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

২০২৪ সালের ইউরো কাপে যখন ১৬ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেনের হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছিলেন, তখন তার বাবা মুনির নাসরাউই ইনস্টাগ্রামে সেই ফটোশুটের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।’ প্রথম দেখায় বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের অনেকেই একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর কারসাজি ভেবেছিলেন। কিন্তু বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) দ্রুতই ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে।

২০০৭ সালের শরতে বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-এর ড্রেসিংরুমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। ইউনিসেফ এবং কাতালান সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’-এর একটি যৌথ দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। ইয়ামালের পরিবার লটারিতে জিতে বার্সার কোনো খেলোয়াড়ের সাথে ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিল।

মনফোর্ট জানান, সে সময় মেসি ভীষণ লাজুক ছিলেন এবং প্লাস্টিকের বালতিতে থাকা একটি শিশুকে কীভাবে কোলে নিতে হবে, তা নিয়ে বেশ দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সেই শিশু ইয়ামাল এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা। মেসির স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব বার্সেলোনায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে অভিষেক ঘটিয়ে রেকর্ড গড়েছেন, জিতেছেন লা লিগা ও ইউরো ২০২৪-এর ট্রফি। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও উরুগুয়ে, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে একাই কাঁপিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ।

নিজের উত্তরসূরিকে নিয়ে মেসিও প্রশংসা করতে ভোলেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে যদি কাউকে বেছে নিতে হয়, তবে তার বয়স ও বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনা করে আমি লামিনেকেই বেছে নেব। আমার চোখে সেই সেরা।’

আজকের ফাইনালটি কি তবে মেসির থেকে ইয়ামালের হাতে ফুটবলের ব্যাটন হস্তান্তরের মুহূর্ত হতে যাচ্ছে? নাকি শেষ হাসি হাসবেন ফুটবল জাদুকুর নিজেই? উত্তর যা-ই হোক না কেন, মনফোর্টের ভাষায় বলতে হয়, ‘ভাগ্য সত্যিই এক অদ্ভুত খেলা খেলে! সেদিন কেউ কল্পনাও করেনি এই শিশুটি আজ কোথায় পৌঁছাবে, আর মেসিই বা কতটা উঁচুতে উঠবেন।’

চলে গেলেন ‘কিং ক্রিকেট’ গ্যারি সোবার্স

0

চলে গেলেন ‘কিং ক্রিকেট’। গারফিল্ড সোবার্স- ক্রিকেটবিশ্বে যিনি পরিচিত ছিলেন গ্যারি সোবার্স নামে। শুক্রবার ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা ক্রিকেটবিশ্বে।

সোবার্স ছিলেন এমন এক ক্রিকেটার, যাঁকে শুধু ব্যাটার, বোলার কিংবা ফিল্ডার-কোনো একটি পরিচয়ে আটকে রাখা যায় না। তিনি ছিলেন ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। ব্যাট হাতে যেমন ছিলেন ভয়ঙ্কর, বল হাতে তেমনই বৈচিত্র্যময়। মাঠে তাঁর ফিল্ডিংও ছিল অসাধারণ। ক্রিকেটের প্রায় প্রতিটি শাখাতেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি।

ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হয় ১৯৬৮ সালের সেই অবিশ্বাস্য কীর্তির জন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মারার প্রথম ব্যাটার ছিলেন সোবার্স। সেই কীর্তি তাঁকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছিল। তবে তাঁর ক্রিকেটজীবনে ওই একটি রেকর্ডই সব নয়; বরং তাঁর গোটা ক্যারিয়ারই ছিল একের পর এক বিস্ময়ের সমষ্টি।

ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো ভাষায়

সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো একবার সোবার্সকে বর্ণনা করেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে। তাঁর কথায়, সোবার্স ছিলেন প্রতিভাবান ব্যাটার, দুর্দান্ত ফিল্ডার এবং অসাধারণ দক্ষতার বোলার। নতুন বল হাতে পেস করতে পারতেন, আবার বাঁহাতি স্পিন কিংবা লেগস্পিনেও ছিলেন সমান কার্যকর। ক্রিকেটের যে কাজই তাঁকে দেওয়া হোক, তা করার সামর্থ্য ছিল তাঁর।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। প্রতিভার দীপ্তি এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক।

সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ

টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ আসে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ৩৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন সোবার্স। তখন সেটিই ছিল টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। ৩৬ বছর ধরে অক্ষত ছিল সেই রেকর্ড। অবশেষে ১৯৯৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলে ব্রায়ান লারা ভেঙে দেন সোবার্সের সেই বিশ্বরেকর্ড।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে সোবার্স

তবে সোবার্সের মাহাত্ম্য শুধু পরিসংখ্যানে ধরা যায় না। তিনি ছিলেন এমন এক ক্রিকেটার, যিনি একটি দলের প্রায় সব প্রয়োজন পূরণ করতে পারতেন। ব্যাটিং অর্ডারে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই খেলেছেন। বল হাতে কখনও নতুন বল, কখনও স্পিন, কখনও লেগস্পিন। ফিল্ডিংয়েও ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

১৯৭৪ সালে ৩৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান সোবার্স। অনেকেরই মনে হয়েছিল, এমন একজন ক্রিকেটার আরও কিছুদিন খেলতে পারতেন। তবে তাঁর শরীর তখন ক্লান্ত। হাঁটুর চোটও তাঁকে ভুগিয়েছে দীর্ঘদিন। অবসরের পর ‘উইসডেন’ লিখেছিল, নিজের অসাধারণ প্রতিভারই যেন শিকার হয়েছিলেন সোবার্স। কারণ তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন। আর তাই বারবার তাঁকেই সবকিছু করার দায়িত্ব দেওয়া হতো। অন্য অনেক ক্রিকেটারের তুলনায় তাঁকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে।

গ্যারি সোবার্সের ক্যারিয়ার

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলেছেন সোবার্স। রান করেছেন ৮০৩২। বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৭.৭৮। ৫০০০ বা তার বেশি টেস্ট রান করা ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বকালের অন্যতম সেরা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর পরিসংখ্যান আরও বিস্ময়কর। ৩৮৩ ম্যাচে ২৮ হাজারের বেশি রান এবং এক হাজারেরও বেশি উইকেট- একজন ক্রিকেটারের বহুমুখী প্রতিভার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে!

ক্যারিয়ারের শেষদিকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে তাঁর আসল পরিচয় হয়ে থেকেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই সোনালি যুগের অন্যতম প্রধান নায়ক হিসেবে।

ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিও পেয়েছেন বারবার। ‘উইসডেন’-এর ‘লিডিং ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের পরেই এই তালিকায় তাঁর অবস্থান। ব্র্যাডম্যান নিজেই সোবার্সকে বলেছিলেন, তাঁর দেখা অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

সোবার্সের মৃতু্যতে শোক জানিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট প্রশাসক সৌরভ গাঙ্গুলী। সিএবির সভাপতি বলেছেন, শতকের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত। ব্যাট ও বলে সোবার্সের অবদান আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ক্রিকেটে অনেক তারকা আসেন, অনেকেই রেকর্ড গড়েন। কেউ কেউ হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি। কিন্তু গ্যারি সোবার্স ছিলেন তার চেয়েও বেশি কিছু। তিনি ছিলেন ক্রিকেটের এক জীবন্ত সংজ্ঞা- যাঁর হাতে ব্যাট মানে শিল্প, বল মানে কৌশল আর মাঠে উপস্থিতি মানেই সম্ভাবনার বিস্ফোরণ।

তিনি চলে গেলেন। কিন্তু ক্রিকেট যত দিন থাকবে, এক ওভারে ছয় ছক্কার সেই ছন্দ, ৩৬৫ রানের সেই মহাকাব্য আর ব্যাট-বল-ফিল্ডিংয়ে একসঙ্গে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠা সেই অসাধারণ মানুষটির নামও তত দিন বেঁচে থাকবে- স্যার গারফিল্ড সোবার্স।

টিভিতে আজকের খেলা: ১৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে আজ রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, মুখোমুখি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি–টুয়েন্টির সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আজ।

বিশ্বকাপ ফুটবল: ৩য় স্থান
ফ্রান্স–ইংল্যান্ড

রাত ৩টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

বিশ্বকাপ–পুনঃপ্রচার
আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড
সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস

ফ্রান্স–স্পেন
বেলা ১টা, টি স্পোর্টস

ক্রিকেট
ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি–টুয়েন্টি

নর্দাম্পটনশায়ার–সমারসেট
বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১

হ্যাম্পশায়ার–নটিংহামশায়ার
সন্ধ্যা ৭–৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

ফাইনাল
রাত ১১–৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ১

ফাইনাল কোন জার্সিতে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার কত প্রকার জার্সি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেন খেলেছিল অ্যাওয়ে জার্সি পরে। ফাইনাল কোন জার্সিতে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার কত প্রকার জার্সি আছে তা নিয়েই এই আয়োজন।

ফাইনালে দুই দলই তাদের হোম জার্সি পড়ে খেলবে বলে জানা গেছে। আলবিসেলেস্তেরা আকাশি-সাদা শার্ট ও সাদা রঙের শর্টস পরে অপরদিকে লাল রঙের শার্ট ও নীল রঙের শর্টস পরে খেলবে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের জন্য সাধারণত ২টি মূল বা প্রধান জার্সি (হোম এবং অ্যাওয়ে) থাকে, তবে ব্যবহার ও বিপণনের ভিত্তিতে মোট জার্সির প্রকারভেদকে ৫টি ভাগ করা যায়।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) এবং কিট স্পন্সর এর নকশা অনুযায়ী প্রতিটি জার্সির বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হল:

১. হোম জার্সি:

ডিজাইন: এটি আর্জেন্টিনার প্রধান এবং আইকনিক আকাশী-সাদা খাড়া ডোরাকাটা জার্সি।

বৈশিষ্ট্য: জার্সির বুকে ৩টি সোনালী তারকা (৩ বার বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক) এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের (AFA) লোগো থাকে। ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন সংস্করণের পেছনে ঐতিহ্যবাহী ‘১৮৮৩’ (AFA এর প্রতিষ্ঠাকাল) সংখ্যাটি বিশেষভাবে খোদাই করা রয়েছে।

২. অ্যাওয়ে জার্সি:

ডিজাইন: মূল জার্সির বিকল্প বা দ্বিতীয় জার্সি হিসেবে এটি সাধারণত গাঢ় নীল বা কালো রঙের বেজের ওপর তৈরি হয়।

বৈশিষ্ট্য: ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক অ্যাওয়ে জার্সিতে নীল-কালো আবহের ওপর সোনালী বর্ডার এবং নিখুঁত আধুনিক প্যাটার্নের স্ট্রাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।

৩. প্রি-ম্যাচ বা ওয়ার্ম-আপ জার্সি:

ব্যবহার: ম্যাচের মূল লড়াইয়ে নামার ঠিক আগে মাঠে অনুশীলনের সময় লিওনেল মেসিরা এই জার্সিটি পরিধান করেন।

ডিজাইন: এটি সাধারণত সম্পূর্ণ সাদা বা ভিন্ন কোনো গ্রাফিক্স ডিজাইনের হয়ে থাকে। এটি সাধারণ ম্যাচ জার্সির চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক ও স্পোর্টি ডিজাইনের হয়।

৪. গোলকিপার জার্সি:

রঙ ও বৈচিত্র্য: মাঠের অন্য ফুটবলারদের থেকে গোলরক্ষকদের আলাদাভাবে চেনার জন্য এই জার্সি তৈরি করা হয়। সাধারণত নিয়ন গ্রিন, টারকোয়েজ ব্লু কিংবা লালচে-কমলা রঙের গোলকিপার জার্সি ডিজাইন করা হয়।

৫. ফেব্রিকেশন বা সংস্করণ: ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের কেনার সুবিধার্থে মূল ম্যাচ জার্সিগুলোকে আবার দুইটি ভিন্ন কাপড়ের সংস্করণে ভাগ করা হয় যথা-

প্লেয়ার এডিশন: মাঠে খেলোয়াড়দের পরার জন্য অত্যন্ত হালকা, প্রিমিয়াম হিট-রেডি টেকনোলজি দিয়ে তৈরি এবং বডি-ফিটেড হয়ে থাকে।

ফ্যান এডিশন: সাধারণ সমর্থকদের গ্যালারিতে বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক রেগুলার ফিটিং ও দীর্ঘস্থায়ী ফেব্রিকস দিয়ে তৈরি করা হয়

স্পেন জাতীয় দলের জার্সি:

জাতীয় ফুটবল দলের (La Roja) সাধারণত ৪ প্রকারের মূল জার্সি হয়ে থাকে। এর বাইরেও ফ্যানদের জন্য বিশেষ কিছু কালেকশন বাজারে ছাড়ে তাদের অফিসিয়াল কিট স্পন্সর প্রতিষ্ঠান।

১. হোম জার্সি:

মূল রঙ: এটি স্পেনের মূল এবং ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের জার্সি।

ডিজাইন: ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন সংস্করণে স্পেনের লাল জার্সির সাথে হাতায় গাঢ় নেভি ব্লু রঙ এবং পুরো শরীরে স্পেনের পতাকার আদলে হালকা হলদে চিকন সুতোর স্ট্রাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।

শর্টস ও মোজা: সাধারণত এই জার্সির সাথে ডার্ক নেভি ব্লু বা নীল রঙের শর্টস এবং মোজা পরা হয়।

২. অ্যাওয়ে জার্সি:

মূল রঙ: হোম জার্সির বিকল্প হিসেবে এটি সাধারণত হালকা বা সাদা রঙের জার্সি হয়ে থাকে।

ডিজাইন: সাম্প্রতিক সংস্করণে এটি সাদা রঙের বেসের উপর লাল এবং সোনালী বা হলুদ রঙের আকর্ষণীয় স্ট্রাইপ ও লোগো দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।

৩. প্রাক-ম্যাচ বা ওয়ার্ম-আপ জার্সি:

ব্যবহার: মূল ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগে মাঠের অনুশীলনে ফুটবলাররা এই জার্সিটি পরিধান করেন।

রঙ ও বৈচিত্র্য: এটি সাধারণত নেভি ব্লু, লাল কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো গ্রাফিক্স ডিজাইনের হয়ে থাকে। এতে মূল ম্যাচের জার্সির চেয়ে অনেক বেশি স্পোর্টি ও আধুনিক ধাঁচের ভাইব থাকে।

৪. গোলকিপার জার্সি

রঙ: মাঠের অন্য খেলোয়াড়দের থেকে আলাদা চেনার জন্য গোলকিপারদের জার্সি সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙের হয়।

ডিজাইন: স্পেনের গোলকিপারদের জন্য সাধারণত টারকোয়েজ (Turquoise) বা হালকা নীলাভ-সবুজ এবং নিয়ন রঙের জার্সি তৈরি করা হয়ে থাকে।

৫. ট্রেনিং ও রেট্রো এডিশন (অতিরিক্ত)

ট্রেনিং কিট: প্রতিদিনের অনুশীলনের জন্য খেলোয়াড়রা ‘টিরো ট্রেনিং জার্সি’ (Tiro Training Jersey) ব্যবহার করেন।

রেট্রো সংস্করণ: এছাড়া পুরোনো স্মৃতি বা বড় কোনো জয় উদযাপন করতে (যেমন: ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ক্লাসিক লাল জার্সি) তাদের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান মাঝেমাঝে রি-ইস্যু বা রেট্রো জার্সি বাজারে আনে।

আসলে বিশ্বকাপ আসলে জার্সি কেনার ধুম পড়ে যায় বাংলাদেশে। কেউবা প্রিয় দল আবার কেউবা প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলায় মুগ্ধ হয়েই মূলত জার্সি কিনে থাকেন।

জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে টিকে রইলো বাংলাদেশ

0

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস পার্কে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত জুটিতে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের আসল ঝড়টা আসে শেষ ওভারে। ব্র্যাড ইভান্সকে টানা চার বলে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ১০ বলে ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসই বাংলাদেশের স্কোরকে বড় সংগ্রহে পরিণত করে।

১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। বিশেষ করে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ছিলেন দুর্দান্ত। ৩.৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। অন্যদিকে শেখ মেহেদীও বল হাতে সমান কার্যকর ছিলেন। ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতে শেষ পর্যন্ত ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে ৩৪ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে জোরালোভাবে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ।

এশিয়ান প্যারা গেমসের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন, প্রস্তুত জাপানের আইচি-নাগোয়া

0

জাপানে বসতে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্যারা ক্রীড়ার আসর। আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান প্যারা গেমসের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি। এই মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে চলতি সপ্তাহে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আসরটির আয়োজক কমিটি।

আগামী ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর জাপানের আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান প্যারা গেমসের এই আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন এশিয়ার ৪৫টি জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটির প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট। মোট ১৮টি প্যারা স্পোর্টসে হবে পদকের লড়াই।

১০০ দিনের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে আইচি-নাগোয়া আয়োজক কমিটির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আইচি প্রিফেকচার, নাগোয়া শহর এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটির একটি প্রতিনিধিদলও অংশ নেয় অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হয়েছে এবারের আসরের পদক। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে গেমসের মশাল এবং মশাল রিলে অনুষ্ঠানের পোশাকের নকশাও।

এবারের এশিয়ান প্যারা গেমসের মূলমন্ত্র ‘Imagine One Heart’। অর্থাৎ, ‘এক হৃদয় কল্পনা করো’। এই ভাবনাকেই সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে পদকের নকশা। আয়োজকদের মতে, ভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মানুষকে খেলাধুলার মাধ্যমে একত্রিত হওয়ার প্রতীক হিসেবে পদকটি সাজানো হয়েছে।

পদকের নকশায় তুলে ধরা হয়েছে অ্যাথলেটদের কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ়তা ও সাফল্যের পথে তাদের অবিচল যাত্রা। অন্যদিকে মশাল রিলে অনুষ্ঠানের পোশাকেও রাখা হয়েছে ঐক্য, সংযোগ ও আশার বার্তা। অ্যাথলেট, স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও দর্শকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবেই পোশাকটির নকশা করা হয়েছে।

পদকজয়ীদের জন্য থাকছে বিশেষ স্মারক উপহারও। গেমসের মাসকট উজুমিনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই উপহার দেওয়া হবে সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জজয়ীদের।

১০০ দিনের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটির সভাপতি মাজিদ রাশেদ বলেন, এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্যারা ক্রীড়া আয়োজনের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি। তার মতে, এখন শুরু হয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় এবং খুব শিগগিরই বিশ্বের নজর থাকবে জাপানের আইচি-নাগোয়ার দিকে।

এই আসরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, গেমসের সাফল্য শুধু পদক বা রেকর্ড দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং সমাজে প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে সমান মর্যাদা, সম্মান এবং সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আয়োজনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মাজিদ রাশেদের আশা, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান প্যারা গেমস জাপানসহ পুরো এশিয়ায় আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক সোয়েইও আয়োজকদের প্রস্তুতির প্রশংসা করেছেন। তার মতে, এশিয়ান প্যারা গেমস শুধু প্রতিযোগিতা নয়; এটি সাহস, মানসিক শক্তি ও অন্তর্ভুক্তির উদযাপন।

আয়োজন সফল করতে আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া শহরের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় মানুষের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। আগামী ১০০ দিনে আয়োজক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি প্রস্তুতি আরও নিখুঁত করার প্রত্যয়ও জানিয়েছে এশিয়ান প্যারালিম্পিক কমিটি।

২০২০ টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের পর জাপানে এটি হতে যাচ্ছে অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া আয়োজন। ফলে দেশটির জন্যও আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান প্যারা গেমসের গুরুত্ব অনেক।

আগামী ১৮ অক্টোবর উদ্বোধনের পর ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা। ১৮টি প্যারা স্পোর্টসে লড়াই করবেন প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট। ৪৫টি জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটির অংশগ্রহণে এই আসর হয়ে উঠবে এশিয়ার প্যারা ক্রীড়াবিদদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা।

১০০ দিনের কাউন্টডাউন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকরা। লক্ষ্য একটাই, অ্যাথলেটদের জন্য নিরাপদ, সহজলভ্য, টেকসই এবং ক্রীড়াবান্ধব একটি আসর উপহার দেওয়া।

১৮ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান প্যারা গেমস ২০২৬। ১৮টি ডিসিপ্লিন, প্রায় ৩ হাজার অ্যাথলেট আর ৪৫টি দেশের অংশগ্রহণে জাপানে বসতে যাচ্ছে এশিয়ার প্যারা ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

সাইফউদ্দিনের শেষ ওভারের ঝড়ে ১৮৬ বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুটা ছিল দুই ওপেনারের। মাঝখানে ছিল হঠাৎ ব্যাটিং ধস, আর শেষটা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। সব মিলিয়ে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ।

শুক্রবার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। উইকেটের চারপাশে শট খেলে নিয়মিত রান তুলতে থাকেন দুজন। তাদের দৃঢ় উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ।

পাওয়ারপ্লের পরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন দুই ওপেনার। তানজিদ ছিলেন তুলনামূলক বেশি আগ্রাসী, আর সাইফ খেলেন নিয়ন্ত্রিত ইনিংস। দুজনই ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেন, পাশাপাশি ওপেনিং জুটিতে যোগ করেন ১২০ রান।

তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। ৪৫ বলে ৫৫ রান করে প্রথমে আউট হন সাইফ। তার ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। পরের ওভারেই বিদায় নেন তানজিদ। ৪৪ বলে ৫৮ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংসও বাংলাদেশকে শক্ত ভিত এনে দেয়।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পরই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। ১২০ রান থেকে ১৪১ রানে পৌঁছাতে আরও ৫ উইকেট হারায় দল। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৬, পারভেজ হোসেন ইমন ১ এবং নুরুল হাসান সোহান ৪ রান করে ফিরলে বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা।

শেষ দিকে ইনিংস সামাল দেন ইয়াসির আলি চৌধুরী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ইয়াসির ১২ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন। আর শেষ ওভারে ব্যাটিংয়ের ঝড় তোলেন সাইফউদ্দিন। চারটি ছক্কায় ওই ওভার থেকেই আসে ২৮ রান। মাত্র ১০ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৮৬ রানে নিয়ে যান এই অলরাউন্ডার।

জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট শিকার করেন সিকান্দার রাজা। ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচে ফিরতে এখন শক্ত ব্যাটিং প্রদর্শনই প্রয়োজন স্বাগতিকদের।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট – সহযোগী দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা

0

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি’র অ্যাসোসিয়েট অর্থাৎ সহযোগী দেশগুলোর দাবি, নতুন প্রবর্তিত ‘সুপার সিরিজ’ বৈশ্বিক মঞ্চে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে।

মূল তথ্য:

  • ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপটি ১৪ দলের টুর্নামেন্ট হলেও, গ্রুপ পর্বের আগে একটি ‘সুপার সিরিজ’ রাউন্ড এবং সেমিফাইনালের আগে একটি নতুন ‘সুপার ৭’ রাউন্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • আগামী বছরের এই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটে আইসিসির হঠাৎ আনা এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর ক্রিকেটাররা।
  • নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ডের অধিনায়কেরা প্রকাশ্যেই এই পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নতুন এই নিয়মের ফলে দু’টি দলকে মাত্র দু’টি করে প্রাথমিক ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে।

নতুন ফরম্যাটের মারপ্যাঁচে স্বপ্নভঙ্গ

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী বছরের বিশ্বকাপটি কাগজে-কলমে ১৪টি দল নিয়েই অনুষ্ঠিত হবে, যা ২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণের চেয়ে বেশি। কিন্তু টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কিংধারী কোয়ালিফায়ারদের মধ্যে টুর্নামেন্ট শুরু করার জন্য একটি তিন দলের, রাউন্ড-রবিন ‘সুপার সিরিজ’ চালু করা হয়েছে। এর ফলে ওই তিনটির মধ্যে দুটি দলকে মাত্র দুটি করে ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হবে।

আইসিসির এই পদক্ষেপ শীর্ষস্থানীয় অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর খেলোয়াড়দের ক্ষুব্ধ করেছে, কারণ এই পরিবর্তনের ফলে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সাথে এটি চলমান ‘ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ ২’ (Cricket World Cup League 2)-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এই লিগে আটটি অ্যাসোসিয়েট দল আগামী বছরের বৈশ্বিক কোয়ালিফায়ারে একটি জায়গা নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেকে ৩৬টি করে ম্যাচ খেলছে, যা এখন তাদের কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে।

খেলোয়াড় ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া

“যেকোনো দেশের জন্য ওডিআই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা একটি বিশাল সাফল্য। তাই বছরের পর বছর পরিকল্পনার পর যখন সেই সুযোগের বাস্তবতা এভাবে বদলে যায়, তখন তা অত্যন্ত হতাশাজনক।” — স্কট এডওয়ার্ডস, নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক (বিশ্ব ক্রিকেটারদের ইউনিয়ন ‘ডাব্লিউসিএ’ (WCA) কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে)

নেদারল্যান্ডস ২০২৩ সালের ১০ দলের বিশ্বকাপে টেস্ট খেলুড়ে দেশ আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে যোগ্যতা অর্জন করেছিল এবং সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশকে হারিয়ে দুটি বড় অঘটন ঘটিয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই সাফল্য বাড়তি কোনো সুযোগ এনে দেয়নি; ২০২৩ সালের পর থেকে তারা আইসিসির কোনো পূর্ণাঙ্গ সদস্য (Full-Member) দেশের বিরুদ্ধে আর কোনো ওডিআই খেলার সুযোগ পায়নি।

এডওয়ার্ডস আরও যোগ করেন, “আইসিসি বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসারের কথা অনেক বলে, কিন্তু এই ধরনের সিদ্ধান্ত অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর জন্য বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আরও কঠিন করে তোলে। এই সুযোগগুলোই দেশগুলোকে উন্নতি করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করে।”

নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস বলেন:

“অনেক দেশের খেলোয়াড়দের কাছে ওডিআই বিশ্বকাপ মানে কেবল আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি আমাদের দীর্ঘ সংস্করণের খেলা এবং এটিকে কেন্দ্র করেই ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে, যা খেলোয়াড়দের প্রজন্মের পর প্রজন্ম আকাঙ্ক্ষা করে। আমরা সবাই মানি যে সেখানে যাওয়ার অধিকার অর্জন করতে হয়, কিন্তু আমরা এটাও চাই যে কোয়ালিফিকেশন যেন সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একটি প্রকৃত সুযোগ দেয়। অ্যাসোসিয়েট স্তরে সীমিত সুযোগ প্রদানের দীর্ঘ ইতিহাসেরই এটি ধারাবাহিকতা।”

আইসিসির স্বচ্ছতার অভাব ও ডাব্লিউসিএ-এর সমালোচনা

বিশ্ব ক্রিকেটারদের ইউনিয়ন (WCA) আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা স্বচ্ছতা, যোগাযোগ এবং আলোচনার অভাবের কথা উল্লেখ করেছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী টম মফাত বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসারের যে লক্ষ্য আইসিসি প্রকাশ করে, তার সাথে টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে এমন মৌলিক পরিবর্তন আনা মেলানো কঠিন।

পাঁচ বছর আগে যখন আইসিসি ১৪ দলের বিশ্বকাপের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন প্রস্তাবিত ফরম্যাটে ছিল সাতটি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপ এবং এরপর একটি ‘সুপার সিক্স’ রাউন্ড। দলগুলো সেই অনুযায়ী এই চক্রে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল, কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১৫ মাস আগে তারা জানতে পারল যে ফরম্যাটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

মফাত আরও বলেন, “আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টের কাঠামো নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। তবে, যখন খেলার প্রতি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কোয়ালিফিকেশনের পথ তৈরি করা হয় এবং দেশ ও খেলোয়াড়রা সেই সুযোগগুলোর পেছনে বছরের পর বছর বিনিয়োগ করে, তখন এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য প্রকৃত আলোচনা, স্বচ্ছতা এবং একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া তাদের প্রাপ্য।”

স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক রিচি বেরিংটন যোগ করেন, “খেলোয়াড়রা সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশা করে না, তবে যে সিদ্ধান্তগুলো খেলা এবং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলে, সেগুলোতে আমাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করা উচিত।”

অন্যান্য অ্যাসোসিয়েট খেলোয়াড়দের মধ্যে স্কটল্যান্ডের জর্জ মান্সি ক্রিকইনফোকে সরাসরি বলেন, “আইসিসি যে শীর্ষ তিন [অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং ভারত] ছাড়া বাইরের কারও দেখাশোনা করেনি, তাতে বিন্দুমাত্র অবাক হওয়ার কিছু নেই।” নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড় ম্যাক্স ও’দাউদ এবং লোগান ভ্যান বিক-ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

ফুটবলের উদাহরণ এবং আইসিসির যুক্তি

১২তম র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা আয়ারল্যান্ডের ওডিআই অধিনায়ক পল স্টার্লিং বলেন, চলমান ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ দেখিয়েছে যে কম প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়া দেশগুলোও বিশ্বমঞ্চে কতটা মূল্য ও আগ্রহ তৈরি করতে পারে। ক্রিকেটেও সুযোগ সর্বোচ্চ করার জন্য একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেলে দারুণ হতো।

অন্যদিকে, আইসিসি বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই “বিবর্তিত” ফরম্যাটটি “আরও আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট” উপহার দেবে এবং “উদীয়মান দলগুলোকে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভক্তদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করবে।”

ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের চেয়ে টি-২০ সংস্করণটি ক্রিকেটের প্রসারের জন্য বেশি উপযুক্ত, আর সেই কারণেই সম্প্রতি পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ ২০টি দলে উন্নীত করা হয়েছে।

ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ, নিষিদ্ধ নাওয়াজ

ডোপ-বিরোধী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাকিস্তানের স্পিনিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাওয়াজকে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে নির্ধারিত মাদকাসক্তি নিরাময় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক মাসে নেমে আসবে।

গত এপ্রিলে নাওয়াজের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রায় তিন মাস পর তদন্তের ফল জানিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের পর নেওয়া ডোপ পরীক্ষায় তার নমুনায় নিষিদ্ধ উপাদান কার্বক্সি-টিএইচসি শনাক্ত হয়।

৩২ বছর বয়সী নাওয়াজ অভিযোগ স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, নিষিদ্ধ উপাদানটি প্রতিযোগিতার বাইরে এবং ক্রীড়া পারফরম্যান্স বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এ কারণেই তুলনামূলক কম শাস্তি পেয়েছেন তিনি।

আইসিসি জানিয়েছে, নাওয়াজের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে গত ১ মে থেকে। ওই দিন থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মেনে মাঠের বাইরে ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করায় আড়াই মাস পর তার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন আইসিসির অনুমোদিত মাদকাসক্তি নিরাময় কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারলে তাকে আর অতিরিক্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে না।

ডোপ-বিরোধী বিধি অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে ১ মে পর্যন্ত সময়ে নাওয়াজের সব প্রতিযোগিতার ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। এই সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি আরও ছয়টি ম্যাচ খেলেছিলেন। পরে অংশ নেন ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ ও পাকিস্তান সুপার লিগেও।

ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার প্রভাব পড়েছে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যারিয়ারেও। ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে কাউন্টি ক্লাব সারের হয়ে খেলার কথা থাকলেও, ঘটনার পর তার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে দেয় ক্লাবটি।

চ্যাম্পিয়নশিপ রিং পাবেন বিশ্বকাপজয়ীরা

বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ প্রদান করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ, এনএফএল, এমএলবি ও এনএইচএলের মতো জনপ্রিয় পেশাদার ক্রীড়া লিগে প্রচলিত এই সম্মান এবার স্থান পাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরে।

ফিফার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের সাফল্যকে আরও বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রফি ও স্বর্ণপদকের পাশাপাশি এই বিশেষ রিং বিজয়ীদের অর্জনের প্রতীক হিসেবে আজীবন বহন করবে। রিংয়ে বিশ্বকাপের লোগো, চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট আসরের বিশেষ নকশা সংযুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে।

মার্কিন ক্রীড়া সংস্কৃতিতে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। শিরোপা জয়ের স্মারক হিসেবে খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই রিং উপহার দেওয়া হয়। আগামী বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করায় সেই ঐতিহ্যকে ফুটবলেও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।

বিশ্বকাপজয়ীদের জন্য এই নতুন সম্মাননা ফুটবল অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, এটি খেলোয়াড়দের অর্জনকে আরও গৌরবান্বিত করবে এবং বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নতুন মাত্রা দেবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি হয়ে উঠবে একটি অনন্য স্মারক।

ফিফার এই পদক্ষেপকে আধুনিক ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের সংযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলই প্রথমবারের মতো ট্রফি, স্বর্ণপদক এবং নতুন সংযোজন ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’এই তিনটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।